মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের সুন্দর জীবনের জন্য পাঠিয়েছেন দুনিয়ায়। সৃষ্টির সৌন্দর্য রক্ষার দায়িত্বও আমাদের উপর নেস্ত করেছেন। কিন্তু আমরা আমাদের দায়িত্ব ভুলে গিয়ে পৃথিবীর সৌন্দর্যকে কালিমা লেপন করছি। মানুষে মানুষে তৈরি করছি বিভেদ। মানুষের অধিকারকে করছি ভুলুণ্ঠিত। মানুষকে আর আমরা সম্মান করতে পারছি না। নৈতিকতার থেকে আমরা আজ বহুদূরে অবস্থান করছি। আমাদের শিল্প সাহিত্য, সংস্কৃতিও আজ এই সকল অপকর্মের ইন্দন দিয়ে যাচ্ছি। সেই সকল অপকর্মের ও অসংস্কৃতির বিরুদ্ধে মোলাকাত সবসময় সৃজনশীল ও মননশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে শুভ বুদ্ধির উদয়ের কাজ করছে। আর মোলাকাতের সাথে আপনারা মেলবন্ধন করে আমাদের কর্মকে এগিয়ে নিয়ে যান। এ জন্য আমরা যারপরনাই খুশি।

আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ কিছু খারাপ মানুষের জন্য অসম্মানীত হতে পারে না। শুভ বুদ্ধি উদয় হওয়ার জন্য আমাদের ‘ধর্ষণ বিরোধী কবিতা সংখ্যা’য় আপনার অংশগ্রহণ আমাদের সহযোগিতা করেছে। সেই সহযোগিতার ছিলছিলায় আজ আমরা প্রকাশ করলাম ‘ধর্ষণ বিরোধী কবিতা : ২য় সংখ্যা’। সম্পাদনায় : আফসার নিজাম

সূ চী প ত্র

উল্টোরথ :: বেণুবর্ণা অধিকারী
অশ্রুর ধ্রুপদী :: বীথিকা পড়ুয়া মহাপাত্র
ধর্ষণ চিৎকার, ঠুনকো প্রতিবাদ :: গাফফার মাহমুদ
কাম কীর্তন :: শাহীন রায়হান
ধর্ষিতা :: শেখ একেএম জাকারিয়া
মালেক নাকি সিরাজ :: শাহ আলম বাদশা
আর্তনাদ :: তানজারীন ইফফাত স্বাতী
স্বাধীনতা ফিরিয়ে নাও :: রাকিবুল হাসান রাকিব
ঘৃণা :: আশরাফ আলী চারু
জেগে ওঠো নারী :: শেখ নূরুল আমীন
ফাঁসির দাবি :: আহাদ আলী মোল্লা
প্রতিবাদ :: আফজাল সুয়েব
আগাছা বিনাশ :: আব্দুল্লাহ মুনাওয়ার সিফাত
নরপশু :: মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন
ক্ষুধার অনেক নিচে :: শুভঙ্কর দাস
গর্জে ওঠো :: গাজী রায়হানুল হক
জেগে উঠুক প্রিয় স্বদেশ :: এস ডি সুব্রত
বাংলাদেশ :: মাহমুদুল আমিন আকিব
প্রতিবাদী গান :: সাবিত সারওয়ার
প্রতিবাদী ঢেউ শুনি :: ইলা সূত্রধর
…………………………………………..

উল্টোরথ
বেণুবর্ণা অধিকারী

ধর্ষক রুখতে তুমি পরেছ কাঁটাতার
যা সহজ পরিধেয় নয়
স্বাভাবিক কাজকর্মে
এ এক কঠিন বিড়ম্বনা
চরম শাস্তির পথচলা

দোষী কে?
তুমি নাকি ধর্ষক
শাস্তি কার জন্য প্রযোজ্য
এ কাঁটা যদি কারো পরতে হয়
সেটা তোমার নয়
পরিয়ে দাও ধর্ষকদের এই ষড়মন্ত্রী বেড়ি
যতদিন তারা বাঁচবে
এই পোশাকই হোক তাদের রাষ্ট্রীয় শাস্তিস্বরুপ তিরস্কার

তুমি কেন অহেতুক কষ্ট নিচ্ছ
নারী বলে?
এ তোমার অপরাধ নয়
আদিম বর্বর রিপু পুরুষের
যে মানুষে হয়নি রুপান্তর
…………………………………………..

