মন ও শরীর

তুই গহীন
তুই আলো
প্রজাপতিজ্বরে মনের ব্যথা বাড়ে এই অবিক্রিত সীমানায়
আর কতোদূর যাবে
মন ও দেহ
…………………………………………..

সাতঘড়িয়ারদিন

আজ মানে আছে মানে নেই
কাল মিথ্যেগুলো সত্য হয়ে যাবে
পরশু সত্যগুলো মিথ্যে হয়ে যাবে

গতকাল ভাবনা ছিলো স্বপ্ন ছিলো
আজ একটি পাখি আকাশে ওড়ে
আগামিকাল আমার ভবিষ্যৎ কাঁদে

সকাল ঘুম যায়…..রাত পুড়ে পুড়ে
সন্ধ্যা মেঘের ছন্দ আঁকি
রাত কবিতা সংশয়ে ভুগি
…………………………………………..

আমি চুরি হচ্ছি

তোর মন খারাপের নাম কী
তোর মন খারাপের দিন কী
তোর আন্দদের কতো নাম
তোর মনের নিচে অতীত ধূলো
তোর ধূলোর কাছে দহনঋণ

আমি চুরি হচ্ছি তন্ত্রসুদিন…

সেদিন রাতে মীতকুয়াশা নেই
সেদিন রাতে
…………………………………………..

ভাবনাবিষয়ক পরাধীনতা

অনুভব।
স্বপন।
ভাবনা।
কয়েকদিন হলো ভাবনা স্বপ্নের গ্রামে বেড়াতে গ্যাছে-
আজ ভাবনার সাথে কথা হলো। সে বড়ো ভালো আছে,আমি তারে বাড়ি ফিরতে বলি- দেরি হবে বলে ফোন রেখে দ্যায়। আমি বিস্মিত মনে ভাবনাকে ভাবি-যদি ওর কিছু হয়ে যায়। ওকে আমার নজরে নজরে রাখতে ভীষণ কষ্ট। কী করি বলুন-ওকে ছাড়া যে চলতে পারি না। কিছুদিন ওর জ্বর হলে আমি অস্থির সে কি অনুভব!
বাস্তবের সামান্য গরমিল হলে ভাবনা আমার দোষি হয়ে যায়। কেউ মানতে চায় না। ওর অভিমান আমরা বুঝতেই চাই না। কেন ভাবো সে অন্যজন
ভাবনা আমার বোন।
ভাবনা আমার মন।
…………………………………………..

পাশ্চাত্যের ইতিহাস

সে আমার বন্ধু নয়
সে আমার হত্যাকারি
প্রাণদ-ের ঘাতক একদিন ইচ্ছের সংগীত গায়
এই ইতিহাস কফিনজুড়ে অভিযোগের কারবারি
বিশাল অস্তবেলার আধাঁর থেকে কুড়িয়ে ফসিল
বিনয়ভঙ্গিমার আমার আত্মার সত্ত্বাধিকার!
…………………………………………..

দেশ

একা একা মানচিত্র আঁকা যায় না
ইচ্ছে করে ঘুরে আসি সোলালিয়া-প্যারিস
মাপযোগ বারবার ভুলে যাই
দিক দর্শন হৃদয়ে বসে নাচানাচি করে
কী যে করি-
মানচিত্র নাই বা আঁকলাম কিন্তু দেশ-
দেশটাকে তো বাঁচাতে হবে
এ কথা এলান্থাস নয়-আনেরিকা জানে একদিন
…………………………………………..

রাতের ব্যঞ্জনবর্ণ জপে জপে

বহুবার দাঁড়াতে চেয়েছি অনৈক্য আর ছায়ার বিপরীতে
অনেকবার দাঁড়াতে চেয়েছি ঘুম- রোদ মিথ্যে আলোর বৈপরীত্যে
চোখ যতোটা বোঝেনি-
সময় তার’চে অনিমিয়ত নিঃশ্বাস জুড়ে নীলিমার ছায়ায় ওড়াতে চেয়েছে
ঠোট নিজের সর্ম্পক চেনেনি-
আজ নিরর্থক জিজ্ঞেসে মুহূর্তের ঋতুরাজে কুশলতা ফলাই…
…………………………………………..

