ভালোবাসার অধিকার

এমনি করে
তোমার তরে
সপেছিনু আমারও মনো-প্রাণ।
কখনো বুঝনি
অনুভবে খুঁজনি
তাই চেয়েছি আমি পরিত্রাণ।
কোন ভুলে
গেলে চলে
মরনেও জমে যেন শত অভিমান।
বড় অব’হেলে
দিলে দূরে ঠেলে
ভালোবাসা পায়নি স্বীকৃত মান।
বীনার তারে
বাজে বারবারে
স্মৃতি কথার মলিন করুণ সুর।
তুমি পাষাণ
হৃদয় শ্মশান
বুঝিবে না সে আহত ব্যথার তুড়।
একদা তবে কেন
স্বপ্ন দেখালে এ-হেন
ভালোবাসার অধিকার যদি নাহি দিলে।
কল্প কথার আঁড়ালে
তোমাতে কেন জড়ালে
অযথাই ভাসালে সিক্ততার ঐ নীলে।
…………………………………………..

অমলিন চন্দ্রমল্লিকা

তুমি চন্দ্রমল্লিকা ফুল দেখেছো?
দেখেছো সূর্যকিরণে তার শিশিরসিক্ত আভরণ।
গোধূলীর সোঁনালী আবিরে কি অপরূপা সে,
কি নিদারুণ তার গুচ্ছবিন্যাস পাপড়িদয়;
কোন মলিনতা যেন স্পর্শ করতে পারেনা তাকে।

আমিও তেমনি অমলিন তোমার অবহেলায়,
শুধু প্রজাপতির যে চঞ্চলতা ঘিরে থাকতো আমায়;
সেটুকু’ই যেন হারিয়ে গেলো কোথায়!
তবুও আমি “অমলিন চন্দ্রমল্লিকা”।
ফিরেও চাইবোনা আর, যাকিছু হারিয়ে গেছে।
…………………………………………..

পুনর্জীবন

সত্যগুলো যখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠে
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি ; তুর্যের গতিতে
আবার তখন বড্ড মানুষ হতে ইচ্ছে করে।
প্রশ্নগুলো কেমন নিষ্ঠুরের মতো আক্রমণাত্মক
ভূমিকায় তাকিয়ে থাকে ঐসব কাঠামোগত
অত্যাশ্চর্যকর ভাস্কর্যের দিকে… দেখতে..
মানুষেরই অবয়বে তবে তারা কী মানুষ নয়?

উত্তরগুলো হাসে বিমূর্ততায়, হাসে আকাশচুম্বী।
নির্দয় বৈশিষ্ট্যগুলো বৈচিত্র্যহীন ভাবেই
কেড়ে নিয়েছে ক্রমাগতভাবে মনুষ্যত্ব,
স্বার্থগুলোই স্বার্থপরের মতোই করেছে
আত্মাকে অমানবিক ; আর তখনই
কতোটা পাশবিক হলে হৃদয় ভুলে যায়
নিজস্ব স্বত্বা তার খেলায় যেন মাতে জগত সংসার।

মৃত্যু চিন্তা যখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠে,
চরমপন্থায় তখন, ধার্মিক হতে ইচ্ছে করে
অভিসরণ করে পাপিষ্ঠ মন মাটির সুধা-গন্ধ
অনুশোচনায় কেবল সংশোধক হতে চায়,
আফসোস ক্লিষ্টতায় খুঁজে পাপ পরিত্রাণ।
মাটি উদার, মিশিয়ে নেয় মৃন্ময় দেহ নিজেতে
তবুও পাপ ছাড়ে না বাপেরে ; মিলবে পুনর্জীবন
হবেই বিচার রোজহাসরে বিচারী শালিসে।
…………………………………………..

মৃত্যু আলিঙ্গন

ছেলেবেলা শৈশবখেলা
চড়ুইভাতি, নাগরদোলা
দারুন মায়া মায়া আলটান।

শাল পিয়ালের পিহুবনে
কোয়েল ডাকা সন্ধিক্ষণে
স্মৃতিময় সেই সে পিছুটান।

ঐযে বাতাস তারই আগে
সর সরিয়ে অনুরাগে
কিযে মাতাল বিবাগী মন!

ঐযে আকাশ তারই মাঝে
তরতরিয়ে সকাল সাঝে
প্রেম জড়ানো কোন অনুক্ষণ ?

যখন চিনবে বর্ণাঢ্য রঙ
জীবনকালের ঝিলমিল সুরঙ্গ
কাটবে সাঁতার বিষদ তরঙ্গ।

ফিরে আসে মলিন বেলা
সাঙ্গ করে ভবের মেলা
মৃত্যুর চরম সে আলিঙ্গন।
…………………………………………..

