[মার্থা নুসবাম (জন্ম মে ৬, ১৯৪৭) আমেরিকান দার্শনিক। থিয়েটার ও ক্লাসিকাল বিষয়ে পড়াশোনা করে তিনি নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে ১৯৬৯ সালে বি.এ. ডিগ্রি লাভ করেন। হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭২ সালে ফিলসোফিতে এম. এ. এবং ১৯৭৫ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি চিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রাউন এর এবং এথিকসের প্রফেসার ছিলেন। তিনি গ্রীক ও রোমান ফিলসোফি, পলিটিক্যাল ফিলসোফি, ফেমিনিজম, এথিকস ও এ্যানিম্যাল রাইটসের ওপর লেখালেখি ও গবেষণা করেন। এক সময় তিনি হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসরও ছিলেন। নুসবাম অসংখ্য গ্রন্থের লেখক ও সম্পাদক। দ্য ফ্রাগিলিটি অফ গুডনেস ( ১৯৮৬) সেক্স এন্ড সোসাল জাস্টিস (১৯৯৮), দ্য প অব রিজন (২০০২), হাইডিং ফরম হিউম্যানিটি রাইটস ডিসগাস্ট, শেম এন্ড দি ল (২০০৪), ফ্রন্টটিয়ারস অব জাস্টিস: ডিসাবিলিট, ন্যাশনালিটি, স্পেসিস মেম্বারসিপ( ২০০৬)। তিনি ক্যাপাবিলিটিস অ্যাপ্রোচের উপর লেখালেখি করেন। ইংরেজি ভাষায় লেখা তাঁর ‘Women and Work-Capabilities Approachকে ‘ নারী ও তাদের কাজ এবং সামর্থ্যের সামীপ্য ’ নামে বঙ্গানুবাদ করা হলো।]

আমি খোলা মনে নিজেকে সুন্দর দেখলুম- মৃণাল, ররীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রীরপত্র।
এটা সুস্পষ্ট যে মানুষের চোখই স্বতন্ত্র উপায়ে অমার্জিত, অমানবীয় দৃষ্টিকে আড়ালে রেখে পরিতৃপ্ত হয়; মানুষের শ্রবণেন্দ্রিয় অপরিণত শ্রবণযন্ত্র থেকে ভিন্ন, অপরিপক্ক ব্যবহারিক প্রয়োজনের ভেতর দিয়ে একমাত্র সীমাবদ্ধ বোধশক্তি থেকে প্রকৃত বোধশক্তির সৃষ্টি হয়। অনাহারী মানুষকে টিকে থাকার জন্য খাদ্য শুধুই মানবীয় বস্তু নয়, যেহেতু তা বিমূর্ত জিনিস; যা সবচেয়ে অপরিপক্ক ধরনের, এটা বলা অসম্ভব যে খাওয়ানোর কাজ কোনখানে চলবে।
-কার্ল মার্কস, ইকোনোমিক এন্ড ফিলোসফিক্যাল ম্যানুসক্রিপ্ট অফ ১৮৪৪

দুইজন নারী সৌভাগ্যশালিনী হবার চেষ্টা করেন।
