মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের সুন্দর জীবনের জন্য পাঠিয়েছেন দুনিয়ায়। সৃষ্টির সৌন্দর্য রক্ষার দায়িত্বও আমাদের উপর নেস্ত করেছেন। কিন্তু আমরা আমাদের দায়িত্ব ভুলে গিয়ে পৃথিবীর সৌন্দর্যকে কালিমা লেপন করছি। মানুষে মানুষে তৈরি করছি বিভেদ। মানুষের অধিকারকে করছি ভুলুণ্ঠিত। মানুষকে আর আমরা সম্মান করতে পারছি না। নৈতিকতার থেকে আমরা আজ বহুদূরে অবস্থান করছি। আমাদের শিল্প সাহিত্য, সংস্কৃতিও আজ এই সকল অপকর্মের ইন্দন দিয়ে যাচ্ছি। সেই সকল অপকর্মের ও অসংস্কৃতির বিরুদ্ধে মোলাকাত সবসময় সৃজনশীল ও মননশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে শুভ বুদ্ধির উদয়ের কাজ করছে। আর মোলাকাতের সাথে আপনারা মেলবন্ধন করে আমাদের কর্মকে এগিয়ে নিয়ে যান। এ জন্য আমরা যারপরনাই খুশি।

আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ কিছু খারাপ মানুষের জন্য অসম্মানীত হতে পারে না। শুভ বুদ্ধি উদয় হওয়ার জন্য আমাদের ‘ধর্ষণ বিরোধী কবিতা সংখ্যা’য় আপনার অংশগ্রহণ আমাদের সহযোগিতা করেছে। সেই সহযোগিতার ছিলছিলায় আজ আমরা প্রকাশ করলাম ‘ধর্ষণ বিরোধী কবিতা : ১ম সংখ্যা’। সম্পাদনায় : আফসার নিজাম

সূ চী প ত্র

ধর্ষণ :: তৈমুর খান
তন্দ্রাচ্ছন্ন দ্বীপে :: নাসির মাহমুদ
প্রচেষ্টার কিছুটা :: বিমল মণ্ডল
দস্যু ফুলন হবো আমি :: জাহিদা মেহেরুন্নেসা
লজ্জা :: রেদওয়ানুল হক
আকুল মিনতি :: সুমাইয়া সুলতানা সালওয়া
রক্তচোষক :: তাপস কুমার বর
হোক প্রতিবাদ :: মেহেদী হাসান তামিম
আমাদের ক্ষমা নেই :: নাসিমা জোহা চৌধুরী
অভিশাপ দেই! পরের জন্মে তুইও আমি হয়েই জন্মাস :: পিয়া খান
ধর্ষণ :: নন্দিনী সোমা
নেবেনা কেউ দায় :: সাকেরা নাছরিন
সভ্যতার বিক্ষত শরীর :: এ কে আজাদ
পরকালের ভয় :: ইমরান খান রাজ
বিষবাষ্পে বাংলাদেশ :: জাবেদ ওমর
কার দায়? :: এম. তামজীদ হোসাইন
কলঙ্কিনী সমাজ :: বিশ্বজিৎ মেটে
আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ চাই :: কবির কাঞ্চন
দেখছি দেশের শেষটা :: হামীম রায়হান
ধর্ষক শোন… :: এম.এস ফরিদ
…………………………………………..

ধর্ষণ
তৈমুর খান

যৌনজ্বর অপ্রকৃতিস্থ মানুষেরা সমাজ শৃঙ্খল থেকে
বেরিয়ে আসে দলে দলে
অন্ধকারের পথে হাঁটে
উদ্ধত লিঙ্গের কাছে নত হয়
নারীর নিতম্বে চাঁদ খোঁজে
অথবা অমিয় জলের হ্রদ

জন্মদাগ ভরে যায় স্থলিত বীর্যের বিষাদ
পুড়ে যায় কুমারিত্ব, পোড়ে স্বপ্ন সম্ভাবনাগুলি
মৃত্যু অথবা মৃত্যুরও অধিক মৃত্যু
সমস্ত শরীরময় ঘোর বিড়ম্বনা

সমাজ দূষিত হয়, দূষিত মর্মের দিন
কেঁপে কেঁপে ওঠে বেঁচে থাকা
সারারাত জাগে নির্ঘুমের পাড়া

কিশোরী আঙুলগুলি রোজ ডাকে:
দূর করো বিশ্বাসঘাতকতা
ভালোবাসো, ভালোবাসো —হে আমার স্নেয়ময় পিতা!
…………………………………………..

তন্দ্রাচ্ছন্ন দ্বীপে
নাসির মাহমুদ

লেখালেখি যেন আসে না আমার
মুষ্টিবদ্ধ হাত উঠে যায় আনমনে বারবার
টান টান কণ্ঠে আসে ষোলো কোটি মানুষের
দৃঢ়পদি মার্চের সাথে বৈতালিক চীৎকার
বিনম্র চাঁদ ঢেকে গেছে কাপালিক গ্ৰাসে
ত্রাসের বনে গোণে সুদিন নিরীহ হরিণী
সুনসান বনের সিংহেরা স্থিতিশীল গর্বে হাসে
রাহুর কাছে আমরা বুঝি হয়ে আছি ঋণী?
ঘরে ঘরে আজ আঙুর গুচ্ছের মতো
লাল কালো আঁধার বিরাজমান
দৃষ্টিবানেরা কি অন্ধের সাথে তুল্য?
জ্ঞানী আর মূর্খ তাহলে কি সমান❓
পশুত্বের কাছে সৃজনশীল বিবেক নিয়েছে ছুটি
মাংসাশীরা সবুজ দ্বীপে বেঁধেছে অমর জুটি।
আমার বোনের আর্ত চিৎকার প্রতিধ্বনি তোলে বিশ্বময়
তন্দ্রাচ্ছন্ন বিবেক উঠুক জেগে, হোক মানবতার মহাজয়।
…………………………………………..

