নতুন বছর নতুন আশা
ছড়িয়ে যাক ভালোবাসা
নতুন বছরে আমাদের আশা দেশের মানুষের মধ্যে পয়দা হোক ভালোবাসা। সারা পৃথিবীতেই আজ ভালোবাসার অভাবে ঝরে যাচ্ছে সবুজ পাতা। ভালোবাসায় পূর্ণ হলেই বেহেস্তি সৌরভ ছড়িয়ে যাবে সারা বাংলায়। নববর্ষের ১৪২৮ ভালোবাসা জানাই আমাদের পাঠক, লেখক, সুধি এবং আমাদের ওয়েবকে সহযোগিতাকারী প্রিয়জনদের। নতুন বছরের নতুন দিনের মতোই আমাদের জীবনের প্রতিটি দিন হোক সুন্দর ও ভালোবাসাপূর্ণ।
সম্পাদক-আফসার নিজাম

সূচীপত্র

দু টুকরো নববর্ষ :: তৈমুর খান
এসো হে নতুন :: কিশলয় গুপ্ত
এসে গেছে বৈশাখ :: ইমরান খান রাজ
নববর্ষ ও করোনা :: সৌমেন দেবনাথ
বোশেখে :: মোরশেদ কমল
স্বাগতম হে পহেলা বৈশাখ :: খোরশেদ আলম
বৈশাখী বাঙ্গালী :: মুহা তোফাজ্জল হোসেন
আমার নববর্ষ :: বিশ্বজিৎ কর
নতুন সাল ও অনুতাপ :: মুন্সি আব্দুল কাদির
অনাবাদি মাঠে প্রেম :: তমসুর হোসেন
একটি কালবৈশাখী ঝড়ের প্রতীক্ষায় :: কমল কুজুর
ওগো বৈশাখ :: আফরোজা নীলা
বৈশাখি মেলা :: আতিক এ রহিম
নববর্ষের আহ্বান :: তানজারীন ইফফাত স্বাতী
স্বাগত হে নববর্ষ :: নূর মোহাম্মদ
বৈশাখ আসে :: রাজীব হাসান
বৈশাখ আসে :: রাজীব হাসান
ঘাসের বাসনে সতীনের মাথামুণ্ডু :: মোস্তফা হায়দার
গোধূলীলগ্নে আকাশে মেঘের ঘনঘটা :: মহিউদ্দিন বিন্ জুবায়েদ
পাপে ভরেছে পৃথিবী :: আবুল খায়ের বুলবুল
বৈশাখ মানে :: পংকজ পাল
…………………………………………..

দু টুকরো নববর্ষ
তৈমুর খান

সকাল

কিছুই গোছানো হয়নি
ঝরাপাতা পড়ে আছে সমস্ত উঠোনে
রোদ উঠেছে ঝিকিমিকি
ধুলোয় কার পদচিহ্ন ?
এখানে সেখানে তাকে খুঁজি
চলে গেছে সে —
তার ঘ্রাণ ভাসছে বাতাসে

স্মৃতিসিক্ত সৌরভে কিছুটা এগিয়ে দেখি
চমৎকার একটি সকাল দাঁড়িয়ে আছে
ওকে আজ বরণ করি চলো
আমাদের পথ চলা আজ থেকে শুরু হলো

বিকেল

নতুন পোশাক পরে একটুকরো বিকেল আসে
তার মুখ দেখি পরিপাটি
রবীন্দ্রসংগীতের মতো সেও নিরীহচারী
মায়াবী স্বপ্ন বুনে যায়

তার রাঙা চরণের দিকে চেয়ে থাকি
অনুভূতিগুলি বেজে ওঠে নূপুর হয়ে
মিষ্টিমুখ লবঙ্গ ফুলের ঠোঁট
আমাকে বাতাসা-জল দেয়
শান্ত করে পাখার বাতাসে
উদাসী আলোয় এসে ধরে হাতদুটি
…………………………………………..

