স্বপ্নের ভাসান

অর্জিত স্বপ্নের নিচে শুয়ে আছে
মহাবিষধর। আমি স্বপ্নের দু-দিক জুড়ে
পরিখা খনন করি। সেখানে কিছু
লাল শালুকের সমারোহ।

অর্জিত স্বপ্নের ভাসানের আগে
কেউ ফিরে আসে গতজন্মের
পথ চিনে চিনে। আমি তার মুখ
দেখি আধেক আলোয়। আমি তার
ফিরে আসা দেখি।

অর্জিত স্বপ্ন তবু ভাসানেই যায়।
কোনো বেহুলাই তাকে ফেরাতে পারে না।
…………………………………………..

আছো ছুঁয়ে

পাতাবাহারের হুল্লোড় থেকে
তুমি একটি একটি করে
কুড়িয়ে নিতে থাকো
মোমরঙ নীরবতা

কী এসে যায়
কেউ তা দেখেও না-দেখলে
পাতাবাহারের হুল্লোড় আজ
অনায়াসে পেতে পারে
উদ্যানআভার তকমা

তবু তুমি কেবলই তুমি আর
তোমার মোমরঙ নীরবতা
আমাকেই ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকে
…………………………………………..

সমুদ্রযাত্রা

প্রতিটি সমুদ্রযাত্রাই আমাকে একটি করে গতজন্ম ফেরত দেয়। প্রত্যাশা করেছি এবারও। যতোদূর দেখা যায় সমুদ্রশেকড় ততদূর এঁকে রাখি নীল নকশাটি তার। প্রতিটি সমুদ্রযাত্রাই আমাকে একটি করে গতজন্ম ফেরত দিয়ে আসছে সেই কোন শৈশবকাল থেকে। ব্যতিক্রম একমাত্র এইবার। এইবারই সে আমাকে কোনো গতজন্ম ফিরিয়ে দিলো না। বুকপকেট পাশপকেট বামনিলয় ডাননিলয়- সর্বত্র খুঁজেছি আমি গতজন্মের রঙিন মার্বেলখানি। সমুদ্রযাত্রার বুকে আর এবারই প্রথম ফেলে এসেছি দু-একটি অশ্রুকণা।

প্রতিটি সমুদ্রযাত্রাই আমাকে একটি করে গতজন্ম ফেরত দেয়। ব্যতিক্রম একমাত্র এইবার। তাহলে কী এ-কথাই বুঝে নেওয়া ভালো- শেষ আমার গতজন্মের ভাঁড়ার। আর এ-জন্মের কোনো কথা বলতে আসি নি আমি সেতো সকলেই জানে।
…………………………………………..

জন্মান্তর

কনকচূড়ের শিষে ব্যথা ভরে আছে
তুমি একটিবার এসে
ছুঁয়ে দিলে পারো

স্পর্শের নিকটে একা জন্মান্তর
টালমাতাল রাতে তাকে চুম্বন বলেছি
…………………………………………..

শুধু আজও

আপনাদের প্রত্যেকের বেডরুম আমি চিনি। যে মহার্ঘ টয়লেটে প্রাতঃকৃত্য সারেন আপনারা তাও আমি চিনি। আপনাদের স্ত্রীদের মূল্যবান রাতপোশাকের সেলাইমিস্ত্রী ছিলাম আমি। অথবা গতকাল রাতে যে দামী হুইস্কি ব্যালকনিতে বসে সাবাড় করেছেন আপনারা তার বাজারমূল্য আমি জানি। শুধু আজও বুঝে উঠতে পারি না — কী করে দুটো অক্ষর লিখে লুকিয়ে ফেলতে হয় নরম পালকের ভেতর।

যেদিন তা বুঝে উঠতে পারবো- একটা সারা রাত কাটাবো আপনাদের এই শহরে। একটা আস্ত যুবতী রাত।
…………………………………………..

আমরা এরকমই

আমাদের প্রত্যেকের ভেতরই
একটি করে ন্যালাখ্যাপা আছে
সে শুয়ে থাকে পাশ ফিরে
জ্যোৎস্নার ভেতর
আমাদের প্রত্যেকের ভেতরই
একজন ভোলেবাবাও আছেন
গাঁজার কলকে তার কানে গোঁজা

আমরা ভূত ও ভবিষ্যতকে নিয়ে
সকালে বেরোই বগলদাবা করে
আর সন্ধ্যায় ভিক্ষে সেরে
ফিরে আসি শ্মশান সন্নিকটে

আমরা এরকমই
দরবারি কানাড়া থেকে
একটি একটি করে খুলে নিতে পারি
মায়াকাজলের সবটুকু পরাবাস্তবতা
…………………………………………..

স্থিরতা

ভাসানের আগে পরে জলতো স্থিরই থাকে
ভাসানো প্রতিমা… ফুল… বেলপাতা…
সে সহজে আত্মসাৎ করে না কখনো
একটু একটু করে রসিয়ে রসিয়ে
বলা ভালো চুষে ও চিবিয়ে তার হজম

পরের সকালে কিংবা পরবর্তী মধ্যরাতে
চুপিসারে ভেসে ওঠে বদহজমটুকু

ভাসানের আগে পরে জলতো স্থিরই থাকে
আমরাই দৃশ্যান্তররচনা করেছি
…………………………………………..

অপরূপ মৃত্যুকথকতা

এখানে সমুদ্র একা কথা বলে নিচু স্বরে। সব গাংচিল আমার বেদনাবোধ চিনে নিয়ে দিয়েছে উড়ান আর আমাকে বলেছে তাহাদের অপরূপ মৃত্যুকথকতা।

বালিকার অপরূপ ঠোঁট আমাকে দিয়েছে তার যাবতীয় বরাভয়। আর সেই থেকে আমি রচনা করেছি সব অসম্ভব চারণকবিতা।

যদি ভুলে যেতে পারতাম তাকে… যদি মানে তার অমেধাবী স্তনবিভাজিকা। তবে আমার নামটি লেখা থাকতোই ঝর্ণার পাদদেশে কিংবা সে প্রযত্নপাথরে।
…………………………………………..

খুলে দেখো আমাকে

আমাকে কোনোদিন খুলেও দেখলে না
আমারও ভেতরে আছে এক অসম্ভব বারুদ
তার প্রতিটি পরতে আছে
চোরাগোপ্তা সালোকসংশ্লেষ আর
জ্যান্ত ক্লোরোফিল
আমাকে কোনোদিন খুলেও দেখলে না

আমারও ভেতরে আছে
এক জ্বলন্ত ভিসুভিয়াস
…………………………………………..

কেনো সারারাত

কটা পুরস্কার জীবনানন্দ পেয়েছিলেন
বছরে তার কটা কবিতা ছাপা হতো
সাময়িকপত্রের কজন সম্পাদক
নাম জানতেন তার
তিনি কি কখনো
হতে পেরেছিলেন প্রচ্ছদকাহিনী

আমি জানি না
সত্য মিথ্যা কোনোটাই জানি না
তবে এটা জানি
তার শিলিংফ্যান কেউ কোনোদিন
পরিস্কার করে দেওয়ার কথাও ভাবে নি

একমাত্র তার বিছানায় পাতা তোষকের
ছারপোকারাই জানতো
কেনো সারারাত
একজন কবি ঘুমোতে পারে না