আত্মহত্যার আত্মকথন

তুমি নতুন রিলেশনে চলে গেলে!
তাহলে আমি কি তোমার নামে মাস্টারবেট শুরু করে দেবো এখনই ?
নাকি পতিতার যোনিতেই ঠোঁট রেখে যৌন সাধনায় মগ্ন থাকবো সিদ্ধিলাভ না হওয়া পর্যন্ত ?
আচ্ছা,
আমার যে অসমাপ্ত উপন্যাসটা, যেটা আমাকে অনেক মোহে আগলে রেখেছে এতো দিন, তাতে ডুব দিয়ে দিলে কেমন হয় এই সুযোগে, চুপিসারে?
নাকি অ্যাসিড বৃষ্টিতে গলে যাওয়া তাজমহলের বুকে চুমু দিতে দিতে বলবো ‘তোমার কিছু হয়নি তো সোনা?’
অথবা চাঁদ ও জ্যোৎস্নার সঙ্গে লুকোচুরিও খেলা যেতে পারে খানিকটা।

কিন্তু কোনো কিছুই তো তোমার পরিপূরক হতে পারে না! হওয়া সম্ভবও নয়।

তবে কি আত্মহননই সর্বশ্রেষ্ঠ পথ…???

ওহ্ ! আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম যে,
আমার চোখের জলে যার হৃদয় সামান্যতমও গলেনি,
তার হৃদয় আমার আত্মহত্যার রক্তেও ভিজবে না।
…………………………………………..

জীবন নদীর ঘাটে

আমার এই জীবন নদীর ঘাটে জল আনতে এসেছো তুমি…
মায়া নদীর উৎসে হারানো এ জীবনে কতটা পেয়েছি, কতটা পাইনি, কি পাবো, কি পাবোনা তার সবই বেহিসেব।
সুখে নেই মানুষ, পৃথিবীতে সুখ খুঁজে বেড়ানো মানুষ বারবার ব্যর্থ প্রমানিত।
তবু যে বড়ো ইচ্ছে করে দেখতে
যুথিকা-ভ্রমরে নির্বাক প্রেম আলাপ
অথবা
বিকেল আকাশের নীচে ঝরঝরিয়ে বয়ে চলা ঝর্ণার নির্মম পরিনতি।
আমার মনের পুরোটা দখল করে যেভাবে হৃদয় খনন করে রক্ত মাখো তোমার দু’হাতে, তখন জখম হওয়া হরিণীও হো হো করে হেসে ওঠে।
তবুও তোমার অনুপস্থিতি আমাকে অসম্পূর্ণ করে।
তাই তীব্র প্রার্থনা করি তোমায়।
হে পরম প্রিয়ে তুমিই আমার ভগবান আর তুমিই আমার শয়তান।
আমার অধীনে নেই আমার শরীর ও আত্মা।
জীবনের অর্ধেক খানি গেছে বিষে বিষে
বাকি টুকু না হয় তোমার শরীরেই যাক মিশে,
তৃপ্তি-ব্যথা, দরদ-শান্তি, দুঃখ-কষ্ট, আনন্দ-সুখ সব কিছুই থাক মিলেমিশে।
…………………………………………..

কফিন-বন্দি সভ্যতা

আমি যখন কফিন বন্দি
ঈশ্বর তখন বন্দি উপাসনালয়ে।
কাকে যে জিজ্ঞেস করবো মৃত্যুর কারণটা কী? আছি শুধু ভয়ে।
পাশের লাশটির কে জিজ্ঞেস করলাম ‘আচ্ছা ভাই, আমার মৃত্যুর কারণটা একটু বলো, বলো না… প্লিজ… ‘
শিউরে উঠে উত্তর দিলো ‘টাচ করো না ভাই, কোরোনা…
খুদে আণুবীক্ষণিক এক ভাইরাস… সে যে কি চীজ!
সভ্যতাকে করে দিলো কফিন বন্দি,
আর তুমি নাকি করছো শুয়ে, বাইরে যাবার ফন্দি?
পরের জন্মে যদি এসো এ ধরাধামে,
পৃথিবীকে কলুষিত করো না উন্নয়নের নামে।
অর্থের অহংকারে অন্ধ হয়ে বসো না,
খাদ্য মজুত, পণ্য মজুত, কালোবাজারি করো না
কারন এই মরন-খেলা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীকেও ছাড়েনা।
তোমার মৃত্যু যন্ত্রনা খুবই কষ্টকর ছিলো
পৃথিবীর বায়ু সমুদ্রে ডুবে থেকেও একটুও প্রাণবায়ু নিতে পারোনি,
ঠিক যেমন গত শতাব্দী থেকে পৃথিবীও দূষণ পর্দা ভেদ করে শ্বাস নিতে পারে নি।
…………………………………………..