প্রচেষ্টার কিছুটা
বিমল মণ্ডল

দূরে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটি
এক আকাশ চোখে একটা আয়না খুঁজছিল
সে বুঝতে পারেনি দাঁড়িয়ে থাকা শরীরে গ্রহণ লেগেছে
চন্দ্র, সূর্যের গায়ে গায়ে কালো লালচে দাগ
অন্ধকারে ছিটকে যাচ্ছে
নিজের চোখে দেখছে; নিজের শরীরের গ্রহ দশা

অথচ পাশ দিয়ে চলে যাওয়া কয়েকটি মানুষের দল
কেউ খাকি উর্দিতে, কেউবা পরিচালক
বারবার শুয়ে থাকা শরীরী গলায়
মৃত্যুর আগে কাতর অনুনয়-বিনয়

যে স্বরে প্রতিটি বাবা-মায়ের মেয়ে হয়ে ওঠা
অথচ মেয়েটির প্রচেষ্টার কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে
গ্রহ দশার সাক্ষী হয়ে যায়!
…………………………………………..

দস্যু ফুলন হবো আমি
(নারীত্বের অবমাননা আর নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমার দুর্বিনীত প্রতিবাদ)
জাহিদা মেহেরুন্নেসা

ইচ্ছে করে সব ছেড়ে ছুড়ে
ফুলন দেবী হয়ে যাই,
চলে যাই দূরে,
অমানুষের সীমান্তরেখা ছেড়ে।
দূর্গম পাহাড়ের চূঁড়োয় থেকে থেকে
নজর রাখি দেশের নারীদের উপর।
সি সি ক্যামেরা লাগিয়ে দিই সংগোপনে
অলিতে গলিতে,
ডাস্টবিন-চাটা কুকুরগুলো যখন লেজ নেড়ে
এগোয় সম্মুখে শিশু অথবা নারীদের দিকে
তখন ই পাঠিয়ে দেব এক এক প্লাটুন ফুলন বাহিনী ।
ফুলনবাহিনীর পরনে থাকবে সবুজ আর লালের
বাংলাদেশের মানচিত্র।
বাহিনীর হাতে দেব সোর্ড অব টিপু সুলতান,
দেবো চক্রধরের চক্র, দেব শূল ত্রিশূল-
যেন নিমেষেই, অতি সহজেই যায় কাটা
পৈশাচিক যন্ত্র যখন তাদের সেটা দুঃসহ জ্বালা।
আরো দেব নানা অস্ত্র শস্ত্র যেখানে যা আছে,
ময়না কাঁটা, মাছের কাঁটা, খেজুর কাঁটা
অজস্র কাঁটা যেখানে যা পাওয়া যায় হাতে।
কী ভেবেছে ওরা?
নারীর গর্ভে জন্মে নাই কি তারা?
এ দেশে কি এসব দেখার কেউ নেই?
কী ভেবেছে লালাঝরা কুকুরগুলা ?
কে তাদের বানিয়েছে এমন কুকুর ?
কী ভেবেছে দেশের নিকৃষ্ট এ কুকুরেরা?
পার পেয়ে যাবে নারীর সম্ভ্রম কেড়ে?
তারা কি জানে নারী সত্তাটির মানে?
তারা কি জানে নারী মানেই অজস্র সন্তানের জননী?
তারা কি জানে নারী মানেই বোনের স্নেহের ফল্গুধারা?
তারা কি জানে নারী মানেই প্রেম, ভালবাসা?
তারা কি জানে নারী শব্দটির মানে?
তারা কি জানে নারী শব্দটির মানে?
নারী মানেই একটি নিশ্চিত নিরাপদ আশ্রয়?
তারা কি জানে নারী শব্দটির মানে?
নারী মানেই জীবনানন্দের বনলতা সেন
আর তার চোখে দু’দণ্ড শান্তির আশ্রয়?
তারা কি জানে নারীর সম্ভ্রম কেড়ে নিজের সামনে
অপেক্ষমান অতল অন্ধকার?
তারা কি জানে,
দেশের সম্ভ্রম বিকিয়ে দিচ্ছে কত সস্তা সুখের দামে ?
কুকুরেরা যখন বোঝে না কিছুই,
যখন তাদের কামড়ে জলাতঙ্ক ছড়ায় ঘরে ঘরে
তখন ফুলন দেবীর মত ঝাঁপিয়ে পড়ে শাস্তি দিতে
ইচ্ছে করে ।
ইচ্ছে করে ফুলন দেবীর মত হয়ে যাই,
সভ্য জগতের যত কিছু আরাম আয়েশ ছেড়ে
আছে যতটুকু নিশ্চিত মাথার উপর ছাদ
আছে সুখের আবাস, সুখের আশ্বাস-
ইচ্ছে করে সব ছেড়ে দিয়ে
চলে যাই দূর অন্তরালে, যেখানে কুকুর পুরুষের
মুখ দেখতে হয় না আর ।
…………………………………………..

লজ্জা
রেদওয়ানুল হক

লজ্জা লজ্জা লজ্জা
সারাদেশে আজ লজ্জা
তবুও তোমার ভাঙলো না ঘুম
ভুলের বিবরে শয্যা!
লজ্জা লজ্জা লজ্জা
কতো আর সাজ-সজ্জা?
বিবেক-বুদ্ধি খেয়েছে শকুন
নাই বাকি হাড়-মজ্জা!
লজ্জা লজ্জা লজ্জা
আহারে করুণ লজ্জা।।
…………………………………………..

