বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মহৎপ্রাণ মানুষ মহানবী সা. মহান স্রষ্টার একবিস্ময়কর সৃষ্টি! মানুষ হিসাবে তিনি ছিলেন সর্বগুণে গুণান্বিত সমগ্র মানবজাতির জন্য আদর্শ এক ব্যক্তিত্ব! স্বয়ং স্রষ্টা আল-কোরআনে বলেছেন-‘হে রাসুল আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সারা বিশ্বের জন্য রহমত স্বরূপ, আপনার খ্যাতিকে উচ্চ মর্যাদা দান করেছি! রাসুল সা. কে অনুসরণ করার জন্য মানবজাতিকে নির্দেশ দিয়েছেন! যাতে এই আদর্শ মানুষকে অনুসরণ করে মানব জাতি সঠিক পথের সন্ধান পেতে পারেন! আল-কোরআনে তাঁকে আলোক বর্তিকা, মানব জাতির শিক্ষক হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে! সেই কারণেই রাসুল সা. এর যুগে তাঁর গুনেও চরিত্রে মুগ্ধ হয়ে তাঁর অনুগামীরা রাসুল প্রশস্তিমূলক কবিতা রচনার সূত্রপাত করেন! খলিফা আবু বকর রা., ওমর ফারুক রা., ওসমান রা. ও আলী রা. থেকে শুরু করে আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব, কাব ইবনে যুহায়র, হামযা ইবনে আব্দুল মুত্তালিব, আয়েশা সিদ্দিকা, ফাতেমাতুয্ যোহরা, হাস্সান বিন সাবিত, আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা, কাব ইবনে মালিক প্রমুখ সাহাবা-কবিগণ রাসূল-প্রশস্তিমূলক কবিতা লিখেছেন। তাঁদের মধ্যে হাসসান বিন সাবিত সর্বাধিক প্রসিদ্ধ।রাসূলুল্লাহ স. তাঁকে ‘রাসূলের কবি’ উপাধিতে সম্মানিত করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ স. তাঁর জন্য মসজিদে নববীতে একটি মিম্বরও তৈরি করেছিলেন, যেখানে বসে তিনি রাসূলের সামনে তাঁর শা’নে কবিতা রচনা ও আবৃত্তি করতেন। রাসূলুল্লাহ স. তা শুনতেন এবং প্রশংসা করতেন।রাসুল প্রশস্তিমূলক কবিতা রচনার ধারা আজও প্রবহমান।আল-কোরআনের বিভিন্ন আয়াতই সাহাবা-কবিদের রাসূল-প্রশস্তিমূলক কবিতার মূলভিত্তি।জগৎ-বিখ্যাত কবি শেখ সাদী, ওমর খৈয়ম, জালালুদ্দীন রুমী, ফরিদ উদ্দীন আক্তার, হাফিজ, আকবর এলাহাবাদী, আমির খসরু দেহলবী, আলতাফ হোসেন হালী, ইসমাইল শহীদ, কাশেম নানতুবী, জোশ মালিহাবাদী,মীর্যা আসাদুল্লাহ গালীব, মুহম্মদ ইকবাল, শাহ আব্দুল আজীজ দেহলভী, শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভী, সৈয়দ আবুল হাসান আলী নদভী প্রমুখ।রাসুলসা:র জীবদ্দশায় সাহাবা-কবিদের মাধ্যমে রাসূল-প্রশস্তির যে ধারা সূচিত হয়, সারা বিশ্বে ইসলাম প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমান্বয়ে সর্বত্র মুসলিম সমাজে তা বিস্তার লাভ করে। বাংলায়ও ইসলাম প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে রাসূল-প্রশস্তির ধারাটি সুস্পষ্ট রূপ লাভ করে।