নাতিকে কোলে নিয়ে এসে দাঁড়ালো খালেদা। তার চোখ গেলো আঠারো বছর আগে চলে যাওয়া স্বামীর ধুলো পরা ছবির দিকে।
বেলা বেড়ে যাচ্ছে বড় চাচাত ভাই এসেছে, তাকে নাস্তা দিতে হবে। শহুরে থাকা মানুষ, গ্রামে খুব একটা আসেন না। আপন ভাই-বোনরা সব জমিজমা দখল করে নিয়েছে। তাই চাচাত বোনের কাছেই এসে উঠে এ চাচাত ভাইটি।
বুক-কেসের উপরে রাখা, স্বামি মজনুর বাঁধানো ছবিটাকে নাতি কোলে নিয়েই মুছে নিল খালেদা। নিম্মি বললো, “আমি মুছে রাখবো মা, আপনি বরং মামাকে নাস্তা দিন। “
নাস্তার টেবিল সাজাতে যেতে যেতে ছেলের বৌ নিন্মির দিকে তাকালো খালেদা। সাথে সাথে তার বুক চিড়ে একটা দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে এলো। ছেলেকে পড়া লেখা করানোর খুব ইচ্ছে ছিল তার হেড মাষ্টার স্বামীর।
মজনুকে খুব মনে পরেগেল তার। সেও খালেদারই চাচাত ভাই। সম্পর্কে কয়েক বছরের বড়, শ্যামলা রং, উদাস করা হাসি, উজ্জ্বল চোখ আর ঝাকড়া চুলে দারুন লাগতো তাকে। স্মৃতির পর্দা ভেদ করে ভেসে উঠলো মজনুর মুখটি।
এক্সিডেন্টে থেতলে গিয়েছিল মাথা, সেই আাঠার বছর আগের কয়েকটা দিন তাকে এখনো তাড়া করে। হাসপাতাল, নার্স, ডাক্তার, আত্নিয়স্বজন আর হাসপাতালের অদ্ভুত গন্ধটা এখনো নাকে লাগে।
টেবিলে নাস্তা সাজাতে সাজাতে খালেদা হারিয়ে যায় স্মৃতির তন্ত্রীতে।
আমি খালেদার চাচাত ভাই।
গ্রামে এসেছি গতকাল। এখন ভোর। হাঁসে প্যাক প্যাক শব্দ আর কবুতরের বাকুম বাকুম শব্দ ঘুম ভেঙ্গে গেছে। বিছানায় শুয়ে শুয়ে আমি এখন জীবন বাগানের ফাঁকে ফাঁকে বেড়ে উঠা আগাছা-সংসারের রূপ দেখছি।
আমাদের সংসারে বাবার পরিচর্যা ছিল, মা এর আঁচলের স্নেহ ছিল। বাবা নেই তেইশ বছর, মা গত হয়েছেন পরের বছর, কি ভালোবাসা, একজনকে একা রেখে কত আর একাএকা থাকা, চলে গেলেন তিনিও।
আজ ঘুম ভাঙতেই মনে পরলো মা ভোরে ঝাঁটা ধরতেন শুধু বাবার ঘরে। ঘুম চোখে আজ দেখি ধুলোর সঙ্গে মিশে থাকা শোকের বিন্দুগুলো পেরিয়ে যাচ্ছে চৌকাঠ, আলগোছে থমকে আছে সুখের নিপাট শাড়ি আমার মায়ের।
বৃষ্টি হচ্ছে মুষলধারে, বিজলি নেই। বৃষ্টি পতনের শব্দের সাথে মৌন আঁধারের একটা কান্না যেন লটকে আছে প্রকৃতিতে। আর সব শুনশান। বনমাদলের কান্নার মত জীবনের কান্নাও শুধু জমে আছে বনজ নিবিড়ে। অস্নাত চৌদিকে পাখিদের কাকলি, মাএর ঝাঁটার শব্দ নেই, স্মৃতির জলজ গল্পগুলো ভেসে আসে জীবনের প্রবল ধারায়।
আমার বাইরে বের হওয়া দরকার। বৃষ্টি সব আটকে দিয়েছে। তরপরও কাপড় পরে তৈরী হলাম। কিন্তু ছাতা নেই, নেই মানে এবার ঢাকা থেকে আসার সময় ছাতা বা কাদায় হাটার জুতা আনা হয়নি ভুলে।
