তোমার শহর

ভালোবেসে তোমার আকাশ হতে চাই,
সূর্যের আলোর মতো একরাশ ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে চাই তোমার শহরে।
তোমার ঠোঁটের প্রতিটা হাসির কারণ হতে চাই,
তোমার শহরের দুঃখগুলো মুছে দিতে চাই ভালোবাসা দিয়ে।

তোমার প্রতিটা দিনের শুরু থেকে শেষ হতে চাই,
তোমার শহরের সকালের কুয়াশা_ দুপুরের রৌদ্র _ বিকেলের মাতাল হাওয়া হতে চাই।
তোমার পাহাড় সমান অনুভূতির আবেগ হতে চাই,
তোমার সকল প্রকার ব্যর্থতার সাহস হতে চাই।

তোমার শহরে চাদেঁর আলো ছড়িয়ে দিতে চাই,
জোনাকি হয়ে তোমার মনের পাহারা দিতে চাই।
ভালোবেসে তোমার ভূবনে হারিয়ে যেতে চাই,
তোমার শহরের ভালো থাকার কারণ হতে চাই।
…………………………………………..

দিশেহারা

আধাঁরেই হারিয়ে
খুজছি তোমাকে আলোয়,
তারাজ্বলা রাত করে দেয় এলোমেলো এই আমায় ।
মাঝরাতে চমকে উঠে তোমাকে খুজি চেনা বিছানায়,
সকালে খাবার টেবিলে,
সবুজ মাঠের কোনঘেসাঁ কংক্রিটের ভাংগা বেঞ্চিতে,
নয়তো হারানো মানুষের ভীড়ে-
নিশ্চুপ নদীতিরে,
কোলাহলময় প্রিয় নগরীতে।

এভাবে যায় যে জীবন-
পুরোনো ভুলের দিয়ে যাই মাসুল।
হয়ে যাই আমি অকালে ঝরা রঙহীন ফুল ।।
কবে ভাঙবে তোমার ভুল ?
…………………………………………..

দ্বন্দ

আমার কবিতারা অন্ধ,
তাই লেখায় নেই ছন্দ,
তোমার সাথে আমার রয়ে গেল-
পুরোনো সেই দ্বন্দ !

আমি চাইতাম মুক্ত আকাশ,
তুমি- চাইতে বদ্ধ ঘর,
আমি চাইতাম নতুন সকাল,
তুমি চাইতে উদাস দুপুর,
তোমার সাথে দ্বন্দ আমার -রয়ে গেল চিরটাকাল।

আমার যখন ক্লান্ত মনে –
মেঘ জমে হয় কালো,
তোমার তখন শান্ত মনে
ঝলমলে রঙ্গীন আলো।

কবিতারা নিরবে অশ্রু ফেলে,
হারিয়েছে সব ছন্দ,
তোমার -আমার চিরটাকালই
মনের সাথে দ্বন্দ ।।
…………………………………………..

কথা

কথা আছে তোমার সাথে
অনেক কথা
সুখের কথা
দুঃখের কথা
ভালোবাসার কথা
নীল কস্টের কথা
পাওয়া না পাওয়ার কথা
হারানোর কথা
বেড়ানোর কথা
আবেগের কথা
বিবাগী কথা
আদিরসের কথা
প্রার্থনার কথা
সব ভুলে যাবার কথা
অনেক অনেক জমানো কথা।
তুমি কি শুনবে?
হবে কি সময়?
…………………………………………..

ভয়ে থাকি

তোমার কথা ভাবি আমি দ্বীবা নিশি জাগি
তুমি আছো বিপদে এখন একটা কথা জানি
তবু তুমি বলো আমায়, আমি ভালো আছি
চিন্তা করার কারন নাই, আজো বেঁচে আছি।

সব সময় ভয়ে থাকি কি জানি কি হয়
তোমার জন্য মনটা আমার কতো কথা কয়
তোমার যদি কিছু একটা হয়
মনের ভিতর সর্বদা এটাই করে ভয়!

অভয় দিয়ে বলো তুমি ইনশাআল্লাহ্
ভয় পেয়োনা আল্লাহ্ আছে রক্ষা করবে
কথার বলে মনটা একটু সাহস খুজ পায়
একটু পরে অবুঝ মনযে বেকুল হয়ে যায়!

সব সময় খোদার কাছে একটি আর্জি করি
তাঁর রহমতের দয়ার পরশ রাখে যেনো জারি
সব সময় সুখে থাকো ভালো থাকো তুমি
সব বিপদ আপদ যেনো পাশ ফিরে যায় বাড়ি।

আমি যানি, আমায় তুমি মিথ্যা অভয় দাও
তোমার মনেও ভয় আছে তুমি কারে কও
সবাই তোমার প্রিয় আমরা,সবার কথা ভাবো
নিজের সকল ভয় হতাশা লুকিয়ে তুমি রাখো।

তেমার জন্য ভয়টা আমার বেরেই শুধু যাচ্ছে
মনের ভিতর কতো চিন্তা কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে
খোদার কাছে দু হাত তুলে করি ফরিয়াদ
তোমার জন্য সুখের হোক দুনিয়া ও আখিরাত।
…………………………………………..

