ছায়া ছায়া

কাঁদছি নাকি? শিশির ঝরে!
চোখের পাতা হাওয়ায় নড়ে!
চোখ দুটো যে গাছ হয়েছে!
কেউ কি সেটা টের পেয়েছে?

ঝরছে শিশির সারা জীবন!
খেলনা পেলে দুষ্টু পবন?
নয়ন জুড়ে স্বপ্ন ছিল-
চপল শিশির ধুয়ে দিল!

স্বপ্ন দেখি স্বপ্ন খুঁজি!
হরেক ঢঙে কতই সাজি!
তুই কি পেলি শিশির মেয়ে?
পড়িস কেবল নয়ন বেয়ে?

হাত ইশারায় কাকে ডাকি?
সে তো ছায়া শুধুই মেকি!
কাকে বলি প্রেম লো সখি?
ভুল চিনেছে দুটি আঁখি!!!
…………………………………………..

বাধাকে বলেছি না

কেউ কি এলো? মনের ভুল?
তবে যে ডাকে বুলবুল!
বাতাসও কেমন ছুঁয়ে ছুঁয়ে,
ঢং করে যায় পাশ দিয়ে।

হাসে হলুদ বৈশাখী ফুল,
ঝুপ করে পড়লো সাদা বকুল।
ফিরে এলো কি নীলকণ্ঠ পাখি?
চাপা হাসি দেয় চাঁপা ফুল সখি।

ধ্যাত্তেরি! সবই আমার বাড়াবাড়ি,
জাল বিছিয়েছে করোনা মহামারী।
এখন কি সময় প্রেম ভাবার?
অনুক্ষণ ভয় চলে যাবার।

ফুল পাখি আর নীল সমুদ্র,
মাখামাখি করছে আনন্দ-রৌদ্র।
ভয়ের মুখে দিলাম ছাই,
চিরকাল আমি বিনোদিনী রাই।
…………………………………………..

যখন আমার তাল কেটেছে

তোর বুকেতে মুখ লুকোব-
সুখ জড়াবো সুখ ছড়াবো।
বুক জুড়ে তোর বকুল হবো!
মাতাল বেতাল প্রেম ছোঁয়াবো।

রেশম রেশম স্বপ্ন এঁকে,
চোখ দুটো তোর দেব ঢেকে।
আমার কপোল হবে সখা,
বাদল দিনের নীপশাখা।

একটু একটু ব্যথা হবো,
হারিয়ে গিয়ে ধরা দেব।
অনুরাগ আর সন্ন্যাস হবো,
ঘর বাঁধাবো ঘর ছাড়াবো।

এক সাহারা খরা হবো,
খুব জ্বালাবো খুব পোড়াবো।
চমকে দিয়ে চেরাপুঞ্জি হবো,
অঝোর ধারায় প্রেম ঝরাবো।
…………………………………………..

জগত এক মায়াবন

ভেসে বেড়ায় প্রেমাণু ইথারে ইথারে,
উদ্বেলিত মহাসাগরে-
ধূসর মরুপ্রান্তরে-
কল্প-কল্পান্তরে।

নিঃশব্দে কাঁদে হিয়া!
একি ব্যথা একি মায়া!
গোধূলির আলো আবছায়া,
কি যেন ছিলো গেছে খোয়া!

বারোমেসে ফুল যেন অনন্ত আশা,
মঙ্গলশঙ্খ হাতে সে পেরোয় অমানিশা।
অন্তরে অন্তহীন ব্যাকুল ভালোবাসা,
আকণ্ঠ মগ্নতায় এক নীলকণ্ঠ পিপাসা।

এ জগত যেন এক মায়াবন বিজন!
মায়াপাখির ওড়াউড়ি খুনসুটি কূজন।
বাঁকে বাঁকে মায়াজাল অর্ঘ্য আয়োজন,
কালের কলসে লুকিয়ে হাসে সেই প্রিয়জন।
…………………………………………..