কলঙ্কের রঙ

হৃদয় হারালো পলাশ আগুনে, পোড়া ফাগুনেতে
দিবানিশি জাগনে, দুষ্টু প্রেম চাহনিতে।
কলঙ্কের রঙ কিরূপ হয় জানো না হে প্রভূ কালা!
সইতে না পারি তোমার প্রেমে জীবন-যৌবন জ্বালা।
জ্বালিলে যে আলো গভীর আঁখির শয়তানি, হাসি মুখে,
বসন্তের কচি পাতার মতো রূপে, প্রেম তপস্বিনীর বুকে।
জানো না বুঝি বিরহ দীর্ঘস্থায়ী, বৃন্দাবনের যাদুকর ওহে পরদেশী?
আসবে মনে, করবে হৃদয়ে দুঃখের আঁচড় কাটাকাটি দিবানিশি।
খোঁপায় গুঁজে দেওয়া ফুলটি শুকাবে দিনের শেষে,
গালের আবীরও ধুয়ে যাবে হৃদয় গলা নোনা জল মিশে।
তবু, হৃদয়ে জাগালে যে রঙিন আভা, তা যেন ছাপিয়ে যায় নির্মম নিষ্ঠুর কলঙ্কের রঙকে,
আনন্দঘন স্পর্শ খানি যেন জাগে অনুভবে,
কলঙ্কের অন্ধকার যেন ঢাকা পড়ে যায় তোমার অঙ্গের অপরূপ আলোকে।
…………………………………………..

জন্ম দিনে মাকে চিঠি

শ্রীচরণেষু মা
জানো মা, সে একটা সময় ছিল যখন ঘুমের ঘোরে দুঃস্বপ্নে ভয় পেলে তোমার দিকে পাশটি ফিরে
তোমার বুকে মুখটি গুঁজে দুহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে নিশ্চিন্তে টানা একটা ঘুম দিতাম।তোমার স্নেহ ছায়ার নিরাপদ আশ্রয় স্থলে।
কতক্ষণ যে ঘুমাতাম তার কোনো হিসাব ছিল না।
হিসাব ছিল না মা’র সাথে আড়ি- ভাবের সময় ক্ষনের।
থাকা সম্ভবও নয়।
জানো মা, আজও আমাকে ভয় করে খুব, হ্যাঁ এতো বড়ো হয়েছি তবু আমাকে আজও ভয় গ্রাস করে দিনরাত,
কারণে- আকারের আগের থেকে অনেক বেশি ভয় করে আমার
কাউকে হারিয়ে ফেলার ভয়, সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়ার ভয়, হঠাৎ করে একদিন এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবার ভয়,
রাজনৈতিক হিংসার ভয়, অথবা হঠাৎ যদি ধর্মের ষাঁড় তেড়ে আসে…
কিংবা কোনো দুপায়ের জানোয়ারের দল যদি আমার মা-বোনের দিকে থাবা বাড়িয়ে বসে।
যত বড়ো হচ্ছি ভয়ের ভয়াবহতা যেন বেশি করে অক্টোপাসের মতো জড়িয়ে জড়িয়ে ধরছে আমায়।
আজ জন্মবর্ষ পালিত হল আমার, যথাসম্ভব সমারোহেই।
বন্ধু বান্ধবীরা টাইম লাইন ভরিয়ে দিল wish করে, মেসে পার্টি… সব কিছুই ঠিকঠাক।
কিন্তু আমার প্রতিটা জন্মদিন আমাকে তো মৃত্যু ভয়ের দিকে আরও এক বছর করে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে,
তাই নয় কি, মা?

ইতি
তোমার ছোট ছেলে
…………………………………………..

