এই প্রিয় মুখগুলি মেঘের মতন

প্রিয়জনদের জরা আমি আর দেখতে পারি না
আমি চোখ মেলে-মেলে দেখতে পারি না
এই প্রিয় মুখগুলি মেঘের মতন গ’লে যায়
চোখের পুকুর ঘিরে পানা ছেয়ে আসে, প্রিয় ভ্রুর
রেখাগুলি ডানা গুঁজে ম’রে যাওয়া পাখির মতন
মুখ থুবড়ে পড়ে, এত প্রিয় ওষ্ঠাধর ঝরে ঝরে পড়া
অপক্ক ফলের মতো ধুলোয় শুকোয়, সব কী-ভাবে শুকোয়,
সব কী-ভাবে এখন ওড়ে হাওয়ায় হাওয়ায়,
কুচি-কুচি কাগজের মতো সব কীভাবে মিলায়।

কী-ভাবে হৃদয় ছাউনি গুটিয়ে ফেলে
প্রস্তুতিতে পথে নেমে আসে,
এইমাত্র হাত তুলে ভাড়াগাড়ি যে-কোনো থামাবে,
হাত তুলে বিদায় জানিয়ে চলে যাবে।
কীভাবে এখন দেখি হৃদয় গুটোয়।
কী-ভাবে অন্তর সব ঝকঝকে বাসনগুলো তাক থেকে য়ে
ভীষণ ঝংকার তুলে পাথরে ছিটিয়ে ফেলে ভাঙে,
কী-ভাবে এমন করে রোদে সব শব্দ মিশে যায়,
সব চিহ্ন গলে যায়,
এই প্রিয় মুখগুলি মেঘের মতন
আকৃতি বদল করে ভেসে চলে যায়
আমি চোখ মেলে রেখে ঘাস জ্বলে যাওয়া
এত কাছের উঠোন আর
দেখতে পারি না।
…………………………………………..

জলকন্যা

জলকন্যা বসে আছে
হিমশৈলে একা
ভেজাবুকে জোড়া শঙ্খ বাজে
এলোচুলে প্রবালজালিকা
কোমরে ঝিনুকমালা
দু-চোখে আকাশ
জলকন্যা বসে থাকে
আকাশবিহারী দুই চোখ
চন্দ্ৰতারকার সঙ্গে কথা বলে
কথা বলে সারা রাত ঝিলিমিলি ঢেউয়ে
জলকন্যা বসে থাকে
আকাশ, সিন্ধুর মধ্যে
একা

যতক্ষণ না দিগন্তে মাস্তুল
পাল তুলে জেগে ওঠে
অচেনা জাহাজ

তার পরে তার গান শুরু

গান শুনে ভিড় করে পাটাতনে নাবিকের দল
দাঁড়টানা থেমে যায়
স্তব্ধ হয় মনন, স্মরণ।
সুরের আড়াল দিয়ে ফণা তােলে
ভীষণা মায়াবী
কুহকিনী ডাক দেয়
নাম ধরে ডাক দেয়
ডাকে…

মাত্রই একজন শোনে সেই ডাকনাম
মাত্রই একজন শুধু সুরের ছোবলে মরে
মাত্রই একজন
একজন ঝাপ দেবে জলে
একজনই পাগল

তৃতীয় ডাকের পরে আর সেই পাগল নাবিক
জাহাজে থাকে না, তার সমস্ত শরীর
সুরের গরলে জরজর
জলে ঝাঁপ দেয়

সে তখন সারস, শুশুক
সে তখন ফসফরাস আলো

জলকন্যা মিশে যায় জলে…
একজন নাবিক শুধু
হিমশৈল হয়ে
ডুবে থাকে, ভেসে থাকে, গানে…
…………………………………………..

তারা খসে পড়ে

এক যে ছিলো কাঠুরের ছেলে
রোজ আনে, রোজ খায়।
কাঠ কাটতে কাটতে কাঠ কাটতে কাটতে
তার হাত ব্যথা করে
তবু কাটতে হয় কাঠ …
একদিন এক পরীকন্যে এলো
বললো, আহা গো, বললো, থাক্-
আমিই তোমাকে ভাত বেড়ে দেবো আজ থেকে…
কাঠুরের ছেলে খুব খুশি
কুড়ুল নামিয়ে রাখলো
সঙ্গে সঙ্গে তার হাত দুটি
খসে পড়লো
ঠিক কুড়ুলের পাশটিতে…
সামনে ভাত-
সে এখন ভাত খাবে কী দিয়ে?