বাংলা কাব্যে রাসূলের নামাঙ্কিত বিভিন্ন কবিতা কীভাবে রচিত হয় সে প্রসঙ্গে বিশিষ্ট সাহিত্য গবেষক আব্দুল মান্নান সৈয়দ লিখেছেন :“মধ্যযুগে হিন্দু ও মুসলমান বাঙালি-কবিরা প্রায়ই একই সঙ্গে (একটু আগে-পরে) লিখতে শুরু হিন্দু কবিরা কাব্যগ্রন্থের সূচনায় দেব-দেবীদের বন্দনা করতেন, মুসলমান কবিরা কাব্যগ্রন্থের শুরুতে ‘হামদ’ ও ‘নাত’-এ আল্লাহ ও রাসূলের প্রশংসা কীর্তন করতেন। উল্লেখ্য, ইসলামের প্রথম যুগ থেকেই আরবি-ফারসি গদ্য-পদ্যে সমস্ত গ্রন্থের শুরুতেই এই রীতি অনুসৃত হয়ে এসেছে। বাঙালি মুসলমান কবি-সাহিত্যিকেরা বাংলা সাহিত্যে সেই রীতিই অনুসরণ করেছেন। এইভাবে মুসলমান কবির হাতে প্রথম থেকেই রাসূল-প্রশস্তি শুরু হ’য়ে বাংলা সাহিত্যে শুরু থেকেই প্রায় প্রত্যেক মুসলিম কবিই রাসূল-প্রশস্তিমূলক কবিতা, গান, কাব্য ইত্যাদি রচনা করেছেন। এঁদের মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য হলেন : শাহ মুহম্মদ সগীর, সৈয়দ সুলতান, আমির জৈনুদ্দীন খান, দৌলত উজির বাহরাম খাঁ, সৈয়দ আলাওল, আব্দুল হাকিম, হেয়াত মামুদ, ফকির গরিবুল্লাহ, সৈয়দ হামজা, তাজউদ্দীন, মুনশি মালে মোহাম্মদ, খোন্দকার শামসুদ্দীন মোহাম্মদ সিদ্দিকী, লালন শাহ, হাসন রাজা, মীর মশাররফ হোসেন, কায়কোবাদ, মোজাম্মেল হক, মুনশি মেহেরুল্লাহ, মোহাম্মদ দাদ আলী, শাহাদাৎ হোসেন, গোলাম মোস্তফা, কাজী নজরুল ইসলাম, জসীমউদ্দীন, বেনজীর আহমদ, বন্দে আলী মিয়া, আ.ন.ম. বজলুর রশিদ, ফররুখ আহমদ, তালিম হোসেন, ব’নজীর আহমদ, সৈয়দ আলী আহসান, আব্দুর রশিদ ওয়াসেকপুরী, আব্দুল আজীজ আল-আমান, আশরাফ সিদ্দিকী, ফজল শাহাবুদ্দীন, আল মাহমুদপ্রমুখ।মীর মশাররফ হোসেন (১৮৪৮-১৯১১), দাদ আলী (১৮৫২-১৯৩৬), কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১), মোজাম্মেল হক (শান্তিপুর) (১৮৬০-১৯৩৩), মুনশি মেহেরুল্লাহ (১৮৬১-১৯০৭) এঁদের রাসূল-প্রশস্তিমূলক রচনা বা মৌলুদ শরিফ এককালে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।কবি গোলাম মোস্তফার (১৮৯৫-১৯৬৪) বিভিন্ন না’ত ও মিলাদশরিফ বাংলাভাষী সকল মুসলমানের নিকট এখনওঅসম্ভব জনপ্রিয়।বাংলা সাহিত্যে রাসূল-প্রশস্তিমূলক রচনায় কাজী নজরুল ইসলামের (১৮৯৯-১৯৭৬) অবদান সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য।