তুমি মনের গোপন চেনো না

তুমি সেদিন আমার বাইকে বসে, আমার কাঁধে হাত রেখে
অন্যের চোখে যখন মায়াবী চোখ রেখে ছিলে, হাতছানি…
সে দিন বুঝেছিলাম প্রেমের ঘরে রাজনীতি প্রবেশ করেছে
আর আমি একটা কমার্শিয়াল প্রেমের বুকে ঘর বাঁধার মিথ্যা স্বপ্ন দেখছি।
মাইন্ড গেম খেলতে খেলতে আমি হেরে যাই একদিন।
আমি সাহারার বুকে দাঁড়িয়ে যখন একবিন্দু জলের জন্য চিৎকার করছি,
ঢাকুরিয়া লেকের গোপন ঝোপে,
আমার আগের বন্ধু কিন্তু এখনকার শত্রুর গোপনাঙ্গে তোমার আদর…
শীৎকারে আমার ঘুম ছুটে যায় সারা জীবনের মতো।
অথচ একদিন ব্যভিচারিণী তুমি ‘কত ভালোবাসি তোমাকে জানো’ বলে মিথ্যা আত্ম অহংকার উগরে দিয়ে ছিলে।
আজ তোমার ফ্যাসীবাদী অত্যাচারী ভালোবাসার আগুনে আমার জীবন ছারখার হতে হতে শুধুই ছাই আর ছাই।
একবুক স্মৃতির বিষ শিরাতে উপশিরাতে বইছে আমার।
তুমি কামসূত্রের বিভিন্ন পোজ খুঁজছো রাত্রি থেকে ভোরে।
একদিন নিজের সুখের জন্য আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়েছিলে মদের গ্লাস।
মায়াভরা হাসির আড়ালে লুকিয়ে রাখা বিষাক্ত মনটার বিষে বিষিয়ে তুলে ছিলে আমার শরীর আর মন।
পাঁচ মাস পর…
একদিন স্বামী-সংসারের দুর্বিষহ অশান্তি ছেড়ে ফিরে এসে তোমার গর্ভের সন্তান আমার বলে দবি করলে,
কিন্তু যখন তোমাকে আমার মনের গোপন স্থানে লুকিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে চেয়েছিলাম,
তখন তুমি আমাকে…
আসলে, তুমি মনের গোপন চেনো না।
…………………………………………..

ভাঙন

রিলেশনে তুমি সূর্য। আমার পাঠানো সূর্যযানে এক পলক নিভৃত দৃষ্টি নিক্ষেপ করে দেখি ছাই অবশেষ।
একটা কথা ভালো করে মনে রেখো, আমিও একজন নারী তোমার মা ও দিদির মতোই
তাই আমকেও একটুকরো স্বাধীনতার হিসেব করতে হয় দিনের শেষে।
এরকম প্রেমের মোড়কে মোড়া ভালোবাসার কফিন
আমি উপহার হিসেবে আশা করিনি কোনো দিন।

হাতে হাত রেখে স্বপ্নস্মৃতি জোরানো বিকেল গুলো এভাবে মুখ থুবড়ে পড়বে এটা আমার সেদিনই বোঝা উচিৎ ছিল যেদিন
জ্যোৎস্নামাখা শহর সন্ধ্যায় একটা লতানো গাছ,
শুকনো আবেগ হীন এক মহীরুহকে সাপের মতো পেঁচিয়ে ধরে উদ্দেশ্যহীন ভাবে বেড়ে উঠেছিল।

আজ হড়পা বানের আঘাতে যখন নদীর এক কূল ভাঁঙে
অথবা প্রতিটা বৃষ্টি বিন্দু আমার বালিশ ভিজিয়ে স্যাঁতস্যাঁতে করে তুলছে,
তখন তোমার পাড়ায় নতুন মেলবন্ধন, নতুন পাত্রী খোঁজার হৈ হট্ট গোল সাড়া ফেলে দেয়।
বেশ কিছুটা পথ চলার পর ভাঙন, কি যে সে একাকীত্ব তা অনুভবের সময় টুকুও নেই তোমার।
আসলে সারাজীবন পাশাপাশি থাকার পরও মানুষের মনকে দেখা যায় না।
এভাবে বিশ্বাস না ভেঙে, জীবনটা যদি চাইতিস তাও তোর হাতেই দিয়ে দিতাম রে।
আজ তোকে একটা সত্যি কথা বলছি শোন রে –
যদি কোনো দিন বেশ্যা’র কোনো ভালো পুংবাচক বাংলা খুঁজে পাস, তবে সেটা নিজের নামের জায়গায় লিখেনিস।
…………………………………………..

তোমাকে আমাতে খুঁজে পাচ্ছো না, তাই তো?

