মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের সুন্দর জীবনের জন্য পাঠিয়েছেন দুনিয়ায়। সৃষ্টির সৌন্দর্য রক্ষার দায়িত্বও আমাদের উপর নেস্ত করেছেন। কিন্তু আমরা আমাদের দায়িত্ব ভুলে গিয়ে পৃথিবীর সৌন্দর্যকে কালিমা লেপন করছি। মানুষে মানুষে তৈরি করছি বিভেদ। মানুষের অধিকারকে করছি ভুলুণ্ঠিত। মানুষকে আর আমরা সম্মান করতে পারছি না। নৈতিকতার থেকে আমরা আজ বহুদূরে অবস্থান করছি। আমাদের শিল্প সাহিত্য, সংস্কৃতিও আজ এই সকল অপকর্মের ইন্দন দিয়ে যাচ্ছি। সেই সকল অপকর্মের ও অসংস্কৃতির বিরুদ্ধে মোলাকাত সবসময় সৃজনশীল ও মননশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে শুভ বুদ্ধির উদয়ের কাজ করছে। আর মোলাকাতের সাথে আপনারা মেলবন্ধন করে আমাদের কর্মকে এগিয়ে নিয়ে যান। এ জন্য আমরা যারপরনাই খুশি।

আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ কিছু খারাপ মানুষের জন্য অসম্মানীত হতে পারে না। শুভ বুদ্ধি উদয় হওয়ার জন্য আমাদের ‘ধর্ষণ বিরোধী কবিতা সংখ্যা’য় আপনার অংশগ্রহণ আমাদের সহযোগিতা করেছে। সেই সহযোগিতার ছিলছিলায় আজ আমরা প্রকাশ করলাম ‘ধর্ষণ বিরোধী কবিতা : ৩য় সংখ্যা’। সম্পাদনায় আফসার নিজাম

সূ চী প ত্র

কিছু কিছু লজ্জা মৃত্যুর থেকেও যন্ত্রণার :: অর্ণব আশিক
ধর্ষক ধর্ষকই যে দলেরই হোক সে :: তাজ ইসলাম
হে বাংলাদেশ, তুমি নির্লজ্জ হয়ে গেছো :: আরিফুল হাসান
শোনো ধর্ষক, নারী মাত্রই আমাদের মা :: শম্ভু সরকার
অভ্যাস :: রোকন রেহান
প্রতিবাদে নির্বিবাদে :: দিল মুহাম্মদ
আমার হাতের অস্ত্রটি নাই :: মোঃ মোস্তফা কামাল
আমার ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল :: আনোয়ার আল ফারুক
বিবস্ত্র স্বদেশ :: মুহাম্মদ ইব্রাহিম বাহারী
আর কত? :: সোহানুর রহমান সোহাগ
আমার সমাজ! :: মুন্সি আব্দুল কাদির
মনস্তাপ :: আ খ ম রওশন আলম
অহল্যা হও :: রাজীব চক্রবর্ত্তী
কলংকিত সমাজ :: কবিতা সুলতানা
Note prepared by ‘Note Daily’ app :: আবুল খায়ের বুলবুল
ধর্ষক তুই শোন! :: সৈয়দ ময়নুল কবরী
মন ভালো নেই :: তারিকুল ইসলাম সুমন
কোন দিকে যাই? :: গোপাল বিশ্বাস
কেন নারী হয় ধর্ষিতা :: বিপ্লব গোস্বামী
আক্রোশ :: নেহাল মাহমুদ
মোবাইলে প্রেম, অতঃপর ধর্ষণ, শেষে হত্যা! :: সাকিব জামাল
…………………………………………..

কিছু কিছু লজ্জা মৃত্যুর থেকেও যন্ত্রণার
অর্ণব আশিক

তেল চকচকে ঘামে ভেজা মুখ
প্রায় বিবস্ত্র নারী
ছেড়া শাড়ির ফাঁকে দেখায় শরীর
অশ্রুতে ভাসে চোখে, সম্ভ্রম
কিছু কষ্ট লেগে আছে সন্ধ্যার গায়ে
কিছু যন্ত্রণা ফুটে আছে শরীরে লজ্জায়।

এ ধর্ষিতা আমার মা,
এ ধর্ষিতা আমার স্ত্রী, আমার কন্যা
আমি কার পুত্র,
না কি আমিও বেজন্মা এক।

কিছু কিছু লজ্জা মৃত্যুর থেকেও যন্ত্রণার
কিছু কিছু যন্ত্রণা বোধের মৃত্যু ঘটায়
কিছু কিছু অপমান সমগ্র জাতির, রাষ্ট্রের,
সার্বিক হয়ে সমগ্র মানবতার।
…………………………………………..

