সমীকরণ

অনেক দিন কিছু লেখা হয় না
কবিতার খাতায় শূন্যতার হাহাকার
এ বুকে শুষ্ক মরু প্রান্তর
বেদনার নীল সমুদ্রে ভাটার টান
চলছে দিন রাত নিরন্তর
হতবিহ্বল মন সুখ খুঁজে ফিরে
লক্ষ্মীর ঝাঁপিতে, উথলে ওঠা ভাতের হাঁড়িতে
বেদনার জাতাঁকলে পিষ্ট এ মন
বাগানের সুশোভিত গোলাপের কাঁটার আঘাতে নষ্ট
নষ্ট এ সময় জন্ম দেয় নষ্ট কিছু মূহুর্তের
বুঝে না বুঝে সাক্ষী হয়ে যাই দুর্লভ কিছু স্থিরচিত্রের
কাঁদামাটির মতো নরম শিশুটি হয়ে যায় কঠিন পদার্থ
বদলে যেতে থাকে একটু একটু করে জীবনের অন্তর্নিহিত অর্থ
প্রতিটি দিন নতুন করে এ পৃথিবীকে চেনায়
রিক্ত মানসিকতার কাছে পরাজিত মানবিকতা
নতুন করে ভাবতে শেখায়
মেলেনা অংকের হিসাব
তৈলাক্ত বাঁশের বানর’ও পালিয়ে বাঁচে
জীবন যখন যেমন
বৃথা কেন খোঁজা সহজ সমীকরণ।
…………………………………………..

ডুবসাঁতার

তোমার ভালোবাসার অমৃত সুধা
আমি আকন্ঠ পান করতে চাই
গেলাসে গেলাসে
এরপর তোমার হাতে হাত রেখে, বক্ষে তৃষ্ণা, চক্ষে মদিরতা নিয়ে ভালোবাসার নোনা সমুদ্রে
ডুবসাঁতার দিয়ে ভালোবাসার তলদেশ আবিস্কার করতে চাই।
জানি ভালোবাসার অথৈ সাগরে হাবুডুবু খাওয়াটা সহজ, তলদেশ খুঁজে পাওয়াটা কঠিন কিন্তু চেষ্টা তো করতে পারি।
এক নিঃশ্বাসে তুলে আনতে চাই ভালোবাসার জিয়নকাঠি, ঝিনুকের বুকের আশীর্বাদী মুক্তো।
ভালোবাসার নোনা সমুদ্রের সবুজ উপত্যকায় পদচিহ্ন আঁকা থাকবে অনন্তকালের বুকে ভালোবাসার অমর চিহ্নস্বরুপ।
গান শোনানোর ছলে মহান প্রেমের অমিয় বানী শুনিয়ে দিয়ে আসবো সাগরের প্রাণীদের কানে কানে,
প্রেমের উৎসবে মেতে উঠবে পুরো সমুদ্রবাসীরা সবুজ গালিচার প’রে।
আর হ্যাঁ, ভালোবাসার বিজয় নিশানও না হয় একটা রেখে আসলাম অথৈ ভালোবাসার নীল জলের তলে।

ভালোবাসার জয় হোক, রুঢ় বাস্তবতার কাছে হেরে না যাক ভালোবাসার রঙিন স্বপ্নবাসর।
…………………………………………..

ঘোর

যেন একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম,
অকস্মাৎ ‘দা- বটি-শিলপাটা ধার’ ডাকটি সম্বিৎ ফিরিয়ে দিলো,
মনে হলো সবকিছু আবার স্বাভাবিক হয়ে গেছে,কারণ স্বাভাবিক সময়েও ডাকটি সচরাচর শোনা যায় না,
হঠাৎ একটা ভালোলাগার শিরশিরে অনুভূতি বয়ে গেলো শিরদাঁড়া বেয়ে।
কোনো এক খেটে খাওয়া নাগরিক সবকিছু উপেক্ষা করে পেটের তাড়নায় বেড়িয়ে পড়েছে নগরীর গলিতে,
সে বেচারী হয়তো জানেও না তাঁর ডাকটির কি মূল্য এই মুহূর্তে।

‘দা- বটি- শিলপাটা’ তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ
স্বল্প সময়ের জন্যে হলেও ঘোর কাটানোর জন্য।

রাতে অবশ্য পথের অভুক্ত কুকুরগুলো চিৎকার চেঁচামেচি করে ঘোর কাটানোর চেষ্টা করে,
এছাড়া আজ সকালে কিছু শালিকের কিচির মিচিরও শুনেছিলাম পেছনের দোতালা বাড়ির ছাদটাতে,
এ দুদিন আবার রাস্তায় মাইকিং আর এম্বুলেন্সের আওয়াজও শোনা যাচ্ছে,
এ ছাড়া আর ভালো কিছু পেলাম না ঘোর কাটানোর জন্যে।
…………………………………………..