আকুল মিনতি
সুমাইয়া সুলতানা সালওয়া

চারিদিকে আজ শুনি
ধর্ষনের জয়জয়কার,
ওরা হলো এদেশের
নব্য রাজাকার!
মা-বোনের সম্ভ্রম নিয়ে
খেলছে ছিনিমিনি,
হিংস্রতাকেও হার মানালো
কলিজাটাকে টানি!
ধর্ষকেরা উৎরে গেছে
করে সীমা পাড়,
আল্লাহ্ তা’য়ালাই করবেন
স্থায়ী বিচার সবার!
কি লিখবো ভাবি কেবল
এমন সিচুয়েশান,
সত্য বলতে দ্বিধা কিসের…
বুঝবে কবে জেনারেশন?
কবে বুঝবে জাগবে সব
যুব-তরুণ সমাজ,
জাগি জাগি করেও তাদের
জাগা হয়না আজ!
আর কতো সম্ভ্রম প্রকাশ হলে
বুঝবে চেতনার জনগণ,
ক্ষমা করে দিও ওগো প্রভু
কেবল তুমিই জানো মন!
আমরা ভীষ-ণ অসহায়
ময়দানের মাঠে,
চাইনা আর দেখতে এমন
কোনো মা-বোনকে ঘাটে!
হে রব তুমি দাও পাঠিয়ে আবার
সত্যের সেই আবাবিল,
স্বদেশটাকে মুক্ত করে দাওগো রব…
একটু নিঃশ্বাস পেতে আলোর ঝিলমিল!
আকুল মিনতি”
চারিদিকে আজ শুনি
ধর্ষনের জয়জয়কার,
ওরা হলো এদেশের
নব্য রাজাকার!
মা-বোনের সম্ভ্রম নিয়ে
খেলছে ছিনিমিনি,
হিংস্রতাকেও হার মানালো
কলিজাটাকে টানি!
ধর্ষকেরা উৎরে গেছে
করে সীমা পাড়,
আল্লাহ্ তা’য়ালাই করবেন
স্থায়ী বিচার সবার!
কি লিখবো ভাবি কেবল
এমন সিচুয়েশান,
সত্য বলতে দ্বিধা কিসের…
বুঝবে কবে জেনারেশন?
কবে বুঝবে জাগবে সব
যুব-তরুণ সমাজ,
জাগি জাগি করেও তাদের
জাগা হয়না আজ!
আর কতো সম্ভ্রম প্রকাশ হলে
বুঝবে চেতনার জনগণ,
ক্ষমা করে দিও ওগো প্রভু
কেবল তুমিই জানো মন!
আমরা ভীষ-ণ অসহায়
ময়দানের মাঠে,
চাইনা আর দেখতে এমন
কোনো মা-বোনকে ঘাটে!
হে রব তুমি দাও পাঠিয়ে আবার
সত্যের সেই আবাবিল,
স্বদেশটাকে মুক্ত করে দাওগো রব…
একটু নিঃশ্বাস পেতে আলোর ঝিলমিল!
…………………………………………..

রক্তচোষক
তাপস কুমার বর

অধিকারের লড়াই আর কতদিন লড়তে হবে?
উলঙ্গদেহী অর্থলোলুপ সাম্রাজ্যে।
কত হায়নার দল গুপ্ত গহ্বরে –
শিকারী পেলে ছিঁড়ে খায় রক্ত অমানুষিক আচরণে।
সভ্যতার উলঙ্গদেহী মত্তবাসনায়,
রক্ত পিশাচ জেগে ওঠে-
কামনার হিংস্র রক্তচোষা স্বাদে।
নিরাপত্তা আজ হারিয়ে গেছে,
কত নারীর সম্মান দিনে দিনে ধর্ষিতা হচ্ছে,
গ্রাম-নগরের রাজপথে।
নেই কোথাও সভ্য শাসন,
আছে উলঙ্গ সাম্রাজ্যবাদীর হিংস্র অত্যাচার।
প্রতিবাদের তেজ কোথায়?
অর্থের কায়দায় সে ও আছে মুখ লুকিয়ে,
ভবিষ্যতের উলঙ্গ সাম্রাজ্যে।
দিনে দিনে সাম্রাজ্য উলঙ্গদেহী জেগে উঠছে,
কামনার গুপ্ত গহ্বরে।
কত নারীর সম্মান লুন্ঠিত হয়ে চলছে,
উলঙ্গদেহী ধর্ষিতা সাম্রাজ্যে।
বিবেকের জাগরণ এখনো কেন জাগে না মনে?
কত মহীয়সী নারী সম্মানের তরে লড়াই করেছে?
আজ সেই সম্মান –
ধূলোয় ধর্ষিতা হয়ে লুটোপুটি খাচ্ছে।
একদিক দেখবে রক্তচোষা খিদে,
হাজার হাজার উলঙ্গ সাম্রাজ্য বানাবে?
সেদিনের জাগরণের তেজ হারিয়ে যাবে।
দিনে দিনে ওরা ঔদ্ধত্যের উলঙ্গ সাম্রাজ্য তৈরী করবে।
তুমি আমি যদি সকলে ঐক্য বন্ধনে হই এক সাথে?
রক্তহন্তা পিশাচ –
সেদিন ভয়ে আঁতকে উঠবে।
ঐক্য বন্ধনের হাজার হাজার প্রতিবাদী মনোভাব,
রক্ষাচোষা খিদে,
তোদের একদিন-
হাজার হাজার প্রতিবাদী কৈফিয়ৎ চাইবে?
কত নারী সম্মান ধর্ষিতা হচ্ছে দিনে দিনে,
তোদের গুপ্ত গহ্বরে কামনার অমানুষিক আচরণে।
জেগে উঠুক প্রতিরোধের প্রতিবাদী রুদ্রদেহী মনোভাব।
ভেঙে গুড়িয়ে দাও ওদের রক্তচোষা কামনার দাঁত।
…………………………………………..