অশ্রুর ধ্রুপদী
বীথিকা পড়ুয়া মহাপাত্র

ঠিক আর কতোটা এগোলে
নারী শুধু মাংসল নয়!
নারকেলের আবরনের ভেতর সুমিষ্ট নদী!
আচমন করেছো কখনো পূজোর আগে?
প্রেমের চন্দ্রকলা দেখেছো চন্দ্রাবলীর!
নারীর স্তন, নিতম্ব, যোনীদ্বার চিৎকার তানে
গেয়ে যাবে কেবল অশ্রুর ধ্রুপদী?
এতো লোভ! এতো লোভ তোদের?
মাংসটুকুর লোভে খোলস ছেড়ে চিতাবাঘ
ও হায়নার দাঁত ও নখর!
বৃক্ষের অশ্রুভাষা অলিখিত ই চিরকাল!
আর কতো যুগ চাই? সব ফুল ঝরে যাবে!
কী দেখে তুমি মজনু হবে? হবে কবি!
হৃদয়ের সলতে পাকিয়ে ভিজে স্যাঁতস্যাঁতে
মনের ভেতর আগুন খুঁজছো?
ওর পোড়া দগ্ধ চিতাভস্ম শুঁকে দেখো
কতোটা মায়া পাও!
এ পৃথিবীর সমস্ত নারীরা যদি আচম্বিতে
উলঙ্গ হয়ে বেরিয়ে আসে
পারবে তো খুলে রাখতে চোখ?
আলো জ্বেলে দাও চারিদিকে
এখনো গভীর রাত!
…………………………………………..

ধর্ষণ চিৎকার, ঠুনকো প্রতিবাদ
গাফফার মাহমুদ

লোক দেখানো কিছু প্রতিবাদ
সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন
দু-চার দিন গলাবাজি, শ্লোগান।

কিছুদিন গা ঢাকা শহরে, গ্রামে

তারপর খুব বেপরোয়া হবে
নখের থাবায় খুবলে নেবে
যৈবতীকন্যার তুলতুলে গাল।

রাষ্ট্রযন্ত্র বড়ই উম্মাদ
জেনে গেছে ওরা
এসব ঠুনকো প্রতিবাদ!

বিশ্ববিদ্যালয়ে
চলন্ত বাসে
হরদম চালাবে
গণধর্ষণ কাম

ধর্ষিতা বোনের চিৎকার
গগণ বিধারী মায়ের ক্রন্দন

তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিচ্ছে রাষ্ট্রচিন্তক, উদ্ভট মানুষ!
…………………………………………..

কাম কীর্তন
শাহীন রায়হান

অনন্ত ভাবনারা বুকের খাঁচা পেরিয়ে
শ্রাবণের বৃষ্টিতে অনবরত ধুয়ে যায়
শুধু পড়ে থাকে অসীম শূন্যতায়
ছিন্ন ধর্ষিতার উলঙ্গ একখানা লাশ।

ঘুমহীন রতিলিপির নিথর মমিতে দাঁড়িয়ে
অন্ধ সমাজ প্রতিমার মতো প্রতিনিয়ত গেঁথে যায়
ধর্ষিতা যোনি উদ্যানে।

তারপর নাগরিক জীবন প্রতারণায় ভাস্কর্য হয়
পুরনোকে ভুলে নতুন কোন যোনি ফাঁটা আর্তনাদে।

হেয়ালি রাতের নিঃশ্ছিদ্র অন্ধকার ছিঁড়ে-
তবু শিহরিত হয় কালের কুলাঙ্গার।
আলোহীন জ্যোতিষ্কে চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান যখন-
অন্য সব তনুরা।
…………………………………………..