এসো হে নতুন
কিশলয় গুপ্ত

আবার আমি রাস্তা ছোঁয়া ধূলো
আমায় দেখে হাসছে ছোট ভুল ও
ফুলের আশায় শুলের উপর বসে
ভুলে ছিলাম অতীত কষ্টগুলো

“এখন আমি শান্ত মুসাফির
শব্দ খোঁজার স্বপ্নে অস্থির”

আবার আমি দু’পায় মাটি মেখে
গনগনে রোদ সূর্যটাকে ডেকে
বলবো এসে বুকের কাছে বস
অনেক দূরে আছি চাঁদের থেকে

“আবার আমার হাড়ের ভিতর ঘাস
আঙুল জুড়ে কঠিন সর্বনাশ”

আবার আমি দিনকে দিয়ে দুয়ো
বুর্জোয়াদের বলবো বুনো শুয়োর
থোড়াই কেয়ার সময়টাকে ডাকি
হৃদয় জুড়ে হাসছে গভীর কুয়ো

“আবার আমার ভোকাল কর্ডে টান
আবার আমার কন্ঠ জুড়ে গান”
…………………………………………..

এসে গেছে বৈশাখ
ইমরান খান রাজ

এসে গেছে বৈশাখ
এসেছে ঝড়ের দিন,
এসে গেছে নবান্ন আজ
কৃষকের মুখ রঙিন।

চারিদিক শুধু সবুজে ঢাকা
সোনার ফসল দিয়ে,
মাঝিভাই গান গেয়ে যায়
শান্ত নদীর তীরে।

বাজার জুড়ে ছড়িয়ে পরে
আম, কাঁঠালের গন্ধ,
মামার বাড়ি ঘুরতে যেতে
স্কুল হয় বন্ধ।
…………………………………………..

নববর্ষ ও করোনা
সৌমেন দেবনাথ

আসলো আবার পয়লা বৈশাখ
নতুন একটা সকাল,
বৈশাখী মেলা বসবে না
কারণ করোনাকাল।

শোভাযাত্রা না হলে তাই
হবে না ভাই ক্ষতি,
জটলা করলে বাড়বে কোভিড
দুর্ভোগ বাড়বে অতি।

ঘর থেকে বের হতে মানা
করোনা ভয় মনে,
পান্তা-ইলিশ খাবে ঘরে
বাবা মায়ের সনে।

সেজেগুজে বাইরে যাওয়া
বন্ধ থাকবে এবার,
করোনা খুব ভয়াবহ
এ্যাটাক করছে সবার।

মুখোশ এবার নাইবা পরলে
নাইবা কিনলে পুতুল,
বাইরো যেয়ে একটু ঘুরে
করো না মহাভুল।

মুখচিত্র এঁকো না এবার
কিনো নাতো বাঁশি,
ঘরের মাঝেই ভর্তা খাবে
অটুট থাকুক হাসি।

কোভিড কেটে গেলে আবার
নতুন আশায় ভাসবো,
নতুন বছর কোভিড কাটবে
নতুন করে হাসবো।
…………………………………………..

বোশেখে
মোরশেদ কমল

ঝরে গেছে পাতা আর
শুকিয়েছে ডালে
মাঠ ঘাট ফেটে গেছে
শুকনো যে খাল।

ফসলের ক্ষেতে নাই
একটুও পানি
ভাবি মনে – এক নদী
পানি বয়ে আনি।

নদীতেও পানি কম
হেঁটে পার হই
জেলে ও মাঝির দেখি
কষ্ট বড়ই!

বোশেখের এই দিনে
গায়ে ঝরে ঘাম
কাজ-কামে নাই মন
ঘুমটা হারাম।
…………………………………………..

স্বাগতম হে পহেলা বৈশাখ
খোরশেদ আলম

স্বাগতম হে পহেলা বৈশাখ স্বাগতম নববর্ষ
পুরাতনকে যে দিয়েছি বিধায় যা ছিল সর্বশ।
এসো হে নববর্ষ তুমি খুশির বার্তা নিয়ে
কষ্ট আর ব্যথা-বেদনার গ্লানি মুছে দিয়ে।

বৈশাখ আনে ফলফলাদি মুখে জোগায় অন্ন
তাই’ত সবাই বলে বৈশাখ তুমি ধন্য-ধন্য।
তুমি এসে শোধ করেছ যতো ছিল মোদের ঋণ
গাঁ গেরামে খুশির জোয়ার চলছে বিয়ে-জন্মদিন।

সঙ্গে কেন আনলে তুমি কালবৈশাখি ঝড়?
ভয়ে ভয়ে কাঁপে হৃদয় লাগছে ভীষণ ঢর।
তাইতো মনে ভয়…
যদি মোদের ফসলাদির কোন ক্ষতি হয়!
যদি আবার কালবৈশাখী জীবন কেড়ে নেয়!