প্রাণ যায় ভালোবেসে

তরুণ, তোমার কালো চশমা-
বলে আমায়, “রেশমা রেশমা!”
আমি তো রেশমা নই!
প্রেম হলে বুঝি হারিয়ে ফেলো থই?

তরুণ, তোমার সিগ্রেটপোড়া ঠোঁট-
যেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তির জোট!
গুড়িয়ে দেবে জার্মান নাৎসি শিবির,
ছড়াবে বিশ্বে ভালোবাসা অপার নিবিড়।

তরুণ, তোমার হালফ্যাশনের হাতঘড়ি-
বলে আমায়, “এসো কাছে, খুব কাছে ওগো নয়নমাধুরী!”
ঘুরি আমি ঘড়ির কাঁটার মতো ঐ চারপাশ!
কেন এক বালক ঈশ্বরসম এই অন্তরে করে আবাস?

একি ভূমিধ্বস প্রেমেতে অবশ বিশ্বচরাচর!
থামে না আমার ক্রন্দসী অতীত ঝরাপাতার মর্মর।
কে দিল আমাকে এক মহাকাশ দুরন্ত ভালোবাসা?
শুধু নিশিদিন বাজে এক বীণ কুহকী আশা!
…………………………………………..

ভালোবাসা সর্বত্র

কবি, তুমি থেমে যাচ্ছো নাকি?
নও তো সেই আগের মতো সাকী?
ঝরে যাওয়া ফুলে গাঁথো এক মালা-
সময় এক অনন্ত খেলা, নয় অবেলা।

ঝরে যাওয়া প্রেম কেন এ ধরায়?
না পুড়লে ধূপ সৌরভ কি ছড়ায়?
জ্বলতে দাও পুড়তে দাও তোমাকে কবি-
জ্বলবে বলেই সৃষ্টি হবে রামধনু ছবি।

বৃষ্টি কি কান্না? নাকি প্রকৃতির যৌবন-উৎসব?
কেউ বলে দুঃখ, কারো কাছে সে সৃষ্টির বৈভব।
কেন থেমে যায় চপল চরণ আচমকা সহসা?
ঘূর্ণি হাওয়ায় নাচবে বলেই ধ্বংসলীলার পিপাসা।

কে বলেছে বিষাদ অমর অনন্তজীবী?
এ জীবন এক আনন্দ-কাব্য মেঘমল্লার ভৈরবী।
ডুবে যায় সূর্য হাসে আকাশে অযুত নক্ষত্র-
মিটিমিটি আলোয় বলে যায় ওরা ভালোবাসা সর্বত্র।
…………………………………………..

ঘুমঘুম

কত দিন হলো ভালোবাসা ডানা মেলে না!
তার নাকি ওড়ার শখ নেই-
পড়ে পড়ে ঘুমোয় রাত-দিন চপলচরণা।

তুমি কি ক্লান্ত মালবিকা?
ঘোলাটে চোখে তাকিয়ে থাকে সেই
সহস্র আকাশ পাড়ি দেয়া বলাকা।

আজকাল খুব স্বপ্ন দেখে সে-
মরুর বুকে সবুজ এক উদ্যান-
কে ডেকে যায় যাযাবর মিষ্টি হেসে!

চোখের কাজলে মেঘ বয়ে বয়ে-
শ্রাবণ দ্রবণ বর্ষাপবন দোলায় ভুবন!
বিভোর যামিনী ফোটায় কামিনী ভালোবাসা চেয়ে চেয়ে।

তবু অভিমানী শব্দরা নিশ্চুপ-
চুপচাপ শুনে যায় রুমঝুম সঙ্গীত-
রাতের কালো চুল জড়িয়ে বেল ফুল সাজে অপরূপ।
…………………………………………..

প্রেম এক অনন্ত রহস্য

প্রেম কি হুট করে আসা চৈতী বাতাস?
নাকি স্নিগ্ধতোয়া তুলোট মেঘের শরৎ আকাশ?
কখনো সে ঈশান কোণে কালবোশেখী ঝড়ো আভাস!
নতুন কোনো সুখসৃজনী ওলটপালট প্রলয়নাচন সর্বনাশ!