বিশল্যবৃক্ষ

আয়ু কমে না
আয়ূু বাড়ে না
আয়ু হয়-থাকে,আসে
আমরা তবলিগিচোখে আয়ু বুঝি
আমরা চুরিকরা মনে আয়ুর দৃশ্য দেখি-
তোমার
আমার
মেহগনি ভাবগুলো প্রতিদিন আয়ু উৎপন্ন করে
…………………………………………..

জীবনানন্দীয় মন ওড়ে

হাতের নির্জনে তুমি একা- একাই হেঁটে চলো
স্বপ্নের ছায়া ভেঙে
স্পর্শের অতীত ধরে
চিঠি আসে
কথা আসে
হৃদয় কেটে-স্বপ্নের ছায়া নড়ে
গোপনে অবুঝপাখি বাঁজায় বাঁশি
আর-
বিনয়ের মৃম্ময়ীচোখে বয়স্ক অনুভূতি নিয়ে মানুষের ইতিহাস পোড়ে-
পোড়ে বিচ্ছিন্ন প্রকৃতি জীবনানন্দীয় মন…
…………………………………………..

আয়ুনির্ভর স্বপন

তুমিময় সন্ধায়-পৃথিবীর রঙ
নীরব-নিবিরতায় আঁকা বেগতিক স্বপ্নভাষা
বাতাসচারিত কারুনগ্নতার জলকাব্য
সেই পৌষি সকালের আবিরতা পাখির ঠোঁটে লেগে থাকে ভিন্ন আমেজে

ফেলে আসা বনদুঃখ নিয়ে সেই সব ছেঁড়া সন্ধা
সকাল-তুমিময় নির্ভরতাগুলো কুড়িয়ে কুড়িয়ে
একটা বেঁচে থাকার আয়ুনির্ভর স্বপন আঁকি….
…………………………………………..

রিকশাগোধূলি

নির্জনতা
আনমনা
দুপুরতা
দূরবর্তী মগ্নতার দুপুর পেরিয়ে আমরা নির্জনতার আনমনায় যাচ্ছি
মারছে বাতাস
মারছে পথ
এভাবে পথ আমাদের ছুঁয়ে ছুঁয়ে বন্ধু হয়ে উঠচ্ছিল
তোমাকে চিনে নেবো বলে পথকে রশিক বাসনার শব্দে অন্তঃপুর
পথ তোমাকে পায়ে পায়ে আমি চুমকির জপমালা ছোঁয়ায়ে নেবে…
…………………………………………..

মনের ডাকবাক্স

কার চিঠি?
কোন চিঠি?
কীসের চিঠি-

কানের গোপন নেত্রবন্দি ক্ষণ যোজন দিঠি
ডাকটিকেটবিহিন মঞ্জুষা বুকে বিরহের চিঠি
কাল
ক্ষণ
সময় এড়িয়ে শব্দের ডাকহরকরা কখনো ঘুমোয় না
চিঠি বিলোতে বিলোতে প্রতীক্ষার গোলাপ
ইট-পাথর আর চুনকামে মাধুরী ফোটে যৌবনের বাগীশ্বরি প্রেমে…
…………………………………………..

সমসতার ঈশ্বরনদী কিয়ামতের ব্যবধান

নারী
পুরুষ
পুরুষ জানে না তিনি কে-
নারীও জানে না পুরুষ কার?
পুরুষ নিজের মূল্য হারিয়ে-
অজান্তেই হয়ে ওঠে সৌন্দর্যের হার!
…………………………………………..