ধর্ষিতা
শেখ একেএম জাকারিয়া

ধর্ষিতা মেয়ে হয় ধর্ষিতা মা,
কেউ মরে কেউ বাঁচে এ কেমন ঘা?
ধর্ষিতা ভাবি হয় ধর্ষিতা বোন,
কোন্ দেশে বাস করি রোজ হয় খুন?
ধর্ষিতা ফুফু হয় ধর্ষিতা দাদি,
ধর্ষণ রোজ হয় নিভৃতে কাঁদি।

ধর্ষিতা খালা হয় ধর্ষিতা নানি,
হয় না বিচার কেন বয়ে চলে ঘানি!
ধর্ষিতা জাতি আজ ধর্ষিতা দেশ,
ধর্ষক মজা লুটে পার পায় বেশ!
ধর্ষিতা মামি হয় ধর্ষিতা কাকি,
ধর্ষিতা সব নারী রয় না তো বাকি।
…………………………………………..

মালেক নাকি সিরাজ
শাহ আলম বাদশা
(মালেক ড্রাইভার ও সিরাজ হুজুরস্মরণে)

কথায় কাজে মিল থাকে না
উচিত কাজে দীল থাকে না
দেখতে লাগে নূরানী আহ, কত্তবড় বুজুর্গ;
ঘুষের টাকায় বাড়ি-গাড়ি
সফেদ কী যে জুব্বা-দাড়ি
পর্দা করেও ধর্ষণে ফের, জাতটা মারে হুজুর গো!
দেখতে লাগে নূরানী আহ, কত্তবড় বুজুর্গ।।

দাড়ি-টুপি সব একাকার
করবো আমি হায় দেখা কার
ডেরাইভার ওই মালেক নাকি, ধর্ষ-হুজুর সিরাজের?
সঙ্গ এদের পেতেই হবে
শিখতে কাছে যেতেই হবে
কেমন করে স্বর্গ পাবো, লাইনটা পাবো মিরাজের!
ডেরাইভার ওই মালেক নাকি, ধর্ষ-হুজুর সিরাজের?
আদব-আমল থাক বা না থাক
গায়-গতরে সুন্নাটা থাক-
সুরত দেখেই আল্লাহ কী গো ঠেলেই দেবেন জান্নাতে;
মেয়েশিশুর পোশাক বা কী
ছেলেশিশুর কাণ্ডটা কী
ধর্ষিত হয় পাপীষ্ঠরাই, ভাসাক না বুক কান্নাতে!
সুরত দেখেই আল্লাহ কী গো ঠেলেই দেবেন জান্নাতে!!
…………………………………………..

আর্তনাদ
তানজারীন ইফফাত স্বাতী

এই পৃথিবী আমাকে শিখিয়েছে কিভাবে বড় হতে হয়
সবার লোলুপ দৃষ্টির আড়ালে থেকে,
এই পৃথিবী আমায় শিখিয়েছে শিক্ষা কি?
শিক্ষার জন্যও বিসর্জন দিতে হয় সম্মান,
এই পৃথিবী আমায় শিখিয়েছে উপার্জন কি?
যার জন্য প্রয়োজন নেই শিক্ষা,
এই পৃথিবী আমায় শিখিয়েছে বাবা কে? ভাই কে?
যাদের কাছে প্রয়োজনহীন কোন মেয়ে, কোন বোন,
এই পৃথিবী আমায় শিখিয়েছে কে মা?
যেখানে নিজের লাঞ্ছনারই গন্ধ ভাসে,
তোমরা কি চেয়েছিলে একটি কন্যা শিশুকে এই পৃথিবীতে?