সায়াহ্নে সে ফেরে কি নীড়ে পাখির মতো?
নাকি নীড়ছাড়া সে কোকিল পাখি বাস্তুচ্যুত?
সারা জীবন গান গেয়ে যায় বাউল পাখি!
দুঃখ নিয়ে হাতের মুঠোয় নৃত্যরত তবু সুখী!

কূল ছাপিয়ে হাসে নদী ঘর ভাঙে সে,
ছড়ায় পলি দুঃখঝুলি অবলীলায় প্রেমবিভাসে।
অস্ত্রহাতে রক্ত ঝরায় বিধ্বংসী প্রেম কোন তাড়নায়?
জন্ম নেয়া মাটির জন্য অনন্য এক আত্মত্যাগী ধ্যান-ধারণায়!

সাত সমুদ্র ব্যথা ওড়ে আকাশ ছুঁতে,
সে এঁকে দেয় রঙের ফাগুন রামধনুতে।
এক আকাশ তারা আছে আর আছে চাঁদ,
কবির আছে শব্দতুলি মায়াগোধূলি প্রেমভরা ফাঁদ!
…………………………………………..

কখনো প্রেম

কখনো প্রেম আমার নিয়ম ভাঙার দুরন্তপনা!
সে তো আমার দুঃখ জয়ের নিরন্তর এক সাধনা!
এ জীবনমঞ্চে নীলচে আলোয় মুখোশ পরার বেদনা!

দুমড়ে মুচড়ে চুরমার ধর্ম সমাজ জাতপাত!
সুখ সুখ অসুখে কেটে যায় প্রতিদিন প্রতিরাত!
বুকভরা জ্বালা তবু বাসন্তী মেলা ছড়ায় মৌতাত!

সে আমাকে কাঁদায় হাসায় কবিতার ভাষা শেখায়!
এক মনচোর হয়ে ঝলমলে ভোর ঘাসফড়িঙের পাখায়-
অপলক আঁখি মেলে মুখোমুখি ভালোবাসার আলো মাখায়!

দুঃখভরা বক্ষ তবু আমি ঝলমলে হাসির শুক্লা!
গাঁথি আমি দিবাযামী শব্দে শব্দে ছন্দের মেখলা!
আকাশের বুকে নক্ষত্রলোকে ওড়ে সে একলা!

এক অনুপম পলকা রেশম মহুয়ানেশার খুশি!
কাটে না ঘোর সারাক্ষণ বিভোর ভালোবাসি ভালোবাসি!
কখনো ব্যথা কখনো রূপকথা অভিমানী চিরবিরহনিশি!
…………………………………………..

বিজয়িনী বাংলা

ডুবি ডুবি সূর্য পড়ন্তবেলা,
আর মন কিশোরীর বকুলতলা!
আদরে গা ধরে মিষ্টি হাসে আলোকলতা!
তিরতির কাঁপে তন্বী সবুজ পাতা!

বাজে কাঁকন যখন তখন রিনিঝিনি,
উত্তুরে হাওয়া কাঁপালো আধশোয়া পরাণখানি।
শীত শীত গীত শোনায় হাওয়া হালকা তালে,
দুষ্টু বালক কেন তোর পলক হলুদ গাদা ফুলে?

সূর্য বলে আবির মাখো সবুজবসনা পরী!
রাঙা ঠোঁটে চুমু দেব গলায় হার সাতনরী!
ফোড়ন কাটে দূর আকাশে কিশোরী সন্ধেতারা,
আঁধার হলেই কুয়াশা ওড়নায় সাজিস তুই ধরা!

এই তো আমার অপরূপ বাংলা বিজয়িনী মেয়ে,
ষড়ঋতুর ডালা হাতে অদম্য প্রেম বুকে নিয়ে।
নিত্য তার দখিন দোরে সমুদ্রবিলাস চলে,
ঢেউ খেলে সাগর জল ছিটিয়ে সবুজে আর লালে।