দুঃখ-বেদনা রেখে এসো তুমি শত-সহস্র বর্ষ দূরে
তবেই জানাবো স্বাগতম তোমায় গাইবো মধুর সুরে।
…………………………………………..

বৈশাখী বাঙ্গালী
মুহা তোফাজ্জল হোসেন

বাঙ্গালী সেতো অভিন্ন সত্তা
শতো জনমের পরিচয়ে
বিশ্ব সংসারে অভিন্ন আত্মা
বর্ণিল বাঙ্গলা ময়ে।
সত্তায় মজ্জায় মিশে আছে
হাড়ভাঙ্গা খাটুনি কাম
পিয়াজ-লঙ্কা, শাঙ্কিপান্তায়
হাল-বলদে ঝরায় ঘাম।
সেথায় আসে কর্মের ভোর
পেরেশানি সদা নিয়ে
হয়না খাওয়া পান্তা ঈলিশ
মঙ্গল শোভা দিয়ে।
বছর জুড়ে পান্তাই মিলে
লবন মরিচ দিয়ে
ঈলিশ পান্তা চোখেই দেখা
পহেলা বৈশাখ পেয়ে।

বাঙ্গালী স্বপ্ন চাষে মাঠে
মাঁথাল মাথায় দিয়ে,
ধূলিঘামে লড়াই তখন
কাস্তে কোদাল নিয়ে।
সম্মুখের গানে, পাণের ররজে,
কিংবা ধানের খেতে,
বলবন্ত হয় বাঙ্গালী তাই
ভোরের পান্তা ভাতে।

বাঙ্গালীর সাজ কৃষাণী তাজ
সত্যি ছবির মতন
কৃষানের গান গোলাভরা ধান
কৃষাণী করে যতন।
এরাই আসল বাঙ্গালী ভাই
ঢলেনা বৈশাখী ঢলে
১লা বৈশাখে সাজেনা কৃষাণ
কৃষাণি জিন্দেগি চলে।
একদিনের বাঙ্গালী যারা
করে কাঙ্গালীপনা
পান্তা ঈলিশ গামছা নিয়ে
কিসের বাঙ্গালীপনা।
তবুও বৈশাখ আমার বৈশাখ
জানাই সাদর সম্ভাষন
বাংলাবর্ষ শুভ নববর্ষ
বাংলায় জানাই অভিনন্দন।
…………………………………………..

আমার নববর্ষ
বিশ্বজিৎ কর

আমার নববর্ষ শিশুশ্রমের দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে,
আমার নববর্ষ বৃদ্ধাশ্রমের করুণ কাহিনী বলে!
আমার নববর্ষ রোদে-জলে ধান কাটে,
আমার নববর্ষ কারখানায় প্রাণপাত করে খাটে!
আমার নববর্ষ পণপ্রথা-ডাইনি হত্যায় কাঁদে,
আমার নববর্ষ বিভ্রান্ত করোনা-র দাপটে!
আমার নববর্ষ লজ্জিত সীমাহীন অসততায়,
আমার নববর্ষ শঙ্কিত নিষ্ঠুর ধর্মান্ধতায়!
আমার নববর্ষ প্রত্যাশা করে সুস্থ মানসিকতা,
আমার নববর্ষ কাটিয়ে উঠবেই এই অস্থিরতা!
আমার নববর্ষ জানায় শুভেচ্ছা নতুন সকালে,
আমার নববর্ষ সত্যিই মানুষের কথা বলে!
…………………………………………..