এই পৃথিবী আমায় শিখিয়েছে ধর্ম কি?
যেখানে শুধুই নিপীড়ন,
এই পৃথিবী আমায় শিখিয়েছে কিভাবে বেঁচে থাকতে হয়
এই পৃথিবী আমায় শিখিয়েছে কিভাবে মানুষ হব।
গা ভাসিয়ে স্রোতে আমি কি বিসর্জন দেব?
একবার ভেবে দেখেছো?
আমি নারী,
বিধাতা সৃষ্টি করেছেন নারী রূপে,
তোমার লোভের দৃষ্টির জন্য নয়
তোমার ভোগের জন্য নয়,
মানুষ হিসেবে।

এই দেশের শিক্ষা আর সভ্যতা কি দিয়েছে আমায়?
দিয়েছে শুধু কিছু কুকুরের লোলুপ দৃষ্টি,
কিছু হিংসা মাখা মুখ, কিছু বিদ্বেষ
আর অন্যের হাতের পুতুল বানিয়েছে।
হে! বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
তুমি ছিলে সকল ধর্ষিতা আর বীরাঙ্গনাদের পিতা,
আজ আমি বলছি, তুমি আমারও পিতা।
এই স্বাধীন দেশে হরণ করা হয়েছে আমার স্বাধীনতাকে,
যে দেশের রাষ্ট্রনায়ক একজন নারী, স্পিকার নারী
সেই দেশে আমি হত দরিদ্র নির্যাতিতা, ধর্ষিতা, আশাহীনা।
…………………………………………..

স্বাধীনতা ফিরিয়ে নাও
রাকিবুল হাসান রাকিব

নাও হে স্বাধীনতা ফিরিয়ে নাও!
আমার মা’বোনের ইজ্জত ফিরিয়ে দাও!!
আর কতবার ধর্ষিত হতে হবে,
এ-ই বাংলার বুকে?
আর কত মা’বোনের ইজ্জত দিতে হবে
এ-ই বাংলার রাজপথে?
আর কত মিছিল করতে হবে?
আর কত মায়ের রক্তঝড়াতে হবে?
আর শিশু ধর্ষিত হবে? ধর্ষিতরা শুধু ধর্ষিত হবে?
ধর্ষকেরা এ-ই বাংলার মাটিতে বুক ফুলিয়ে চলবে?
না! না! না, এটা আমরা মেনে নিতে পারি না।
নাও হে স্বাধীনতা ফিরিয়ে নাও!
মুখ চেপে ধরে গণধর্ষণ বন্ধ করে দাও!!
জাগো নারী জাগো পুরুষ রুখে দাঁড়াও।
জাগো নবীন, জাগো ছাত্রসমাজ রুখে দাঁড়াও।।
জয় বাংলা স্লোগানে রাজপথে মিছিল কর।
ধর্ষিতাদের রক্ষা কর, মুখে প্রতিবাদ কর।।
ভেঙে দাও কালো হাত ভেঙে দাও।
প্রতিরোধ করে, তাদের জবাব দাও।।
নাও হে স্বাধীনতা ফিরিয়ে নাও!
কিছু চাইনা মোরা মা’বোনের ইজ্জত ফিরিয়ে দাও।।
জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দাও ধর্ষকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও।
তাদের হাতমুখ বেঁধে, বুকে পাথর চাপা দাও।।
আমরা অন্যায় করে আসিনি
আমরা প্রতিবাদের দাবি নিয়ে এসেছি
ধর্ষকের বিচার চাই! ধর্ষকের ফাঁশি চাই।
আর মা’বোনের লাশ দেখতে চাই না।
আর ধর্ষিত হতে দেব না, না, না, না।।
প্রতিবাদ করতে এসে ভাইয়ের হাত রক্তাক্ত চাই না।
অসহায় মা’বোনের চিৎকার আর শুনতে চাই না।।
এবার আমরা শুধু ধর্ষকের বিচার চাই।
ধর্ষকের প্রকাশ্য ফাঁশি চাই, আর তাদের লাশ চাই।।
…………………………………………..