ধর্ষক ধর্ষকই যে দলেরই হোক সে
তাজ ইসলাম

মেয়রের পুত্র বা পুলিশের লোক
ধর্ষক ধর্ষকই সে যেই হোক।
মসজিদ মন্দির প্যাগোডার লোক
স্কুল কলেজের শিক্ষক হোক
ধর্ষক ধর্ষকই সে যেই হোক না
সমাজের কিট সে আমাদের লোক না।

সচিব বা মন্ত্রির ডান বাম হোক সে
ধর্ষক ধর্ষকই যত বড় লোক সে
সমাজের কিট সে আমাদের লোক না
ধর্ষক ধর্ষকই সে যেই হোক না।

ধর্ষক ড্রাইভার, নেতা, ম্যানেজার না
ধর্ষক ছাড়া কোন পরিচয় তার না
আর কোন পরিচয় নাই তার
একটাই পরিচয় তাই তার।

ধর্ষক ধর্ষকই যে দলেরই হোক সে
পাপিষ্ট নরাধম বিকৃত লোক সে।

যেখানেই ধরা পড়ে লিঙ্গটা কেটে
কপালেতে ধর্ষক সিল দাও এঁটে।
…………………………………………..

হে বাংলাদেশ, তুমি নির্লজ্জ হয়ে গেছো
আরিফুল হাসান

তোমার আকাশে উড়ে চিল, নিচে মিছিল, —তবুও বন্ধ কপাট তবুও বাহানার শেষ নেই শোষণের ঘোর দুর্দিনে। যেনো নরক থেকে নেমে এসেছে পাপ আর যন্ত্রণার বিমর্ষ মানচিত্রে শুধু আঁকা হচ্ছে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ, মাতৃহত্যার প্রভূত শবাধার আর কুমারির ইজ্জত বিক্রি হচ্ছে পাইকারি দরে, রাজনৈতিক পণ্য হিসেবে।

হে বাংলাদেশ, তুমি নির্লজ্জ হয়ে গেছো!

তোমার মুখ থেকে ঝরে পড়েছে স্বাধীনতার বাণী। তুমি আবাদ করছো লাম্পট্য, অপসংস্কৃতি আর জনগণের নিরাপত্তা দিতে তোমার সবিশেষ ব্যার্থতার কোনো জবাব নেই। যেনো বন্দী দশা থেকে ধর্ষিত হচ্ছে ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল আর কোথাও কোনো আলো নেই, কোনো সুবিচার নেই, শুধুই মৃত্যু, শুধুই মৃত্যু!

হে বাংলাদেশ, তুমি নির্লজ্জ হয়ে গেছো!

যখন রাজপথ উথলে উঠছে বিপ্লবে তুমি তখন চেপে ধরেছো টুঁটি, হরণ করেছো বাকস্বাধীনতা আর মানুষের সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে মানুষকে বসিয়েছো পথে —যেনো বা ক্ষুধার রাজ্য, দুর্ভিক্ষের রাজ্য আর জনগণসব তৃতীয় স্তরের দর্শকমাত্র হয়ে ভেসে যাচ্ছে স্রোতের শ্যাওলার মতো যেনোবা চলছে এক ভয়াবহ স্বৈরশাসন!

হে বাংলাদেশ, তুমি নির্লজ্জ হয়ে গেছো!

তোমার মুখোস গেছে খুলে আর সেখান থেকে এসেছে বেরিয়ে ফণা, বিষধর ফণা তুলে অবিরাম দংশন করে যাচ্ছো জাতীয় পতাকার মুখাবয়ব, পিতার ছবি, বোনের কান্না আর কন্যার দীর্ঘশ্বাস ভারি হয়ে আজ তোমার নিজের প্রতি বয়ে বয়ে আনছে অভিশাপ, যেনো বা তুমি এক অভিশপ্ত দেশের উপমা হয়ে গেছো!

হে বাংলাদেশ, তুমি নির্লজ্জ হয়ে গেছো!

তোমার আঁচল থেকে খসে পড়ছে রক্ত, তোমার জঠরে রক্ত আর রক্তপায়ী হায়েনার হাতে আজ তুমি জিম্মি হয়ে আছো হে প্রিয় স্বদেশ। যেসকল জানোয়াররা তোমাকে জিম্মি করে রেখেছে তারা কি জানে না যে ইতিহাসে নিপীড়কের ঠাঁই নেই, ধর্ষকের ক্ষমা নেই আর নেই চুপ করে থাকার কোনো ইতিহাস।

হে বাংলাদেশ, তুমি নির্লজ্জ হয়ে গেছো!

