অনন্ত বিশ্রাম

হোঁচট জলে সরীসৃপের আনাগোনা, ভয়ংকর
মেঘজীবন জড়িয়ে আছে ঘন শ্যাওলায়
অনন্ত বিশ্রাম ধরিত্রীর কৌতুহলের ঝরা মর্মর
…………………………………………..

প্রকৃতির চিঠি

প্রকৃতির চিঠি আসে তাতে শুধু জীবন সংলাপ
অসীম ভালবাসা, বিশ্বাসের ঘন আলোছায়া রাত
দূর্বার সবুজ রক্ত ঘামে ভিজে চোখ, কার্যকলাপ
আঁকে সান্ত্বনা চিত্র, মায়া দুপুর, আস্থা টানে বরাত
…………………………………………..

বসন্ত

কোল ভরে আঁচলে বেঁধে রাখা জোৎস্না ভোর
জেগে আছে পাহাড়ের কোলে, জ্বলন্ত শিমুল
পলাশ ফোটার রক্তে মিশে গেছে নদীসাগর
এখন শুধু ছুঁয়ে থাকা কোকিল, বসন্তের ফুল
…………………………………………..

আমাদের ভাষা

তোমাকেই শুঁকি প্রতিটি শব্দ মায়ের স্পর্শ,গন্ধ
নিরন্ন মানুষের কাছে বাঁচার তরি, বিপন্ন
জোর করে জড়িয়ে ধরে, চাক্ষুষমান বা জন্মান্ধ
হাতে হাত রেখে চলে, শব্দ ক্ষুধার অন্ন।

কেন জানিনা , তোমার ছোঁয়া পেয়ে প্রাণ জাগে
ঢেউ উঠেছে বাতাস স্রোতে, বেড়া ভাঙে
যে আলো বাধা ভেঙে চলে প্রাণের পরাগে
ফুল, শুধু শব্দ ফুল, বর্ণচোরার গাঙে।

বিভেদের রশি ছিঁড়ে ফেলে এসো হাতে হাত রাখি
তোমার ময়না আমার দোয়েল একসূরে ওঠে
ডাকি
শেকড়ে শেকড়ে বিশ্বাসের ঘ্রাণ জড়িয়ে,সুদূরের কাল
ধুয়ে মুছে সাফ বাঙালি বাংলা, মাতৃভাষা
রবে চিরকাল
…………………………………………..

দ্রোহ

আস্তে আস্তে লাল হয়ে উঠে আকাশের মাটি
ধুলোয় ঢেকে যায় অপরাহ্ন শিশির সন্ধ্যাকালে
ঘুরে দাঁড়ায় বৃষ্টির জল পতাকা হাতে, স্থিতি,
বিষাদ শেকড় বাড়ে একজোট, উথাল পাথালে

সন্দেহ প্রতি মনে, ডানা চিহ্ন ফেলে রাখে, পোড়ে
মাঝরাত শীতল ঘুম, কষ্টই জীবনের মূলশর্ত
প্রতিরোধ, প্রতিবাদ ঝড়, প্রতিটি হৃদয়ে পাঁজরে
একদিন এই শিখা নির্বাণ পাবে, জ্বলন্ত মুহূর্ত