পাখি

মনের সুখে গান গায়
পাখি,সাঁতার কাটতে কাটতে ঘোঁৎ খায়।
পোকামাকড় খায়,কীটপতঙ্গ খায়,ধান-পাতা মুখে
পান-সুপারি চিবায়।
একডাল থেকে আরেক ডালে যায়,
পুচ্ছ নাড়ায় পাখি,বাঁকে বাঁকে পুচ্ছ নাড়ায়….
…………………………………………..

সাতরঙা বাহানা

শরীরের বস্ত্র বিয়োগের পর বিয়োগফল দেখে
বুকের ভিতর সমুদ্র জাগে।
ঝড়ের পল্লবিত শাখা প্রশাখায় বাজে সনাতন মন্দিরা
প্রমত্ত জোয়ারে ভাঙে স্নানঘর।

আকাশ ঝরায় বিজুলির রেখা বাতাসে মাদকতা
হঠাৎ দস্যুর হানায় তুমিও বুঝি
লুন্ঠিত হতে চাও বলে গন্ধমের লালাসিক্ত জৌলুসে
প্রসূতি হও সাতরঙা বাহানার।
…………………………………………..

পালাবদল

এমনও সময় ছিলো যেদিকে যেতাম
আবেগ ও অনুরাগে পিছু পিছু হাঁটতো প্রকৃতি ও মানুষ
স্নেহ-মায়া-মমতা ও সেবায়
কে কাকে হারায় এমন প্রতিযোগিতা ছিলো।
যা কিছু অন্যায় আব্দার,ইচ্ছা-অনিচ্ছার মূল্যায়ন হতো,
সাধারণ মনে হতো সবকিছু।

স্বপ্নের মতো ছায়া সজীব ও গৌরবগাঁথা
পুরনো দিনের মতো
তেমন আর নেই।যেখানে যাই,যেদিকে তাকাই
দিন বা রাত,সত্য সুন্দর ন্যায়ের নিনাদ
কারও কাছেই তেমন নয়,
যেমন দেখেছি আগে,তেমন দেখি না আজকাল আর…
…………………………………………..

বালিকা

অবোধ বালিকা,
আবেগের বশে গাঙ স্নানে নেমেছে;
জানা নেই সাঁতার।
ঢেউ ভাঙতেই অকালে সকাল তার,
সম্মুখপানে আঁধার।
…………………………………………..

ক’দিন

থাকতে পারব না কেউ
সময় ও স্হান অনিশ্চিত কিন্তু যাওয়াটা নিশ্চিত।
তবে কেন এ্যাতো লোভ,এ্যাতো হিংসা,
এ্যাতো পরশ্রীকাতরতা,ইহজাগতিক তরক্কীর শ্রীবৃদ্ধির জন্য অস্হির প্রতিযোগিতা?

আপনার বাপ দাদা চলে গেছেন,
আপনারও হয়তো,দু’চার দিন আয়ু আছে পৃথিবীতে
চোখ মেলে তাকাবার।
তবুও ভীষণ ব্যস্ত,যেন এখনও শতবর্ষ আয়ু
অবশিষ্ট রয়েছে আপনার!

কাকে কী বলছি দেখুন,আমারও সম্বিৎ ফেরে না
এই যে এ্যাতো জ্ঞান দিচ্ছি
আমি কী দ্বীনে আছি নাকি কোন দ্বীপে দ্বীনহীন
ভেবেছি কী আমি বাঁচবো ক’দিন?
…………………………………………..

জ্বর ঘুম

গা গরম,চোখে মুখে শরম,
বৃত্ত এঁকেছে ধরম।
তুমি ঘুমন্ত,ঘুমিয়ে থাকো জ্বর ঘুমে।

কতবার বাড়িয়ে হাত
ফিরিয়ে নিয়েছি কোলে,কতবার পথভুলে
কিছুদুর গিয়ে ফিরে আসা।
ইচ্ছে ছিলো জাগাবো তোমাকে
কিন্তু জাগাইনি
ইচ্ছে করেই ইচ্ছের গলাটিপে ধরেছি।

মাঝে মাঝে মনে হয়
যা করেছি তা ভালোই করেছি,যা করিনি তাও।
না জাগিয়ে নিরাপদ আছি
যদি তুমি জেগে উঠতে দিতে কী ছাড়(?)
বরং ঘুমিয়েই থাকো,এখনও সময় হয়নি তোমার
টাট্টু ঘোড়াতে চড়ার…
…………………………………………..

যাঁতাকল

মাটির হাঁড়িতে জলবায়ু শিরা,
শিরায় শিরায় স্রোত।
স্রোতের দহন কাঁপন ধরায় সবুজ পাতায়
সুগন্ধিরা খায় ঘোঁৎ।

মধুমিতা কোথায়?ও মধুমিতা!
ডেকে ডেকে ক্লান্ত হয় পাখার বাতাস।
মাসে মাসে বছর গড়ায়
এভাবে বছরকে বছর গিলে খায় মাস।
…………………………………………..

দর্পন

আমি জানি,
কত বিশ্বাসের ঘাতক আমি;
কতখানি পাতক।
কেননা, নিজের অগোচরে পাপ আর
মায়ের অগোচরে বাপ হয় না।

সাপের মুখ ব্যাঙের ত্রাহি লাফঝাফ
ব্যাঙ মুখে সাপ।
এই যে ক্ষুধা এবং বাঁচার তীব্র লড়াই,
খুঁজলে রহস্যবান
হুদা-হুদাই জাত-পাতের বড়াই।
…………………………………………..

পারদার্য

সবকিছু ঠিকঠাক
চুম্বক চুম্বক কাল, দেহকাব্য সুদের ত্রাস।
পারদার্য ঘুর্নীপাক
বারন ঠুকে বাঁক তুষ্টিবধ, চোখ সর্বনাশ।
…………………………………………..

দোষী

কার দোষ, কার পাপ,বাপরে বাপ!
তর্কের শেষ নেই।
ভালোবাসার মানুষগুলো অচেনা লাগে
তাই দেখছি
যা কখনও কখনও দেখেছি অথবা দেখিনি আগে।

যতদোষ আমার, আমি কে?
আমি নাগরিক।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আমি রাষ্ট্রের মালিক,
একথা আজ অশ্বডিম্ব,
নামে আছে কামে নেই কিনতে গেলে দাম নেই।

চোখের সামনে ডান্ডাবেড়ী,ডান্ডাও আছে,
যার কাছে সে কে?
সে আমার ট্যাক্সে বেতনভুক্ত চাকর,
কিন্তু আকাশ ছোঁয়া ক্ষমতা তার; আর আমি
কথায় কথায় আসামি
হায়রে! একী আজব কারবার!

পায়ের নীচে খড়গ, মাথার ওপর খড়গ
মড়ক লেগেছে মানবতার।
খড়গ দুলছে, ভূঁড়ি ওয়ালার ভূঁড়ি আরও ফুলছে
ধানক্ষেতে আগুন লেগেছে
চামড়ার কবর,যদিও তারা চাকর,কিছু বলতে গেলে
খবর আছে দাদা, ভীষণ খবর!

ভিতরে ভিতরে পুড়ছে মন, পুড়ছে দেশ
পাট শেষ,চামড়া শেষ বাকী আছে গার্মেন্টস
সবশেষে যখন বুঝবো, তখন আঙুল চুষবো!
কারও কোন দোষ নেই
সব দোষ আমার, আমি পতাকা খাবো, মানচিত্র খাবো
নীতি-নৈতিকতার কবেই গেছে প্রাণ
যা পাই তাই খাবো, “আমার ক্ষুধা স্বদেশ সমান!”