বৃষ্টি একটু ধরে এসেছে, বাইরে বেরোনের জন্য প্রস্তুতি নিলাম, বাইরে বেরোতে গেলে আজকাল অস্থির ও কিছুটা ভয় ভয় লাগে।
কিছু কাগজপত্র মানে জমির দলিল পর্চা ও নকশা একটা ছোট্ট ব্যাগে ভরে নিয়ে ভালো করে দেখে নিলাম।
জমিজমার কাজ সে কী ঝক্কি। দলিল আছে, মালিকানাও ঠিক। কিন্তু দখল নেই। এখন দখলই জমির মালিকানা, দলিল যেন পথে পরে থাকা কাগজের টুকরো। তার মধ্যে দলের লোকের কারসাজি। সামনে এক পেছনে তাল দেয় দখল না ছাড়ার।
আমাকে দুইদিকই দেখতে হচ্ছে। একটা গল্প মনে পড়েগেলো। আসলে গল্প নয়। উদ্ভিদ নিয়ে একটি পরীক্ষার কথা। গাছের উপর একটা শুঁয়োপোকা রাখা হয়েছিল আর সে মনের আনন্দে কুচকুচ করে পাতা খাচ্ছিল। যে গাছের পাতা খাচ্ছিল শুঁয়োপোকা সে গাছটি তার শরীর থেকে এক ধরনের তেল নিঃসৃত করছিল। যাতে তার ঝাঁঝে শুঁয়োপোকাটা গাছের পাতা খাওয়া ছেড়ে চলে যায়।
আমাকে গাছের এই তেল নিঃসরণ প্রক্রিয়াটি বেশ ভাবিয়ে তোললো। আমাকেও এমন কিছু করতে হবে যাতে দখলদার আমার জমি ছাড়তে বাধ্য হয়।
রাস্তায় বের হয়ে দেখলাম বৃষ্টি নেই, রোদের ত্যাজও বেড়েছে বেশ।
“মিয়ারপুত কেমন আছেন। “
আমি একটু চমকে গিয়ে তাকিয়ে দেখলাম বাবার সমবয়সী এক দূরসম্পর্কের চাচা।
“চাচা আপনি কেমন আছেন, চাচি কেমন আছেন।”
“তুমিতো বাবা দেশে আসা ছেড়েই দিলে। জমিজমাতো এখন ভুতের দখলে। কিছু করো, বাপ-দাদার ভিটে নষ্ট হতে দিওনা। “
“না চাচা এবার কিছু একটা করবো ইনশাআল্লাহ, আপনারা একটু সহায়তা করলেই হলো।”
“তোমার বাবা বড় ভালো লোক ছিলেন, কোনদিন পরের অনিষ্ট করেননি। যুদ্ধের সময় যেভাবে সব আগলে রেখে পাকবাহিনী, রাজাকার ও শান্তিবাহিনীর সাথে লড়লেন। আমিও ছিলাম তোমার বাবার সাথে কয়েকটি যুদ্ধে। পাকিস্তানিরা আমাদের কোনদিন টিকিটিও ছুৃঁতে পারেনি। আজ সেই দালালগুলিই দেশের কর্তা, তোমার বাবার জমি দখলে সাহায্য করছে।”
“তুমি একবার টাইফয়েডে পরেছিলে। তোমার বাবার সেকি অস্থিরতা, আমাকে নিয়ে কানু ডাক্তারের কাছে গেলো সেই মধ্য রাতে। “
“আমারও মনে আছে চাচা, বাবার দুচোখে ঘুম ছিলনা, আমার অসুখে, সারারাত ছটফট, সারা গ্রাম ঘুমে অচেতন, অসহায়তার সংজ্ঞা বাবা তখন।”
“কানু ডাক্তারও চলে গেলো ভারতে, থাকতে পারলো না, ভিটা ছাড়া করলো।
তোমার পোলা মাইয়া কয়জন।”
একসাথে অনেক কথা বলে চাচা একটু থামলেন।
“আমার দুই মেয়ে চাচা।”
“পোলা নাই? কও কি মিয়া। তুমি হইলা বংশের বড় পোলা। বংশ রক্ষা করবো কে?