আসলে, তুমি আমার অনেক গভীরে আছো।
অনেকটাই গভীরে …
তাই প্রকাশ পাচ্ছে না।
যে অনুভূতি যতটা গভীর তাকে প্রকাশের ভাষা বা ভঙ্গিও ততটাই সীমিত।
একটা দূরন্ত গভীর ইচ্ছা দিন রাত ছুটে বেড়ায়
অথচ, উদাসীন দূরত্বের বুকে লেখা নির্মম পরিহাস।

অগণিত ক্ষত চিহ্ন, যা কোনো দিন মলাট বন্দী করিনি।
প্রেমের রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা বা ছিয়াত্তরের মনন্তরেও সতিত্ব হারায়নি।
তবে যে চলে গেছে ছেড়ে, সে কোনো দিন আপন ছিল না,
আপনজন কখনো ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবে না।
তবু আমি তাকে ঘৃণা করতে পারি বা ভালোবাসতেও পারি
কিন্তু উপেক্ষা করতে পারি না।
কারণ এর আগে এতো যত্নসহকারে কেউ আমাকে হত্যা করেনি।

কিন্তু যে বিশ্বাসে আসন্ন কালবৈশাখী বা বর্ষার বিপদের কথা ভেবেও পাখি বাসা বাঁধে
সেই বিশ্বাসের আগে তুমি যদি ‘অ’ বসিয়ে দাও তাহলে
পরবর্তী সৃষ্টির সম্ভবনা ধুলিসাৎ হয়ে যাবে।
…………………………………………..

মিথ্যেবাদী আমি

মিথ্যেবাদী আমি?
আমার মৃত্যুর পরের দিন অর্থাৎ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির ঠিক পারের দিন রাস্তা পেরোতে পরোতে শুনতে পেলাম কোনো এক বিদেশি রক্ত চোষা ভ্যাম্পায়ার বলছে
‘I have the Earth in my pocket’.
এবং দেখলাম এদেশি কোনো এক অর্থ পিপাসু জনপ্রতিনিধি তার টাকা পূর্ণ সংখ্যার শত গুণিতক হারে বৃদ্ধি করছে।
ওরা রাজনীতি করে।
ওদের এক কথায় উপমহাদেশ আবারও একশো টুকরো হতে পারে।
ওরা আর একটা বিশ্বযুদ্ধ সৃষ্টি করে, পৃথিবীর জ্বালানিতেই পৃথিবীকে পুড়িয়ে ছাই করে দিতে পারে।
কারণ ওরা রাজনীতি করে।
ওরা আবারও পৃথিবীর অর্ধেক মানুষকে ভুখা রেখে নিজ সুখ ভোগে মেতে উঠতে পারে।
এবং বিজয়ী সেনাদের কে দিয়ে পৃথিবীর বুকে এঁকে দিতে পারে ধর্ষনের ক্ষত চিহ্ন।
ওরা সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে পৃথিবীকে উত্তাল করে তুলতে পারে।
তারপর আমার মায়ের স্তন কেটে ছড়িয়ে দিতে পারে কলকাতার রাজপথে।
কারণ ওরা রাজনীতি করে।
অবশেষে দগ্ধ পৃথিবীর বুকে ভদ্র পোশাকে হাঁটতে হাঁটতে মুচকি হেসে বলবে ‘জনগণ এতোই ভালো যে তারা আমকে এখনো জুতো পেটা করে নি’।

যাই হোক এই সব ফালতু মিথ্যে গুজবে কান দেবেন না।আজকের সবচেয়ে বড়ো আকর্ষণীয় এবং শেষ খবর…
আজই নার্সিংহোম থেকে বাড়ি ফিরলেন বিগ বি এবং ওনার শারীরিক অবস্থা অনেকটাই স্থিতিশীল।।
…………………………………………..

নারী ও মা

নারী বললেই কেমন একটা নিষ্ঠুর পৈশাচিক ছলনাময়ী চিত্র চোখের সামনে ভেসে ওঠে অথবা প্রেমময়ী ক্ষুধাতুর একটা চরিত্র।
কিন্তু মা বললেই একটা শান্তির ছায়াময় বৃহৎ মহিরুহের চিত্র চোখের সামনে ভাসে।
জীবনে যতবারই নারীর প্রেমের ছলনায় পথ হারিয়েছি ঠিক ততবারই মায়ের বুকে মুখ গুঁজে কেঁদেছি।
অথচ প্রত্যেক নারীই মাতৃ সত্ত্বার এক অভিন্ন অংশ।
তবে কি তার মাতৃ সত্ত্বা অন্য কারোর প্রতি বলেই আমার প্রতি এরূপ আচরণ?

মাগো… এ পৃথিবী বড়ো অন্ধকার, তাকেও একটু আলো দিয়ো… ভালোবাসার আলো।
নাহলে একবুক ভরসা নিয়ে, একটা ধূসর বিকেলের হাত ধরে কিছুটা পথ হাঁটতে শুরু করার পরেই
আমার প্রেমিকার অর্থ পিপাসু মা আমাকে ‘মা’ তুলে গালি দেওয়া প্রয়োজনীয় বলে মনে করে বসবে
কারণ আমি এখনো চাকরি পাইনি…