নারী, শিশু, গৃহবধূ, অশতিপর বৃদ্ধা, রাস্তার পাগলি মেয়েটা, ফুটপাতের চা বিক্রেতা দরিদ্র মেয়েটা, বাসার কাজের বুয়া, কলেজ ছাত্রী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা কেউ আজ নিরাপদ নয় তোমার এই বিবর্ণ ব্যাবস্থাপনায়। তোমার এই ভঙ্গুর রাষ্ট্র ব্যাবস্থায় কেউ আর নিরাপদ নয়, এমনকি রাস্তার নেড়ি কুকুরটিও নয়!

হে বাংলাদেশ, তুমি নির্লজ্জ হয়ে গেছো!

ধর্মালয় থেকে পতিতালয়, সংসদ থেকে সংসার, মঞ্চে কিংবা ক্যামেরার পেছনে সব স্থানেই চলছে ধর্ষণের বিভৎস উৎসব। এ যেনো চোখ উপড়ে ফেলা, এ যেনো অন্ধ করে ফেলা, এ যেনো নস্যাৎ করে ফেলা মানবতার ধাত্রী জননীকে। যেনো নিখুঁত ছক কষে একটি জনপদকে, একটি সভ্যতাকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া।

হে বাংলাদেশ, তুমি নির্লজ্জ হয়ে গেছো!

তোমার আমূল পরিবর্তন আসবে আবার। আবার উড়বে সবুজের পতাকা লাল সূর্যটাকে বুকে ধরে, আবার কোনো এক ভোরে, আমাদের নারীরা খুলবে দ্বার, আর গাইবে মুক্তির গান। যেনো কোনো সদ্য স্বাধীন দেশে বারাঙ্গনারা বেরোয় আঁচল বিছিয়ে। হে দেশ, তোমার আকাশে উড়ে চিল, —নিচে মিছিল।
…………………………………………..

শোনো ধর্ষক, নারী মাত্রই আমাদের মা
শম্ভু সরকার

তোমার চোখে নারী কেবল সহজ ভোগের পণ্য
একই রকম হিসেব তোমার মা ও বোনের জন্য?
মানুষরূপী শ্বাপদ তুমি শিকার খুঁজে ফেরো
পারলে এবার নিজের ভিতর পশুটাকে মেরো।
ফুলের মতন জীবন নিয়ে মেটাও মনস্কাম
কাপুরুষের ঘৃন্যকাজে পুরুষের বদনাম।
দৃষ্টি তোমার ভীষণ কামুক রক্তে দারুণ জোশ
একলা মেয়ে হাঁটবে কেন? মেয়েটারই দোষ।
পোশাক নিয়ে আপত্তি খুব শরীর দেখা যায়
দুই বছরের শিশুর আবার শরীর কোথায় হায়!
নারী হয়ে জন্মানোটাই এই দেশে আজ পাপ
ধর্ষকেরা পায় না সাজা এ কোন অভিশাপ?
আমরা তবু স্বপ্ন দেখি হয়তো অলীক সুখ
প্রতি নারীর মুখে আঁকা আমার মায়ের মুখ।
…………………………………………..

অভ্যাস
রোকন রেহান

যে লোক একবার মিথ্যা কথা বলে
সে বারবার মিথ্যা কথা বলবে, কেননা
ক্ষমা চাইবার জন্য মিথ্যা কথা বলা জরুরী বিষয়।
যে লোক একবার ভুল করে, ম্বেচ্ছায় হোক অনিচ্ছায় হোক, সে আবার ভুল করবে, কেননা
ভুল ছাড়া কোন শিক্ষাই পূর্নতা পায় না।
যে লোক একবার রুচি বদলায়, যেভাবেই হোক
সে সুযোগ পেলেই রুচি বদলাতে চাইবে, কেননা
জিহ্বাকে শাষন করার মতো ক্ষমতা খুব কম মানষেরই থাকে।
বেপথু বাতাস বেপথু মানুষকে ডাকবে
বেপথু জীবন সেই মানুষকে নিয়ে খেলবে,
খেলতে খেলতে এক সময় প্রকাশিত হয়ে আমাদের বেচে থাকার সংগ্রামকে কন্টকাকির্ন করবে। এই তো জীবনের অংক।
সেই অংকে জীবন মানে অন্য আরো অনেক কিছু!
অজস্র সংগ্রামের একটি দূর্দান্ত সংকলন হচ্ছে জীবন।
পাওয়া না পাওয়া, সুখ দুখ, উত্থান পতন আরো কত কত শব্দরাজি অনুভূতি প্রকাশের তীব্রতাকে ধারনে বেহাল, কিছু কিছু অব্যক্ত, অনুক্ত থাকে,
জলাধারে, স্বপ্নেরে কিনারায়, দৈনন্দিন পাঠশালায়,
ঘূর্নায়মান পৃথিবী সব ঘটনাকে কিভাবে যে সহনীয় ও রুচিমগ্ন করে আমাদের সামনে চলমান রাখে, সেটা একটা বিপুল বিস্ময়। কারো কারো অংক মিলে যায়, কারোটা মিলে না।
…………………………………………..