ঘৃণা
আশরাফ আলী চারু

নোংরা বিবেকের জন্তুগুলোর দংশনে
মাথা অবনত আজ সমগ্র জাতির
কলুষিত সম্মান- বিপর্যস্ত মানবতা
মুখ দেখাবার জো নাই সভ্য সমাজের।

জন্তুগুলোর মুখে তিনবেলা ছাই দেয়া উচিৎ
তাদের উদর ভরে দেয়া উচিৎ গলিত শিলায়
যেন পেটের পিড়ায় কাতরায় সারাবেলা
কামনার আকাঙ্খা তেজ মিটে যায় চিরতরে।
জন্তুগুলোকে ভান করিয়ে দেয়া উচিৎ
ভাটা পড়ে যেনো তাদের কামনা অহমিকার।

নির্লজ্জ জন্তুদের চোখ সেলাই করে –
মুখে লাগাম দিয়ে, বানানো উচিৎ ঘানির বলদ
সারাদিন ঘানি বেয়ে বেয়ে যেনো- ফুরসত না থাকে তাদের,
একবারও যেনো সুযোগ না পায়-
মায়ের জাতিকে কুনজরে দেখার,
ঘৃণিত জন্তু থেকে রেহায় পায় মানব জাতি।
…………………………………………..

জেগে ওঠো নারী
শেখ নূরুল আমীন

জেগে ওঠো নারী, তোমার অস্তিত্বের সংগ্রামে-
তোমাকে সুরক্ষিত করো জীবীকা ও সম্ভ্রমে।
জীবনে জীবন ঘষে দৃঢ়তায় আঁকো স্বপ্নের ছবি-
লৌহ-মানবী হও পূত-পদক্ষেপে- অধিকারে।
নিজেকে গড়ার এখনই সুবর্ণ সময়-
শরীর-লোলুপ হায়েনার বিষদাঁত ভেঙে দাও
যতসব মধ্যযুগীয় হিংস্রতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও!
তোমার ইতিহাসের ক্ষুরধার তেঁজ নিয়ে সতত
সময়ের মহাকাব্য রচনা তোমাকেই করতে হবে ।
পঁচা-গলা সমাজের টুঁটি চেপে ধরো নিরন্তর ঘৃণায়!
তোমার সূর্যের ঝলকানিতে ধ্বসে পড়ুক অসভ্যতা
পুড়ে যাক্, এই দুঃসময়ের যত গ্লানি!
এই নিকষ-কালো আঁধারে আঘাত করো-
পাশবিক লালসার হাত থেকে বেঁচে যাক্ সভ্যতা!
…………………………………………..

ফাঁসির দাবি
আহাদ আলী মোল্লা

নারী ধর্ষণ এখানে ওখানে ভেবে ভেবে মরি হায়
মাথা নুয়ে পড়ে জড়োসড়ো হই বারে বারে লজ্জায়
আমাদের বোন-জননী আমার প্রিয়তমা সেও নারী
তাদের জীবনে পদে পদে ঘটে কত যে কেলেঙ্কারি।

শাড়ির আঁচলে ওড়নায় পড়ে নর পশুদের থাবা
কাছে না গেলেই কত যে বিপদ শুনে শুনে পস্তাবা
ওদের কথায় রাজি না হলেই হয়ে যাবে শেষে লাশ
জানোয়ারগুলো বুনো শুয়োরের মতো করে উচ্ছ্বাস।

আইনের বাণী নিভৃতে কাঁদে বিচার হবে তা কই
ধর্ষক কত ছলাকলা নিয়ে ঘোরে খালি পইপই
সাধু সাজে সব হায়েনার দল শাস্তি পাবে না তারা
বাবু কিছু আছে আবডালে বসে দিয়ে যায় আশকারা।

মিছিলে মিটিংয়ে ওঠে প্রতিবাদ কেন ধর্ষণ খুন
হাতে পোস্টার হাজারো ব্যানার ধরে আছি ফেস্টুন
সেøাগান লিখেছি ছি ছি করে মেলা থুতু ছুড়ে মুখে মার
ধর্ষক সব কুকুরের পোলা বেহায়া কুলাঙ্গার।

নিরাপদ নয় নারী শিশু কেউ ধর্ষক চলে হেসে
বসবাস করা বড় যে কঠিন বাজে এই পরিবেশে
মানুষ নামের নরপশুদের ফাঁসিতে ঝোলাও তাই
এই দাবি নিয়ে হাটে ঘাটে লোক দাবি শুধু একটাই।
…………………………………………..