সম্প্রতি প্রয়াত ইসলামী ভাবধারার বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আব্দুর রাকিব তার একটি নিবন্ধে লিখেছিলেন, বিভাজন উত্তর পশ্চিম বাংলার সাহিত্য সংস্কৃতির ইতিহাস পটে, সত্যসন্ধ কেউ যদি আলাদা করে বাঙালি মুসলিমের সাধনা ও সিলন নিয়ে গবেষণা পত্র রচনা করেন, তবে সত্যের স্বার্থে ও সম্মানে তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আবদুল আজিজ আল আমান এর কথা বলতে হবে! যদি বিভাজিত এ বাংলার প্রথম এক-দেড় দশকের বাঙালি মুসলিমের সমাজ চিত্র ও যাপন পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তার কৃতি ও অবদান বিচার্য হয়! স্বাধীনতা-উত্তর পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম সমাজে সাহিত্য-সংস্কৃতি এক বন্ধ্যা সময়ে প্রায় নিঃসম্বল অবস্থায় একক প্রচেষ্টায় স্বপ্নভূক মুসলিম তরুণ প্রতিবাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে মেধা বিকাশের সুযোগ করে দিতে চালু করেছিলেন জাগরণ বেগম এবং কাফেলা! তিনি নিজে যেমন একজন প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক কবি এবং প্রাবন্ধিক ছিলেন, সেইসঙ্গে ইসলামী সাহিত্য সীরাত চর্চা উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছিলেন! একথা ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত এ বাংলায় আবদুল আজিজ আল আমান বাংলা ভাষায় সীরাত চর্চার প্রধান পথিকৃৎ! তার কথা সাহিত্যে রচনা শক্তি এ কাজে তাকে বড় সাহায্য করেছে! কথা বলার ভাষা কে তিনি লেখার সময় বদলে দিয়েছেন কাব্যিক ভাষায়! আল হাদীসের এক একটি ঘটনা তুলে ধরে হৃদয়গ্রাহী কাহিনীর আদলে পরিবেশন করেছেন নতুন আঙ্গিকে এবং নতুন ভাষায়! যা তাকে এ বাংলায় সীরাত চর্চা অগ্র-পথিক এ পরিণত করেছে! তাঁর সীরাত চর্চার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ‘রৌদ্রময় ভূখণ্ড’, ‘অনন্তের দিকে’, দুই খন্ডে ‘কাবার পথে’ এবং কাব্যগ্রন্থ ‘ধবল জোছনার সম্রাট’! ‘ধবল জোছনার সম্রাট’ নামক কাব্যগ্রন্থের ভূমিকায় যশস্বী লেখক আব্দুল আজিজ আল আমান লিখেছিলেন, জীবনকে ভালবাসতে গিয়ে এই রসূলকে ভালোবাসা অথবা রসূলকে ভালোবেসেই জীবনকে ভালোবেসেছি! সেই মহৎ জীবনকে অনুসরণ করতে গিয়ে চলার পথে জীবনের প্রতিটি ভাঁজ খুলেন তুনতর জীবন সৌরভকে পেয়েছি! মনে হয়েছে জীবন স্বমহিমায় আলোকিত, বেদনা যন্ত্রণা এদের মধ্যে যেমন তার অবাধ সুবাসিত সঞ্চরণ, সকলের মধ্যে থেকেও সকলকে অতিক্রম করেতে মনি আরেক শান্ত নীলিমার দিকে তার অনন্ত অভিসার! ‘জীবন লইয়া কী করিব’ একদা আলোড়িত এই আপাত রম্য প্রশ্ন এখন আমার কাছে একেবারেই অবান্তর! আমার বিশ্বাস, ‘সেই স্পষ্ট মহৎ জীবনকে’ অনুসরণ করলে এধরনের বাচাল প্রশ্ন আর কোনোদিন কোনো আদমের কন্ঠে উচ্চারিত হবে না! তাঁর পবিত্র মহান জীবনের এক কণাকেও যে কোনো দিন আমার কবিতায় স্পর্শ করতে পারব সে বিশ্বাস ছিল না কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্য সত্যই আমি রসূলুল্লাহ সা.