প্রতিবাদে নির্বিবাদে
দিল মুহাম্মদ

তোমার বউয়ের হাতটি ধরে চলছো তুমি চলার পথে
তোমায় বেঁধে বউকে নিয়ে মেতে উঠে কামের রথে
বাঁচাও বাঁচাও ডাকের স্বরে কাঁদছো তুমি অঝোর ঝরে
শত চেষ্টায় ব্যর্থ তুমি বউকে রক্ষায় চেষ্টা করে
এমন যদি হয়গো সবার সকল দম্পতিরা ভাবো
নেতা, পুলিশ, ইটিশ-বিটিশ রক্ষা কি কেউ, কারো পাবো
আজ ক্ষমতার দম্ভ তোমার রদবদল কাল হয় যদি দল
প্রতিশোধের শোধটা যদি হয় অবিকল লাল চোখে জল
সেদিন হয়তো অনুতাপের করবে না কেউ হায়! হতাশ আর
রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ নয় মিছিল মিটিং মিষ্টি খাবার
তোমার যদি মা, বো্ন, বউ, ঝি হয় আত্মীয়, হয় প্রিয়জন
আজকে নিরব চাওনা বিচার কালকে যদি হয় প্রয়োজন
কোথায় পাবে তারে সেদিন যারে ঢাকলে অন্ধকারে
সান্ত্বনার কেউ পাবে না তয় বুক ভাঙা খুব আহাজারে
আসুন দলহীন প্রতিবাদে পক্ষহীন ও নির্বিবাদে
সামাজিক অবক্ষয়, ক্ষতে মলম মেখে হক জাগাতে
…………………………………………..

আমার হাতের অস্ত্রটি নাই
মোঃ মোস্তফা কামাল

বোন টা যখন ধর্ষণ হলো
আমার হাতে অস্ত্র ছিল,
আমি তখন গর্জে উঠে,
মন্ডু টা তার নিলাম টুটে।

এরপর দেশ স্বাধীন হলো
আমার যেন, পুনর জন্ম হলো।
নতুন করে বাঁধি বাসা,
মনে তখন অনেক আশা।

ফুটফুটে এক কন্যা এলো
আমার জীবন ভরিয়ে দিল।
ঘটা করে বিয়ে দিলাম
জান্নাত যেন কিনে নিলাম।

সেই মেয়েটি ধর্ষিতা আজ
আমার হাতের অস্ত্রটি নাই।
অসহায় এক পিতা কাঁদি
মুক্তিসেনা আছো কি ভাই?
…………………………………………..

আমার ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল
আনোয়ার আল ফারুক

একদল হিংস্র দাঁতাল শুয়োর প্রতিনিয়ত আমার মানচিত্রকে বিবস্ত্র করে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খুবলে খাচ্ছে,
লালসবুজের মানচিত্রের আব্রু হরণ করে উন্মত্ততায় গণ ধর্ষণে আমার পবিত্র পতাকাকে করছে ছিন্ন ভিন্ন আর কলংকিত, ইঞ্চি ইঞ্চি মাটি অনিরাপদ করে তুলছে হররোজ।
এখানে রোজরোজ বিবস্ত্র ধর্ষিতা নারীর করুণ আর্তনাদে রাতের নিস্তবদ্ধতা ভাঙে।
বোধের কর্ণকুহুর যেন শিসাঢালা হয়ে চির বধিরতাকে সাদরে গ্রহণ করেছে।
নেই প্রতিবাদ, নেই প্রতিরোধ। এই জমিন যেন এক বন্য হিংস্র দাঁতাল শুয়োরের অভয়ারণ্য!!
হাতে দা বটি শাবাল যা আছে তুলে নাও, উপড়ে দাও দাঁতাল শুয়োরের বিষাক্ত দাঁত চোখ নখর, জ্যান্ত পুঁতে ফেলো তিনহাত মাটির গহ্বরে। তবেই অভিশাপমুক্ত হবে আমার ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল।
…………………………………………..

