বাংলাদেশের পাখি গবেষণা ও পাখিচর্চার পথিকৃত, অসংখ্য পাখি পর্যবেক্ষক ও বন্যপ্রাণী গবেষকের স্রষ্টা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সর্বজনমান্য ব্যক্তিত্ব মরহুম প্রফেসর কাজী জাকের হোসেন তাঁর এক লেখায় বলেছেন, “পাখি এবং অন্যান্য জীবজন্তু ও প্রাকৃতিক পরিবেশের বর্ণনা নজরুলের রচনায় যত বেশী এসেছে, অন্যদের লেখায় তত বেশী পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ।”
কাজী জাকের হোসেন অতি সজ্জন পন্ডিত বলেই হয়তো সন্দেহ করেই লেখা শেষ করেছেন। কিন্তু ঘরোয়া বৈঠকে তিনি বহুবার বলেছেন, এক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ, জসীম উদদীন কিংবা জীবনানন্দ দাশের চেয়ে নজরুল অনেক এগিয়ে।
এখান থেকেই নতুন পরিচয়ে পাখি দেখা, নজরুলের গানে ও কবিতায় পাখিদের আনাগোনা দেখার ভিতর দিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করবো আচ্ছাদিত এক দিগন্তের দিকে। নতুন পানিতে সফর এবার!
“নজরুলের সাহিত্য জগতের মধুবন, ফুলবন, কুন্জবন, চম্পাকুন্জ, মহুয়াবন, বকুলবন, বাদামবন, মালতীকুন্জ, নার্গিসবন, গুলবাগ ও গুলিস্তানে ঘুরে ঘুরে হেনা, চামেলী, মল্লিকা, যুথি, অতসীর নীল শাখে, দোলন চাঁপার শাখে, বকুল ডালে, তমাল চূডায়, কদম ডালে, আমের শাখে ও পিয়াল ডালে বসে বসে দোল খাওয়া, গজল গাওয়া পাখিদের চিনবার ও জানবার চেষ্টা করাই’’ হবে আমাদের পিপাসার পানীয়।
নজরুলের লেখায় কতবার আসন পেতেছে পাখি ?
তাদের সংখ্যা কত ?
তাদের নাম কি ?
কে কতবার করে উদ্ধৃত হয়েছে ?
কোন গানে, কোন কবিতায় কিভাবে উল্লেখিত হয়েছে ?
-সেই সব পাখির ছবি ও সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরাই হবে আমার কাজ।
আগামী সূর্যোদয় থেকে আকাশে উড়ুক নজরুলের পাখিরা !
প্রত্যাশা, করোনার এই স্তব্ধ সময়ে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর পাখিদের সাথে উড়ে উড়ে ঘুরে ঘুরে আমাদের আত্মা কিছুটা আরাম খূঁজে পাবে।