হুলিয়া

মৃত্যুদণ্ডের ফরমান ঝুলিয়ে রেখে গলায়
ঘুরে বেড়াচ্ছি উন্মুক্ত পৃথিবীর কারাগারে
জন্ম আমার মৃত্যুর পরোয়ানা অনিবার্য
ঘড়ির কাঁটা ঘুরছেই জীবনের বিপরীতে
আর,বেলুন ফুটিয়ে তোমরা করছো কি নিছক উপহাস
আমার তথাকথিত জন্মদিনে!
এই কারাবাসে নিত্য ফাঁসির রশি গলায় নিয়ে গুণে যাচ্ছি শূন্যমুখি প্রহর,
কখোন আসবে আমার সেই মাহেন্দ্র সময়
কোন আনন্দ আতশে আমার হৃদয়ে তোলো তীব্র ঝড়ের কম্পন
আমি তো চির নির্ভীক, নই ভীরু কাপুরুষ কোনো জনমের
সশ্রম বন্দিজীবনে আশার শত তারকা জ্বেলে খুঁজি নিরন্তর
আপন হাতের প্রিয় সেই শৈল্পিক নির্মাণ।
জাহান্নামের আগল বেঁধে হারিয়ে সকল চাবি
হাসি খুশি ঐকতানে দিব্যি খুঁজে ফিরি সেই অনন্য বাগিচা
নিশ্চিত বসতি কিনে জীবনের চড়া দামে রেখেছি আনন্দে
সেই জান্নাত আমার চূড়ান্ত নিবাস!
পথ দেখিয়ে আমায় নিজ ঠিকানায় নিয়ে যাও প্রভু
ঘরে ফেরার তাড়ায় হোক এ ফেরারি জীবনের অবসান।
এখানে এসেছি আমি যাবার প্রস্তুতি নিতে
তোমরা করো না যেন উপহাস সে পথের বিপরীতে।
বন্ধুরা আমার!আসে না তো চীৎকার
লোকলজ্জার পাথরে আটকে গেছে কণ্ঠনালী
তোমাদের উত্থিত দু’হাতে সরে যেতে পারে
যদি করো অনুভব বিনম্র আত্মায় রেখে
সকল মেকি হেঁয়ালি।
আঁতুড় ঘরে নিয়েছি আমি জীবন গ্রীবায় অনিবার্য যে হুলিয়া
কী করে ভুলে থাকি এ কারাবাসে সেই রায়ের সকল আয়োজন
বিশেষত পালাবার কোনো পথ নেই যখন!
একটি প্রাচীন ভাঙ্গা সাঁকো সামনে আমার
পেরুলেই পেতে পারি জীবন পুঁজিতে কেনা অনন্ত সে বাগিচা-
তলদেশে বহমান যার শরাবের নদী
যে কাননে নেই আর পৃথিবীর মতো কোনো পূর্বাপর।
সাজিয়ে নেবো নিজের মতো করে ত্রিকালের সকল অভিজ্ঞতায়
সশ্রম কারাবাসি এ জীবনের ব্যস্ত অবসরে।
…………………………………………………….

অচেনা গ্রন্থি

আলোকিত এক আঁধারের ভেতর থেকে
বেরিয়ে এলো অশ্রুর ঝলমলে শেকল
পাথুরে দেয়াল ভেদ করে যেরকম বেড়ে ওঠে
সবুজ বটের চারা কিংবা অশ্বত্থের ভবিষ্যৎ
দুমড়ে মুচড়ে গিয়ে সে বলেই দিলো: ভালোবাসি
মুহূর্তে ফিরে গেলাম সাদা-কালো দিনে
সর্ষে প্রমাণ বটের বীজ মনের উর্বরতায়
দিনে দিনে বেড়ে উঠে এখন বিস্তৃত মনের আকাশে
কতো নাম জানা পাখি অজানা অচেনা রাগে
পত্র পল্লবিত এই শাখায় শাখায় গান গেয়ে যায়
বাতাসের স্নিগ্ধতায় মুগ্ধতায় ভুলে গেছি তার
মায়াময় ছুটে আসা, জুড়ে থাকা এ অন্তর
অশ্রুর শেকল আজ বিদায় লগনে দিলো ভয়াবহ টান
ভোরের নকিব হয়ে বলে গেল এখানেই রেখে গেছি প্রাণ
আমি নির্মম নিরব অপলক চোখে শুধু বললাম:
সূতোর গ্রন্থিটা আজো হয় নি খোলা, হবে না…
ভালো থেকো মরমিয়া!
এ কেমন গ্রন্থি যেন, ভোলে না খোলে না!
…………………………………………………….