বিবস্ত্র স্বদেশ
মুহাম্মদ ইব্রাহিম বাহারী

নির্যাতিত মায়েরজাতি
মায়ের মুখে মারছে লাথি
ধর্ষিত আজ বাংলাজুড়ে
দুধের শিশু কুঁজো বুড়ে।

নেই ভেদাভেদ তাদের কাছে
ধর্ষণ করে আগে পাছে
ইভটিজিং আর শ্লীলতা
আটকে আসে মুখের কথা।

উৎসব মাতায় সেঞ্চুরিতে
বাংলা এখন ইনজুরিতে
ছত্রছায়ায় নেতার পাশে
অপরাধি লোকায় হাসে।

বাংলা আমার ক্ষত ক্ষত
হাজার হাজার শত শত
মা বোন আমার নির্যাতিত
এদেশ মাটি কুলোষিত।

বিবস্ত্র স্বদেমভূমি
আয়শা রুমি তনু সুমি
গুমরে কাঁদে তাদেরই লাশ
দাপটে বেড়ায় নরপিচাশ।
…………………………………………..

আর কত?
সোহানুর রহমান সোহাগ

আর কত প্রান যাবে
এভাবে অকালে ঝরে?
ধর্ষণ নিপীড়ন আর
কত আত্মহত্যা করে।।
আর কত দেখতে হবে
দূর্বিসহ সব ঘটনা?
এসব কিন্তু সব সত্য
নই কোনো রটনা।
চট্টগ্রামের এমসি কলেজ বেগমগঞ্জের মতো হবে
আর কত জায়গায় ধর্ষণ,
এদের উপর হয় না কেন
শত শত গোলা বর্ষণ?
আর কত কাল কত এভাবে প্রান যাবে
উত্তর চাই জবাব চাই!
সকলেই সম্মিলিত হয়ে
ধর্ষণকারীর বিচার চাই।
…………………………………………..

আমার সমাজ!
মুন্সি আব্দুল কাদির

যেই সমাজে ধর্ষকেরা বুক ফুলিয়ে হাটে
নারী জাতি সেই সমাজে কাঁদবে পথে ঘাটে।
মানুষ রূপী সে জানোয়ার হিংস্ররা হার মানে
ধর্ষকেরা দল বাধা দেখ কোন সে রশির টানে।
রশি তাদের অনেক মোটা ছিঁড়বে কে আর বল
তাইতো জাতির বাজে বারো ঝরে চোখের জল।
পড়লে ধরা দিনটি খরা থাকবে কয়দিন জেলে
দেখলে দেখ চোখ বোঁজে থাক বের হরে বেলে।
দেখবে তুমি উকিল মোক্তার পক্ষে তাদের হয়ে
ফুলের মালা গলায় দিবে তাদের মহান জয়ে।
কোন ঘরেতে জন্ম তাদের কোন বা দলের লোক
সকল কাজে নষ্টামি কেন মিথ্যার জয় হোক।
মিথ্যা যেথায় অনেক সহজ হারামে বাড়ে সম্মান
কেমনে বল বাঁচবে জাতি বাড়বে রে শান মান।
আজকে জাতি এক হয়ে যাই রাখি হাতে হাত
হারামে যার উদর ভরে তার আছে কি জাত।
ধর্ষণের চাই কোরআন বিধান চাই যে সঠিক পথ
জাতি চালাই সঠিক পথে দূর ঠেলে সব মত।
…………………………………………..

মনস্তাপ
আ খ ম রওশন আলম

মাগো তুমি ধন্য ভবে
তোমার গর্ভে এসেছিল
জাতির শ্রেষ্ট সন্তান,

শিক্ষা দিয়ে দিক্ষা দিয়ে
মানুষ রুপে গড়ে তুলে
করিয়েছো মহান।

বাইজিদ, জালাল, খান জা’ন আলী
সুলতান বলখী, আর জিলানী
তোমার গর্ভের ভান্ডার,

নিসার আলী, নবাব সিরাজ
আব্দুল হামীদ, শেখ মুজিবুর
তোমার বুকের আধার।

এই উঠানে সাক্ষ্য দিয়ে
নজির রেখে সু আদর্শে
তোমার কোলে পরে,

এখন মাগো কেমন করে
তোমার ছেলে মন্দ কাজে?
বলোনা গো মোরে!

তোমার সন্তান আমরা সবাই
ভাইবোন মোরা ভেদাভেদ নাই
একটি বৃন্তের পুষ্প,

তবু কেন ধর্ষিতা বোন
প্রান্তে কেন লাশ আর খুন
সে কোন কীটের ধৃষ্ট?

পাচার গুমে ছেলে মেয়ে
কাদে কেন? অনাহারে,
জবাব আছে মাগো?

এক উন্দরে জন্ম দিয়েও
কেউ পাপিষ্ট বা উৎকৃষ্ট
কেমন করে ভোগো!

মরচে কেন মানবতা?
হুমকি কেন স্বাধীনতা?
মাগো তোমার বুকে,

নারী শিশু, পাবেনা কি?
অবাধ চলার আকুলতি
স্বাধীনতার যুগে।
…………………………………………..