তোমায় খুঁজে ফেরা

কোথায় খুঁজবো তোমায়?
সবুজের ঘাসে,
শিশির হয়ে আছো তুমি
আমায় ছুঁয়ে দেবে বলে।
কোথায় খুঁজবো তোমায়?
নদীর বালুচরে,
ঢেউ হয়ে আছো তুমি
আমায় ভিজিয়ে দিবে বলে।
কোথায় খুঁজবো তোমায়?
দূরের ওই নীল আকাশে,
রংধনু হয়ে আছো তুমি
আমায় রাঙাতে।
কোথায় খুজঁবো তোমায়?
ফুলের বাগানে,
ফুল হয়ে আছো তুমি
আমি ভ্রমর হবো বলে।
কোথায় খুঁজবো তোমায়?
নুপুরের শব্দে,
নুপুর পরেছো বুঝি
তোমায় আমায় চেনাতে।
কোথায় খুজঁবো তোমায়?
চুড়ির আওয়াজে ,
লাল চুড়ি পরে আছো
আমার চোখ ভোলাতে।
কোথায় খুঁজবো তোমায়?
মন্দিরের আঙিনায়,
আলতা পায়ে আছো তুমি
আমি চিনে নিবো তাই।
কপালের লাল টিপে তোমায়
আমি সাঁজাবো ,
যেথায় থাকো তুমি
ঠিক খুজেঁ নেবো।
তুমি শুধু সব ছেড়ে
আমার হয়ে যেয়ো।
…………………………………………..

আমি কোনো কবি নই

আমি কোনো কবি নই
আমি এক শব্দচাষী,
আমি আর কাউকে না
রিপাকেই ভালোবাসি।

ইচ্ছে হলে প্রাণটি খুলে
গল্পে করি হাসাহাসি…
এভাবেই থাকতে চাই
অমৃত্যু তোমার পাশাপাশি!

অতঃপর,
আমি কোনো কবি নই।
…………………………………………..

সকাল দিও

আমায় তোমার একটা সকাল দিও
আমি তোমায় সূর্য ওঠা দেখাবো,
শুধু কি তাই!
শিশির জড়ায়ে ঘাসের লুটোপুটি,
নগ্ন পায়ে হাঁটবে যখন খুনসুটি,
আরে এ কেমন আহবান,
মৃদু মলয় আমায়
তোমায় ছুঁয়ে জাগাবে শিহরণ,
এত অবাক কেন,
দিগন্ত ছোঁয়ার বাসনা!
গন্তব্য চাই না শুধু
হাঁটবো আর হাঁটবো।
আমিও চাই কেউ
ঠিক এভাবেই আসুক…
উন্মাদ করে রাখুক বন্ধুধরায়।
তাই তো বলবো আমায় তোমার
একটা সকাল দিও।
…………………………………………..

আমি এই শহরের কেউ না

যে সন্তান তার মাকে জঙ্গলে ফেলে আসে
বাবার লাশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়,
যে স্বামী তার প্রিয়তমার ঠোঁটে চুম্বন দিতে ভয় পায়
মা তার সন্তান থেকে দূরে পালায়।

আমি তাকে সন্তান বলতে ঘৃণা করি
আমি তাকে স্বামীর স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানাই।

যে শহরের হিমঘরে লাশ রাখার জায়গা নেই
গোরস্থানে কবর দেওয়ার জায়গা নেই
আমি সে শহর ছেড়ে ছুটে পালাই।

আমি যাযাবর হয়ে ঘুরে বেড়াবো, মরে যাবো
তবু এই শহরে থাকবো না।

যে শহরের বুদ্ধিজীবী, কবি, নেতা মিথ্যার পূজা করে
যে বাবা তার সন্তান হত্যার প্রতিশোধ নিতে ভয় পায়,
স্ত্রী তার স্বামী হারানোর বিচার চাইতে গেলে আঁতকে ওঠে,
ধর্ষিতা কিশোরী বিচার চাইতে গিয়ে পুণরায় ধর্ষিত হয়ে ফিরে আসে।
আমি সে শহরের কেউ না।

অতীত ভুলে যাবো, আত্মহত্যা করবো
তবু, এই লজ্জার দায় আমি নিতে পারবো না।

চেতনার পথ আগলে রেখেছে শকুনের দলে
হাটতে গেলে টোকর খেয়ে ফিরে আসি
আবার যেতে চাই, হায়েনার তাড়া খেয়ে কোনমতে পালিয়ে বাঁচি।

ঘুমের ভেতরে কতগুলো চোখ ঘিরে রাখে
ক্ষুধার্ত মানুষগুলো জামা টেনে ধরে
আমি হাঁটতে হাঁটতে রণাঙ্গনে চলে যাই
একহাতে স্টেনগান, অন্যহাতে খাবারের পুঁটলি।
ক্ষুধার্ত মানুষগুলো পুঁটলি ধরে টানে, স্বাধীনতাকামীরা টানতে থাকে স্টেনগান।
আমি চিৎকার করে উঠি, অপ্রস্তুতভাবে আঁচলে মুখ লুকাতে চেষ্টা করি।