দেহতত্ব

এ দেহটা ততটা সুলভ নয় যতটা তোমরা ভাবো, হে মানবকুল, বিশেষত পৌরুষ দীপ্ত প্রানীকুল,
এ দেহটা একটি মন্দির ।
এ দেহেই ঐশ্বরিক জীবাত্মার বসবাস,
এখানে প্রস্ফুটিত হয় পূজোর ফুল,
এখানে সাজানো হয় পূজোর নৈবেদ্য,
এখানেই রোপিত হয় ভবিষ্যত স্বপ্ন ;
সুতরাং এ দেহটাকে একটু সম্মান করিও,হে মানবকুল,বিশেষত পৌরুষ দীপ্ত প্রানীকূুল।

এ দেহটা একটি মন্দির,
সৃষ্টিকর্তা তাঁর সর্বোচ্চ মেধা ও শ্রম প্রয়োগ করে এ দেহটা তৈরি করেছেন,
শিল্প ও বিজ্ঞানের অপূর্ব মিশেলে
অপার সৌন্দর্য ও রহস্যের আঁধার,
সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ,বিশ্বের বিস্ময়
এ দেহটা একটি মনেরও ধারক,
আর প্রাণ? সেতো দেহেরই অভিন্ন সত্তার নাম,
সুতরাং এ দেহটাকে একটু সম্মান করিও, হে মানবকুল, বিশেষত পৌরুষ দীপ্ত প্রানীকুল।

এ দেহটা একটি মন্দির!
এক সময় দেহটা মহাজগতে বিলীন হয়ে যায়
মিশে যায় পরম আত্মায়,
সুতরাং দেহটার মর্ম একমাত্র দেহতাত্ত্বিকরাই বোঝেন, হে মানবকুল, বিশেষত পৌরুষ দীপ্ত প্রানীকূুল।
…………………………………………..

রসবোধ

‘সেন্স অব হিউমার ‘ আমার বরাবরই কম,
তাই বলে এত কমও না যে তোমার চোখের ভাষা বুঝতে পারবো না,
এত কমও না যে তোমার মনের কথা পড়তে পারবো না,
এত কমও না যে তোমার ভেতরটা দেখতে পারবো না,
এত কমও না যে তোমার ভেতরের মনটাকে বুঝতে পারবো না,
এত কমও না যে তোমার ভেতরের জ্বালাটাকে
অনুভব করতে পারবো না।

‘সেন্স অব হিউমার ‘ আমার বরাবরই কম তাই বলে এত কমও না যে শেষ বিকেলের রাঙা আকাশের নিচে তোমার হাতে হাত রেখে হাটঁতে পারবো না,
এত কমও না যে সবুজ ঘাসের নরম কার্পেটে
তোমার তালে তাল রেখে পা ফেলতে পারবো না,
এত কমও না যে হাঁপিয়ে ওঠা আটপৌরে জীবন থেকে মুখ লুকাতে, নীল শাড়ি, নীল চুড়ি, নীল টিপ পরে নীল সাগরের ঢেউয়ের সাথে তাল মিলিয়ে তোমায় পাশে নিয়ে হাঁটতে পারবো না।

‘সেন্স অব হিউমার ‘ আমার বরাবরই কম তাই বলে এত কমও না যে তোমার মুখের ঐ মুচকি হাসিটা আর চোখের দুষ্টুমিটা আমার মনে কোন সাড়াই ফেলবে না।
…………………………………………..

কবিতা

কবিতা তোমায় নিয়ে করবো আজ স্তুতি,
কি নেই তোমাতে?
সমাজ,সংসার, সভ্যতা,
প্রাপ্তি, অপ্রাপ্তি, শান্তি আর স্বস্তি ।

শিল্পের শ্রেষ্ঠ তুমি
চিন্তা ও চেতনায়,
সবই যে সম্ভব,
তোমারই ভাবনায়।

সাহিত্যের আদি তুমি,
করেছ মুগ্ধ জনগোষ্ঠীকে।
যুগে যুগে মহামানবেরা
বন্দী করেছে বাণীতে তোমাকে।

হয়েছো কালের সাক্ষী,
বন্দী করেছো ইতিহাস।
কখনোবা তুমি নিজেই এক বিস্ময়,
নিজেই সৃষ্টি করেছ এক বিশ্বাস।

বেদব্যাস, কালিদাস আর হোমার
হয়েছেন অমর, শিল্পীরা তোমার।
বিজ্ঞানের আবিষ্কার রয়েছে তোমাতে নিহিত,
তাইতো বিজ্ঞানীরাও তোমাতে নিবেদিত।

মা, মাটি ও মাতৃভূমি তোমা ছাড়া পায় না পূর্ণতা,
তোমার মাধ্যমেই তাঁরা যেন পায় উপযুক্ত সম্মান ও মহানুভবতা।
ঈশ্বর, প্রেম, আবেগ, রোমাঞ্চ করেছে তোমাকে সমৃদ্ধ,
তাইতো সমগ্র মানবজাতি আজ তোমার প্রতি সশ্রদ্ধ ।
…………………………………………..

