“কবি আল মুজাহিদী প্রাচীন গ্রীক কাব্যের মৃত্তিকা বোধের প্রতি প্রবল আকর্ষণ অনুভব করেছেন। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ হেমলকের পেয়ালা নামটিতে বুঝা যায় গ্রীক জীবন-দর্শন তাকে কত প্রবলভাবে আলোড়িত করেছিল। এ কাব্যগ্রন্থে তিনি চাঁদকে ছুঁয়ে দেখেছেন, নক্ষত্রকে স্পর্শ করেছেন এবং নীহারিকা পুঞ্জকে গ্রহণ করবার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কখনও মৃত্তিকাকে ভুলতে পারেননি। তার কারণ: ‘আমরা পৃথিবীর প্রথম বৃক্ষের নীচে সান্ধ্য মানব মানবী।’
কবি আল মুজাহিদী সম্পর্কে উপরের কথাগুলো বলেছেন কবি, কথা সাহিত্যিক অসর ব্যক্তিত্ব সৈয়দ আলী আহসান। আমরা ও কবির কথায় মৃত্তিকার সন্ধ্যান চাচ্ছি। কবি বলেন,
‘কৃষ্ণ গূঢ় অন্ধকারে জন্মাক মানুষ
পবিত্র আগুন
দেখো, পৃথিবী কেমন উর্বর ধ্বংসহীন
দেখো মৃত্তিকার ভালোবাসা কেমন (প্রাজ্জ্বল,
ধ্বংসহীন নারী
তুমি চলে এসো স্বর্ণ মৃত্তিকার দেশে পাড়ি বাংলায় নারী)
সৈয়দ আলী আহসান কবি আল মুজাহিদী সম্পর্কে তার লেখা ‘আল মুজাহিদীর কবিতা’ শীর্ষক এক যে, আদিম মৃত্তিকা দিয়ে এ পৃথিবী গড়া হয়েছিল গৌড় নগরীর সোনালী তোরণ এবং সভ্যতার চিলেকোঠা। তিনি কখনও নক্ষত্রের স্তপে বসবাস করার কথা বললেও চূড়ান্তভাবে বলেছেন যে মৃত্তিকায় ফিরে আসেন। কবি তার সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ মৃত্তিকা, অতি মৃত্তিকার অধিকার নতুন করে অভিব্যক্ত করেছেন। এ কাব্যগ্রন্থেও প্রথম কবিতার নাম সুমৃত্তিকা। কবিতার শুরুতে তিনি লিখেছেন-
‘সুমৃত্তিকা, জানো পৃথিবীর সব থেকে বেশী দরকার
সুশীতল হাওয়ার
তুমি খুলে দেবে খিল সেই ঝরোকার?’

আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরমৃত্তিকা বিভাগ থেকে পড়াশোনা করেছি। আমরা মৃত্তিকার উৎপত্তি, গুণাবলী, উৎপাদন ক্ষমতা প্রভৃতি নিয়ে পড়াশোনা করেছি। কিন্তু আমাদের কবি মৃত্তিকাকে অন্যভাবে দেখেছেন। কবির সঙ্গে আমার পরিচয় খুব বেশী দিনের নয়। তবে তার কবিতা, প্রবন্ধ, ছড়া, গল্প প্রভৃতির সঙ্গে অনেক পূর্ব থেকে পরিচিত। কবিকে সবচেয়ে বেশী জেনেছি তিনি দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদক। ২০০৮ সালে আমি আমার প্রকাশনী ‘লেখালেখি’ শুরু করার সময় চিন্তা করেছিলাম কবি আল মুজাহিদীর বই আমার প্রকাশনী থেকে প্রকাশ করতে হবে। তাই অনুরোধ করে নতুন বই এর পা-ুলিপির জন্য কবির সঙ্গে দেখা করতে দৈনিক ইত্তেফাকের অঅর কে মিশন রোডের অফিসে গিয়েছিলাম। দেখা হলো। আলাপ হলো। কবি পরবর্তীতে আমাকে তার কাব্য গ্রন্থ “প্রিজন ভ্যান, দিদেলাস ও ল্যাবিরিন্থ’ দুইটির পাণ্ডুলিপি দিলেন। আমি প্রকাশ করলাম।