এর উপর একটি কবিতা লিখে ফেললাম এবং ক্রমান্বয়ে কয়েকটি! কবি বিনয়ের সঙ্গে বলেছেন, একান্ত আপ্লুত কন্ঠে দূর নক্ষত্রের ফিসফাস স্বর গলায় নিয়ে গভীর আবেগে আমি উচ্চারণ করলাম: ইয়া রাসূলাল্লাহ!জানি এই দুর্বল অক্ষম অপূর্ণ কবিতাগুলি দিয়ে আমি কোনদিন আপনার কদম মোবারক স্পর্শ করতে পারবো না!এগুলি তার উপযুক্তও নয়!কিন্তু আমার আকুতি ও অশ্রুজল তো আপনার অজানা নয়! কিন্তু ‘ধবল জোছনার সম্রাট’ কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলি পাঠকরলে স্পষ্টতই পাঠক অনুভব করবেন এগুলি মোটেও দুর্বল বা অক্ষম কিংবা অপূর্ণ কবিতা নয়! অসাধারণ কাব্যিক উপমায় উজ্জ্বল কবিতার পংক্তিগুলি! নিচে উল্লেখিত রাসুলকে নিবেদিত কয়েকটি কবিতার উল্লেখযোগ্য পংক্তিগুলি পাঠ করলেই পাঠক সহজেই বুঝতে পারবেন আবদুল আজিজ আল আমানের লেখা কবিতাগুলি কত উচ্চমানের কাব্যগুণ সম্পন্ন এবং বলিষ্ঠ!

অপার্থিব গুহার সৃষ্টি করেছিল হৃদয় হেরায়
তূরের পবিত্র ধ্বনি নেমেছিল আলোর প্লাবনে,
সুদূর নীলিমা থেকে নেমে এলো নূরের সেপাই
মৃত্যুর কাফন ছেড়ে উঠে এল মরুর জমিন!
কুটিল গুহায় ঝরে অবিরাম পবিত্র কালাম
পাহাড়ের গাত্র ফেটে নেমে আসে কওসরের ঢল
কালো কাক হয়ে গেল বসন্তের মোহন কোকিল
জ্যোছনায় গোসল সেরে রাত হ লজ্যোতির মহল!
-রসূলুল্লাহ সা.

একটি হাত
বিনয়ে বিপুল হয়ে
দিল গড়ে
সবুজ বাগান
একটি আশা
মেঘ হয়ে এল ভেসে
বুকে নিয়ে
সহজিয়া গান-
-একটি জীবন

অবশেষে তুমি এলে
অলৌকিক জলের স্রোত নেমে এল
কোথা থেকে মনের উপলে
মুক্তায় ভরে গেল অফলা জমিন
হঠাৎ পলকে
আবহাওয়ায় জাগে এক মহাবিস্ময়
অজন্মার আঁধার ঠেলে ভেসে ওঠে
ধবল জ্যোছনা
সেই মহাআলোর ছোঁয়ায়
লোকালয়ের সব কিছু
লোকান্তর ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়!
-লোক লোকান্তর

হেরা হতে অকস্মাৎ এলে তুমি জীবনের আবেজমজম
ভালোবাসা বুনে দিলে অন্তরঙ্গ সোহাগে! অঙ্কুরিত দোজখী জমিনে বেহেশতী সবুজ, লাউয়ের ডগার মত সজীব উল্লাসে!
রোদ আড়াল করা মমতার হাতে, শাখারা নুয়ে গেল ফুলে!
আরবী বালির ঝড় থেমে গেছে, স্তব্ধ সিমুম
সহসা পুলকে, আত্মার বিস্তার হল আযানের মত
সান্ধ্য-কুলায় আজ পাখিদের সুখী সংসার,
অন্তরঙ্গ হয়ে আছে ফণা আর ভালোবাসা সিজদার গৌরবে!
