কৃষকের আমাবস্যা

ওগো, সখা- এসেছো তুমি? এসো-
আমার ছোট্ট কুঠিরে একটু খানি বসো
তোমার পানে কই আমার মনের কথা
জানো গো সখা-
হয়েছিল সোনার ধান এই সোনার মাটিতে
নদীর একেবারে কুলে।
ভেবেছিলাম দুঃখ বুঝি এবার গেল ঘুচে
কিন্তু, কি বলবো সখা!
সবনাশা পদ্মা যে বদলে দিন আমার ভাগ্য রেখা।
জোরে ভাসিয়ে দিল জল
আছরে পরলো আমার হৃদয় মাঝে।
আর বাকি ছিল তুলিতে ঘরে ধান
তার আগেই হলো সব শশান।
শান্ত আকাশ মুহূর্তে হলো ভয়াবহ
কালো ঘন মেঘে সমস্ত আকাশ হলো অন্ধকার।
শান্ত নদীর জল মুহূর্তে নিলো সমুদ্রের বেগ।
তুমুল ঝড় আর জলে
ঘরের মধ্যে থেকে আমরা আশার পানে।
মনের মধ্যে আশার বাতি নিভে নিভে জ্বলে
মনের কষ্ট চোখের জল হয়ে নামে।

দেখতে দেখতে পদ্মার ঢেউ হলো আরও তীব্র
পরছে সমস্ত শক্তিতে ভেঙে নদীর দুকুলে।
যেন ভেঙে দিতে চাই নিজের জোরে।
চোখের সামনে সোনার ধান হলো মাটিতে নত।

ভাঙছে নদীর কুল খুব ধীরে ধীরে
কয়েক মুহুর্ত! সব শেষ-
আমার সোনার ফসল আর সোনার মাটি
ঝরে পড়লো নিমেষে নদীর বুকে।
চোখের সামনে স্বপন হলো শেষ
শুধু হলো না আমার দুঃখের কোনো শেষ।
তোমার পানে কথা কয়ে, হলো মন হালকা
এই ছিল গো সখা- আশায় ভরা এক কৃষকের জীবনের আমাবস্যা।
…………………………………………..

গন্তব্য

একলা আকাশ, একলা মন আরো একলা আমি
যেদিকে তাকায় যেন শুধু মরুভূমি।
নেই কেউ কোথাও যেন শুধু একা আমি আর খা খা মরুভূমি।

শত সহস্র পথ জানি দিতে হবে পারি,
জানিনা পারবো কিনা আমি।
নেই কোন আশা,নেই কোন পথ
যা আছে তা শুধুই ভালোবাসা।

জানি আছো তুমি দাঁড়িয়ে মরুভূমির শেষে।
যেতে হবে তাই এগিয়েছি পা, জানিনা পৌছাবো কিনা।
অনেক স্বপন, অনেক আশা নিয়ে ফেলছি একেক পা, জানিনা পৌছাবো কিনা।
দেখছে আকাশ, শুনছে বাতাস, বুঝছে এই মরুভূমি, কত কষ্ট করে এগোচ্ছি আমি।
আশা করি আছো তুমি সেখানেই যেখানে যাচ্ছি আমি।
পৌছেছি আমি সীমান্তে, অনেক তৃষ্ণা নিয়ে।
দেখি আছো দারিয়ে আমার সামনে।
তৃষ্ণা তো মিটে গেছে আমার শুধু তোমার ছায়ায় এসে।
বলছে এ প্রকৃতি-

তুই তো চলে এসেছিস তোর সীমান্তে
তুই তো চলে এসেছিস তোর সীমান্তে।
…………………………………………..

কুয়াশা

আকাশ জুড়ে মেঘের ভেলা,
আসবে যেন ঘন বরষা।
মনের মধ্যে শীতল আভা,
যেন চারিদিকে কুয়াশা।

ঘরের একটি কোনে বসে ভাবছি তোমার কথা।
চোখ মেলে দেখছি আকাশ আর মেঘের ভেলা।
হারিয়েছো তুমিতো বহু দুরে,
নেই ফিরে আসার কোনো আশা।

ভাবছি-
হয়তোবা তুমি আসবে কোনো বষার বেশ ধরে, আমার শান্ত শরীর ভেজাতে।
অথবা আসবে কোনো কুয়াশার মেঘে ভেসে, আমাকে শিহরণ দিতে।

হঠাৎ মেঘেরা হলো অস্পষ্ট, বরষা হলো শেষ।
তবুও যেন মনের কুয়াশার হলো না কোনো শেষ।
…………………………………………..

অশুভ সময়

হলাম খাঁচায় বন্দী, জীবন নাশের ভয়ে।
চিড়িয়াখানার পশুপাখিরা ও বলে দেখ কেমন লাগে।
আজ পৃথিবী চলছে ধ্বংসের মুখে
কে আর আটকাবে?
মানুষ মরছে পিঁপড়ার মতো,
এই কি জীবনের দাম?