কবি আল মুজাহিদীর জন্ম টাঙ্গাইল জেলার নারুচি গ্রামে ১লা জানুয়ারী ১৯৪৩ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজ বিজ্ঞান ও বাংলাভাষা ও সাহিত্যে উচ্চতর ডিগ্রী লাভ করেন। ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে ছাত্র জীবনে জড়িত ছিলেন।
ছাত্র জীবনে মুজাহিদী পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র লীগের সভাপতি, বাংলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের তাত্ত্বিক ব্যক্তিত্ব তিনি ছিলেন। পরবর্তীতে কর্ম জীবনে রাজনীতিকে পেশা হিসাবে না নিয়ে সাংবাদিকতাকে বেছে নেন। দীর্ঘ কর্মময় জীবনের সিংহভাগ দৈনিক ইত্তেফাকে- সাংবাদিকতা করে কাটান। বাংলা, ইংরেজী, উর্দু ও হিন্দি ভাষায় দক্ষ এই ব্যক্তি জীবনে একজন সফল সাহিত্য সেবক।
কবি আল মুজাহিদী সম্পর্কে বিশিষ্ট সাহিত্যিক, গবেষক আহমদ ছফা এক প্রবন্ধে বলেন, “কবি আল মুজাহিদী অতীত, বর্তমান, আগামী এ তিন জেনারেশনের মধ্যে একটা সম্পত্তি সূত্র হিসাবে এখনো টিকে আছেন এটা কম কথা নয়। স্বভাবের স্থিরতা এবং সংস্কৃতির প্রতি দৃঢ় নিষ্ঠা অঙ্গীকারের বলেই এটা তিনি সম্ভব করতে পেরেছেন। যে কোন রচনা তার ভালো লাগলে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করতে তার বাঁধে না। এটা একটি দুর্লভ গুণ। মানুষকে আপন করে নেয়ার একটা সহজাত ক্ষমতা ছিলো মুজাহিদীর। তার হাত দিয়ে অনেক তরুণ লেখক-লেখিকার আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। তরুণদের তিনি প্রাণ দিয়ে ভালবাসেন।”
ষাটের দশকের বাংলাদেশের একজন প্রধান কবি আল মুজাহিদী। বিশ্বের মধ্যে যুদ্ধহীন শান্তিময়তা ও আন্তর্জাতিক সত্যনিষ্ঠ সমগ্রতায় বিশ্বাসী তিনি। সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি, নৃতত্ত্ব, প্রত্নতত্ত্ব, ধর্ম, দর্শন, ইতিহাস ও আত্মদর্শন ভাবনার প্রাতিম্বিকতা তার কাব্যবোধকে প্রাতিম্বিক করেছে।
স্রষ্টা ও সৃষ্টির অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক কি তিনি অতি গভীরভাবে গুরুত্ব দেন। সেই জন্যেই জীবনের নৈতিকতার নন্দনতত্ত্বকে ও মূল্যবোধের ইতিবাচকতাকে তিনি তাৎপর্যপূর্ণ মনে করেন।