আত্মদর্শন

রাতের গভীরে চাঁদ গেল নিজ ঘরে
চারদিকে জোছনাহীন অন্ধকার
কী এক অজানা ঘোরে এই রাতে
দাঁড়ালাম আয়নার সামনে
শূন্যতায় ঘেরা মাঝরাতে
চিরচেনা রূপালি এ আলংকারিক
অদ্ভুত সে আয়নায় চালু হয়ে গেল
জীবনের সাদা কালো সচল চিত্র বিচিত্র
চমকে গেলাম আমি থমকে গেলাম
এই আমি ওই আমার জীবন,যৌবন
নিস্পৃহের মতো দেখছি আর বিস্ময়ে ভাবছি-
‘অনুজের প্রতি ওঠে এই আঙুল, হিতোপদেশ
আহা! কী দারুন দ্বিমুখিতা, আত্মপ্রবঞ্চনা!

…………………………………………………….

প্রান্তসীমায় দেয়াল

শিশির ভেজা এক সকালের কথা।
পাখির কুজনের মাঝে দুর্বাঘাসে তখনো
রোদের কণাগুলো ঝরায় আনন্দাশ্রু
বিশুদ্ধ সেই বাতাসেও শ্বাস নিয়ে পেলাম বারুদের ঘ্রাণ
কালের বিগত সোপানে পা রেখে ঘড়ির কাঁটা ঘুরিয়ে দিই ডানে
টিক টিক সময়ের মানচিত্রে সর্পিল রেখা ধরে হেঁটে যাচ্ছি
সামনে চেক পোস্ট
তবু থমকে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই…
এ যেন জীবনের অনিবার্য এক রাফা ক্রসিং…
সুহৃদ জনেরা টেনে ধরে পেছনের সূতো
দাঁড়ানো যায় না বলে যেতেই হলো ছিঁড়েখুঁড়ে
কতোবার, কতোজন, ভেতরের, বাইরের আটকে দিলো গতি
তবু যেতেই হলো..জীবন ঘড়ির কাঁটায় বিঁধে…
যেতে যেতে যেতে জীবনের মায়াবি সকাল খেলো সূর্য
খেলো দুরন্ত দুপুর…
সন্ধ্যার দ্রুতগামী কালো ঘোড়ার পিঠে চড়ে এগুতেই দেখলাম
সামনের গলির মুখে প্রকাণ্ড দেয়াল
দেয়ালে আঁকা আছে লাল বৃত্তের মাঝে নিরেট সাদা বাঁ থেকে ডানে
পথের এই প্রান্তসীমা পেরুনোর চাবি আমার হাতে নেই
ঘোড়ার পিঠে চাবুক মেরে ফিরে যেতে চাইলাম ফেলে আসা পথে
বৃত্তাকার আঁধারে যতোটা ফেরা যায়
ফিরে এসে খানিক দাঁড়ালাম পথের ধারে
অচেনা কেউ এসে অতিথি বানালো আমায়…
ফেরারি সকালের দুর্বাঘাসের অপেক্ষায় থাকা শিশির বিন্দুর মতো বসে আছি আমি
একা নই সঙ্গে আমার দুরন্ত কালো ঘোড়া
অতিথির ঘরে বিশাল আয়নায় নিজেকে দেখে চমকে গেলাম
এই আমি কি সত্যিই আমি…
আমার কালো ঘোড়া হ্রেষা তুলে লেজ নাড়ে
পেছনে তাকিয়ে দেখি ফেরার পথে আরেকটি দেয়াল
আরেকটি লাল বৃত্তের মাঝে নিরেট সাদা বাঁ থেকে ডানে
শুধু আকাশের দিকে উড়ে যাচ্ছে যেন এক জ্বলন্ত ফানুস
মায়াবি আঁধারেও তাকে দেখা যায় তারকার মতো জ্বলজ্বলে
আমি তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছি সেই সত্যের সোনালী রূপ
আ..হা ! কতো নির্ভেজাল সেই সত্য…
…………………………………………………….