নিঃশ্বাস নিতেও লাগছে ভয়,
কি এর উপায়?
মানুষ হারিয়েছে কাজ,
না খেয়েই হচ্ছে দিন পার।

না আছে খুশি,নাম আছে আনন্দ,
হয়ে গেছি জীবন্ত লাশ।
হারিয়েছি আপনজন, হারিয়েছি সবকিছু
আর কিছু নেই হারানোর।

ঘুম থেকে উঠে ভাবি আজও কি শুনব কেউ চলে গেছে।
চারিদিকে কান্না, বেদনা, এ কি দশা?
থাকবেনা কিছু বেঁচে।

সব না থাকার মাঝেও থাকবে শুধু হাহাকার।
…………………………………………..

পহেলা বৈশাখ

এসেছে বৈশাখ- পহেলা ১৪২৭ নিয়ে।
এসেছে বৈশাখ- নতুন ক্যালেনডার নিয়ে।
এসেছে বৈশাখ- নব পুষ্প সাজে।
এসেছে বৈশাখ- নীল মেঘের উপর চরে।
এসেছে বৈশাখ- আমি,জাম,কাঁঠালের মুকুলে।
এসেছে বৈশাখ- মিষ্টি-মিঠাইয়ের বেশে।
এসেছে বৈশাখ- ইলিশ, পান্তা আর মরিচের বেশে
এসেছে বৈশাখ- বাহারি জামা – কাপড়ের বেশে।
এসেছে বৈশাখ- হাতের লাল চুড়ি আর পায়ের আলতার বেশে।
এসেছে বৈশাখ- বাহারি খোপার গেন্দা ফুলের বেশে।
এসেছে বৈশাখ- নতুন জেদ আর নতুন তেজ নিয়ে।
এসেছে বৈশাখ- ঝগড়া ভুলে সন্ধি নিয়ে।
এসেছে বৈশাখ- ভেদাভেদ নিয়ে।
এসেছে বৈশাখ- হাজার হাজার ভালোবাসা, আনন্দ আর খুশি নিয়ে।
বৈশাখ তো এসেছে জীবনে জীবন দিতে।।
…………………………………………..

বিদায়

আজ আমি নিজের হাতে মা কে স্নান করাবো
ঠিক সেভাবেই যেভাবে মা আমাকে ছোটবেলায় করাতো
তবে মা আমার মতো করে বলবে না-
আর না, আর না মুছিয়ে দাও আমাকে।
আজ সকালে মা এসেছে,
মা সবসময় হেঁটেই বাড়ি আসতো কিন্তু আজ মা গাড়িতে করে এসেছে
খুব আরামে,খুব আদরে বাবার কোলে মাথা রেখে।
হ্যা, এমন ভাবেই মা এসেছে।

মা আজ আমার জন্য মিষ্টি আনেনি,
দেখেই মনটা খারাপ হয়ে গেল।
মা আজ নিজের পায়ে হাটলো না, বাবা মা কে নামালো ।
মা আজ ঘরে নয়,উঠানে শুয়ে বিশরাম করছেন।
মার নাকি রাএে ভালো ঘুম হতো না,
তবে আজ মা আরাম করে ঘুমাবে।
শান্ত শরীর, নরম হাত আর বন্ধ চোখের পাতা
দেখে আমি বলেছিলাম-

ওমা, দেখ আমার গায়ে ধুলা, মুছিয়ে দেবে না?
মাগো, আমার এলোমেলো চুলগুলো বেঁধে দাও না, ওমা মা।
আর কিছুখণ-
ওরা মাকে নিয়ে যাবে।
মাই সবসময় আমাকে সাজিয়ে দিত, আজ আমি মাকে সাজাবো।
কপালে লাল টিপ, সিঁথিতে সিঁদুর, হাতে লাল চুড়ি, পায়ে আলতা,
আহ্, বেশ লাগবে আমার মাকে।
ওরা যখন মাকে নিয়ে যাবে আমি খুব কাঁদবো আর বলবো না না নিয়ে যেও না,
আমার মা যে ঘুমাচ্ছে।
মার ঘুম ভেঙে যাবে, মার ঘুম ভেঙে যাবে।
…………………………………………..

পরন্ত বিকেল

পরন্ত বিকেলে ঘুমন্ত শহরে
বসে আছি একা
যেন হারিয়েছি অন্য শহরে
চিনিনা কাউকে লাগছে খুব একা
ভাবছি বসে আসবে কবে,
আমার একলা শহরে।
তোমার অপেক্ষায় দিন গুনছি,
জানি না কবে কেটে গেছে অনেক রাত।
জানি আসবে বসে আছি তাই,
জানিনা কবে আসবে সে সময়।।