গুজরাটের আমেদাবাদ টে´টাইল মিল নগরী হিসাবে খ্যাত। মহাত্মা গান্ধী তার অহিংস নীতির আদর্শের বাস্তবায়ন করার উদ্দেশে এখানে লেবার অর্গানাইজেশন গড়ে তোলেন। ট্যুরিস্টরা এখানে টেক্সটাইল মিউজিয়াম ও গান্ধী আশ্রম পরিদর্শন করতে আসেন। আজকের দিনে কিন্তু ৫০,০০০ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত সেল্ফ- এমপ্লয়মেন্ট উইমেন’স অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকান্ড পরিদর্শনের জন্য তারা এখানে এসে থাকেন। এ সংস্থা বিশ বছর ধরে ঋণ প্রদান, শিক্ষা বিস্তার ও লেবার ইউনিয়ন গঠন করে শ্রমজীবী মহিলাদের জীবনযাপনের উন্নয়নকল্পে সাহায্য করে আসছে। প্রথমে নগরীর এক পাশে অবস্থিত নোংরা একটা নদীর ধারের একটা পুরনো বিল্ডিং এ সেবা নামের সংস্থাটি কাজ শুরু করে। নদীর অপর পাশে এখন মার্বেল পাথরের নতুন অফিসে সেবা ব্যাংক স্থাপিত হয়। এ ব্যাংকের সেবা গ্রহণকারী ও সেবাদানকারীকর্মীবৃন্দ সবাই মহিলা।
বাসন্তী পুরনো অফিসের মিটিং রুমে বসে, ওখানে সেবা’র সদস্যরা স্টাফদের সাথে পরামর্শ করার জন্য মিলিত হয়। বাসন্তী বছর তিরিশেক বয়সী একজন ছোটখাট সাধারণ চেহারার মহিলা, গায়ের রঙ কাল, পরনে নীল রঙের আকর্ষনীয় শাড়ি ও মাথার লম্বাচুলগুলেকো সুন্দর করে খোঁপা করা। দাঁতগুলোর রঙ কাল হলেও তার শরীর স্বাস্থ্যের গড়ন মানান সই। আমার কর্মী মার্থা চেন এক সময় আমাকে বলেছিল যে মেয়েটি রাজপুত। সে ভাল সম্প্রদায়ের মেয়ে। সে তার পুরনো বান্ধবী কোকিলার সাথে স্থানীয় কনফারেন্সে এসেছিল। কোকিলা নিচু সম্প্রদায়ের মেয়ে, তাদের কাজ মাটির বাসন তৈরি করা। তাদের সংস্থা মেয়েদের উপর ডোমেস্টিক ভায়োন্সের মামলায় পুলিশকে সহায়তা করে থাকে। বাসন্তী ধীরেসুস্থে কথা বললেও তার চোখেমুখে উদ্বেগ লক্ষ্য করা যায়।
বাসন্তী আমাদেরকে বলে যে তার স্বামী একজন জুয়ারী ও মাতাল। সে সংসার চালানোর অর্থকড়ি মদ খেয়ে উড়িয়ে দিত। ইনসেন্টিভ হিসাবে সরকারের কাছ থেকে নগদ টাকা পাওয়ায় তার স্বামী ভেসেকটোমি করায়। একারণে বাসন্তীর কোন সন্তান হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, তার স্বামী বেশিমাত্রায় খারাপ হয়ে পড়লে তার সাথে কোনক্রমেই বসবাস করা সম্ভব না হওয়ায় সে বাপের বাড়িতে ফিরে আসে। তার বাবা দর্জির কাজ করতো। বাবা মার যাওয়ায় পর তার ভাইয়েরা তার বাবার দোকানের এক পাশে অটো পার্টসের ব্যবসা করতে থাকে। অন্যদিকে, বাসন্তীও তার বাবার সেলাইমেশিনে কাজের দ্বারা কিছু আয় রোজগারের ব্যবস্থা করতে সক্ষম হয়। তার ভাইয়েরা একজন উকিল ধরে তার স্বামীর বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা করে। কেস বছরের পর বছর চলতে