নাটাই

পেরিয়ে আসা আকাশ পথে
জীবন যেন স্মৃতির নাটাই
সকাল থেকে উড়তে উড়তে
কাশফুলে নীল প্রশান্ত ঠাঁই
দুই প্রহরের যুবা বেলায়
স্বাধীন আমি স্বাধীন
ক্লান্ত বেলায় সূতোর টানে
জীবন লাগে স্বাদ-হীন
নিয়ন্ত্রণের রশিটুকু নিয়েই ভাবে ঘুড়ি
সবার মাথার ওপর কেমন স্বাধীনভাবে উড়ি
শেষ বিকেলে আঁধারগামী সূতোয় পড়ে টান
সটান দুপুর কেমন যেন ঢিলেঢালা প্রাণ
নাটাই যতোই ঘুরতে থাকে
বাতাসের ওই পিঠে
কেমন যেন চোরাবালির
মতোই হিতাহিতে
জ্ঞান হারিয়ে ডুবতে থাকে
ডুবতে থাকে সব
সকাল দুপুর শেষ বিকেলের
সকল কলরব
নাটাই ধরে একলা আমি বসে থাকি ঠায়
সূতো ছেঁড়া ঘুড়ি আমার কোথায় উড়ে যায়?
…………………………………………………….

স্মৃতির মোম

প্রাচীন পংক্তির শেষটুকু মনে পড়ে বারবার
আমি যতোই চেয়েছি জ্বালাতে স্মৃতির মোম
দেশলাইয়ের আলোয় ঝলকে উঠেছে
ইস্পাতের কাঁচি, আনকোরা, তীক্ষ্ণধার
বিচিত্র আঘাতের চিহ্ন দেয়ালে পেরেকের মতো
কিংবা কালের আহত ইতিহাস, অন্তরে যার
শুধু আছে শলতে এক জ্বলতে
কখনো জ্বালাতে একান্তই নিজেকে
তবু পড়ে না মনে কবিতার বিস্মৃত পংক্তি
মনে পড়ে শুধু, শুধুই ‘আকাশলীনা’
কবিতার এছাড়া কোনো অর্থই জানি না।
স্মৃতির যাদুঘরে সেটুকুই থেকে যাক
প্রজন্ম উত্তরের খোলা বইয়ের পাতা
আমি জানি, বিস্মৃত সেই পংক্তিটুকু
অনেকের কাছেই হাস্যকর, যা তা…
তারাভরা আকাশে বিস্মৃতি যেন শুকতারা
স্মৃতির চারণভূমিতে রাখালের সে ছায়াতরু
যার ছায়ায় সুশীতল আজো প্রচণ্ড তপ্ত মরু।
…………………………………………………….

বাড়াও তোমার শুভ্র দু’হাত

তোমাকে দেখি নি, ক্যানভাসে এঁকেছি এ মন তুলিরঙে
জগতের সব শুভ গুচ্ছ আনন্দ নবীন শুভ্র গন্ধময়
মানুষ সৃষ্টির সেরা তুমিই কার্যকারণ সৃষ্টির বিস্ময়
প্রাচীন খোলস ফেলে বিশ্ব চলছে অচেনা নববৃত্ত ঢঙে
কাঁটাগুল্মে ফোটা ফুল শুকনো বালির বুকে শ্যামলিম তৃণ
তারাদের এতো ভিড় আকাশে আগে দেখে নি তো কেউ কখনো!
আয়নাগুলো সঙ্গেই ছিল কেউ দেখে নি তা মগজ মেলে
জগতজুড়ে এমন নববসন্তে কালের অভিনতুন অধ্যায়
আপন পিঠে জমানো বিচিত্র রঙীন বর্জ্য লজ্জায় ফেলে
আয়নায় দেখা অন্ধকার পেরিয়ে সূচনা নিবীড় শুক্লা সন্ধ্যায়
এসেছে ভরা পূর্ণিমা জোছনায় ভিজিয়ে এ কালো দেহমন
ফিরে গেছি কৃষ্ণপক্ষে সেই বিবিধ তিমিরে পুনরায় গহন
হিসেবের যন্ত্রটিও কেমন, কেবলি ভুল হিসেবই মেলে
না দেখার ধোঁয়াশা কী করুণ! আহা! ভুলেছি তাবৎ ন্যায়।
সবুজ হলুদ আর লাল রেখাগুলো এই কাল ঝঞ্ঝায়
মানচিত্রে আঁকাবাঁকা পথের জঞ্জাল তুমি হীন গোলমেলে।
হে প্রিয়! কী করে যাবো ঠিকানাহীন সঠিক শীর্ণ মোহনায়
বাড়াও শুভ্র দু’হাত পাড়ি দেব সময়ের তীব্র ম্লানিমায়।
…………………………………………………….

