গাঁয়ের মানুষ

শীতের দিনে সকাল বেলা
ফুটবল, হাঁ ঢু ঢু খেলা
জমে পাড়া গাঁয়ে,
কুয়াশাকে দু’ ফাঁক করে
সূর্যি মামা অবাক করে
আসে ডানে বায়ে।

কৃষক যাবে ক্ষেতের কাজে
বেলা যখন দশটা বাজে
খাচ্ছে বসে আলে,
জেলে পাড়ার ওই জেলেরা
মাছ ধরবে আর ছেলেরা
অনেক বড় জালে।

গাঁয়ের এসব দৃশ্য দেখে
কার লাগেনা ভালো?
গাঁয়ের মানুষ সহজ সরল
গাঁয়ে আছে তালও।

খেজুর রসের পিঠাপুলি
শীতেই মিলে বড়ুই,
শীতের সকাল বেলা আহা
ডাকে ছোট্ট চড়ুই।
…………………………………………..

পাখি

আমি যদি পাখি হতাম ইশ
আমায় ধরে
আদর করে
পাড়া গাঁয়ের শিশু কিশোর
বসিয়ে দিতো কিস।
ধরতে আমায় গাছের ডালে
আটকি যেন ফাঁদের জালে,
দূরে ঘুরে
মধুর সুরে
মারতো কতো সিস,
আমি যদি পাখি হতাম ইশ।।
…………………………………………..

ডানা

পাখির মতো থাকতো যদি ডানা
পৃথিবীকে হতো অনেক জানা,
ইচ্ছে মতো উড়ে যেতাম
রাত কিংবা ভোরে যেতাম
মা আমাকে করতো কি আর মানা?
…………………………………………..

কাকের ছানা

ব্যালকনিতে দাড়িয়ে
হাত দু’টোকে বাড়িয়ে
নিলো কাকের ছানা,
নারিকেলের গাছটায়
ঠিক ভোর পাঁচটায়
দিলো খুকু হানা।।
…………………………………………..

মেলা

ছোট্ট বেলায় গাঁয়ের মেলায়
কতো মজা হতো!
মেলার আগে, মনে জাগে
স্বপ্ন অবিরত।

এটা ওটা কিনবো বলেই
বাইনা মায়ের কাছে,
চাইলে টাকা মা বলতো
টাকা ধরে গাছে?

আমার যত থাকতো জমা
মা দিতো দশ টাকা,
মনটা খারাপ দেখে আরো
দিতো বড় কাকা।

সব মিলিয়ে কিসাব কষে
একশ টাকা হলে,
বন্ধুরা সব জোট পাকিয়ে
মেলায় যেতাম চলে।

মেলায় গিয়ে,দোলনা দিয়ে
চরতে দিতাম লাইন,
পাঁচ টাকাতেই পাঁচটি পাকের
এটা কেমন আইন?

মাটির হাঁড়ি, বাঁশের বাঁশি
বেলুন নিয়ে হাতে,
চুপটি করে যেতাম ঘরে
অনেক গভীর রাতে।

বলতো পারো কী নিতাম আর?
অতো বোকা নই,
মায়ের বকার ভয়ে নিতাম
খেজুর রসের খৈ।
…………………………………………..

শালিক পাখি

আচ্ছা বলো শালিক পাখি
তোমার আছে মামি,কাকি?
তোমার আছে নানু,দাদু?
আছে তোমার মামা?
ঈদে কি পাও জামা?

পাও কি তুমি ঈদ সেলামি
এদিক ওদিক বেড়াও?
ভাই বোন আর বন্ধু আছে?
সঙ্গে কি যায় এড়াও?
…………………………………………..

এলাকার মাষ্টার

আমাদের এলাকায়
ছিলেন এক মাষ্টার,
হরদম থাকতো
হাতে চক ডাষ্টার।

গোল ধরে বসাতেন
ছাত্রী ও ছাত্র,
এক দুই জোড়া নয়
দশজন মাত্র।

গরিবেরা দিতো টাকা
যার যা ইচ্ছে,
তাই নিয়ে খুশি হতো
নয় ভুয়া কিচ্ছে।

ক খ গ ঘ জোরে জোরে
পড়াতেন,
ফাঁকিবাজ যারা তার
মাইর খেয়ে গরাতেন।

গরিবের গরিব এই
মাষ্টার মহাশয়,
করে নিলেন ভেতরে
সকলের মন জয়।

দুষ্টের বদ যারা
পিছে পিছে নিতো তার,
অথচ এই মাষ্টার
বাতি ছিলো এলাকার।
…………………………………………..

সাদমান

আমাদের আছে এক
দুষ্টের খনি,
সাবধান! সাদমান
নয়নের মণি।

স্কুলে যেতে ছুট
দিবে আগে আগে,
এখানে ওখানে তাই
প্রতিদিন লাগে।

ব্যথা পেলে নিজে ঠিক
চুপ মেরে থাকে,
আব্বুটা বকা দিলে
বলে দেবে মা’কে।

সর্বদা হেসে খেলে
দুষ্টু এ পোলা,
মাঝে মাঝে হয়ে যায়
আগুণের গোলা।

হোক যতো আগুণের
ত্যাজ ঠিক জানি,
আমি ঘোড়া হলে সে
হয়ে যাবে পানি।

চোখে মুখে উল্লাসে
লাফ দেয় পিঠে,
ঝলমলে আলোময়
হয় ঘর ভিটে।
…………………………………………..

নওশীন

নওশীন টুনটুনি
সেলফিতে পাকা,
দুধ নয়,ভাত খাবে
ঝোল দিয়ে মাখা।

বুঝা বড় মুশকিল
তার মতিগতি,
এই অভিমান ভারী
এই প্রজাপতি।

কঠিন অসুখেও তার
ভাঙ্গবেনা মন,
আব্বুকে কাছে পেলে
করে ভন ভন।

পড়াতেও ফাঁকি নেই
করে আঁকা আঁকি,
আব্বুর ছড়া পড়ে
করে ঝাঁকা ঝাঁকি।

তিল থেকে তাল হলে
হয় এক রোখা,
বকা খেলে ভাব ধরে
হয়ে যায় বোকা।

চকলেট পেলে দেবে
ফিক করে হেসে,
তার হাসি দেখি আমি
বিজয়ীর বেশে।
…………………………………………..

প্রধানথশাখা

ঢাকায় উড়ে টাকা
বলেছিলো কাকা,
কিন্তু আমার ঠিক বেশিদিন
হলোনা আর থাকা,
কারন হলো চোর চামারের
ঢাকায় প্রধান শাখা।