হোক প্রতিবাদ
মেহেদী হাসান তামিম

পাপ পর্ব

নুসরাত নুসরাত, তোর কটা মাথা কটা হাত
তুই বড়ো বজ্জাত! বজ্জাত
কেন গেলি দেখাতে অযথা চোটপাট!
আশা ছিল দিবে ছুঁয়ে শুধু একটুকু, অতটুকু শরীরে
ঠোঁট পেট মাথা বুকে দিবে তার লোমশ হাতদুটো একটুই বুলিয়ে
চেটেপুটে চেখে নিবে খানিকটা, বড়জোড়
প্রশ্নও দিত তোকে শরীরের বিনিময়ে
পাস করা কত প্রয়োজন, বুঝলি না ওরে বোকা মেয়ে!
কষ্টের অনুভূতি, সব পাপ একদিন যেত মুছে ঠিকই, ভুলে যেত সকলে
যেভাবে ভুলে গেছি সোমা রুমা নীরু-কে
ল্যাঠা সব চুকে যেত, আঁখির এক পলকে!
নুসরাত! নুসরাত, তুই বড়ো বোকা মেয়ে
খুব বোকা মেয়ে!
তোর কটা মাথা কটা হাত
তুই এত বজ্জাত! বজ্জাত
কতজন এলো গেল, হিসেবটা করে কে
ফেলানি কাঁটাতারে ঝুলে তেকে বেমক্কা মরে গেলো
আসে যায় কতজনই হররোজ, বলতো, রেখেছে কেবা কার খোঁজ
ওরে বাবা, লাগিসনে ওদের সাথে! ঝাণু ওঝা তারা
চিরকাল যাবে বাজিয়েই বিণ বিষে মাখা
বলবে জগত, এটাই নীতিতে মাখা মাখা ঠিক কথা
পিষে ফেলা সুর বটে, সবচে মিঠে সুরেলা।
নুসরাত— তুই, তোরা বড় বোকা মেয়ে
শরীরটা দিতে হতো শুধু তুলে
সে-ও কাকে! পিতৃর সমান শিক্ষার গুরু কে, হুজুরে
জানা নেই মুদ্রা নর্তন কুর্দন! ধুর বোকা, তাতে কি?
নিজেকে উল্টে-পাল্টে দেখাতি
খেমটা ঝেমটা, আরেকটু বেশি হলে বড়জোর ন্যাংটা কিছু নাচ
খুলে দিতি খাঁজেখাঁজে ঢেকে রাখা আব্রু, লকলকে জিহ্ তার চেটে নিতো কিছু ভাঁজ!
এ-ই তো, আর কি! অন্তত বেঁচে যেতি
এ সমাজে বেঁচে থাকা বড় দায়, ধর্ষিত হলে যায় পাওয়া খুব নাম
আর পায় তারা জামানত! কে রে ছেরি, তুই কার আমানত? বাবা, মা
হা হা হা, আসলেই রাম গাঁধা তুই, বাবা মা ভাই বোন এখানে নেই দাম
হাত পা বেঁধে চক্ষু সমুখেই গড়ে তারা সুখধাম
কামনা যাহাদের এত মূল্যবান, নয় তারা ভগবান!
থাকতি বেঁচে তুই, হতে ফের কারো
মানহীন দামহীন লোভাতুর পণ্য; থাকতি বেঁচে তো
আহা রে, কেন গেলি মরতে! চাস কেন তোরা হাত পা ছুঁড়তে
নুসরাত! তোর কটা মাথা কটা হাত
নুসরাত নুসরাত
তুই বড়ো বজ্জাত! বজ্জাত
পারলি না নিজেকে বেচতে
হ্যামিলন বাঁশি শুনে নেচে তুই উঠতে!
তুই আজ মৃত ওরে! থাকলেই বেঁচে মরতে হতো ফের বটে
মরেও থাকতি বেঁচে, ফের মৃত্যু বরিতে আবার;
ক্ষণ-অক্ষণে ফিরতিই মরে মরে আরো যে কতশত বার!
হয়েছে বেশ ভালো, মরেই গেলি; মর্ তোরা
এক্ষুনি মরে যা সব যত নুসরাত, মরবি তো একবার
অচল এ মৃত পৃথিবীর আছে কী অধিকার
তোদেরকে রাখে ধরে নষ্ট বুকে তার
নুসরাত যা তোরা, চলে যা। হেথা পারবি না বাঁচতে
সবকিছু বিনিময়ে একবারই শুধু বেঁচে থাকতে!