কবি আল মুজাহিদী আমাদের সকলের অতি প্রিয় কবি, সাহিত্যিক, গবেষক। সাহিত্য জগতে তার কল্যাণ, মর্যাদা, প্রতিষ্ঠা আমাদের মুগ্ধ করে। কবি সম্পর্কে আলোচনা করতে নিয়ে অধ্যাপক মুহম্মদ মতিউর রহমান তার প্রবন্ধে ২০১৭ সালে বলেন, “আল মুজাহিদীর কবিতার ভাব-বিষয় ও গ্রন্থনা ব্যতিক্রমী ও বৈচিত্র্যধর্মী প্রবণতা বহন করে। উদারচিত্ত কবি স্বভাবের অধিকারী আল মুজাহিদীর কবিতার ভাব-বিষয়, প্রকাশভঙ্গী ও মর্মবাণী সর্বজনীন। উপমা রূপক-প্রতীক রূপকল্প ব্যবহারে তিনি স্বকীয় বৈশিষ্ট্য ও ভিন্নমাত্রা সৃষ্টি করতে পেরেছেন, সন্দেহ নাই। তাই তার কবিতা পাঠকের নিকট সহজেই হৃদয়ভেদী ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠে। তার কবিতার ভাব ও বিষয় বৈভব যেমন আকর্ষণীয় ও বৈচিত্র্যময়, তেমনি আধুনিক কলানৈপুণ্য প্রকাশেও তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। শব্দ নির্বাচন ও ব্যবহারে, উপমা-প্রতীক-রূপক, নির্মাণে, শব্দালংকারের বৈভব সৃষ্টিতে ও বিচিত্র ছন্দের ব্যবহার ও অনুশীলনে তার পারঙ্গমতা সবিশেষ আকর্ষণীয় হয়ে উঠে।”
মানবতাবাদী প্রকৃতিপ্রেমী জীবনবাদী কবি আল মুজাহিদীর বলিষ্ট উচ্চারণে বস্তুত সকল মানুষের হৃদয়ের প্রতিধ্বনি ঘটেছে। এ শঙ্কাকুল নিদারুণ সময়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে কবি শান্তি ও মানবতার সপক্ষে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তাই তার কবিতায় আমরা দেখতে পাই-
“আমি দেখলাম, একদা কালের সেই বিস্তারের মধ্যে আমার কবিতা জাহাজের নোঙরে তুমি জেগে আছ।আমার কবিতা আলো অন্ধকার, জীবন আর মৃত্যুর মধ্যে গড়ে তোলে সাংগীতিক ঐক্য ও জটিলতা। যেখানেই শান্তির সান্দ্রধ্বনি সেখানেই কবিতার সৃষ্টিকল্প।”
একজন আশাবাদী কবি আল মুজাহিদী। জীবনকে বেশ সুন্দর করে দেখেন। দেশকে ভালবাসেন জীবনের চেয়ে বেশী। তাই তো মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ। দেশের নানা অবিচার, অন্যায়, দুর্নীতি নিয়ে তার অনেক বক্তব্য। তিনি এসবের সব কিছু ঘৃণা করেন। তিনি আশাবাদী মানুষ। জীবনকে তিনি সুন্দর করে দেখতে জানেন।
বিভিন্ন সময়ে নানা সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানে, সেমিনারে তার বক্তব্য শোনার সুযোগ আমার হয়েছে। অত্যন্ত জোড়ালো, যুক্তিপূর্ণ, আবেগময়ী তার বক্তব্য। দেশকে নিয়ে তার ভাবনা শ্রোতাদের সব সময় মুগ্ধ করেছে। বক্তৃতা শুরু করলে, আর শেষ হয় না। অনেক বলার চেষ্টা করেন, অনেক সময় ধরে কথা বলার তার প্রবল ইচ্ছা আমি লক্ষ্য করেছি।