থাকে। ইতিমধ্যে তার ভাইয়েরা তাকে সেলাইয়ের জন্যে একটা উন্নত মেশিন কেনার জন্য কিছু টাকা ধার দেয়। সে কিন্তু তাদের উপর নির্ভরশীল হতে চায়নি। বিয়ে করার পর তাদের ছেলেপুলে হলে বাসন্তী তার ভাইদের কাছ থেকে সহায়তা পেতে চাইত না। সেবা’র থেকে ধার নিয়ে সে এক সময় তার ভাইদের ঋণ পরিশোধ করে। বর্তমানে সে সেবা’র সমস্ত লোন পরিশোধ করে দিয়েছে। বাসন্তী প্রায়ই বলে থাকে মহিলাদের একতার অভাবে ধনী মহিলারা গরীব মহিলাদের চেয়ে বেশি সুযোগসুবিধা ভোগ করে। পক্ষান্তরে, সে দেখতে পেয়েছে সেবা মহিলা সমাজের কথা ভাবে। বাসন্তী পরিষ্কার ভাবে উপলব্ধি করে ভিন্ন সমাজের মেয়ে কেকিলার সাহচর্যে সে বড়ই উপকৃত হয়েছে। বাসন্তী এখন বাঁচার মত বাঁচছে; সে আমাদের দিকে চোখ তুলে তাকিয়ে ছিল। তার কন্ঠস্বর পরিষ্কার ও দৃঢ়। ভারতের মহিলাদের প্রচুর দু:খকষ্ট আছে, সে বলে। আর আমার জীবনেও বেশই দু:খ ছিল। ব্যথা থেকেই আমাদের মধ্যে শক্তির জন্ম হয়। এখন আমরা নিজেরাই অনেক ভাল কাজ করছি, আমরা অন্যান্য মহিলাদের জন্যও ভাল কিছু করতে চাই। এখন আমরা অনুভব করি আমরাও মানুষ।
কেরালার ত্রিবান্দ্রামে জয়াম্মা মার্চ মাসের শেষ দিকের প্রচন্ড গরমের জন্য সে তার কুঁেড়ঘরের বাইরে দাঁড়িয়েছিল। আপনি প্রথম দৃষ্টিতে লক্ষ করবেন তার সোজা পৃষ্ঠদেশ, আর তার চলার গতিতে মজবুত পেশীর আন্দোলন। তার দাঁতগুলো বেরিয়ে এসেছে। তার চোখের দৃষ্টিতে বিষণ্ন তার ছাপ। মাথার চুলগুলো পাতলা পাতলা- অথচ সে একটা রেজিমেন্টের ক্যাপ্টেন হয়ে তার সৈন্যদেরকে যুদ্ধে যাবার জন্য আদেশ নির্দেশ দিতে পারত। তার ছেলেপুলে ও প্রতিবেশিদের মধ্যে ঝগড়াঝাটির কথা জেনে আমি অবাক হই না। তামাক চিবোনের ফলে তার চোয়াল বেরিয়ে এসেছে। একজন ইজহাভা সম্প্রদায় লোয়ার কাস্ট হলেও সিডিউলড কাস্ট নয়-জায়ম্মা ভাল সামাজিক অবস্থার অভাবে লোয়ার কাস্টদের জন্য দেওয়া সরকারের প্রোগ্রামের অযোগ্য বলে বিবেচিত। সে এখনো ত্রিবান্দ্রামের শহরতলীতে সরকারী জবরদখলকৃত কলোনীতে বসবাস করে। জয়াম্মা সম্প্রতি কাজ ছেড়ে দিয়েছে। কাজ ছাড়ার আগ পর্যন্ত গড়ে ৪৫ বছর ধরে প্রত্যেকদিন ইটের ভাটায় যেত। দিনে আট ঘন্টা মাথায় করে ৫০০ থেকে ৭০০ খানা ইট টেনে ৫ টাকার বেশি সে আয় করতে পারত না। আবহাওয়া খারাপ হলে তার আয় উপার্জন হত না। জয়াম্মা মাথায় একটা তক্তা বসিয়ে তার উপর এক সময়ে ২০ খানা করে ইট