গোলাপি কদম

রোয়াকের দোলনায় নাকি কাটাতো সে গ্রীষ্মনিশী
কখনো পেণ্ডুলামের জোয়ারভাটায়, কখনো নিজেই
জোছনার সমুদ্রে মৎস্যকন্যার মতো ডুবুরি কিংবা
কল্পনার মায়াজাল পেতে ছন্দমীণের ফাঁদ পাতা।
চোখ পড়তেই কড়ি দুটো ফেইড-আউট হয়ে গেল
কে জানতো ঐ চোখে শত বর্ণমালা নিস্বর,ধ্বনিহীন
মনের বুদবুদ ফুটিয়ে হলো চার চোখের অনুবৃত্তি
এবার লজ্জাবতী লতায় ফুটেছে গোলাপি কদম
আড়ষ্ট পাতারা কখন মেলবে তার সতেজ শিরা
চোখের তাণপুরায় দেবো রিনিঝিনি সুরের ছোঁয়া…
বাউণ্ডুলের হীরকলাভের মতো হাজির হয়ে গেলাম
কল্পগ্রহ থেকে সোজা লজ্জাবতী বনের সেই নিকুঞ্জে
যেখানে ছিল অচেনা বিস্ময়ের বিচিত্র খোলাবাজার
আমি ঝুড়ি ভরে নিচ্ছি সেই নন্দন, চারুময়, কারুময়
সুনসান ড্রয়িং, সাদা লাল ডাইনিংয়ে শিল্পের পসরা
কি দারুন আগ্রাসী মনে দ্রুতগতি তথ্য লেনাদেনা
কখনোই ভাবি নি হবে কবিতার সাথে চেনাজানা
কবিতা হেটে বেড়ায় চারপাশে, হৃদয়ে তোলে সুর
কবিতার নিবীড় আবেগে এতোটা কাছে এলো দূর
সরাসরি আবেদন যেতেই হবে আবৃত্তির ভুবনে
এতো যে প্রাণবন্ত আকুতি জমিয়ে রেখেছিল মনে
বুঝি নি,বুঝেছি শুধু আবেগের গায়ে ধূলিমাখা
মুক্তোর মতো ম্লান পর্দা ছিল শিকেয় তুলে রাখা
শব্দ তুলে ঝেড়ে সরিয়ে সকল বাধা ব্যবধান
লজ্জাবতী লতা পেঁচালো,আমার শিরস্ত্রাণ
আমি সম্মানে দু পঙক্তি শুনিয়ে দিলাম ঠিকই
হলো না,’আরো চাই’ কণ্ঠে রিনিকি ঝিনিকি…
সেই ছিল প্রথম। তারপর যেখানেই হত দেখা
গোলাপি কদম হেটে এসে কাছাকাছি একা
কিংবা কখনো সদলবলে বৃত্ত করে রচনা
সেই আবেগি দৃষ্টিতে মিটিয়ে মনের রসনা
আগ্রাসী আবেদনে সেই কবিতা শোনার ইচ্ছে
হাতে রেখে হাত মুখোমুখি শোনানো কিচ্ছে
জানি না কেন বাণীবদ্ধরূপে নেই কোনো আগ্রহ
ওপার থেকেও সরাসরি কণ্ঠে যদিও বাক-রহ
তবু সেই আকুতি,সেই লজ্জাবতী ডানা মেলা
বলবে কি হে কবিতার পাখি! এ কোন খেলা!
…………………………………………………….