এত সম্পদ তোমার খাইবো কে?”
“চাচা আপনের ছেলে তো অনেক বড় লোক। শুনছি কুঞ্জেরহাট বাজারে বিরাট ব্যবসা আছে। ঐখানেই বাড়ি করে থাকে। আপনি আর চাচিরে তো ছোট পোলাই দেখে।
আপনি এত কষ্টে আছেন সেতো খবর নেয় না। বড়লোক পোলাপান দিয়া কি হইলো। “
“কথাডা ঠিক কইছো বাবা। তয় ওর কোন দোষ নাই। বউই যত নষ্টের। তোমার চাচিরে আর আমারে দেখতে পারেনা।”
“চাচা আপনার পোলা ঠিক থাকলে বউ কিছু করতে পারে? পরের মাইয়ার দোষ দিয়েন না। “
“আসলে পোলাডার টাকা হওয়নের পর কেমন জানি হইয়া গেছে।
তুমি কয়দিন থাকবা। শোনলাম পুকুরে মাচের পোনা ছড়ছো। দেখবে কে? “
“হা চাচা পোনা ছাড়ছি। দেখার লোকও রেখেছি। আমিও আসবো প্রায়ই।”
পাশ দিয়ে একটা মটর সাইকেল যেতে যেতে থেমে গেল। সূর্যের তাপটা একটু একটু করে বাড়ছে। প্রভাতি আকাশের নীলভাবটাও কমে এসেছে। আকাশটা আলোয় ঝলমল করছে এখন।
মটর সাইকেল থেকে একটা ছেলে নেমে এসে সামনে দাঁড়ালো।
সালাম চাচা। কেমন আছেন। আমাকে চিনতে পারছেন? আমি হান্নান মিয়ার বড় ছেলে।
পরপর কথাগুলি বলে ছেলেটা একটু জিরিয়ে নিল মনপ হয়। হান্নান মিয়া আমার চাচাত ভাই৷ মাস তিনচারেকের বড় আমার। এক সাথে পড়েছি, ছোটবেলায় উঠাবসাও এক সাথে। রবীন্দ্রনাথের সেই লাইনটি মনে পড়লো।
“দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায় রইল না-
সেই-যে আমার নানা রঙের দিনগুলি।
কান্নাহাসির বাঁধন তারা সইল না-
সেই-যে আমার নানা রঙের দিনগুলি।।”
রবীন্দ্রনাথ কে নিয়ে এই এক সমস্যা কথা নেই বার্তা নেই, হুট করে জীবনের সব অলিন্দে ঢুকে পড়ে বিনা নোটিশে। আমি তারে পারিনা এড়াতে।
“চাচা আমার নাম মিঠু। আমি কলেজে পড়াই। “
আমার তন্ময় ভাবটা কেটে যায় মিঠুর কথায়। একটা ছাই রঙের টি-শার্ট আর নীল জিনস পরে আছে। ছেলেটাকে বেশ হ্যান্ডসাম লাগছে। গায়ের রঙের সাথে টি-শার্ট আর জিনস মানিয়েছে খুব। আজকাল ছেলেমেয়েরা বেশ পোশাক সচেতন, রঙও ম্যাচ করে চলে।
“চাচা আমি কলেজে যাবো। আমাদের বাসায় কখন যাবেন। আমি আপনার লেখার খুব ভক্ত। আপনার কবিতার মধ্যে আমি আমাকে খুঁজে পাই। আপনার বৌমাও আপনার লেখার ভক্ত।”
“নিশ্চয়ই যাবো। ভাবির সাথে দেখা করবো। তোমার মা-র হাতের রান্না খাইনি বহুদিন। দারুন রান্না করেন তোমার মা। রান্না একটা শিল্প এটা সবাই বোঝেনা, ভাবি রান্নাটাকে শিল্পের স্তরেই নিয়ে যান।”
“তোমার আব্বার শরীরটা কেমন চলছে। চাপা স্বভাবের মানুষ কিছু বলেনা নিজের সম্পর্কে। খেয়াল রেখ। “