-সিজদার গৌরব

‘ওহোদে দান্দান শহীদ’-অশ্রুপাতকরি
মিলাদে! সমরের হলে প্রয়োজন জড়ো হই
মসজিদে, যেন ভীত মেষ! দোয়া মাগি
কোন মতে, তারপর অবাক করা মোজেজার
তরে, তাকাই আসমানে, অবশেষে পিছু হটি
নিরাপদ ব্যবধানে! যেন তাবুকের আহবানে
আমরা শঙ্কাতুর মাদানী!
-আর এক হিজরত

সম্মিলিত দুটি হাতের কোমল তালুতে
নেমে এলো তারার আলো, মহাজাগতিক
মহান সংগীত, আর উজ্জ্বল অবাক
আধ্যাত্মিকতা!
মাটির মানুষ বিস্ময়ে নির্বাক
সেই দুটি হাত
বিপুল বিশাল হয়ে বিশ্বকে করেছে বেষ্টন
আপন সোহাগে! মহাকাল বিদীর্ণ করে
সেই দুটি হাত
উঠেগেছে কত দূর! সেই দুটি
হাতের ছোঁয়ায়
পার্থিব সব কিছু অলৌকিক সোনা হয়ে যায়!
-দুটি হাত
সহসা
কা’বার আকাশ হতে এক ফালি মেঘ
হেরার চূড়া ছুঁয়ে ভেসে যায় দূর মদিনায়
তারপর ব্যাপ্ত হয় বিশ্বচরা চরে!
সেই মেঘ হতে
এক সমুদ্র টলটলে সুশীতল পানি
ধরা আছে এই–নব জীবন-প্রবাহ,
পান করো আকণ্ঠ!
-মহাজীবন

অতঃপর
সংগ্রাম নেমে এল মনের মাটিতে
শুরু হল আরেক লড়াই
কর্ম বন্দী হল বিবেকের হাতে
সংযমে নিভে গেল রিপুর আগুন
চিন্তার পথ হল দূর প্রসারিত!
-কাবার দুয়ার হতে সেই পদক্ষেপ
চেতনার রাজ্য জুড়ে ছড়ায় সংগ্রাম!
শুরু হলো অবশেষে আরে কলড়াই
আত্মার সাথে চেতনার
মানুষেরা খুঁজে পেল জ্যোতির আঙিনা!
-সংগ্রাম

জলপাই পাতা ঠোঁটে উড়ে এলে কে তুমি নতুন ঠিকানা
ধ্বংসের যাত্রী দল গেয়ে ওঠে জীবনের নতুন বেহাগ
ফেরাউনী সেনারা ডোবে তীরে জাগে অসিয়ার আলোকিত সাধ
নমরুদী অগ্নি নেভে ফুটে ওঠে অলৌকিক ফুলের বাগান!
-অঙ্কুরিত ভোর, আপ্লুত মনের ভূভাগ
ঘন হলো ভালোবাসা, কুলে পারানী তরী, ওপারে সোনালী স্বপন
আদিম খোলস ছেড়ে তারার আলোয় জাগে ক্রান্তদর্শী মাটির আদম!
-তারার আলোয় জাগে
রাসূলকে নিবেদিত কবিতায় কবি আবদুল আজিজ আল আমান-নূরের সেপাই, কওসরের ঢল, মোহন কোকিল, জ্যোছনায় গোসল, ধবল জোছনা, বেহেশতী সবুজ, ভীতমেষ, অবাক আধ্যাত্মিকতা, জ্যোতির আঙিনা, আলোকিত সাধ, অঙ্কুরিত ভোর এর মত ব্যঞ্জনাময় সফল কাব্যিক উপমা ব্যবহার করে বেশির ভাগ কবিতাকে রসোত্তীর্ণ করতে যে সমর্থ হয়েছেন এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়!