প্রার্থনা পর্ব

ভুলি কি করে! আগুনে ঝলসালো মিষ্টি পাখি
আদরের ধন বড়, মা’র কোলে নুসরাত
স্বপ্নডানা, সোনালি আশা সেদিনেও মেলেনি ডানা, তবু দৃঢ় শিরদাঁড়া
টেনে ছিঁড়ে তার হাত পা, দিয়ে আগুন, বিভৎস সুখে তারা করেছিল অবগাহন
কী দুঃসাহস তাহাদের, কী নির্বিকার! তারপরও প্রতিদিন এসেছে প্রভাত
ধর্ষক— সে তো ডাকাত! এনে দাও
তাকে মা তার
খু্ঁজে ফিরুক কামসেবা সেথায় মায়ের জন্ম-দুয়ার
তিয়াসা মেটাক শয়তান পূজারি,
জেনে নিক নারী;
হোক স্ত্রী সন্তান জায়া জননী
অথবা রাতপরী সবারই হুবুহু একরূপ যোনি।
মাধুর্য্য গঠন আর মোহনে, রতিক্রিয়া সবখানে সুখ
একদম একই; অভিন্ন তৃপ্তিতেই মেটায় সকল কামনার ভুখ!
দিন হয় গত, মৃত্যুতে নুসরাত শত শত
জান্তব বিকৃতির নারকীয় যন্ত্রণা
আর কবে, তারা করিবে ভোগ!
কবে সেই কামদন্ড হবে কেঁচো, চিরতরে অকেজো
উত্তাপী বৈশাখে কুকুরের রোগ, নিপাত যাবে কবে, ওদের সে বেজন্মা অসুখ!
বহুজনম আগে মানুষের হতে হয়েছিল পলাতক, ওসব রোগশোক
হায়েনাদের কাঁধে চড়ে, ফিরেছে ফের তারা এই গ্রহে
বাঁধিয়ে নিজেতে ধর্ষণ অসুখ।
নুহের নৌকা কোথা আজ, শেষ হবে কী করেই এবার
পৃথিবীর এই চরম দুর্ভোগ!
ফিরে এসেছে তারা! মাতৃপাপী পাপাত্মারা
আবার ডুবাতে জগত।
মনুষ্যরুপী প্রতি ধর্ষক, মানুষ একেক
যৌনাঙ্গে তাদের করেছেই ভর জারজ নিয়ত!
লাভ আছে ঘৃণা ভরে ‘ছিঃ’ বলে, হবে কোনো ফয়সালা খোদারে করে আরজ!
চলো করি তবে প্রার্থনা, জগত হতে বিলুপ্ত হোক
ধর্ষক সেই মনুষ্যত্বের ঘাতক! সভ্যতার নিকৃষ্টতম হন্তারক
এখানে কেবল বাঁচুক—
একটিই দল, মানুষ অথবা বর্বর পাপের সেবক!

প্রতিশোধ পর্ব

তেঁতুলের টানে আসা জিহ্বার জলে; মনুষ্য-বিষ্টা
মেখে সাথে, ধর্ষক শরীরের হতে চামড়া খসায়ে
আরব্য রজনীর গল্প দৈর্ঘ্যের রাত ধরে
ঠেসে চুবালেই তারে, সাজা হবে তাতে যৎসামান্যই
পাখি পরিবারে চলেছেই জ্বলে, যে অশান্তি দাহে অগ্নিপ্রপাত
জ্বালা কিছু তার, পাপিষ্ঠ তাকে দেব কী করে ফেরত
বুদ্ধিজীবী, তোরা কবি বহু তো করলিই বকবক, এবার থাম
কিচ্ছুই হবে না ও তোর কবিতায়, কিছুতেই হবে না তারা নিষ্কাম।
চলবে এভাবেই, নেই কোনো প্রতিকার?
হতে পারে! যত আছে ধর্ষক
ভোঁতা ক্ষুরে কেটে দিলে, শয়তান প্ররোচিত পথভ্রষ্ট গন্ধম দন্ডটি তার
ধরে তারে, সেথায় রশিতেই বেঁধে, দিলে ঝুলিয়ে কেওক্রাডং পাহাড়
মরার আগেই দেখে নিক পুংসক মৃত্যু শুধু একবার
যেভাবে বাঁচে প্রাণে আমাদের কন্যা, বাঁচুক সেও প্রাণে
সেই অনাহারী কামুক দন্ড বিনে; করুক আস্বাদ গ্লানি জীবনের ভার
মরে যদি! মরুক রোজ রোজ, মানুষের প্রার্থনায়
মরুক স্ত্রী জননী কন্যার কাছে ঘৃণা, লজ্জা, আত্মশুদ্ধির দোটানায়
মরুক আমার পাখিটিরই মতন – ভীষণ অসহায়!
…………………………………………..

আমাদের ক্ষমা নেই
নাসিমা জোহা চৌধুরী

দয়াকরে কেউ এই সময়কে
আইয়্যামে জাহেলিয়ার সাথে তুলনা করোনা প্লিজ
আইয়্যামে জাহেলিয়ায় কন্যাসন্তানকে জীবন্ত পুঁতে ফেলা হতো
তবে সেটা দারিদ্র্যের ভয়ে
কেউ দল বেঁধে ধর্ষণ করেনি তখন
সন্তানের সামনে
স্বামীর সামনে
নারীরা সম্ভ্রম হারা হয়নি তখন
এমনকি বাবা নিজ হাতে কবরে পুঁতে রেখেছে
কিন্তু ধর্ষণ করেনি
যেমন আজকাল বাবারা করে
আইয়্যামে জাহেলিয়ায়, ছোকরাবাজিও ছিলোনা
অনেক অনেক বছর আগে, হয়তো শত সহস্র বছর হবে
লূতের কওম যে কুকর্মটি শুরু করেছিল এবং
ইশ্বরের রোষানলে পরে সমূলে ধ্বংস হয়েছিল
সেই কুকর্মটি ও কিন্তু আইয়্যামে জাহেলিয়ার যুগে ছিলোনা
আজকাল আমাদের প্রার্থনালয় গুলো দেখুন
আমাদের শিক্ষালয়গুলো দেখুন
ধর্মজীবীরা কেমন ব্রোথেলে পরিণত করেছে
ধর্মীয় লেবাসে নারী, শিশু, ছোকরা কেউই পাচ্ছেনা রেহাই
দোহাই তোমাদের আইয়্যামে জাহেলিয়াত বলে
এই সময়কে চালিয়ে দিওনা
সেটা অনেক ভালো ছিলো
আমরা অধঃপতনের চুড়ান্ত সীমারেখা অতিক্রম করে ফেলেছি
এবার আমাদের নিশ্চিহ্ন হবার পালা
…………………………………………..