আমার কথাগুলি মনদিয়ে শুনছিল মিঠু।
” থ্যাঙ্কস কাকা। আমাকে সময় দেয়ার জন্য। কলেজের সময় হলো। আমাদের বাসায় আসবেন। সালামালাইকুম।”
আজকাল ছেলেরা বেশ ম্যানার মেনে কথা বলে। সৌজন্য অবশ্য সবাই দেখাতে জানেনা, সৌজন্য বোধ সবার থাকেও না। ছেলেটির সৌজন্য বোধ বেশ মুগ্ধ করলো আমাকে।
রোদের ঝাঁঝালো তাপটা আমাকে একটু কাহিল করছে। রোদে হাটার অভ্যাসটা আমার কখনোই ছিলনা। আমি আস্তে আস্তে কাগজের বয়াগটা নিয় হাটতে শুরু করলাম। গ্রামের সবুজ ভাবটা এখনো বেশ লাগে। প্রচুর গাছ দেখা যায়। মেহগনি গাছই বেশী।
নেতারাও আজকাল ‘গাছ লাগান দেশ বাচাঁন’ স্লোগান নিয়ে রাস্তায় নামে। সেদিন দেখলাম স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা তালের আটি পুতছে লাইন ধরে। তালগাছ নাকি বজ্রপাত কমায়। ভালো কথা। দেশে তো নানা প্রকারের বজ্রপাতের ঘটনা ঘটছে সেটার খোঁজ কে রাখে। বজ্রপাতের মত বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা উধাও হয়ে যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে রাখা সোনা তামা হয়ে যায়। হাজার হাজার টন কয়লা, পাথর উধাও হয় বজ্রপাতের মত। শুধু জনগণের উপর আক্ষরিক অর্থেই কোন বজ্রপাতের চিহ্ন নেই। ওরা এখনো তাই বেঁচে আছে।
আমি হাটতে হাটতে আমাদের পুরনো বাড়ির দরজার ভাঙা ঘাটলায় এসে বসার কথা ভাবছি আর হাটছি। ভীষণ ক্লন্তি লাগছে।
ঘাটের চাতালে উঠতে উঠতে কবরস্থানের দিকে নজর গেলো। বাড়ির পুরনো কবরখানা। দাদা-দাদি থেকে শুরু করে বাড়ির এবং এলাকার বহু মানুষ এখানে সমাহিত আছে। এখানেই শুয়ে আছেন আমার মা-বাবাও। মা-বাবার কবরটি ইট দিয়ে বাধাঁনো। বৃষ্টির কারনে শ্যাওলা পরেছে কিছুটা। কবরের দিকে তাকাতে তাকাতে আমার জীবনের ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলি স্মৃতি হয়ে ভেসে উঠলো মনে।
বাড়িটার সাথে আমার কত স্মৃতি জড়িত। আমাদের ঘরটা এখান থেকেই দেখা যায়। ওখানে আমার জন্ম, বড় হওয়া। বাবার আদর মা-য়ের স্নেহ আমাকে পোড়ায়।
মনে পড়ে, সন্ধ্যা হলে এই ঘাটে এসে বসতাম জোনাকি
পোকা আর ঝিঁঝিঁ পোকা ধরতে।
অন্ধকার হলেই ঘাটের পাশের গাছগুলির চতুর্দিকে বিন্দু বিন্দু জোনাকি জ্বলতো। এত জোনাকি জ্বলতো যে মনে হতো আকাশ থেকে হাজার হাজার তারা নেমে এসে কবরস্থানকে আলো দিচ্ছে।
আমাদের বসত ঘরটি বহুদিন মেরামত করা হয় না। আমিতো বহুদিন এ বাড়িতেই আসিনি, থাকিনি। থাকার ব্যবস্থাও নেই। ছোটভাই দখল করে আছে। কিন্তু যেহেতু আমিও ভাগিদারী তাই রিপেয়ার করার দরকার থাকলেও রিপেয়ার করেনি সে। কথায় আছে না, ভাগের মা গঙ্গা পায় না, সে অবস্থা। কত স্মৃতি জড়িত।