একটি মেয়ে ছিলো
কবিতা লিখতে লিখতে কবিতা লিখতে লিখতে
তার সাঁঝ ফুরিয়ে সকাল হয়ে যায়

সকাল মিলিয়ে যায় রাত্তিরে
একদিন এলো এক রাজপুত্তুর
মেয়েটাকে বসিয়ে নিলো তার পক্ষীরাজে
বললো, এসো, বললো, চলে এসো
তোমার কবিতা নিয়ে তোমার দিন নিয়ে
তোমার রাত্রি নিয়ে
আমার কাছে চলে এসো
আমার কাছে দিনও পাবে
আমার কাছে সব কিছুই কবিতা…
মেয়ে খুব খুশি
কলম নামিয়ে রাখলো
সঙ্গে সঙ্গে তার চাঁপার কলি আঙুল
আঙুলগুলি সব ঝরে পড়লো…
যেমন ঝরে যায় ফুলে পাপড়িরা
টুপটাপ শব্দহীন
ওই কলমটার ওপরেই

আর সূর্য চন্দ্র একসঙ্গে ঝলসে উঠে
ধাঁধিয়ে দিলো তার রাত্রি-দিনের হিশেব
খসিয়ে দিলো তার দুটি নয়নতারা ফুল
এখন সেই মেয়ের
সকালও নেই
রাত্রিও না

এখন সেই মেয়ের
কবিতাও নেই
পক্ষীরাজও না
…………………………………………..

মেয়েটা

দুঃখ তাকে তাড়া করেছিল
মেয়েটা ছুটতে, ছুটতে ছুটতে
কী আর করে? হাতের চিরুনিটাই
ছুঁড়ে মারলো দুঃখকে-
আর অমনি চিরুনির
একশো দাঁত থেকে
গজিয়ে উঠলো হাজার হাজার বৃক্ষ
শ্বাপদসংকুল সঘন অরণ্য, বাঘের ডাকে,
ছম্ছম অন্ধকারে,
কোথায় হারিয়ে গেল
দুঃখ-
ভয় তাড়া করছিল তাকে
মেয়েটা, ছুটতে, ছুটতে, ছুটতে
কী করে? মুঠোর ছোট্ট আতরের শিশিটাই
ছুঁড়ে মারলো ভয়কে—
আর অমনি সেই আতর ফুসে উঠলো
কেঁপে উঠলো ফেনিল ঘূর্ণিতে, প্রখর কলরালো
যোজন যোজন ব্যেপে হিংস্র গেরুয়া স্রোতের
তোড়ে কোথায় ভাসিয়ে নিয়ে গেল
ভয়কে-

প্রেম যেদিন ওকে তাড়া করল
মেয়েটার হাতে কিছুই ছিল না
ছুটতে, ছুটতে, ছুটতে কী করে?
শেষে বুক থেকে উপড়ে নিয়ে হৃদয়টাকেই
ছুঁড়ে দিল প্রেমের দিকে,
আর অমনি
শ্যামল এক শৈলশ্রেণী হয়ে মাথা তুলল
সেই একমুঠো হৃদয়
ঝরনায়, গুহায়, চড়াইতে, উতরাইতে
রহস্যময়
তার খাদে, তার উপত্যকায়
প্রতিধ্বনি কাপছে।

ঝোড়ো বাতাসের, জলপ্রপাতের-
তার ঢালুতে ছায়া, আর
চুড়োতে ঝলসাচ্ছেন
চাঁদ সূয্যি
সেই ঝলমলে, ভয়ভর্তি হৃদয়টাই
বুঝি এগোতে দিলে না
তার প্রেমিকের ভীতু
প্রেমকে,
আহা
এবার ওকে তাড়া করেছে ক্লান্তি
হাত খালি, বুক খালি,
ছুটতে, ছুটতে, ছুটতে, কী করে?