অভিশাপ দেই! পরের জন্মে তুইও আমি হয়েই জন্মাস
পিয়া খান

একদিন আমিও ছিলাম তোমাদের ভিড়ে।
‘ছিলাম শারদের চঞ্চল হরিণী’
মায়ায় ভালোবাসায় হয়ে বিনোদিনী।
হঠাৎ কিযে হলো?
মুহূর্তেই সব এলোমেলো!
কি হলো ঠিক মনে নেই তার……
হাতে ধরি পায়ে পড়ি, দেই দোহাই আল্লাহর!
তবু যদি থামে ওরা বিবেক ফিরে মানবতার।
নির্লজ্জ্ব ওরা তখন গলা ছেড়ে অট্টহাসে!
দুই টাকার নারী তুই বলে উপহাসে।
চিৎকার কর………যতদূর গলা যায়!
এলাকার ডন আমরা দেখি কে
তোরে বাঁচায়!!
কি যে ভীষন জ্বালা বুকে নারী হওয়ার অনুতাপে,
মায়ের গর্ভও কাঁদে নগ্নতার কদার্য্যে।
ভাগ্য বিধাতা যে জন?
সেও তো মুখ ফিরিয়েই থাকে।
আজ আমি নিগৃহীত,
গায়ে আমার অপবিত্রতার
সীল মোহর।
বেঁচে থেকেও জীবন্ত লাশ আমি, আর তোমাদের অশুচি ভোর।
অপরাধ ওদের নয় শুধুই আমার,
নগ্ন দৃষ্টির কাছে জীবনের হার।
হিংস্রতার বাহুবলে আজ আমি কলঙ্কিত,
বৃন্তচ্যুত সমাজে আজ আমি ধর্ষিত।
চোখের পাতায় পাতায় বিষাক্ত দুঃস্বপ্ন,
যে প্রেম সুপ্ত ছিল সেও আজ ছিন্ন।
দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াই যদি মিলে ন্যায়,
প্রশাসনও আমায় দেখে হাততালি দেয়।
চারিদিকে কেবলি ভীষণ আধাঁর,
মানবতা পথ ভ্রষ্ট, বিবেক মিথ্যাচার।
মৌলিক অধিকার কে নেয় তার ভার?
অবশেষে প্রশ্ন উঠায়?
চরিত্র কেমন?
কোথায় ছিলাম?
কেন ছিলাম?
ওড়না কি ছিল গায়?
নির্লজ্জ নষ্ট মগজ আমায় দেখে ভ্রু কুঁচকায় ।
হৃদয়ে বিষাদের ধারা ভীষণ কালো,
বহুদিন বদ্ধ ঘরে দেখিনি সূর্যের আলো।
আমি যেনো মানুষ নই অভিশপ্ত কেউ,
দেখ আমার স্বাধীনতায় বইছে আজ সুনামির ঢেউ।
জানো?
আমারো হৃদয় কাঁদে…
ভীষণ কাঁদে প্রতিহিংসায়।
মধ্যরাতের কষ্ট গুলো বুকের মাঝে দলা পাকিয়ে হুংকার দেয় ।
অস্তিত্বের কদাকার এই সন্ধিক্ষণে
মৃত্যুকে খুঁজি আমি দিশেহারা জীবনে।
তবু সে দেয়না ধরা বুকে নেয় না সহজে,
বোবা লাশ হয়ে বাঁচি আমি অশুদ্ধ সমাজে।
কতই না আশা ছিলো মনের গহীনে,
নরপশু রিক্ততা ছড়ায় বিক্ষিপ্ত হৃদয়ে।
সোনালী ইচ্ছারা আজ রক্তে রাঙা,
থুথু জমে নিঃশ্বাসে আর শরীরে ঘেন্না।
স্মৃতির বাসরে ঝুলে দূষিত জোছনা,
দেখে নিও একদিন চলে যাবো
এই কলুষিত সমাজে আর ফিরবনা।
শীর্ণ জীবনের যত লাঞ্চনা…
ব্যথিত হৃদয়ে জমা আছে যত কথা,
বলে দিব সব তাকে যে আমার খোদা।
আমার আকাশে উড়ে বিভৎস শকুন।
মেরুদণ্ডহীন সমাজ!
নারীকে রক্ষা করে নেই এমন পুরুষ।
অভিশাপ দেই তোকে!!
খোলস বদলাক…
পরের জন্মে তুইও আমার মতই
আমি হয়েই জন্মাস!!
তুইও মেয়ে হয়েই জন্মাস।।
…………………………………………..

ধর্ষণ
নন্দিনী সোমা

ধর্ষণ ধর্ষণ ধর্ষণ
নারী যেনো যৌনতার উর্বর ভূমি
ইচ্ছে মতো করা যায় তাতে যন্ত্রনা দিয়ে কর্ষণ।
নারীকে দেখে ভুলে যাস তোরা, মা, বোন ভাবী
পশুদের হোক ফাঁসি, আজ সবার বজ্র কণ্ঠে হোক
একদফা, এক দাবি।
নারীকে দেখে জাগছে তোদের যৌন নির্যাতন,
আরে ধিক তোদের পশুর দল
তোদের মতো এ-তো ছোট নয় নারীদের মন
তোদের দেখলে জাগেনাতো নারীর, কামনা বাসনা
নারীতো পাশে থেকে যোগায় তোদের শত কষ্টেও সান্তনা
আজ প্রকাশ্যে গুলি করে যেনো তোদের মারা হয়
তবেই তোরা বুঝতে পারবি নারী শক্তির জয়
…………………………………………..