পরক্ষণে নিজেকে সামলে নিয়ে ভাবি,
এখনই এক অনিবার্য বিপ্লবের ইশতেহার পাঠ করে শোনানো যায়,
মুক্তিকামী জাতিকে ফুঁসলে দেয়া যায়।

যে তরুণ প্রেয়সির নরম হাতের বদলে বন্দুকের ট্রিগারকে বেশী পছন্দ করে,
গোলামের জিঞ্জির পরে আরামের বিছানা থেকে সংগ্রামের জিন্দেগীকে শ্রেয় মনে করে।
যে মা তার আঁচলে সন্তানের বদলে ম্যাগাজিনভর্তি গুলি নিয়ে বিপ্লবীর আস্তানায় ছুটে যায়।
যে কিশোরী সম্ভ্রমের মায়া ভুলে আক্রমণ করে শত্রুর ডেরায়,
তাকে এখনই দলে নেয়া যায়।

যুদ্ধ মানে কাঁটাযুক্ত সংকীর্ণ পথ
হাতে হাত রেখে মৃত্যুর সাথে দীপ্ত শপথ।

যুদ্ধ বেধে গেলে মানুষ নৈতিকতা ভুলে যায়
যুদ্ধ মানুষের বিবেকের মৃত্যু ঘটায়।

কার্ফুর সাজানো নাটকে যে শহর বন্ধ করে দেওয়া হয়
মিলিটারির জলপাই কালারের গাড়িতে টেসে যায় রাজপথ

সেখানে গণ অভ্যুত্থান ঘটে,
শিশুগুলোও তখন বিপ্লবী হয়ে ওঠে।

শোসনের হ্যাজা আলোকে কাঁপিয়ে দিয়ে
স্বৈচারের বক্ষে পাড়া দিয়ে, সত্য মিথ্যার ফারাক বুঝিয়ে দিয়ে
শহরের প্রতিটি গলিতে বিপ্লবীদের স্লোগান প্রতিদ্বন্ধীত হোক।

তাদের বুঝিয়ে দেয়া হোক
সত্য-মিথ্যার দ্বন্ধে এ যুগের তরুণেরাও বিপ্লব করতে জানে
ন্যায় অন্যায়ের মনগড়া যুক্তিতে আমরাও বিদ্রোহী হয়ে উঠতে পারি।

সভ্যতার এই যুগে ফেরাউনের কসাইখানা আমার দ্যাশ না
চাটুকারে ভরপুর শাদ্দাদের রঙ্গশালা আমার দ্যাশ না।

আমি আমার দেশকে ফিরে পেতে ইব্রাহীমের জন্য প্রস্তুত
অগ্নীকুণ্ডে ঝাপ দেবো
খায়বার দূর্গের বিষ মেশানো শরবতে চুমুক দেবো
প্রয়োজনে রক্ত গঙ্গায় স্নান করবো
প্রতিটি ত্যাগী যোদ্ধার নামে এক একটা স্বর্গ তৈরী করবো।

সম্ভ্রম হারিয়েছে যে তরুণী, স্বামী হারিয়েছে যে প্রেয়সী
সন্তান হারিয়েছে যে বিধবা রমণী,
বিপ্লবের বিজয়ী উল্লাসে তাকেও ডেকে নেবো।

মাদল বেজে উঠুক
শিল্পী মধুর সুরে ধরুক গান
আজ ভাঙ্গাবো অপেক্ষায় থাকা
মায়ের অভিমান।
…………………………………………..

বিভেদ

ওরা বড় লোক কেন?
আমরা গরীব কেন?
পৃথিবীটা তো একই।
ওদের ঘরে এতো খাবার কেন ?
আমাদের ঘরে নেই কেন?
প্রকৃতি তো একই।
ওদের ঘরে এতো আলো কেন?
আমাদের ঘর অন্ধকার কেন?
চাঁদ তো একই।
ওদের মুখে এতো হাসি কেন?
আমাদের হাসি নেই কেন?
সুখ তো একই।
ওদের চোখে জল নেই কেন?
আমাদের চোখে এতো জল কেন?
কষ্ট তো একই।
ওদের নিশ্বাসে এতো শান্তি কেন?
আমাদের নিশ্বাসে দম বন্ধ হয় কেন?
বাতাস তো একই।
ওদের এতো কাপড় কেন?
আমরা নগ্ন কেন?
মানুষ তো একই।
ওরা দূরে থাকে কেন?
আমরা আলাদা থাকি কেন?
ভালোবাসা তো একই।
ওরা অন্যের দুঃখে কাঁদে না কেন?
শুধু আমরা কাঁদি কেন?
সহানুভূতি তো একই।
এতো বিভেদ কেন?
মানুষে মানুষে বিভেদ,
মনুষ্যত্বের বিভেদ’
মানবতার বিভেদ
ধর্মের বিভেদ,
চারিদিকে শুধুই বিভেদ।
পৃথিবীর বিভেদ নেই কেন?
প্রকৃতির বিভেদ নেই কেন
তাহলে আমরা কেন বিভেদ করি?