অহল্যা হও
রাজীব চক্রবর্ত্তী

বপন সুখের আনন্দ নেই,
পাশবিক উল্লাসে
রক্ত ঝরে সৃষ্টির গহ্বরে।

আদিকাল থেকে যে বুক বয়েছিল
নতুন প্রাণের স্পন্দন,
আজ তার হাহাকার ভরা চোখ
লজ্জার কালো মেঘে ঢেকেছে
ভীরু পৌরুষের অহংকার।

জীবনের উৎস মুখ
বেঁধে দাও ঘৃণার কঠিন পাথরে।
সব নারী অহল্যা হও
সাধু বেশে ভরা নষ্ট পুরুষের সংসারে।
…………………………………………..

কলংকিত সমাজ
কবিতা সুলতানা

সভ্য সমাজে অসভ্যতা,
সুন্দর এ বাংলা আজ কলংকিতা।
হে বাঙালি, আর কত কাল,
চলবে নিরবতা।
সোচ্চার হও সকল নারী,
মুছিয়ে ফেলো কেলেংকারী,
ফেরাও খোদা, পশুদের মনে সত্য-ন্যায়ের, মানবতা।
অপকৃষ্টে হানি আঘাত
আমরা ফেরাবো সুসৃষ্টে রাঙগা প্রভাত,
সমাজ হতে করবো সব অঅপকৃষ্টে নিপাত।
এই প্রত্যাশায় প্রত্যাশী মোরা
সঠিক বিচার চাই,
ঐ অভাগা মায়ের তরে লড়ছে
বাংলার সবাই।
…………………………………………..

Note prepared by ‘Note Daily’ app:
আবুল খায়ের বুলবুল

আহারে বাংলাদেশ আহারে স্বাধীনতা
কাঁদছে বাংলাদেশ কাঁদছে মানবতা
অহারে বাংলাদেশ আহারে স্বাধীনতা
এখানে রাত বিহানে হয় যে অন্যায়
দুপুর বিকেল কাটে অশ্রুর বন্যায়
সন্ধ্যায় নিশিথে গুম খুন হয় কিম্বা ইজ্জত হারায়
প্রতিনিয়ত ব্যাবহার করছেই ক্ষমতা
আহারে বাংলাদেশ আহারে স্বাধীনতা।।
এখানে ধর্ষক চলে ক্ষমতাসীনদের প্রশ্রয়ে
এখানে ফাঁসীর আসামী মুক্তি পায় নিজের আশ্রয়ে
এখানে কোটি টাকার কাজ হয় লক্ষ টাকায়
ছব্বিশ ঘন্টাই গীবত করে অন্যায় কিছুর আশায়
সততাকে বানায় মিথ্যার বেসাতি
খুঁজতে দেখিনি কখনই সততা
আহারে বাংলাদেশ আহারে স্বাধীনতা।।
নেশাখোর আর চরিত্রহীন বাড়ছে প্রতিদিন
যেখানে যে ধরা খায় গাইছে তাদের বীণ
জেলে গেলে থাকা খাওয়া হয় রাজার মতো
রিমান্ড দেখায় কাগজ কলমে যতো
চোর বাটপার শুধু বেড়েই চলছে
জনতার প্রতিবাদে প্রশাসন তাতে দিচ্ছে বাঁধা
আহারে বাংলাদেশ আহারে স্বাধীনতা।।
…………………………………………..

ধর্ষক তুই শোন!
সৈয়দ ময়নুল কবরী

তুই কী কখনও ভেবে দেখেছিস
তোর সৃষ্টি কার হাতে?
ওই ধর্ষিত দেহের গণ-আর্তনাদে
পোড়াবে জীবন সাথে!
তুই কী ভেবে করেছিস এমন
মা বোন তোর ঘরে?
হটাৎ কখনও ধর্ষকের হাতেই
যৌবন বিলাবে চড়ে!
তোর চোখে কী মায়ের সম্মান
নেই একটুও মাত্র?
কলংকিত আজ সেই বিদ্যাপীঠ
তুই যেখানের ছাত্র!
তুই কী কখনও ভেবেছিস এবারে
কী হবে তোরই গতি?
কোন সাহসে কী অধিকারে এমন
করিলে দেশের ক্ষতি!
অনায়াসে তুই তোদের হোতা-দাতা
পড়িবে ভীষণ ফাঁদে!
মরিবে! মরিবে! মরিবে! হে ধর্ষক
মরনে নাহি কেহ কাঁদে!
…………………………………………..