প্রতিবাদ
আফজাল সুয়েব

আর নয় ধর্ষণ হে বোনেরা,
প্রতিবাদ করো রুষে।
আপন শক্তিতে আঘাত করো,
নরপিশাচের অন্ডকোষে।

…………………………………………..

আগাছা বিনাশ
আব্দুল্লাহ মুনাওয়ার সিফাত

গর্বের দেশে আগাছা হয়েছে।
সময় হয়েছে কাটার!
চলো সবে বীরের বেশে
হাতে নিই তলোয়ার।

মায়ের ইজ্জত, বোনের ইজ্জত
তারা নিয়েছে লুটে।
শোধ আমি নিবো এবার
তাদের লিঙ্গ খানা কুটে!

রাস্তায় নেমেছি; চেয়েছি ধর্ষকের বিচার,
গলা ফাটিয়ে চিৎকার করেছি
ওরা মানুষ নয় রে,
ওরা হলো জানোয়ার!

গর্বের দেশে গর্বই রবে,
রয়ে যাবে প্রতিবাদের ইতিহাস!
বাংলার মাটি স্বাক্ষী হবে,
মোরাই করেছি আগাছা বিনাশ।
…………………………………………..

নরপশু
মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন

ওরে নরপশু, ওরে নরপিচাস
তুই কি মানুষ?
তোর অঙ্গে মানুষের রূপ
তোর কর্মে অমানুষের ছায়া।

ওরে নরখাদক, ওরে অসভ্য
এক নারীতে দলবদ্ধ আক্রমণ
রক্তাক্ত, অতঃপর শ্বাসরোধ!
তুই নরকের কীট!

ওরে তুই ইবলিষের প্রতিচ্ছবি
মা-বোন-পরস্ত্রী কি পরশী
সবই তোর লালাসর বস্তু
তুই জাহান্নামের আগুন!

ওরে নরপশু
তোর আগুনে ছাই সব কিছু।
তোর লালসায় রক্তাক্ত আমার মানচিত্র।
তোর কর্মে পরাজিত হিটলার-আইয়ূব খানের নরপশুরা।
…………………………………………..

ক্ষুধার অনেক নিচে
শুভঙ্কর দাস

ক্ষুধা যখন নদীর ভেতরে যায়, নৌকা।
পাহাড়ের মধ্যে গুহা, বৃক্ষের মধ্যে গৃহ
আর যদি মানুষের মধ্যে যায়, সন্তান…

আকাশ, আঁচল, আঁতুড়ঘর মাতৃবর্ণের এক একটি রূপ

অপরূপ
তা, যা পিতামাতার জন্ম দেয়।

শুধু একটি পিন্ড, তাতেই ভাবলে পরিত্রাণ!

ভাবলে, সামান্য রক্তমাংসের যাতায়াত
তাই যেকোনো অস্ত্র-সস্ত্র রাখা যায়, উল্লাসে!

যেখানে উৎসমুখ, সেখানে বেঁচে থাকে একই শ্বাসে

জন্ম, মৃত্যু এবং সর্বশক্তিমান।
কী করে সইবে, এত ক্ষয়, ক্ষত

প্রতিটি ধর্ষিতা নারী শুয়ে থাকে ধর্ষকের মায়ের মতো!
…………………………………………..

গর্জে ওঠো
গাজী রায়হানুল হক

গর্জে উঠো আবার সবে
করতে প্রতিহত,
ধর্ষণ হত্যা রাহাজানি
চলছে অবিরত।
এবার মোরা শপথ করি
করবো এর প্রতিকার,
ধর্ষণ করে বাংলার বুকে
পাবেনা কেউ নিস্তার।
ধর্ষণকারী নয়তো দানব
ধরে মেরে খাবে,
তবে কেনো ধর্ষণ করে
রেহাই ভবে পাবে।
সবার সামনে ঘটছে ধর্ষণ
চেয়ে চেয়ে দেখো,
তোমার মেয়ে আছে ঘরে
কথা মনে রেখো।
সকল বিভেদ ভুলে গিয়ে
হাতে হাতটি রাখো
ধর্ষকদেরকে নিপাত করে
সুস্থ সবাই থাকো।
…………………………………………..