নীল মুনিয়া

বসেই ছিল সে ঘরের কার্নিশে
উৎসুক দু’চোখে চপল বিস্ময়
সাদা শাড়ি দাদিমণি হেসে কয়:
শুভ রে! শুভ রে! শুভ!
সুখেরই প্রতীক ধ্রুব
সত্যি শুভঙ্করী কিনা কে জানে
কমই বুঝি এসব প্রতীকের মানে
ফ্ল্যাশ-ব্যাক থেকে ফিরে
নতুন অতিথিকে ঘিরে
চোখে চোখ টলমলে একা সে,
তবু ভীতু নয় কিংবা ফ্যাকাশে
প্রাণোচ্ছ্বল দীয়মান পাখা
দুপাশে বিস্তার করে রাখা
দুলে নিলো সে তিনবার
কী-ই বা বুঝি আমি তার
হঠাৎ উড়ে গিয়ে আমার উঠোনে
ডিগবাজি খেলো সে আনমনে,
একেবারে প্রকাশ্যে নেমে এসে নীচে
বৃত্ত এঁকে নিলো তিনবার মাথার উপরে পিছে
আকাশের ঘন নীলে থোকা থোকা মেঘ ছিল
একটি টুকরো আমার হাতে এনে দিলো
কী দারুণ বর্ষায়
জবুথবু ভেজা গায়
মাথায় ধরে নীল আকাশের ছাদ
পাখায় তুললো রিনিঝিনি রিমঝিম অবাধ..
কতোকাল পর বৃষ্টির শিকরকণা
কদমের বুকে নিলো ঠাঁই পীৎবরণা
কৃপণতা ফেলে রেখে
তিনটি ফুল একে একে
ছিঁড়ে এনে দিলাম, সঙ্গে সিক্ত সবুজ পাতা
ঝরোঝরো গুচ্ছটিও অঙ্গাঙ্গি গাঁথা
আনন্দে ভেজা দু’চোখে অপলক তাকিয়ে থেকে
পাখায় তুললো মুনিয়া অচেনা ছন্দ মেখে
মেঘ আর বৃষ্টির গান সুরেলা অতুল:
‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল’…
রংধনু তোরণের ফাঁক-ফোকর দিয়ে
উড়ে উড়ে ডিগবাজি খেলো বীণা বাজিয়ে
পুরোটা রোদ-বৃষ্টিভর
কী আশ্চর্য! কে বলবে তার খবর!
এতো রঙ গায়ে মেখে সিক্ত হলো শুধু নীলে
আর কোনো রং নেই বুঝি এই নিখিলে!
মুনিয়া হেসে হেসে চললো
আর ‘ভরা বাদর’ মুখে বললো:
নীলেই ফোটে সাদা বেলির শুভ্র সে মালা
ছুঁলেই দেখো বেজে উঠবে সেতারের ঝালা।
…………………………………………………….

মাছি

হীরার ঘরে সোনার খাটে
একটি মাছিই যথেষ্ট
নীল মাছিটির ভনর ভনে
জীবনটা হয় অতীষ্ঠ
ঠোঁটে নাকে চোখে মুখে
বসায় দারুন চুম
হাত নাড়িয়ে রাগ বাড়িয়ে
পড়ে মারার ধুম
যতই বাড়ে রাগ
পালা শালা ভাগ
আত্মীয়তার ডোরে বাঁধি
পাই না তবু রক্ষা
তালির চোটে হাত রাঙিয়ে
ভাবি পেলো অক্কা
ক্ষণিক নীরব, স্বস্তি ভরে
বালিশে দেই মাথা
ভন ভনা ভন কানের কাছে
মুখে আসে যা তা
মাছির মতো কিছু মানুষ
পিছু পিছু ঘোরে
কষিয়ে চড় মারলে গালে
অট্ট হাসে জোরে
ওরে মাছি ছেড়ে যা
নর্দমাতে ময়লা খা
নিরেশ নেচে আমার পিছে
ফের যদি তুই আসিস
কাঁঠাল কোষে বিষ মাখিয়ে
মারবো মনে রাখিস।
…………………………………………………….

পূর্ণ করি শ্রদ্ধার পেয়ালা
(মরহুম কবি আল মাহমুদ স্মরণে)

হাতের একটু ছোঁয়া, মিষ্টি আর সজীবতায় ভরা
অলৌকিক সংক্রমে ঋদ্ধি, পরিতৃপ্তির আশায়
কতোকাল নেবো নেবো করে অপেক্ষায় থেকেছি …
এবার সে বার যদি.. স্বপ্নেরা কেঁদে কেঁদে শাসায়
হায় কাল, চঞ্চলা সময়, সুযোগ করে দাও নি তুমি
চলে গেল সে আধার রিক্ত মনে রেখে উষ্ণ মরুভূমি
তোমার কলসে রেখে গেছো গুপ্তধন
আমার হাতে আছে কি সন্ধানের যন্ত্র
জহুরির মতো কতো যে নিপুণ এ মনন
জহীন দৃষ্টিতে আছে কি লেখা সে মন্ত্র!
জানি না, তবু এ মন চায় ক্লান্ত নিরালায়
ভ্রান্তি ঘুচিয়ে পূর্ণতা দিই শ্রদ্ধার পেয়ালায়।
………………

রেডিও তেহরান, ইরান