মন ভালো নেই
তারিকুল ইসলাম সুমন

মায়ের গায়ে লাগলে আঁচড়
কেমনে ভালো থাকি
কেমনে ছবি আঁকি,
হিংস্র থাবায় বোনটা ভীতু
কেমনে বলো হাসি?
কেমনে সুখে ভাসি।

দেশ তো আমার মায়ের মত
মাকে ভালো রাখতে আমি
জীবন দিতেও পারি,
অাজকে মায়ের মন ভালো নেই
মেয়ের মুখে নেই আলো নেই
কেমনে ভালো থাকি?
দেখে এমন,
মায়ের আহাজারি।

শকুনগুলি নখের খোঁচায়
নিচ্ছে কেড়ে সুখ,
আজকে আমার মন ভালো নেই
হৃদয় ভরা দুখ।
…………………………………………..

কোন দিকে যাই?
গোপাল বিশ্বাস

এই মেয়ে তুই ওদিকে যাসনে
ওদিকে ধর্ষক, জিভ কেটে খুন
মেরু দন্ড ভেঙে দেয়
জ্বলন্ত অনল হাথরস
আগুনে পুড়ে ছাঁইl
-তাহলে কোন দিকে যাই?

এই মেয়ে তুই ওদিকে যাসনে
ওদিকে বিষ সাপ
পথে পথে বাঘ
সন্ধ্যা;
বিচার-প্রহসন-ধর্ষিত!

এই মেয়ে তুই ওদিকে যাসনে
ওদিকে ঝড়- নারীরা পণ্য
ছলনা প্রতারকের শিকার
অতল সমুদ্র ঢেউl
-তাহলে কোন দিকে যাই?

এই মেয়ে তুই ওদিকে যাসনে
ওদিকে ভাঙা সেতু
সেতুর নিচে লজ্জাহীন কামুক
কোন বাড়ি ঘর নেই
নির্জন
শুধুই মৃত্যু ফাঁদl

এই মেয়ে তুই ওদিকে যাসনে
ওদিকে মৌলবাদী ফতোয়াজারী
দলিত মেয়ের লাশ
ভাঙা পুতুল,
ওরা শরীর জ্বালিয়ে দেয়
সীতার আত্মহত্যার অগ্নি কুন্ডে
-তাহলে কোন দিকে যাই?

এসো এখন; চেতনার মঙ্গলদীপ জ্বালাই
কালোকে কালো বলি
লালকে লাল
চল মেয়ে, এবার যুদ্ধে যাবি চল
এবার যুদ্ধে যাবি চলl
…………………………………………..

কেন নারী হয় ধর্ষিতা
বিপ্লব গোস্বামী

একবিংশ শতক এখন
সভ্যতার যুগ সন্ধিক্ষণ।
তবে কেন দিকে দিকে
এত নারী ধর্ষণ?
আধুনিক যুগে এ কি
এত অধর্মীর উত্থান!
কোথা হতে এল
ভবে এত শয়তান?
আজ সাধু, গুরু, ছাত্র সব
হয়ে গেলো নারী ভোগী।
রাজনেতা হতে বকাটে ছেলে
সবাই একই রোগের রোগী।
ভুলে যায় ওরা
নারী ভগিনী, নারী মেয়ে
নারী মায়েরি জাতি।
নিজেরি বোন, নিজেরি মেয়ে
নিজেরি কোন জ্ঞাতি।

ধর্ষিতা হলে নারী
রাজনেতা মিডিয়াতে এসে
শুনায় ন্যায়ের বাণী।
সত্য কি ন্যায় পায় সে নারী
মুছু যায় কি তার গ্লানি ?
জনগণ মিলে ন্যায় চাইয়া
করে পথ অবরোধ।
জননেতা এসে মিষ্টি ভাষে
করে যায় কর্তব্য শোধ।
আদিকালে ছিল নারী বন্দী
নারী ছিল দাসী।
একালতো সাম্যের যুগ
সেকাল হয়েছে বাসী।
একালে শাসনে নারী,
ন্যায়ালয়ে নারী, সর্বজয়া নারী।
তবে কেন ন্যায় পায় না নারী
শাস্তি পায় না ধর্ষণকারী?
আদি কাল হতে একাল অবধি
কত নারী হলো অবতার।
তবু কেন বন্ধ হয় না ধর্ষণ
নারী পায় না অধিকার?
…………………………………………..