ভাবনা

ভাবনাগুলো ডানা মেলে আকাশে উড়তে চায়,
বাস্তবতার পরাকাষ্ঠে পরাজিত ভাবনাগুলো ফুলের পাপঁডির মত নিজেদের মেলে ধরতে চায়,
সেই যে, সূ্র্যোদয়ের আগেই ভাবনাগুলো জেগে ওঠে ঘুম থেকে,
এরপর চলে রঙীন সূতোয় স্বপ্নের জাল বোনা।
মেঘের বুকে পুন্জিভূত জমাকান্না হয়ে থাকা
ভাবনাগুলো বৃষ্টি হয়ে ধরার বুকে স্থান পেতে চায়,
ভাবনাগুলো কিসের আশায় সুদূরপানে তাকায়,
হিমালয়ের গায়ে প্রতিধ্বনিত হয়ে ভাবনাগুলো ফেরারী হয়ে যায়;
সেই ভাবনাগুলো যেন আজ ময়ূরের মত পেখম মেলতে চায়,
এলোমেলো হযবরল ভাবনাগুলো বর্ণমালার মত সুসজ্জিত রুপে পরিপূর্ণতা পেতে চায়,
আজ তারা যেন কিসের আশায়
কানে কানে ফিসফিসায় !
…………………………………………..

অভিমান

মনের মেঘ যখন কথামালা হয়ে ঝরে পড়ে
বৃষ্টির আর কি দরকার?
তবে মেঘের জমা কান্নাকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্যেই মনে হয় বৃষ্টির পরে দেখা যায় রংধনুর সাত রঙ।
মেঘের জমা কান্না যখন বৃষ্টি হয়ে ধরার বুকে
আঘাত করে,
মাটির সোঁদা গন্ধ কি এ মনে রঙের প্রলেপ বুলিয়ে দেয় না?
জ্বালায় না মনে আগুন রঙা ফাগুন?
অথবা সৃষ্টির বহ্নিশিখা?

দৃষ্টিতে যখন ঝরে পড়ে অভিমান
শীতের পাতা ঝরার আর কি দরকার?
রিক্ত বৃক্ষ যেমন ঝরে পড়া পাতার মায়া ত্যাগ করে
রিক্ত মনও ঝরে পড়া অভিমানের কথা আর মনে রাখে না,
বিশেষত যখন কেউ তার খবরই রাখে না,
অভিমানেরও তো আছে একটা মান সম্মান!

বুকের ভেতরের ক্ষরণ যখন বোবাকান্না হয়ে ঝরে পড়ে,
শীতের শিশিরের আর কি দরকার?
ঘাসের শিশিরের মতোই দলিত হওয়া কান্না গুলো একসময় মাটির সাথে মিশে যায়।
…………………………………………..

ভদ্রতা

আজকাল আমি আর কোন ভদ্রতা দেখাই না,
জানিনা কোথায় ভদ্রতাদের বসবাস,
পরোয়াও করি না কারো ভদ্রতার,
ভদ্রতার আশাও আর করি না।
মুখ থুবড়ে পড়ুক ভদ্রতারা,
চলে যাক জাহান্নামের চৌরাস্তায়,
কি আর মূল্য আছে তার এ ধরায়?
দিলাম না হয় পায়ে ঠেলে দেয়া ভদ্রতা, পায়েই ঠেলে!
কি দরকার আছে তাকে আর মাথায় তুলে? মুখপোড়া ভদ্রতারা চলে যাক না নির্বাসনে,
হয়ে যাক না আড়ি তাদের সনে।
আমি আর করবো না বেয়াদব ভদ্রতাদের সাথে বসবাস,
জানিনা এ আমার উন্নাসিকতা নাকি জীবনযুদ্ধের নির্যাস।
…………………………………………..

তুমি আর আমি

নিজেকে ভাবতে পারি না তুমি হীনা,
আমি সুর তুমি বীনা।
তুমি জীবনানন্দ আমি বনলতা,
তুমি ছন্দ আমি কবিতা।

আমি পদ্য তুমি গীতিকা,
আমি জুঁই তুমি বিথীকা।
আমি রাঁধাচূড়া তুমি কৃষ্ণচূড়া,
তুমি মহাবিশ্ব আমি ধরা।

তুমি সাগর আমি তার নীল,
আমি গান তুমি গানের কোকিল।
তুমি মেঘ আমি তার জল,
তুমি বৃক্ষ আমি তার ফল।

তুমি হৃদয় আমি তার প্রাণ,
তুমি সুর আমি তোমার গান।
তুমি রবীন্দ্রনাথ আমি গীতবিতান,
তুমি রাগ আমি তার অভিমান।

তাই তো বলি এভাবেই হেসে খেলে,
যাক না বাকী জীবনটা চলে,
এভাবেই একে অপরকে ভালোবেসে,
থাকি যেন সারাটি জীবন তোমারই পাশে।