নেবেনা কেউ দায়
সাকেরা নাছরিন

আমার গাঁয়ের সোনার মেয়ে
থাকতো দুধে-ভাতে,
ঘাপটিমারা নেংটি ইঁদুর
কামড়েছে বিষ দাঁতে।
লোক নিন্দায় সোনার কন্যা
লুকায় মাথা গুজে,
এ সমাজের রক্তচোষা
কন্যার দোষই খুঁজে।
দোষে দোষে সোনার কন্যা
ঘুরে পাগল বেশে,
পথশিশুর জন্ম দেয় সে
ব্ছরের শেষ মাসে।
মান বাঁচাতে সমাজ তাকে
শেকল বাঁধে পায়,
বিবেকহীন সমাজপতি
নেবেনা কেউ দায়।
গোটা কতক নেংটি ইঁদুর
জাতির মাথা খায়,
বুঝেও বুঝেনা সমাজ
শিবের গীত গায়।
জ্ঞানপাপী সমাজপতির
বিবেক বুদ্ধি ছাঁই,
“বাহ্! নারী শিশু আটকে ঘরে
সমাজটা পাল্টাই!”
আপন হৃদয় ছিন্ন না হলে
বুঝবেনা কেউ তবে,
জ্ঞানপাপীর মুখোশ উপড়েই
আজ এগুতে হবে।
…………………………………………..

সভ্যতার বিক্ষত শরীর
এ কে আজাদ

আহা! সভ্যতার ঘরে চামওঠা কুকুরদের এ কেমন উৎপাত!
আর আমরা তো সবাই অন্ধ খোকাবাবু(!)
মায়ের কোলে বসে খাই দুধভাত।
অসভ্য শরীরের জারজ নপুংশকের দল খুঁজে ফেরে দুর্বলের নিরীহ ঘরকন্না।
শকূনের মত ক্ষত বিক্ষত করে দেয় মাতৃত্বের পবিত্র মিনার!
অথৈ সমুদ্রে মানবতা সাঁতরায়!
খুঁজে না পায় জীবনের কিনার!
এখানে মানুষ নেই,
এখানে কেবলই মানুষের পোশাক পড়ে হেঁটে যায় একদল হিস্র নরপশু।
কোথায় হে আকাশ জমিনের মালিক!
ভিসুভিয়াসের একটা গগণচুম্বী হল্কা পাঠাও!
দাউ দাউ করে জ্বলে উঠুক এই দুর্বৃত্তদের আস্তানা,
যাক, পুড়ে ছারখার হয়ে যাক আমাদের দুর্বল পুরুষত্ব!
জ্বলে পুড়ে খাক হয়ে যাক এই মানুষ নামের মেরুদণ্ডহীন সর্পিল প্রাণীর আবাস!
আর আমাদের উড়ে যাওয়া ছাই হতে ফিনিক্সের মতন আবার জন্মগ্রহণ করুক বিবেকবান মানুষের দল।
কেঁচে গণ্ডুষ হোক এই মানবতা, এই মানব সভ্যতা।
…………………………………………..

পরকালের ভয়
ইমরান খান রাজ

বাংলার বুকে খুন, ধর্ষণ
আর দেখবো কতকাল ?
একটু থামো, ভয় করো এবার
শীগ্রই আসবে পরকাল !

ক্ষানিক সুখের আশায় যারা
করছে খারাপ কাজ,
মানুষ রূপী পশু তাঁরা
কবে হবে ওদের লাজ ?

চুপ করে আর থাকবো না ভাই
আওয়াজ তুলো, করো প্রতিবাদ,
দেশের তরে শপথ করো
সইবো না বাংলা মায়ের অপবাদ !
…………………………………………..

বিষবাষ্পে বাংলাদেশ
জাবেদ ওমর

একে একে হারালাম সব অধিকার
ছিটেফোঁটা ইজ্জত! বাকি নেই ঘরে আর।
রাত্রি আর দিন বলো
রাস্তায় নিশ্চিন্তে হাটঁবার।
সারাক্ষণ অস্থির থাকে মা
নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসবার।
এদেশে বেঁচে থাকার নেই অধিকার?
রাস্তায় নামলে বুলেট-গুলি, হাইকোর্ট বেল
স্ট্যাটাসে আইন আছে! হবে তোমার জেল।
কথা বলা, প্রতিবাদ প্রয়োজন নেই
ধম ধরে পড়ে থাকো, তুমি মুনাফেক সেই।
আমাদের বিচার চাওয়ার নেই অধিকার?
তনু, আছিয়া, সামীয়া ভুলে যাওয়া আবরার!
চাপা পড়ে যাবে ক্ষোভে
নিত্ত-নতুন কোন শোকে।
ধর্ষণ দিন-দিন বেড়েই চলে
কেন এতো উদ্দাম?
কারণটা যাও বলে?
…………………………………………..

কার দায়?
এম. তামজীদ হোসাইন

তোমার কি কোন দায় নাই
তুমিও কি অপরাধী নও?
তোমারও তো হতে পারতো এই কলঙ্ক
তুমি সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে রাস্তায় নামো
তুমি গণতন্ত্র উদ্ধারে সোচ্চার কণ্ঠে আওয়াজ তুলো
তুমি শ্রমিকদের মজুরীর দাবিতে প্রতিবাদ করো
পুলিশের বন্দুকের গুলির ভয় তুমি করো না?
অথচ সেই তুমিই নাকি ধর্ষকদের বিরুদ্ধে নীরব
তোমার এই নিরবতা কি ধর্ষকদের পক্ষে নয়?
তোমারও তো একাকী বাইরে যেতে হয়
তোমারও তো একাকী হাঁটতে হয়
তোমারও তো স্বামীর সাথে বেরুতে হয়
এই নরপশুদের থাবা তোমার দিকেও তো আসতে পারতো
আজকের নিষ্পাপ তুমি কি নিরাপদ?
তাহলে কোথায় তোমার হুঙ্কার?
তুমি না নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে গর্ব করো
হে মমতাময়ী নারী,
তবে এই দায় কার?
তোমাদের সামষ্টিক হুঙ্কারে নরপশুরা ভীত হবে
তাহলে কেন থাকবে তোমরা নীরবে?
আঁধারে থেকে কি আলোর প্রদীপ পাবে?
তাহলে কেন নীরবে আঁধারে বসবাস করো?
আলোকে খুঁজো আলো পাবে
তবেই তুমি নিরাপদে বাঁচতে পারবে।
…………………………………………..