নতুন সাল ও অনুতাপ
মুন্সি আব্দুল কাদির

নতুন সালের দোলা লাগে প্রাণে
সাথে করোনার ভয়
গোনাহের ভাপে কাঁদে অনুতাপে
মানবতার হোক জয়।

বোশেখ আসে মুচকি হেসে হেসে
সাথে সুপথের আহবান
দখিনা হাওয়া ইশানের কাল মেঘ
বলে সত্যের জয়গান।

উনিশ গেল সাথে বিশ ও হারাল
একুশেও ঘরের কোন
এসো
প্রভুকে ডাকি তাকে করে নেই সাকী
মিলে
বাবা মা ভাই বোন।

বল বার বার কেন করোনার আঘাত
তবুও থামেনি মিথ্যা কাজ
জুলুম শোষন আর অনাচারে ছাওয়া
দেখ পৃথিবীর সব রাজ।
…………………………………………..

অনাবাদি মাঠে প্রেম
তমসুর হোসেন

আমার প্রেমের মৃত অনাবাদি ফসলের মাঠ
নির্জন পড়ে থাকে আর চৈত্রের খরতাপে পোঁড়ে
কতদিন বৃষ্টি নেই শুকনো বাতাসে ধুলি ওড়ে
রূপ নেই কান্তি নেই, নেই স্বচ্ছ সবুজের হাট।

হাটু জলধারা নিয়ে বোশেখের ব্যস্ত ছোটনদি
কিংবা যদি হতে তুমি কল্পনার ধূ ধূ বালুচর
অশান্ত চকোর হয়ে ঘুমহীন সারা রাতভর
তোমার চলার শব্দে কান পেতে রব নিরবধি।

রোদে পুঁড়ে তবুও যদি নিখাঁদ হয় এই জমি
এসো তুমি নগ্ন পায়ে মাড়িয়ে নিরস তৃণলতা
কান পেতে শুনবে পুঁড়ে যাওয়া হৃদয়ের কথা
এই পথে হেঁটে যেতে কষ্টগুলো জেনে নিও তুমি।

কবির দুঃখ সেতো কবিতার গড়ে অবয়ব
কিন্তু রয় অকর্ষিত মুক্ত খোলা মাঠের বিস্তার
রাতের তারার কাছে মেঘখ- যাচে অভিসার
শূন্য বুকের ভেতর তুমি এক সুপ্ত অনুভব।

হবে তুমি কোনকালে বরষার অবিশ্রান্ত ধারা
সমগ্র হৃদয় জুড়ে গলে যাবে তোমার পরশ
দেখেও অতৃপ্তি রবে ¯œায়ুকোষ হবে না অবশ
মেঘের সাদা পাড়ে তুমি নীলাভ আশ্বিনের তারা।
…………………………………………..

একটি কালবৈশাখী ঝড়ের প্রতীক্ষায়
কমল কুজুর

একটু একটু করে পৃথিবীর বয়স বেড়েছে ঢের
রক্তে ক্রমাগত নৃত্য করে জরা আর শোক
ভ্রমে কাটানো সময় বাতাসে বিষাদ ছড়িয়ে যায়
গভীর ঘুমে কান্নার সুরে ভাসে আনন্দলোক।

বহতা নদীর জলে ভাটার টান পড়ে শেষে
সাধের যৌবন শুকিয়ে হয় কাঠ
হারায় সার বেঁধে বয়ে যাওয়া নৌকোর পাল
আর নিরুদ্বেগে খেলে বেড়ানো মাছের ঝাঁক ।

চৈত্রের দিনগুলোতে মাঠ ঘাট ফেটে চৌচির
ক্রমশঃ ভাঙে মন সবুজ পাহাড় আর গহীন বন
দৃষ্টির অলিন্দে জমে থাকা আজন্ম তৃষ্ণা
নক্ষত্রমণ্ডলের অভিশাপে যেন সংযুক্ত হয় মরণ।

পূর্ণিমায় চাঁদের আলো যেন গ্রাস করে আঁধার
বসন্তের পাতা ঝরার ক্ষণ নেয় বিদায় অবহেলায়
ক্ষণে ক্ষণে আত্মাহুতি দেয় অসহায় মানুষ
ক্ষুদ্র অণুজীব ওঠে মেতে এক মরণ খেলায়।

তবু একটি কালবোশেখি ঝড়ের আশায় থাকে মানুষ
নিমেষে যে উড়িয়ে নেবে সমস্ত রোগ আর ভয়
মনের কোণে স্বপ্ন লুকিয়ে পথের দিকে চায় সবাই
ছোট্ট সবুজ কুঁড়ি হেসে উঁকি দিয়ে যায়।
…………………………………………..