এবারে মেয়েটা পিছন দিকে
ছুঁড়ে মারলো শুধু দীর্ঘশ্বাস
আর অমনি
সেই নিশ্বাসের হলকায় ফস্ করে
জ্বলে উঠল তার সমস্ত অতীত
দশদিশিতে দাউ দাউ ছড়িয়ে পড়ল
উড়ন্ত পুড়ন্ত বালির মরুভূমি

এখন মেয়েটা নিশ্চিন্ত হয়ে ছুটছে,
দুই হাত মাথার ওপরে তোলা—
যাক্,
এবার তাকে তাড়া করেছে, তার
গন্তব্যটাই।
…………………………………………..

লায়নটেমারকে

মনে থাকবে না? বাঃ! সবগুলো
চাবুকের দাগ, যত কালশিটে, সব
বাদামি চামড়ার নিচে ঢাকা।
খুব মনে আছে।
একবার ‘সপাৎ’ শুনলে, দুইপায়ে খাড়া।
দু’থাবায় ভিক্ষে চাওয়া। ‘সপাৎ-সপাৎ’
শুনলে কেশর-টেশরসুদ্ধ শানের মেঝেয়
গড়াগড়ি, গড়াগড়ি, শীত-গ্রীষ্ম
নেই। তিনবার ‘সপাৎ শুনলে? নির্দ্বিধায়
আগুনের ব্যুহের ফাঁদেও
চমৎকার ঝাপ দিই। আবার?

আবার-
খুব মনে আছে। কানেকানে নেশাতুর আদুরে ‘সপাৎ’—
অক্লেশে লাফিয়ে পড়ি দাউ দাউ
জ্বলন্ত বলয়ে। আবার ?
আবার-
অন্ধকার থেকে
নিশিডাক বেজে ওঠে, শৃঙ্খলের মতো
ঝমঝম্ করতালি আষ্ঠেপৃষ্ঠে
সর্পিল জড়ায়। -দু’চোখ
ধাঁধিয়ে দেয় অলাতচক্রের
মায়া-দ্যুতি, এমন কি আগুনও
কিছু নয়। রিং মাস্টার,
ভুলিনি কিছুই। মনে নেই

শুধু পূর্বনাম। মনে নেই
অরণ্য কেমন ?
…………………………………………..

আরগ্য

শুধু তুমি সুস্থ হবে।
আমি দিয়ে দেবো আমার কোজাগরীর চাঁদ,
শাদা দেয়ালের ময়ূরকণ্ঠী আলো,
দিয়ে দেবো বিগত বছরের মরা পাখির মমতা,
আর আগামী বছরের কলাগাছটির স্বপ্ন।
চলে যেতে যেতে সবাই তো তাই বলে গেলো।

কুন্তী নদীর গেরুয়া জল তার সবুজ ছায়া কাপা ঠাণ্ডা গলায়
আমাকে বলেছে,
শুকনো সোনালি গোরুর গাড়িগুলো
ক্লান্ত কাদাটে গলায় আমাকে বলেছে,
শেষ হেমন্তের বুড়ো সবুজ পাতারা
আসন্ন মৃত্যুর খখসে গলাতে বলেছে।

তুমি সুস্থ হ’লেই ওরা আবার ফিরবে।

এমন কি
তুলসীতলার যে-প্রদীপটি ধ’রে তুমি
আমার মুখ দেখেছো, তাকেও ভাসিয়ে দিয়ে,
একটি শুভ্র স্তব হয়ে জ্বলবো তোমার শিয়রে
আসুক, ওরা ফিরে আসুক, যারা চিরকাল
শুধুই চলে যাচ্ছে, এখান থেকে অন্যখানে
উৎপাটিত একগুচ্ছ কচি সবুজ দুর্বার মতো
তুচ্ছ, উষ্ণ, কাতর
আমি তোমার যন্ত্রণা মুছে নেবো :
তার বদলে, ঈশ্বর, তার বদলে আসুক
তোমার কাক্ষিত আরাগ্যো।
…………………………………………..

