রঙিন একুরিয়াম

আমরা কখনো আমদের শিশুতোষ প্রেমকে ভুলতে পারি না
বারান্দায় একটু নির্জনতা নামলেই
ব্যাঙের ছাতার মতো লকলকে করে
বেড়ে ওঠে শিশুতোষ প্রেম।
ভীষণ ভয় হয়।
যদি বা আমার গৃহ-পালিত সমুদ্র দেখে ফেলে
মাছভর্তি রঙিন একুরিয়াম
…………………………………………..

কুমিরের সাথে ভ্রমণে যাবো

কাঁচা বাজারের এক কোণে
ঝুলন্ত মাংসের দোকান দেখে বুঝতে পারি
মানুষ বড়ই ক্ষুধার্ত প্রাণী।
রঙিন টেলিভিশনে
রেফ্রিজারেটরের পাশে আমাদের মডেলদের সখ্যতা দেখে বুঝতে পারি

নিশ্চিন্তে তারা আমাদের ক্ষুধার্ত প্রাণীদের দারুণ সাপোর্ট করেন।
মনের অন্ধকারে ডোরাকাটা বাঘ দেখলে
বড়ো ভয় জাগে।
আগামী শীত সন্ধ্যায়
কুমিরের সাথে ভ্রমণে যাবো।
…………………………………………..

শুধু বরয়াত্রীবিহীন

শোকের বাজার থেকে মৃত্যু নই
আশি টাকা কেজি লঙ্কা কিনে খাচ্ছি
বন্ধু ভয় কি?
আগামী মাসেই আমাদের শুভ পরিণতি
…শুধু বরয়াত্রী বিহীন ।
প্রশ্ন করছ কেন ?
আমরা যে ধীরে ধীরে সংক্ষিপ্ত হযে আসছি
আমাদের দালানের কার্নিশে উপভাড়াটিযা টিকটিকি ও যে
জরুরি বিধানের আওতাধীন
বন্ধু আগামী মাসেই আমাদের শুভ পরিণতি
…শুধু বরয়াত্রী বিহীন ।
…………………………………………..

হাঁটলে পথের দৈর্ঘ কমে নাকি

হাঁটলে পথের দৈর্ঘ কমে নাকি ?
তুমি তো বহু হেঁটেছে বনবিড়ালের মতো নিটোল অন্ধকারে

টর্চের মতো নীল চোখ মেলে ।
আমি ও তো শীতের কুযাশায় জীবনানন্দের হতাশার চাদর গাযে দিয়ে
বহু হেঁটেছি খেতের আল ধেরে
কোথায় আমাদের তো পথ ফুরালোনা
পথ ফুরালনা কিঞ্চিৎ পরিমাণ ও
পথ তো কেবল কুকুরের লেজের মতো
ভূগোল হযে যায
কিশোরীর স্তনের মতো আরঙ্গের ওড়নায় পেছিযে থাকে বাদামি বোঁটায় ।
হাঁটলে পথের দৈর্ঘ কমে নাকি ?
…………………………………………..

এক্সারসাইজ

ঝুলন্ত বাদর ধারুণভাবে অলিম্পিক গেইম খেলে
মগঢালে ঝুলে
আজকাল পেটভর্তি মানুষ দারুণ শিখেছে
জিমে যাওযার মর্ম ।
কাওরান বাজারের একজন কুলি বাঁদরের কলাকৌশল ম্যাম সাহেবর মাঝে দেখে
মুখ টিপে টিপে হাসে।
…………………………………………..

উপবাস

পরিশ্রমী পিঁপড়েরা নিশ্চিত জেনে গেছে
বাতাস ও সম্পূরক খাদ্য
তাই তারা
আমাদের ন্যাংটা সাধকদের উপবাসের গৌরব শুনে
মুখ টিপে টিপে হাসে…
…………………………………………..

রাত

নগ্ন চাঁদ ঝুলে আছে
ঝুলন্ত আকাশে
বাজেযাপ্ত মেঘ গোল্লাছুট খেলে-দস্যু নাগর যেন।
নির্ঘুম পেঁচা ঠোঁট বাকি যে কামনা করে
দীর্ঘায়িত রাত
কিছু সঙ্গমকামী প্রেমিক
প্রাচীন বনমানুষের মতো ঢুকে পড়ে
গোলাপের টকটকে রক্তিম গুহায়।
আবহাওযা দপ্তরের হুইসেলের মতো কম্পিত সুরে
ঝরে পড়ে
ঝরতে থাকে
পরম বেহেস্তি নাজরানা ।
…………………………………………..

দুঃখের বিষয়

তোমার জন্য একটা পূর্ণিমার চাঁদ চেয়েছিলাম
ডিমের মতো খোলসওযালা ধবধবে সাদা চাঁদ।
তোমার জন্য একটা রকেট বানিয়েছিলাম
তোমাকে নিযে দূরবর্তী মঙ্গল গ্রহে যাব বলে।
তোমার জন্য একখানি জমি ইজারা নিয়ে ছিলাম
টুনটুনির সংসার পাতবো বলে।
তোমার জন্য একটা
চন্দ্রমহল গড়েছিলাম।
কিন্তু বড়ো দুঃখের বিষয়
তুমি এলে না
তাই চাঁদ, জমি, রকেট, মহল সব কিছুতেই আমার ঘুণ ধরেছে ঘুণ।
…………………………………………..

মস্যপ্রিয় মানুষ

বোয়াল মাছের মতো হা করে আছে পৃথিবী
আমরা সবাই মস্য প্রিয় মানুষ
বড়শি তাক করে বসে থাকি
জোড়া দিঘির পাড়ে
মস্যরা সভাবত বোকা

ক্ষুধা পেলাই –
ঠুকরে ঠুকরে খায়
আমাদের পালিত আধার
নিঃসন্দেহে আমরা সুপুরুষ
নিরীহ মাছদের কান্না দেখে দাঁত ঘষি
কিচেনরুমে বসে।
…………………………………………..

হেমন্তের কবিতা

তুমি হেমন্তের সহজাত সবুজের উপর
যুবতি শিশির হলে
আমি ভাসমান যুবক রোদ
দস্যু ভ্রমরের মতো গেলাসে গেলাসে পান করি অমৃত রস।