কলঙ্ক

অনেকবার আমি হতে চেয়েছি মানুষ,
মানুষের মতো মানুষ!
ছোট বেলায় বই পড়ে পড়ে
শিখেছি কতো তত্বকথা, নীতিকথা
আর প্রতিজ্ঞা করেছি মানুষ হবো।
কিন্তু নীতিহীনতা, বিবেকহীনতা,
নোংরা মানসিকতা, হিংস্রতা, বর্বরতা
লোভ, বৈষম্যবোধ, সাম্প্রদায়িকতা,
অন্ধত্ব বধিরত্ব টেনে হিচড়ে খুঁলে-
দিয়েছে আমার মানুষ নামের মুখোশ।

মিথ্যেরা আকড়ে ধরে আমার কণ্ঠনালী
করেছে কতোবার বন্ধুত্ব ।
আমার ব্যাক্তিত্বে, চামড়ার আস্তিনের
নিচে বাসা বেঁধেছে পাশবিকতা,
আমি হয়ে গেছি মিথ্যাচারী, দূরাচারি
অত্যাচারী, ব্যভিচারী, ধর্ষক, প্রতারক
কিংবা অনৈতিকতায় ছলনাময়ী কেউ।
এতো কিছু হয়ে গেছি কালে কালে
শুধু মানুষই হতে পারিনি।

আমি চিৎকার করে বলতে চেয়েও
হয়ে গেছি নিঃশ্চুপ এই যে,
আমি তো প্রাণীকুলের শ্রেষ্ঠ প্রাণী
আমিই তো আশরাফুলমাখলুকাত।
প্রশ্নরা এসে এসে হয়েছে বিচারক
তুমি কি ছিলে ইবাদতে ন্যায়বান
আল্লাহ্ ‘র কালাম কোরআনের
আদেশ নির্দেশ, রাসুলে পাকের
মহাত্মের পয়গাম হৃদয়ে ললনে,
পালনে হয়েছো সচেষ্ট,
জেহাদে রয়েছে সদা উদগ্রীব?

নত মস্তকে দণ্ডিত মনে বলেছি, না।
না আমি তা পারিনি, আমি পারিনি হতে
আজো পূর্ণাঙ্গ মানুষ ; কেবল হয়েছি
পরিনত ধীরে ধীরে মানুষ নামের কলঙ্কে।
…………………………………………..

হয়তোবা

আজকাল আমি খুব অন্যরকম,
কঠিন কিংবা সহজ-সাবলীল সে জানিনি
অন্যের মাঝেও নিজেরে খুঁজিনি।
শব্দের ব্যাঞ্জনায় কেবল ভাবনাগুলোকে
একত্রিত করে নিজেকে লিখেছি ;
লিখেছি অকথিত কথাগুলোর রঞ্জিত পাণ্ডুলিপি ।
পৃথিবীর কোথায় কি ঘটছে
জানতে মন চায় না এখন আর,
এতো সব অরাজকতা,কুসংস্কারাচ্ছন্ন অন্ধবিশ্বাস,
অমীমাংসিত অধ্যায়
কালে কালে যা হয়নি বিলীন
সে জানার কি দরকার ?
আমাকেই কেউ জানতে চাইনি যখন
বুঝতে চায়নি যখন,শুনতে চায়নি যখন
আমি তো করিনি কোন প্রতিবাদে আত্মচিৎকার!
বরং নিঃশব্দে নিজেকে গড়েছি ভিন্ন আঙ্গিকে
ভিতর তোলপাড় করা সমস্ত ভাঙা গড়ার পর।
যুক্তিগুলো পারষ্পারিকভাবে পুষ্টিহীনতায় ভোগে অযৌক্তিকতায়,
তবুও হয়নি মনোযোগী।
নিদ্রাহীন রাত্রিতে নিজেকে
সপে দিয়েছি নিজেরই বিরুদ্ধে সংঘর্ষে
তবুও বুঝতে চাইনি ঘরোয়া রাজনীতি।
আমার ভেতর বসবাস অন্য এক আমি’র
অথবা সবকিছুকে এড়িয়ে ভীষণরকম ব্যতিক্রম,
তবে কি আজকাল আমি খুব অন্যরকম মানুষ ? হয়তোবা!
…………………………………………..

সোনার মেয়ে

বৃষ্টি শুনো,তুমি অন্তত অল্প,
বদলে যেওনা এমন দিনে
আষাঢ়ে বেলার প্রলোভনে
আমার মনের অশান্ত প্রহর
তোমার কাছেই এসে খুলে বাঁধের বহর
বলে যায় সে সমস্ত বিষন্ন বেলার গল্প।

দিন বদলের পালাতেও,
মন বদলের খেলাতেও
জানালায় ঝরে ঝরে, বলে যেও
আজ তোমার মন বিষন্নে ভরপুর,
সে রোদেই পুড়ছে আমার মেঘলা দুপুর…
বুঝোনি মেয়ে বুঝোনি যে তুমি তাও।

ওগো সোনার মেয়ে,
উঠো ঝেড়ে ফেলে মনের ঝড়
বলে ফেলো নিচু করে গলার স্বর…
খুব ভালোবাসি;আমিও যে যাবো ফেঁসে
হেসে হেসে যাবো ভেসে দুরন্ত আবেগে শেষে।

ভাসাবো আষাঢ় শ্রাবণে মন পবনের নাও
তবে তুমি নাহয় একবার এসে বলে যাও।
ময়ূরী হয়ে পেখম ছড়াও আমার কুঞ্জবনে
নেচে উঠুক পায়ের নূপুর গুণগুণ গুঞ্জনে।
…………………………………………..