টেলি-কম্

জয়ের ওই মেঘবালিকাদের
একজনকে সেদিনই দেখলম
আমাদের বাস স্টপে
অবিকল আগের মতোই
কাঁধে ব্যাগ, দুবিনুনি চুল,
পরনে স্কুলের ইউনিফর্ম

নাকে ঘাম, ভুরুতে অলকচূর্ণ ওড়ে-

সেই যে ফোনের আশেপাশে
তক্কে তক্কে ঘুরু ঘুরু যে-মেয়েটা-
জেঠুর পাহারা থেকে কখন যে মুক্তি পাবে ফোন!
ভোরবেলা জেঠু যেই হাঁটতে যাবেন—
তক্ষুনি ম্যাজিক করে ছেলেটাও
ফোন করবে ঠিক
জেই সেই পান-দোকান পার—
টুং করে একটিবার বাজলেই
চটপট ফোন তুলতে হবে
—“কার ফোন ছিল রে তখন?”
—“রং নাম্বার, মাগো”, …
নিঝুম রাত্তিরে
সক্কলে ঘুমিয়ে পড়লে
ঘড়ি দেখে বারোটা পঞ্চাশে
পা টিপে দালানে এসে
মেয়েটাই ফোন করবে তাকে
সেও তো রাত্তির জেগে পড়া করছে কিনা—
বাজতে না বাজতেই ঘন্টি
ঝাঁপ দিয়ে ফোন তুলে নেবে
বারোটা পঞ্চাশে
এলোমেলো কুজনে গুঞ্জনে
পল অনুপল যায়
হৃদয়ের শব্দ শুনে শুনে
স্বেদবিন্দু মুক্তোমালা সর্বাঙ্গে জড়ায়
অবিকল সেই মেয়ে-
সেই ব্যাগ, দু’বিনুনি, সেই স্কার্ট ব্লাউজ
ফোন-কানে কথা কইছে অন্যমনে-
খর রৌদ্রে রাসবিহারীর মোড়ে
জেঠু ও জেঠিরা হেঁটে যান
সে-মেয়ে নিশ্চিন্ত চোখে, নিজস্ব সময়ে
একান্ত নিজস্ব ফোনে
একান্তে নিজস্ব কথা কয়
ভিড় বাস-স্টপে

ভুরুর ওপরে উড়ছে বিচূর্ণ অলক
নাকে ঘাম, চুল চোখ
ঠমক ঠামক,
সবই এক, অবিকল
আগের মতনই সব, শুধু…
বালিকা, জানিসনে তুই
সে ফোন তোর
মেঘ-টুকু কেড়ে নিয়ে গেছে।
…………………………………………..

দ্বন্দ্ব

একবার আমার দিকে চোখ তুলে তাকাও
আমি তোমার চোখের মধ্যে একটু হাসি।
সে-হাসির আদরে তোমার চোখ কাঁপুক
তোমার চোখ কাঁপুক
তোমার চোখ লাজুক
আমি কঁপি আমি কঁদি আমি দাঁড়াই।
তোমারই মতো একা, ব্যাপ্ত
সহস্রাক্ষ সহস্রবাহু
অনাদি অনন্ত অজর
নিজের অস্তিত্ব নিয়ে অনুক্ষণ লীলায়িত
আমি
তোমার আশ্চর্য অনিবার্য সঙ্গী।

ওপরে ফাঁকা নীচে ফাঁকা সামনে ফাঁকা পিছনে ফাঁকা
সময় যখন আপনি ফাঁকি দেয়
সেই তো ইচ্ছার লগ্ন।
আমি এসেছি তুমিও এইবার এগিয়ে আসবে
রাগ কোরো না ত্যাগ কোরো না আশা কোরো না, শুধু তাকাও
আমার নির্মল আকাশে তোমার সোনালি রোদুর
ভয় কোরো না জয় কোরো না ছলা কোরো না, শুধু তাকাও
তোমারই মতো উজ্জ্বল আর নিষ্ঠুর, দর্পিত আর মায়াবী,

পবিত্র আর করুণ আঁখির অরণ্যে
শ্রাবণের বৃষ্টির মতো তাকাও
ভৈরবী স্বপ্নের মতো
বৈরাগী মৃত্যুর মতো
নিশ্চিত
আর মনে করো তুমি আমার জন্যে
বৃষ্টি আমার জন্যে, বকুল আমার জন্যে, শস্য আমার জন্যে
মনে করো, দুঃস্বপ্ন আমার নৈবেদ্য আমার, চৈতন্য আমার
আর তখন আমি তোমার হই, তখন
আমি তোমার হই
তুমি
আমার কোলের শিশু হয়ে আমাকে বরণ করো
আমাকে হরণ করো
পূরণ করো।
…………………………………………..