জেগে উঠুক প্রিয় স্বদেশ
এস ডি সুব্রত

রাত পোহালেই লজ্জায় আড়ষ্ট হই
চরম বর্বরতা আর অসভ্যতার মুখোমুখি
বোনের আর্তচিৎকার মায়ের কাকুতি
বড় অথর্ব এই আমি
যেন মুখ বুঝে সব সহ্য করি,
সাভার এমসি কলেজ বেগমগঞ্জ
চোখের সামনে এক অশুভ হাতছানি
ভাই স্বামী কিংবা সন্তান হিসেবে
বড় অপদার্থ লাগে নিজেকে
অপরাধবোধে তাড়িত হই বিবেকের কাছে,
জেগে উঠুক প্রিয় স্বদেশ
প্রতিবাদে সোচ্চার হই এখনই
নিরাপদ যেন থাকে
আমার মা বোন প্রিয় এই বাসভূমে
সুন্দর আগামী আসুক নতুন সূর্যোদয়ে।
…………………………………………..

বাংলাদেশ
মাহমুদুল আমিন আকিব

লাখো শহিদের রক্তে গড়া আমার এই দেশ
এখনো কাটেনি নারীর উপর নির্যাতনের রেশ,
মা-বোনেরা ধর্ষিত হয়, পায়না কোনো বিচার
তোমার আমার সবার মিলে রুখতে হবে এই অবিচার।
ধর্ষক দের দিতে হবে সর্বোচ্চতম সাজা
তাহলেই থমকে যাবে প্রজা থেকে রাজা,
হাতে হাত রেখে সবাই জুলুম করি শেষ
সবাই মিলে গড়ি আবার সোনার বাংলাদেশ।
…………………………………………..

প্রতিবাদী গান
সাবিত সারওয়ার

আবার যদি গ্রামে গড়ে তোলো দুর্গ
পাড়ায় পাড়ায় শ্লোগান তোলো রুখো
অত্যাচারী পালাতে পাবে না পথ
নির্ভীক জাগো চিতিয়ে তোমার বুকও।

তবে পাল্টে যাবে খবরের পাতা
শিরোমাণ উল্টো মুখো।।

এই দুর্দিন ঘনীভুত হলে দেশে
ভালোবাসা, প্রেম ঘৃণায় গড়াবে শেষে।

এখনই সময় মুষ্টিবদ্ধ হাতে
প্লাকার্ড আঁকড়ে মোড়ে মোড়ে হও জড়ো
ধর্ষক যেন পায় না কখনো ছাড়
প্রবাল শক্ত পাজরে প্রাচীর গড়ো।

তবে পাল্টে যাবে খবরের পাতা
শিরোমাণ উল্টো মুখো।।
…………………………………………..

প্রতিবাদী ঢেউ শুনি
ইলা সূত্রধর

আর কতকাল সহ্য করবে নারী
দানবগুলোর উগ্র কামের রোষে
উন্মাদের এ নগ্ন প্রলয় জারি
অসুর বৃত্তি দেবতা তোমার দোষে

ফুলকে দলেছে কলুষিত বর্বর
পাপড়ি পরাগে রক্তের কিছু ছাপ
এ মাটি সৃষ্টি ফসলের উর্বর
তবু আঁধারে কেন ফেল অভিশাপ

একহাতে দেবী শক্তির পূজা পায়
কখনো পুরুষ ধর্ষিত করে তাকে
ঘরে ও বাইরে লোলুপ দৃষ্টি ঠায়
ইজ্জত লোটে কামুকেরা বোন মাকে

ধূর্ত শৃগালের কুৎসিত কালো মুখ
অত পেতে থাকে কামনায় বারবার
নরম শরীরে পদ্মের মত বুক
স্বপ্ন ব্যহত পশু করে ছারখার

রাত্রি বাড়ায় হায়নার চোখ জ্বলে
এদেশের বুকে হাথরাস কামদুনি
মহাকাল ছিল প্রেয়সীর পদতলে
তাই ঘরে ঘরে প্রতিবাদী ঢেউ শুনি