কিছু কথা

কিছু কথায় বলা থাকে অনেক অনেক কিছু
কিছু কথা অর্থবোধক বুঝতে নিতে হয় পিছু,
কিছু কথায় থাকে মন ভেজানো সুর
মায়া মায়া মান ভাঙানো কিযে সু’মধুর!

কিছু কথা যেন রৌদ্দের খরতাপ,
হৃদয় জ্বালানো ঝাজেই তার প্রতাপ।
তিক্ততায় ভরে দেয় হৃদয় মনের কোণ,
কিছু কথা বিনা ছুরিকাঘাতেই করে খুন।
কিছু কিছু কথা সমাধানে শান্তি খুঁজে নেয়
জগৎ সংসারে প্রশান্তির ঢেউ বইয়ে দেয়।

কিছু কথায় থাকে প্রতিশ্রুতির প্রগাঢ়তা
কিছু কথা যুক্তিগত,কিছু কথার প্রকাশ মৌনতা।
স্মৃতি কথা ধোয়াটে বাতাসে ভেসে বেড়ায়,
কিছু কথা মমতাময়ী কেবলই মায়ার জড়ায়।

ভালোবাসা সে হয়না কেবল কথায় প্রকাশ
এযেন খুব গোপনীয় দেয় লুকিয়ে রাখার আবাস।
তুমি কি গো বলবে এমন কিছু কথা
বৃষ্টির মূর্ছনাময় যদিও সে হয় অযথা?
কথারা আমার বলে গেছে কতো কী,
তুমিই হয়তোবা তেমন করে বুঝোনি।
…………………………………………..

শব্দের মাঝে কষ্টগুলো

শব্দের মাঝে কষ্টগুলো
দেখ গুমড়ে গুমড়ে কাঁদে
মানুষ গুলো পড়ে যখন
অমানুষের তুমুল ফাঁদে।

আজ হাহুতাশ গুলো কেবল
পত্রিকা আর স্ট্যাটাস জুড়ে
জনগণ সব ব্যস্ত দর্শক
নিউজ সরবরাহের তোড়ে।

চলছে বিনোদিত আসর
চেয়ে থাকে ঝাঁকেঝাঁকে
প্রতিবাদে কুলুপ এঁটে
ফুটেজ তুলে পথের বাঁকে।

এসো সবাই মজায় হাসি
চোখ’মুখ আর সব দাঁত কেলিয়ে,
কি দেখেছি কি বুঝেছি
গল্পে মাতি তা বিলিয়ে।

যাহা হবার তাই হয়েছে
কি হবে আর বলে কয়ে
স্বাধীন দেশে স্বাধীনতা
সব ক্ষেত্রেই যে তা নির্ভয়ে।
…………………………………………..

বর্ষণ সেই আনন্দে

বৃষ্টি কখনো কী কেনে
ঘামের দামে সুখ,
জানে, ফসল ফলিয়ে তা
পুড়িয়ে দেয়ার দুখ?
বৃষ্টি তুমি কেন আসো
বর্ষার বেলা জুড়ে,
পলিতে দাও জমি ভরে
কেন জোরেশোরে?

হাড়ভাঙা সে খাটুনির কী
আছে মূল্য আর
কৃষক পায়না যেখানে ঐ
ন্যায্য মূল্য তার।
সেই অর্ধাহার অনাহারে
ঘামে ভেজা শরীর
কোন্ সে আর্তনাদে কাঁদে
নেই ঠাঁই ব্যথার তরীর।

ক্ষুধার্ত পেট বুঝেনা যে
রাজনীতির কৌশল ?
না ফলালে ধান খাবে কী
রাজার সৈন্য দল ?
বর্ষা তুমি কেন আসো
নদীর কূল ঝাপিয়ে
নীতিবোধের মানদণ্ডের সেই
কাঠি গেছে বাঁকিয়ে?

অন্ধবধির খেলায় মেতে
আছি আমরা সবাই
সব ভুত দেখার মতো ভয়ে
বোবার দলে দাঁড়াই।
কিই’বা করার আছে ভাই,তাই
আঁকিবুকির ছন্দে
ও সব ভুলেই শব্দ মিলাই
বর্ষণ… সেই আনন্দে।