ওগো বৈশাখ
আফরোজা নীলা

ওগো বৈশাখ
ওগো ডানাওয়ালা পাখি
তোমার ডানায় চাপিয়ে নিয়ে যাও আমায়
দূর-বহুদূরে, যেখানে দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ মাঠে,
আঁচল বিছানো আকাশ যেথায় মিশেছে
মেঘের দীঘল কালো চুলের ছায়া ফেলে।
আমি তোমার প্রথম প্রণয়ী সখ্য জলের ছোঁয়ায়
ভাসাবো নিজেকে এলোমেলো,
কতো দূরে তোমার চলার পথে
আমায় ভাসাবে নতুন জলে
আজ আমি বড় স্পর্শকাতর
তুমি আসবে ভেবে,
তবে এসো- প্রাণের পরে
শরীর ছুঁয়ে দাও আমার
তোমার করে-
বৈশাখ- এসো প্রথম দিনের মিলন মেলায় একাকার করে।
…………………………………………..

বৈশাখি মেলা
আতিক এ রহিম

এসেছে বৈশাখ আবার নতুন সাজে
নিয়ে এসেছে এ ধরায় নতুন ভাবনা সবার মাঝে।
সেজেছে প্রকৃতি নতুন রুপে সাজ-সজ্জায়
এসেছে বাড়ি রবিশস্য ভরে ওঠেছে আঙিনায়।
কুমোর পাড়া এখন সাজ সাজ রব
ওঠেছে পহেলা বৈশাখের আনন্দের উৎসব।
উঠানে ফসলের সমারোহ গুনছে কৃষক দিন
পহেলা বৈশাখে বিক্রি হবে শস্য মিটাবে সে ঋণ।
বৈশাখির মেলা থেকে আনবে শিশুরা বাঁশি
সারা বাড়ি ঘুরে বাজবে বাঁশি ফুটবে শিশুর হাসি।
ময়রা, মিষ্টি দোকানির মুখে ফুটবে খুশির ঝলক
মেলাতে ঘুরে সবার কাটবে দিন পড়বে না চোখের পলক।
চুড়ি, ফিতা আলতার শিশি বাদ যাবেনা কিছু
টাকা দাও বাবা, যাব মেলাতে ছাড়বনা পিছু।
টাকার অভাব তার উপর করোনার মহামারি
হাতে যা কিছু আছে কানাকড়ি বাবা কিনে ফিরে বাড়ি।
বৈশাখির মেলা বাংলার ঐতিহ্য আর মহামিলন দিন
শত বাঁধা বিঘ্ন আসলেও বাঙালির মুখ হবেনা মলিন।
…………………………………………..

নববর্ষের আহ্বান
তানজারীন ইফফাত স্বাতী

নববর্ষকে আজ কর বরণ
গুড়িয়ে দিয়ে দুঃখ গ্লানি
ঘুচিয়ে দিয়ে কষ্ট যত।

আজ আসুক প্রাণে আনন্দগান
বয়ে যাক মঙ্গলবায়ু
দিয়ে যাক সুখ যত।

আজ এই নববর্ষে বয়ে যাক শান্তির পরশ
দূর হয়ে যাক জরাজীর্ণতা
কেটে যাক দুঃসময়
ফিরে আসুক জীবন।

আজ আহ্বান করি সেই শক্তি
পাড়ি দেব কঠিনতম সময়,
ডাকি সভ্যতাকে!

জাগো চেতনা প্রতি প্রাণে
বাঁচতে হবে আলোর টানে।।
…………………………………………..