তিনি একজন আশাবাদী কবি, লেখক, সাহিত্যিক। কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন কবি সম্পর্কে এক প্রবন্ধে বলেন, “টানেলের কোথাও আলো নেই। কিন্তু মুজাহিদী ভাইয়ের সাথে কথা বললেই তিনি বলেন, আলো আছে। বাঙালি জাতিকে এত ঠুনকো ভাবলে হবে? এদেশের মানুষ সুবিধাবাদী শয়তানদের রাজনৈতিক দাবার গুটি হতে পাবে না। মনে রেখো, এদেশের মানুষ খাঁটি যোদ্ধা আবার শান্তি প্রিয়ও। মুজাহিদী ভাইয়ের সমস্ত বুক জুড়ে যেন বাংলাদেশ।”
কবির ভাষায় তাই আমাদের হৃদয়ে বেজে উঠে-
“হে আমার অগ্নিদ্রোহী মৃত্তিকা,
তুমি চিরকাল মুক্ত থাকো। স্বর্গের বিহঙ্গ ডানা ঝেড়ে যাক
সাতটি আকাশ আর সাতটি সাগরের অববাহিকায়
আমি জেগে উঠি বার বার জ্বলন্ত সত্তার অগ্নিদাহে
পিতৃভূমি, হে আমার পিতৃভূমি, তোমার অস্তিত্ব
এবং অস্তিত্বের সমগ্রতায়
আমি অস্তিমান।”
‘হিশাম আল মুজাহিদী’ কবি আল মুজাহিদীর আসল নাম। কবি জীবনে তিনি সেই নামে পরিচিত নন। কবি হিসাবে তিনি প্রতিষ্ঠিত। যেমন কবি আল মাহমুদ কবি হিসাবে পরিচয় দিতে খুব খুশী মনে থাকতেন। আমাদের আজকের আল মুজাহিদী শুধু একজন কবি নন। তিনি উপন্যাসিক, গল্পকার, ছড়াকার, অনুবাদক, কাব্যকার, প্রবন্ধকারক।
তার কাব্যগ্রন্থের মধ্যে হেমলকের পেয়ালা, মৃত্তিকা অতি মৃত্তিকা, কাঁদো হিরোশিমা কাঁদো নাগাসাকি, সিলুএই প্রভৃতি বিখ্যাত। গল্প: বাতাবরণ, প্রপঞ্চের পাখী, বলদা গার্ডেন। উপন্যাস: চাঁদ ও চিরকুট, প্রথম প্রেম, কবিতাসু, মানব বসতি। ছড়াগ্রন্থ: হালুম হুলুম, তালপাতার সেপাই, খোকার আকাশ। কিশোর উপন্যাস: ছুটির ছুটি, লালবাড়ির হরিণ, মাটির পুতুল। প্রবন্ধ গ্রন্থ: যুগান্তরের যাত্রী, কাল কালান্তর, জীবন অনাদি। তার অনুবাদ গ্রন্থ: হাইনরীশ হাইনের কবিতা, কাইফ আজমীর কবিতা, বাহাদুর শাহ জাফরের কবিতা প্রভৃতি আমাদের বেশ আনন্দ দেয়।
কবি আল মুজাহিদী তার লেখনি জন্য দীর্ঘ জীবন সম্মানিত হয়ে এসেছেন। ২০০৩ সালে তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কারে ভূষিত হন। এ ছাড়াও অন্যান্য বহু পুরস্কার, তিনি লাভ করেন। ‘লেখালেখি সাহিত্য পুরস্কার’ ২০১৬ তিনি গ্রহণ করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাহিত্যিক, গুনীজন অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। লেখালেখি সাহিত্য পুরস্কার প্রথম গ্রহণ করেন দেশের সেরা কবি আল মাহমুদ। দ্বিতীয়বার লেখালেখি সাহিত্য পুরস্কার পান কবি আসাদ চৌধুরী।
“একজন সফল রাজনীতিক হওয়ার কথা ছিল,
তারপর জীবনের গতি পথ হঠাৎ পাল্টে গেল।
মন্ত্রী সান্ত্রী না হয়ে তিনি হলেন সফল কবি,