বইত। সে ভাল ভাবেই ইটগুলো ভাটায় নিয়ে আসত। ইট ভাটার পুরুষগুলোও কঠিন পরিশ্রম করত। তারা তাদের পরিশ্রমের ফল হিসাবে ভাল সুযোগ সুবিধা পেত। তাদের পদোন্নতির ব্যবস্থাও ছিল। অন্যদিকে, মহিলাদেরকে কখনোই দক্ষতা অর্জনের জন্য সুযোগ সুবিধা দেওয়া হত না। তাদের পদোন্নতির কোন ব্যবস্থা ছিল না। ভারতের অধিকাংশ ছোট ছোট ব্যবসার মত ইটভাটাকেও কটেজ ইন্ডাস্ট্রিস হিসাবে বিবেচনা করা হয়। ফলে ইটভাটার শ্রমিকরা কোন প্রকার ইউনিয়ন করার সুযোগ পায় না। সমস্ত শ্রমিকদেরকে যৎসামান্য পারিশ্রমিক দেয়া হত। বিশেষ করে মহিলারা আরো দুর্দশাগ্রস্ত ছিল। জয়াম্মা বুঝতে পারে এসব কারণেই সে তার ভাগ্য পরিবর্তনের সুযোগ পায়নি।
ষাটের উপরে বয়স হওয়ায় জয়াম্মা শারিরীক ভাবে ইট বহনের কাজে অপারগতা প্রকাশ করে। জয়াম্মার অন্য কোথায়ও কম পরিশ্রমের কাজের সন্ধান পায় না। সে গৃহস্থের বাড়িতে চাকরানীর কাজ করতে অস্বীকার করে, কারণ তার সম্প্রদায় এ ধরনের কাজকে লজ্জাষ্কর ও অসন্মানীয় কাজ বলে মনে করে। জয়াম্মা এ বিষয়ে একটা নিজস্ব যুক্তি খাড়া করে; “একজন চাকরাণী হিসাবে অভিজাত শ্রেণির বাড়িতে কাজ করার ফলে শত্রæদের সঙ্গে মিত্রতার সম্পর্ক স্থাপিত হবে।” একজন বিধবা সরকারের কাছ থেকে তার পেনশনের অর্থ উত্তোলন করতে অসমর্থ হয় ; ভিলেজ অফিস তাকে বলল যে সে পেনশন পাবার অযোগ্য কারণ সে তার ছেলেদের অন্নে প্রতিপালিত, যদিও তার ছেলেরা তার থেকে দূরে থাকে এবং তারা তাকে কোন প্রকার সাহায্য সহায়তা করে না।
উল্টোপাল্টা কথা সত্তে¡ও জয়াম্মা আসলে সুস্থ সামর্থ। সে তার অসুবিধা সম্বন্ধে কারো সঙ্গে কথা বলতে না চাইলেও সে ভিজিটদের দেখা পায়, সে নিশ্চিত হয় তাদেরকে লাইম জুস ও পানি খাওয়াতে হবে।
জয়াম্মা ও বাসন্তী দেশের মধ্যে দাবী তোলে যে আনুষ্ঠানিক ভাবে মহিলারা পুরুষের সমকক্ষ, অথচ মহিলাদের নামে মাত্র সমান রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার এবং চাকুরীর সুযোগ সুবিধা আছে। (ভারতীয় সংবিধানে লিঙ্গ বৈষম্যের কথা বলা হয়েছে।) যাহোক, তারা উভয়েই বৈষম্যের শিকার যা লিঙ্গ ভেদের ফল। শিক্ষা ও চাকুরীর ক্ষেত্রে বৈষম্যের সমস্যাবলী, পুরুষদের সমর্থনের অভাব সংক্রান্ত সমস্যাবলী–জয়াম্মার ক্ষেত্রে আনীহা, বাসন্তীর ক্ষেত্রে বাড়ির অসম্মান ও স্বামীর মাদকাশক্তি। ভারতে মহিলাদের সামাজিক সমস্যা নির্দিষ্ট সম্প্রদায় ও