স্বাগত হে নববর্ষ
নূর মোহাম্মদ

স্বাগত হে নববর্ষ
অভিনব আগমনে
স্বপ্নরাও এসো হেসে
শুদ্ধ হয়ে জাগো মনে।

নববর্ষ নবহর্ষে
নিয়ে এসো সম্ভাবনা
আগামীকে বেশি ভাবো
নিজেকেও কম ভাবো না!

এসো এসো নববর্ষ
বরণ করি সু-কৃষ্টিতে
দোয়া করো আমি যেন
বেঁচে থাকি সু-সৃষ্টিতে।

জেনেছ হে নববর্ষ
মৃত তৃণ নেই কি বনে!
ভুলত্রুটিরা ঝরা পাতা
ফুল বৃক্ষরা এই জীবনে।

নববর্ষ নবহর্ষে
বেঁচে থেকো রোদ-বৃষ্টিতে
চাঁদ তারাদের সাথে নিয়ে
এসো জাগি বুধ-দৃষ্টিতে।
…………………………………………..

বৈশাখ আসে
রাজীব হাসান

বৈশাখ আসে সাথে নিয়ে
খুশির নতুন আমেজ
রং বেরঙের জামা কাপড়
পড়ে রমেশ গোমেজ।

বৈশাখ আসে বাংলার ঘরে
নিয়ে বৈশাখী মেলা
মাটির পুতুল বাঁশের বাঁশি
জমে খুকুর খেলা।

বৈশাখ আসে পান্তা ইলিশ
কাচা মরিচের ঝাঁঝে
বাংলার মানুষ বৈশাখ খোঁজে
ভিন্ন সংস্কৃতির মাঝে।

বৈশাখ এলে সবটা ভুলে
বাংলা করি ধারণ
পান্তা-ইলিশ খেতে হবে
এটাই আসল কারণ।
…………………………………………..

বৈশাখ আসে
রাজীব হাসান

বৈশাখ আসে সাথে নিয়ে
খুশির নতুন আমেজ
রং বেরঙের জামা কাপড়
পড়ে রমেশ গোমেজ।

বৈশাখ আসে বাংলার ঘরে
নিয়ে বৈশাখী মেলা
মাটির পুতুল বাঁশের বাঁশি
জমে খুকুর খেলা।

বৈশাখ আসে পান্তা ইলিশ
কাচা মরিচের ঝাঁঝে
বাংলার মানুষ বৈশাখ খোঁজে
ভিন্ন সংস্কৃতির মাঝে।

বৈশাখ এলে সবটা ভুলে
বাংলা করি ধারণ
পান্তা-ইলিশ খেতে হবে
এটাই আসল কারণ।
…………………………………………..

ঘাসের বাসনে সতীনের মাথামুণ্ডু
মোস্তফা হায়দার

হঠাৎ সে দিন
লকডাউন খেতে ইচ্ছে করছিল!
চেতনার পেয়ালায় কাসুন্দিমাখা টিউব দেখে
খেতে বসে চোখ হয়ে যায় রুদ্র!

দিনকে বিদায় দিতে না দিতে
রাতের প্রহরে আসে বিদীর্ণ রিরংসার শোক
এ ফাঁকে কাকের সংসারে বাড়ে কোকিলের পাখা
ঘুম হারিয়ে শোক বাড়ায় হ্যান্ডকাপে!

ঘাসের বাসনে নিরাপদ বিলাপগুলো
যত্নে হারায় দ্বিতীয় সতীনের মাথামুণ্ডু!
ঋতুর মাচাঙে চড়ে গেঁথে দেয়া বিশ্বাসে
ভেঙে যাবে মিথ্যাবাদের আপাদমস্তক সিঁড়ি!

…………………………………………..

গোধূলীলগ্নে আকাশে মেঘের ঘনঘটা
মহিউদ্দিন বিন্ জুবায়েদ

প্রখর রোদের দিনলিপি শেষে…
পত্রপল্লবে বৃক্ষ শাখায় বাহারী রঙ
ফুলের সমারোহে মুগ্ধ প্রজাপতি
হলদে কাঁচাপাকা ধানে ঘাসফড়িং

হঠাৎ চারপাশ আঁধার ঘনিভুত…
গোধূলীলগ্নে আকাশে মেঘের ঘনঘটা
দমকা বাতাস বিজলীর আলোয় বজ্রের
বিকট গর্জনে শিলাবৃষ্টি সব মাড়িয়ে

বোশেখ মাস কালবৈশাখী ঝড়ে…
নেতিয়ে যায় গুটিগুটি আম লিচু এবং
কচিধানের ফুল উপড়ে পড়ে বাঁশের ঝার
ওড়ে যায় টিনের চাল চোখের পলকে।
…………………………………………..