তার কলমে আঁকেন তিনি মানুষের জীবনের ছবি।”
কবি মুহম্মদ আনিসুল হক অনেক দুঃখ নিয়ে, আক্ষেপ করে কথাগুলো তার কবিতায় স্থান দিয়েছেন। তুখর ছাত্র নেতা। অথচ রাজনীতি ছেড়ে দিয়ে সোজা সাহিত্য কর্মে জীবন কাটানো-এ এক বিচিত্র ঘটনা। যা আমাদের দেশে হয় না। সকলে রাজনীতি করে সহজে বড় হতে চান, খ্যাতি অর্জন করতে চান, চেষ্টা করেন। কেউ সফল হয়, কেউ হয় না। কিন্তু কবি আল মুজাহিদী এর ব্যতিক্রম। বিপরীত এক শ্রোতে নিজের জীবন কাটালেন।
লেখক, গবেষক ড. ফজলুল হক তুহিন কবি আল মুজাহিদীকে অসম্ভব রকম ভালবাসেন। ভাল জানেন। সম্মান করেন। শ্রদ্ধা জানান নিয়মিত। কবি আল মুজাহিদী সম্পর্কে লিখতে গিয়ে তার এক প্রবন্ধে তিনি লিখেন-
“কবি আসলে পৃথিবী ভালবাসেন; পৃথিবীর মানুষ ও প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধতা কবির মাঝে কাজ করে ফলে পৃথিবীর জীবনের পতনে কবি আবেগী ও উদ্বেলিত না হয়ে পারেন না।
বাংলা কবিতায় পরিমাণ ও গুণগত উভয় দিক থেকে কবি আল মুজাহিদী যুদ্ধবিরোধী কবিতা রচনায় অনন্য ব্যক্তিত্ব। আন্তর্জাতিক দৃষ্টি ও কৃতি প্রতিষ্ঠায় কবি- অগ্রগণ্য।”
কবি তার কাব্যগ্রন্থ ‘কাঁদো হিরোশিমা কাঁদো নাগাসাকি খুব সুন্দরভাবে তার হৃদয়ের কথা প্রকাশ করেছেন। কবি বলেছেন,
“যুদ্ধের ঐ ভয়াবহ দলিল আমাকে পাঠ করতে বলো না আমি অন্ধ হয়ে যাবো! সহসা বধির হয়ে যাবো!
নিশ্চয়, নিথর হয়ে যাবো।
হিমযুদ্ধে মিশে যাবে আমার সমস্ত বোধি জাগর চৈতন্য।
নৃশংসতা কোনো অধীত বিষয় নয়।
পিকাসো আপনি ও আঁকবেন না দুঃস্বপ্নের চিত্রকলা গোয়ের্নিকা।
হিরোশিমা!”
কবি আজও আমাদের মাঝে আছেন। তিনি তার গভীর সাহিত্য চর্চা নিয়মিত করে যাচ্ছেন। তার সুন্দর ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি। কবি বেঁচে থাকুক অনেক বছর, অনেক দিন আমাদের মাঝে।
কবির লেখা ষাট দশকের “জয় স্বাধীন বাংলা শীর্ষক প্রবন্ধের কিছু অংশ পাঠকের জন্য এখানে উল্লেখ না করার লোভ সামলাতে পারলাম না। কবির লেখার কিছু অংশ বলে প্রবন্ধের সমাপ্তি টানছি। কবি তখন লেখক হয়ে বলেন,
“ভাষার সংগ্রামটি ছিলো সমগ্র বাঙালী জাতির আত্ম আবিস্কার সংগ্রাম। অস্তিত্বেও সর্বময় শক্তি উদ্বোধনের সংগ্রাম কেনা ভাষাই তো অস্তিত্ব। অস্তি¡ই তো আপন শক্তির মহিমা। সেই নিরিখে সর্বতোভাবে বলা যায়, ভাষার সংগ্রামে অন্তর্নিহিতভাবে লুকায়িত ছিলো বাঙালী জাতির স্বাধীনতার বীজকণা, সম্মিলিকত মানুষের অস্তিত্ব চেতনার ঐক্যমন্ত্র। আসলে ভাষার সংগ্রামটিই ছিল সকল অর্থে স্বাধীনতার সংগ্রাম।”