একদিন লোপিত পুরুষ

পুরুষ গোলাপ কী কখনো ভালোবাসা বোঝে-
নারীর নিতম্বের আড়ালে চোখে বুক মারে-
শুগুপ্তমুদ্রার আসল লোভ মনের ভূগোলে বাঁকা অন্ধকার ছিন্নমৌমাছিচোখ সমিধে রচিবে ধুম লেগে যাওয়া নন্দিত পথ আমরা বলতে পারি আমাদের অশ্বমেধলিঙ্গের চন্দনেসুবাসেবৃত্তে স্তনচিন্তানন্দ আগুন বাঁজে সাজে ত্রিণাচিকেতন ছন্দে
আগ্রহ এবং কাম পোড়তে পোড়তে একদিন পুরুষ লোপিত পুরুষ ওস্কার দেখাতে পারে অম্ভলোকে জন্ম হবে নন্দন-শিল্প নন্দিতা!

নন্দন-নন্দিতা
সমন্বয়- চোখ
জলকুকুরে সন্ধ্যা
…………………………………………..

মনের পারফিউম

ঝাড়–।
পরিষ্কার।
মন।
প্রতিদিন আমরা ঝাড়– দিয়ে অসংখ্য ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করি, নোংরা ফেলি আর নিজেদের পবিত্র ভাবি। এভাবে পরিষ্কার করতে করতে মনে হয় সব ময়রা পরিষ্কার হয় না। আমরা পরিষ্কার করতে পারি না-সব হয় না। একদিন কিছু তেজি ,জেদি ময়লা আমাকে প্রশ্ন করলো-‘এই যে মালিক আমার প্রভূ! তোমরা যেসব পরিষ্ককার করো তা জানো? কিংবা সব কী পরিষ্কার করতে পারো?’ আমি স্থির হলাম,বললাম-‘ক্যানো এসব প্রশ্ন? তোমরা নিজেদের কী ভাবো বলো তো?’ কিছুক্ষণ ভেবে গম্ভীর গলায় ময়লা উত্তর করে-‘ তোমরা হয়তো ভাবো আমাদের পরিষ্কার করছো। আদতো মনের ময়লা কখনো কী পরিষ্ককার করতে পেরেছো প্রভূ? আমরা আসলে ওখানে থেকেই যাই।’ আমি থেমে গেলাম। খুব নীরবে ভেবে চিন্তে উত্তর দিলাম। ‘মন তুমি কী কখনো পরিষ্কার হতে চেয়েছো? তুমি যদি পরিষ্কার হতে চাও-তাহলে ঝাড়–র প্রয়োজন নেই। শুধু দরকার ছোট্ট একটা- ইচ্ছে!
শক্তি।
প্রয়োজন।
ইচ্ছে।
ভালোবাসা।
…………………………………………..

আয়নামিথ

মানুষ।
আয়না।
মানুষ।
সুন্দর এবং সৌন্দর্য হেসে উঠলো। চোখে নদী-সাগর-আকাশ। সৌন্দর্যের আলো মানুষকে অন্ধ করে। মানুষ আয়নায় নিজেকে দেখে-আয়রাও াামাদের দেখে। প্রতিদিন মানুষ আয়নার টেরেসমাতিতে ভুলে যায় রূপ। আয়না মানুষের সৌন্দর্য-রূপ চুরি করে আর গোপন করে। আয়নায় নিজেকে হারাতে হারাতে কোনো একদিন দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে আয়নার জয় হয়।
আয়নার ভেঙে নিজেকে খুঁজতে অসংখ্য ‘আমি’র ভেতর নিজের পরাজয় মেনে পারি না।
এখন আমার মতোন অসংখ্য নতুন ‘আমি’ বেঁচে থাকে।
প্রেম।
আলো।
প্রতিযোগিতা।
…………………………………………..

অবিক্রিত সুখ-দুঃখ

অভিযোগ নয়-
অনুনয় নয়-
পরিশ্রমের আলোগুলো সূর্যকে ফিরিয়ে দিয়েছি
মনে রেখো-
প্রদীপ নিজে আলো জ্বালাতে পারে না
জীবন-বর্ণ, বেদনা-ভীতি, ভুল-সত্য
সব লুকিয়ে এখনো জীবনের সুখ-দুঃখগুলো বিক্রয় করিনি!