পাপে ভরেছে পৃথিবী
আবুল খায়ের বুলবুল

আমাদের পাপে আজ ভরেছে পৃথিবী
মিথ্যে ও মুনাফিকি বেড়েছে বেশি,
হিংসার অনলে আবার পুড়েছে হৃদয়
সরল পথে চলতে বাঁধা হয়েছে পেশী-
মিথ্যে ও মুনাফিকি বেড়েছে বেশি।।

ঝড়ের আঘাতে ভাঙে যে বৃক্ষরাজি
ভুলের মাশুলে দিতে গতি পাল্টায়,
সত্যকে মুছে দেয় বাদ-অপবাদে
জ্বালা আর যন্ত্রণায় সুখ যায় হারিয়ে যায়।
তিক্ত হয়ে যায় ভালোবাসা মমতা
ঘুম নির্ঘুম হয়ে যায় দেখি সুখের নিশি-
মিথ্যা ও মুনাফিকি বেড়েছে বেশি।।

নদী ও সাগরের তীব্র ঊর্মি মালা
শত বাঁধায়ও থামাতে পারে না কেউ,
নিন্দাবাদে ঝরায় যত কথার কুঁড়ি
আঘাত খেলে থেমে যায় ভালোবাসার ঢেউ।
জীবন চলার পথ আটকিয়ে দেয় যদি
আশে পাশে থাকে না কোন দেশ দেশি-
মিথ্যা ও মুনাফিকি বেড়েছে বেশি।।
…………………………………………..

বৈশাখ মানে
পংকজ পাল

বৈশাখ মানে গাছগাছালির সতেজ পাতা
বৈশাখ মানে বাংলাদেশের হালখাতা ৷
বৈশাখ মানে আকাশে স্বপ্নীল রঙ্গিন ঘুড়ি
বৈশাখ মানে বাংলার ঐতিহ্যের ছাতু মুড়ি ৷
বৈশাখ মানে উৎসব মুখর বাড়ি বাড়ি
বৈশাখ মানে বঙ্গ রমণীর বৈশাখী শাড়ি ৷
বৈশাখ মানে নবচেতনা আর নবজাগরণ
বৈশাখ মানে সুখের স্মৃতির উন্মোচন ৷
বৈশাখ মানে পাড়ায়-পাড়ায় বৈশাখী মেলা
বৈশাখ মানে আবহমান কালের লাঠি খেলা ৷
বৈশাখ মানে ঝড়ে আম কুড়ানোর উল্লাস
বৈশাখ মানে সুন্দর ভাবে বাঁচার প্রয়াস ৷
বৈশাখ মানে ছায়ানট, রমনার বটমূল
বৈশাখ মানে গাছে গাছে ফল আর ফুল ৷
বৈশাখ মানে কত কবিতা কত অনুষ্ঠান
বৈশাখ মানে বাউল শিল্পীর সুরের টান ৷
বৈশাখ মানে কালবৈশাখীর ঝড়ো হাওয়া
বৈশাখ মানে তারুণ্য আবার ফিরে পাওয়া ৷
বৈশাখ মানে প্রিয় একতারাতে সুর তোলা
বৈশাখ মানে শৈশবের প্রিয় নাগরদোলা ৷
বৈশাখ মানে পান্তা ইলিশ ভরা সানকি
বৈশাখ মানে বিবাহে বর-বধূর পালকি ৷
বৈশাখ মানে উৎসব আয়োজনে ব্যস্ত বধূ
বৈশাখ মানে অনাবিল সুখ-আনন্দ শুধু ৷
বৈশাখ মানে সকল ব্যর্থতার পরাজয়
বৈশাখ মানে বাংলা সংস্কৃতি-ঐতিহ্য অক্ষয় ৷