আক্রোশ
নেহাল মাহমুদ

দিক থেকে দিগন্ত, নগর থেকে বন্দর
সমস্ত অলিগলি, সার্বভৌম পরিবার
স্তব্ধতার ব্রতপালনে নিক্ষিপ্ত হয়েছে
একের পর এক ধর্ষিতা বোনের করুণ চিৎকারে।
সমস্ত জীবনের প্রান্তর ধূসরিত তাদের পীড়িত শরীর, মলিন মুখাবয়বের ঘৃণায়।

এ কোন সময়ে পাড়ি দিচ্ছে স্বদেশ!
এ কেমন সভ্যতা আধুনিক সমাজের!
বিরাট প্রাসাদ, প্রযুক্তির পর্বতমালা,
গর্বিত গণতন্ত্র, আইনের অনুশাষণ
এ সবের কি এই এই পতিদান?
যেখানে ঘাতক হায়েনার মতো
ক্ষুধার্ত পশুর থাবার মতো
গণধর্ষণের শিকার রত্নগর্ভা মা-বোনেরা।
শিক্ষাঙ্গন, কর্মক্ষেত্র, পরিবহন
এমনকি নিজের গৃহেও নিরাপদ নয়
কোন মা, কোন বোন, কোন জীবন!

আজ দিবস হয়েছে কঠিন ও কর্কশ
সমস্ত প্রজ্ঞার ভিতরে ঢুকে পড়েছে
দুর্নীতি, অন্যায়, অপরাধ।
নক্ষত্রে নক্ষত্রে কেঁপে উঠেছে স্বাধীনতার স্তম্ভ
সর্বত্র শঙ্কিত ধর্ষকের ছোবলে।
দিনে দিনে, বছরে বছরে, যুগে যুগে
শিকারের বিপর্যয়ে ক্রমাগত হুঙ্কারে লিপ্ত
হাজারো নুসরাত, তনুর মতো নাম না জানা কতো কষ্ট মাখানো আত্মারা।
গণতন্ত্রের নিশ্চুপ অবস্থান, মিডিয়ার দুদিনের শোরগোল,
আইনের স্বার্থান্ধ গরিমসি, প্রশাসনের নামের ক্ষতিপূরণ
এসবের কাছেই আবদ্ধ ধর্ষিতা বোনের একেকটা নিষিদ্ধ নিঃশ্বাস।
ক্ষমতার অপব্যবহার, দুঃশ্বাসনের ছত্রছায়ায় কংকালের মতো ঘোরে সমস্ত মানচিত্রের অবক্ষয়।

অবশেষে এসব কষ্টের রক্তাক্ত পিঠ, রক্তচক্ষু এসিড ছড়িয়ে পড়ে, ছড়িয়ে পড়ুক দিগ্বিদিকে।
দাবানল জ্বালানোর মন্ত্রে, বজ্রের আক্রোশে কেঁপে উঠুক সব অপরাধের বুনিয়াদ।
ধর্ষিতা বোনের ঘৃণার রক্ত উল্কার ক্ষিপ্রতার মতো চেপে ধরুক সমস্ত ধর্ষকের নির্লজ্জ টুটি।
…………………………………………..

মোবাইলে প্রেম, অতঃপর ধর্ষণ, শেষে হত্যা!
সাকিব জামাল

দোস্ত, তোর লগে আইজকা টাংকি মাইরা মজা পাই নাইক্কা!
দুইননার সব ছেমরাগো লাহান তুইও মাইয়া মানুছ লইয়া এই কথা কইবার পারলি–
মাইয়ারা, ছেমরিরা খারাপ হইয়া গেছেগা!
তোর বইন নাইক্কা? আমগো বইন নাইক্কা?

আবে হালা বুঝার পারছি–
তোর চিন্তায় পচন ধইরা গেছেগা!
তুইও মুরখের লাহান কথা কইবার লাগছোস!
একখান কথা কইবার চাই, তুই কইলাম চেতবার পারবি না!

হপায় পড়লাম পত্রিকায়–
এক হালায়- মোবাইলে প্রেম পিরিতি কইরা, এক ছেমরিরে শাদী করব কইয়া- ইজ্জত নিছে!
কি আর কমু, এইখানে খেমতি দেয় নাইক্কা- ছেমরিরে খুন কইরা ফালাইছে!
খবরডা শুইন্না মনে চোট লাগছে-
আরো চোট পাইছি- মাইনছে ছেমড়ির দোষ কইবার লাগছে!

একখান কথা কইবার চাই, তুই কইলাম চেতবার পারবি না!
মাইয়ারা কি তোরে জ্বালায়- না তুই জ্বালাস!
রাইতে, বেরাইতে কে মিছকল মারে?
পটানোর চেস্টা তুই করস, না ছেমরিরা করে!

ওই ছেমরির তো বিশ্বাস আছিল-
ছোয়ামী ভাবছিলো!
মাগার, ঐ হালা তো অমানুষ!
সিমারের লাহান পাষাণ! শকুণের লাহান!
কইথেইক্কা ভালা পাইয়া লৌড় পাইরা আইল ছেমরি- আবে হালার চরিত্র নাইক্কা!

অহন ক! দোষ ছেমরাগো না ছেমরিগো?
ক, হালা!
ক!