আঞ্চলিকতার মধ্যে আবদ্ধ। মহিলাদেরকেই সমস্যাগুলোকে মোকাবিলা করতে হয়। কেউই জয়াম্মার পছন্দ অপছন্দের কথা বুঝতে চেষ্টা করে না। অনেক রকমের ভিন্নতার মধ্যে সে সামাজিক গন্ডির মধ্যে বসবাস করে। সে একজন পুলায়া সম্প্রদায়ের না হওয়ায় ইজহাভা সম্প্রদায় হিসাবে অন্য স্টেটে বসবাস না করে কেরালাতে বসবাস করে। আপার কাস্টের লোকেরা বাসন্তীকে বুঝতে পারে না। বাসন্তী হত দরিদ্র, জীবনযাপনের জন্য সীমিত সুযোগ সুবিধার মধ্যে তাকে বসবাস করতে হয়। কোন লোক গুজরাটের ফ্যামিলি প্লানিং প্রোগ্রামের আসল কথা জানে না। ফ্যামিলি প্লানিং প্রোগ্রাম সংক্রান্ত বাসন্তীর জীবনের করুণ কাহিনিও তারা জানে না। সেবা কার্যক্রমের অগ্রগতি, আত্মনির্ভর গান্ধীয়ান ঐতিহ্যের পটভূমিকায় গুজরাটের মহিলাদের আন্দোলন চলতে থাকে।
অপরপক্ষে, পৃথিবীর অনেক অংশের গরীব মহিলাদের সমস্যবলীর মাঝ থেকে তাদের সমস্যাবলীকে আলাদা করে চিহ্নিত করা যায় না। স্বাধীনতা আর আর্থিক আত্মনির্ভরতা দ্বারা এ দুজন মহিলার প্রবল আকাঙ্খার প্রতিফলন পাই, তাদের উভয়ের অর্থকড়ি ও সম্পত্তির অধিকারী হবার আকাঙ্খার মাধ্যমে। সারা পৃথিবীতে শারিরীক পরিশ্রম মানুষ করে থাকে শরীর রক্ষা করার জন্য খাদ্য ও পুষ্টি ও স্বাস্থ্য রক্ষার্থে। ত্রিবান্দ্রমের মহিলা শ্রমিকের কাজ এক অর্থে বেজিং কিংবা এমনকি চিকাগোর মহিলা শ্রমিকের কাজের সঙ্গে তুলনা করলে অবাক হতে হয়। একজন মহিলা মনে করে না, সে নিজে অন্য গ্রহের একজন মানুষ কিংবা অচেনা পরিচয়ের একজন মানুষ। অদ্ভুত পরিস্থিতিতেও তার বোধশক্তি শেকড় খুঁজে পায়। অন্যদিকে সারা পৃথিবীতে একই বোধ থেকে শারিরীক নির্যাতন চলতে থাকে, প্রত্যেক সমাজেই ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স আছে।
এমনকি সুস্পষ্ট ভাবেই প্রত্যেক মহিলাকেই একটা অদ্ভুত অবস্থার মধ্য দিয়ে চলতে হয়। আমরা দেখতে পাই ,মহিলারা ইটের ভাটায় খুবই খারাপ অবস্থার মধ্যে কাজ করতে হয়। তারা ভারী কাজ করলেও তাদের কাজের অনুপাতে শ্রমের মূল্য দেওয়া হয় না। তাছাড়া অনেক রকমের লিঙ্গ বৈষম্যের শিকারও তাদের হতে হয়। আবার এমন ঘটনাও দেখা যায় বাসন্তীর মতো একজন শক্ত সামর্থ মহিলা খারাপ ভেবে স্কুলে যেতে চায়নি। অবশ্যই তেমন অবাক না হবার কিছু নেই যে সে জীবনের চলার পথে উন্নততর পথের সন্ধান পায়নি, যার ফলে সে শিক্ষিত হয়ে উঠবার মতো অনুপ্রেরণা পায়নি।