দ্বীপান্তরী

এখন তাহলে আমি বিনা প্রতিবাদে
সব অভিযোগগুলি মাথা উঁচু করে মেনে নিয়ে
স্পষ্টত অন্তরশূন্য প্রস্তরফলক হয়ে যাবো।

আমি তোমাদের সব প্রীতিহীনতার পাপ
নিজেই স্বীকার করে নিয়ে, নিজের মণ্ডলে সরে যাবাে।

একদা নির্জন রাত্রে অকস্মাৎ শূন্য আদালতে
বিচারক, বাদীপক্ষ, উকিল, কেরানি
একজোটে চায়ের টেবিলে গোল হয়ে, আমাকে একেলা
নিতান্ত নিঃসঙ্গ, নগ্ন, কাঠগড়ায় তুলে
দ্বীপান্তরে ঠেলে দিয়ে, দল বেঁধে
চায়ের মজলিশে ফিরে গেলো।
যাবজ্জীবন সেই চায়ের আসরে তোমরা বন্দী হয়ে আছে।
আমি পাল তুলে, ভেসে-ভেসে দ্বীপে চলে যাবো।

হৃৎপিণ্ড কোনোদিন ছিলো কি ছিলো না-
কৈফিয়ৎ অদরকারি। সব কিছু পেয়েছিলে, যা-কিছু
আমার বুকে ছিলো। বিনা প্রত্যাশায় আমি
নিরাকার প্রিয়মন্যতায় পকেট ভরিয়ে নিয়ে
এইবারে দ্বীপে চলে যাবো।

সেই দ্বীপে কোনোদিন তোমাদের জাহাজ যাবে না।
…………………………………………..

দুঃখরঙের বাড়ি

এক.
বাড়িটি হয়ে গেল দুঃখ রং
বাড়িতে ফিররো না, নাও ফেরাও
অন্য দেশে বও, মন-পবন।

দুই.
সকলেই একটু একটু করে বদলে যায়
সবখানি বদলায় না
শুধু একটুখানি— তাতেই পালটে যায় দিন, রাত্রি, গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত।

তিন.
জানাজানি হয়ে গেল
সে কখনো ছিল না ওখানে
শুধু ছায়াটুকু ছিল।

চার.
লজ্জার কী আছে, যদি
বসন্ত বারবার ভুল বলে?
লজ্জার কী আছে, অশ্রুজলে?

পাঁচ.
এখন প্রশ্ন হবে, ফিরি, কি না-ফিরি?
ফেরা ফেরার চেয়ে অনেক কঠিন
অন্তরাত্মা যদিও বাহিরি।

ছয়.
পূর্ণিমাটি ঝাপ দিল
তেলঝুলমাখা কালো বিষে-
এত বিষ জমেলি,
ফুল তোলা রেশমি বালিশে?

সাত.
নরকযন্ত্রণার এখনই অন্ত না
বালিতে ডুবে গেছে সমুদ্দুর
প্রলাপে থৈ থৈ হৃদয়পুর।

আট.
চোখ বলছে, সময় হয়েছে-
প্রশ্ন শুধু
খিল খুলবে কে?

নয়.
বলবো না, ছুঁয়ে থাকো
বলবো না, তুলসী চন্দন দিও চোখের পাতায়,
শেষ দৃষ্টি নগ্ন চেয়ে থাক্-
বলে যাক, ফিরিস না কখনো।

দশ.
এইমুখ, এ-মুখ অচেনা।
এই জিব, এ জিহ্বা অচেনা।
আমাকে এখন আর আমার শরীরে ধরছে না।