ছোট বেলা জোনাকি ধরে কাচের বয়ামে আটকে রেখে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতাম। রাতে জোনাকির সেই অপার্থিব নীল-হলুদ আলো স্বপ্ন রাজ্যে নিয়ে যেত।
আমার বড় বোনের বিয়ে হয় হঠাৎই। তখন বর্ষাকাল। কিন্তু জোনাক তখনো দেখা যেতো সন্ধ্যায়। আমি একদিন বৃষ্টিতে ভিজে জোনাক ধরেছিলাম। রাতেই প্রচন্ডরকম জ্বর। বাবা আমার পাশে শুয়ে শুয়ে জোনাকের গল্প বলছিলেন। মানুষের ইচ্ছেরাও নাকি জোনাকের আলোর মত। ইছে গুলি মনের মধ্যে নাড়াচাড়া করে কিন্তু ধরা যায় না। শুধুই দূরে চলে যায়।
আজ বাবাও তেমনি দূরে চলে গেছেন। মা-ও নেই। আমি তাদের কবরের দিকে তাকিয়ে তাদেরকে দেখতে পাচ্ছি।
এই তাকিয়ে থাকার পেছনে আমার জীবনের গল্পটা বড় হচ্ছে ধীরে ধীরে।
কোথা সে জোনাক জ্বলা সন্ধ্যা, কোথা সে আবির জড়ানো জীবন। পুকুর ঘাটের শ্যাওলায় জড়িয়ে আছে কিছু স্মৃতি, কিছু লাল ইট বেড় হওয়া করুন ক্রন্দন।
মনে পড়ছে, আমি তখন ঢাবির তৃতীয় বর্ষে, বাড়িতে এসেছি, এমন প্রবল বর্ষা ছিল সেদিনও। আমাকে যেতে হবে সকালেই, রাতে দেখলাম বাবা-মা কারো মুখে কথা নেই, টেবিলে একরাশ খাওয়া, আমার প্রিয় খাওয়া, হ্যারিকেনের নৃত্যরত আলোতে চিককিক। রান্না ঘরে তখনো কোমরে হাত রেখে দাড়ানো মা, এখনো রান্না হচ্ছে পায়েস, ভোরের নাস্তার সাথে আমার খাবার। বাবা হাঁক পাড়ছেন, এসো খোকাকে খাবার দাও। বাবার চোখে শীতসকালের রোদ্দুরের মত ওম, রঙিন রেশমের মত হাসি, আমাকে নিয়ে ভাত খাবেন। এ যেন যিশুর লাষ্ট সাফার। টেবিলে সাজানো ভাতের মিষ্টি গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে ঘরময়। আমি দেখি মাতৃত্বের সালতামামি, মা এখন কোথায়?
কথার পেছনে কথা চলে আসে, শব্দহীন কষ্ট ছুঁয়ে যায় হৃদয় গহীন। পুকুর পাড়ে দীর্ঘ তাল গাছ, ঘন তার ছায়া, দোলা দেয় দীঘীর জলের সোহাগ। উঠে আয় খোকা, জ্বর হবে, জলে ভেজা হাসের জীবন, তোর অভ্যাস নেই।
এখন সব চুপ। একান্ত নির্জন দুপুরের মৌন ক্ষণ।
বাবার সাথে স্মৃতিরা হাজার জোনাক হয়ে অসংখ্য আলোর বিন্দু হয়ে জ্বলে।
মায়ের পাকানো পায়েসটা নেই, দুঃখ শুধু কাঁপে চিনচিন, আমার দুচোখে নোনতা স্বাদ নেমে আসে, আমি দেখি দুই জোড়া পায়ের ছাপ-তাদের মহাপ্রস্থান।
১১ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৬ জুলাই ২০১৮