কলঙ্কিনী সমাজ
বিশ্বজিৎ মেটে

সুশীল নামপঞ্জির খোলস জড়িয়ে দৈব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সমাজের ফাঁক ফোকরে ইচ্ছেমতো লালসার জিভ বুলিয়ে দিচ্ছে ধর্ষকদের দল;
হাজার হাজার আমজনতার মাঝবরাবর জ্বলন্ত আগুনের লেলিহান শিখা!
সময়ের চক্রে চক্রে ছারখার হয়ে যাচ্ছে নারীদের স্বপ্ন সাধনা,
আর মনুষ্যত্বের মুখে আগুন জ্বলে বরাবর…
শরীরের বিশেষত্ব গরমের আবেগে খ্যাপা কুকুরের মতো ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছে নারী মাংস!
রক্তের স্রোতে স্যাঁতসেঁতে পায়ের নীচটা,
আর লক্ষ লক্ষ জনম দুখিনী মায়েদের কান্নায় ভিজে গেছে শাড়ির আঁচল।
সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে মোমবাতি মিছিল…
ধর্ষকদের ফাঁসি চাই, ধর্ষকদের ফাঁসি চাই,
তবুও একের পর এক হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার অগ্নিকন্যা।
ধর্ষকদের বর্ণহীন শরীর, তাদের ধর্ম নেই…
শত কষ্টের রেখা কেটে তিল তিল করে জীবনের স্তরে অশ্লীল ক্ষত বিক্ষত আঘাত চাপিয়ে দাও তাদের বুকে…
আর আগ্নেয়গিরির ফুটন্ত লাভা ছিটিয়ে দাও শরীরের অঙ্গে অঙ্গে…
…………………………………………..

আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ চাই
কবির কাঞ্চন

আজকের বাংলাদেশ
বিবস্ত্র এক ভূখণ্ডের নাম।
এ যেন সীমা লঙ্ঘনের স্বর্গরাজ্য।
অথচ কোন একসময় এখানে মানবতা ছিল।
মানুষের মনে দেশপ্রেম ছিল।
নারীর প্রতি সম্মান ছিল।
গুণী মানুষের কদর ছিল।
তখন মানুষ আর পশুতে পার্থক্যও ছিল।

সময় এখন পাল্টে গেছে।
চোখের সামনে ঘটে যাওয়া
ঘটনাগুলো প্রত্যক্ষ করে
জাতি আজ বড়ই লজ্জিত।
ধর্ষকের কামবাসনায় কলঙ্কের দাগ লেগেছে
বাংলামায়ের ললাটে।
চারিদিকে শুধু হাহাকার ধ্বনি
“আমাকে বাঁচাও! আমাকে বাঁচাও!
তোমার পায়ে পড়ি।
তোমরা আমার ভাই। আমার সন্তান।
আমার সবটুকু কেড়ে নিও না।
ঘরে তো তোমারও মা বোন আছে।”
কিন্তু পশুরা তা শোনে না।
ধর্ষণের নেশায় মেতে ওঠে আবার।
আর আমার মায়ের আমার বোনের নিদারুণ আর্তনাদের সুর কেউ শুনতে পায় না।
শুধু সমীরণে মিশে মানচিত্রের গায়ে
কলঙ্কের তিলক আঁকে।

জাতির ভাগ্যাকাশে উড়ছে সেই শকুনের প্রেতাত্মারা।
তবে কী দু’লক্ষ মা বোনের ইজ্জত আর
ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত দামে কেনা
দেশটা এখনও আমার হয়নি?

এখনও সেই ধর্ষকের বীজ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠছে।
ঠিক একাত্তরের মতো। কিংবা তারও বেশি।
ওদের রুখে দিয়ে ধর্ষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে
চাই
আরেকটি একাত্তর। আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ।
…………………………………………..

দেখছি দেশের শেষটা
হামীম রায়হান

দেশটাতে কী হচ্ছে এখন,
দেশটা রসাতলে,
ধর্ষকেরা ঘুরছে দেখো,
হাসছে কাদের বলে?
রাজনীতির ঐ প্রদীপ ঘষে
আজকে তারা দৈত্য,
যেমন ইচ্ছে করছে তেমন,
তারাই কেবল সত্য।
তাদের বাঁধা কে দিবে ভাই,
তাদের হাতেই দেশটা!
মা, বোনদের চোখের জলে
দেখছি দেশের শেষটা!
…………………………………………..

ধর্ষক শোন…
এম.এস ফরিদ

নারী আমার মা জননী
নারী হলো বোন,
নারী জীবন স্রষ্টার রহম
বলছি ধর্ষক শোন।

নারী সবার জীবন চলার
অর্ধ অঙ্গের সঙ্গী,
নারী হলো তোরও যে মা
পাল্টা দৃষ্টি ভঙ্গি।

নারী রূপে মা শাশুড়ি
খালা চাচি মেয়ে,
তোরি বোনে ধর্ষণ হলে
বিচার চাবি যেয়ে।

এই কথাটা মাথায় কিরে
ঢুকছে না তোর মাথায়,
তারপরেও ধর্ষণ করিছ
কুত্তা কীসের আশায়?

যে নারীকে সম্মান দেয় না
ধর্ষক হচ্ছে যারা,
আমি বলি আমার চোখে
কুত্তা হলো তারা।