প্রেমের পাখি

ওরে অচিন পাখি
জানি না কি মায়ায় আমি বেধে তোরে রাখি
দূরে বসে ডাকলে পাখি আমার নামটি ধরে
আমি নারী পথ হারাই যে থাকে না মন ঘরে
দোহাই পাখি এমন করে আর ডেকো না আর
সমাজ আমায় ঘৃণা দেবে- রাগবে অবতার
রূপ দেখি নাই ঢং দেখি নাই তবু করিস পাগল
এই কোন হৃদয় দিয়ে পাখি বাধিস হৃদয় যুগল
পাখি তোর চোখের মায়ায় উত্তাল আমার কায়া
চোখের সামনে দেখি শুধু পরাণ পাখির ছায়া
প্রেম সাগরে ঢেউ জেগেছে মিষ্টি তোমার কণ্ঠে
আমি নারী সব ছেড়েছি বসেছি বৈগুণ্ঠে
বসে আছি অপার হয়ে ওগো পরাণ পাখি
সামনে এসে বসো আমার দেখি মেলে আঁখি
হাজার জনম বসে ছিলাম পথের দিকে চেয়ে
কতো রাত্রী জেগে ছিলাম জোছনা জলে নেয়ে
ডাকলে যখন যুগে পেরিয়ে ওগো সোনার পাখি
আমায় তুমি আর কাঁদাইও না দূরে দূরে রাখি
দাও না ধরা আচল তলে খাও না হাতের বারি
তোমায় ছাড়া হৃদয় পঙ্খি থাকে না ঘর ছাড়ি।।
…………………………………………..

নীলে কষ্ট

জীবনের মোড়ে মোড়ে নীল ইতিহাস
নীল যতো নকশায় হৃদয়ের ফাঁস
নীলাকাশ ভয় পাই, ভয় নীল ফুলে
যদি জীবন থেমে যায় সময়ের ভুলে
জীবন তো আমার নয় অন্যের তীরে
স্বপ্নের বেঁচে থাকে আহুতির নীরে
ভালোবাসা বিশ্বাস আর কিছু নয়
অজানায় পাড়ি দিতে শুধু হয় ভয়
ভালোবাসা খুব আছে বুকে ধরে রাখি
নীলজলে আমি ডুব দেবো নাকো পাখি
ডুবে যেতে ভয় নাই যদি দাও ডাঙা
জানবে না কোন দিন কেনো ডানা ভাঙা
সুখ সুখ হাত ছানি দেয় চার পাশে
এর মাঝে যদি হায় মন যেয়ে ফাঁসে
সে বিচার করে মন দেয়া ঘরে
সব মাছ বড়শি কি নিতে পারে ধরে
ভাবে মন আন মনে কোন সাড়া নাই
মনের বিচার ছেড়ে কোন কোটে যাই
নীল জল নীল ফল নীলে ভরা বাগান
নীল ছেড়ে জীবনের গাই জয় গান।।
…………………………………………..

নিঃসরণ

ফাগুনেরর ফুল ঝরে গেছে
হৃদয়ে এখন চৈতালি খড়া
বারিক বয়ে যায় যদি প্রেম
হৃদয় সাজবে বৈশাখী শ্যাম
ভুলগুলি মিছে পিছে থাক পরে
কাকুতি হৃদয় চেয়ে যায় ক্ষমা।।
…………………………………………..

তুমিও একদিন কাঁদবে

অনুকম্পাগ্রাহী এক সমুদ্র হৃদয়কে যখন ফিরিয়ে দাও
মানবতা লুটে নেয়ার শ্রেষ্ঠ গান সেখানে রচিত হয়
কিভাবে বুকের রক্তের স্পন্দনশূন্য করে
সঞ্চিত হয় এক ফোঁটা ভালোবাসার রঙ
তা কি করে বুঝবে; যদি কারো ভালো না বাসো
তাই দাও উপেক্ষা বঞ্চনা দাও দাম্ভিক স্ফুরণ
যে হৃদয় পাইনি কোনো বাসনার র্স্পশ
তপ্ত বালিয়াড়ি হাহাকার করে কেঁদে মরে
জলধারণ জীবন মাঝে ডুকরিয়ে উঠে
বাঁচার তৃষ্ণাতুরা
তার জিয়নকাঠি তোমার আত্মার গভীরতায়
তুমি না চাইলে; কেড়ে নেবার সাধ্য কার
ভাবছো- পরাজিত করেছো
ভুল ভেবেছো!
তাকে ঘিরে শুধু সময়ের পরাজয় নয়
সে পেয়েছে শতেক বছরের জীবন্ত লাশ হয়ে বেঁচে থাকার বর
সাংসারিক বৈষয়িক চাওয়ার বাইরে
তোমার কাছে ভিক্ষারিনী বেশে যা চেয়েছিল সে
তুমি তা দান করলে তার জীবন পাত্রে যা যোগ হতো
তার চেয়ে শতোগুণ বেড়ে যেতো তোমার পাত্রে
নিজেকে এতো বড় দেবত্ব আসিন ভাবো কেনো
এ বড় অবিচার কেনো করো তুমি
তবে দেখে নিও- না দেবার যন্ত্রণা তাড়াবেন তোমায়
একদিন মানবতা হত্যার ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়াবে আত্মার কাছে
সে দিন অনুভূত হবে
মৃত আর জীবন্ত মমিদের ঠিক কতো খানি ভেদ।।
…………………………………………..

স্পৃহা

আটপৌরে কষ্টগুলো
আজ কষ্ট দেবার ক্ষমতাহীন
খাঁ-খাঁ রৌদ্র আর
অবধারিত জোছনাকুমারী তৃষ্ণা বিহীন
বনে বনে ফুল
গাছে-গাছে পাতা
নদীর টলমল পানি খুব সাধারণ
আরো বেশি অসাধারণ খুঁজে ফেরে মন
আরো একটু বেশিই তৃষ্ণার্ত হৃদয়।।
…………………………………………..

মানবতার চাষাবাদ

মানুষের হৃদয় জমিগুলো আজ
বড্ড বেশি অনুর্বর হয়ে গেছে
এখানে মানবতার চাষ বড় প্রয়োজন
স্বার্থের চাষ করতে করতে
এখানে আর মানবতার ফসল জন্মায় না
মানুষ খুব বেশি মানবতা হীনতার দূর্ভিক্ষে ভুগছে
আকাঙ্খিত মানুষগুলো একটু মানবতার আশায়
হাড্ডিসার অবস্থায় আছে

প্রভু-
মানুষের হৃদয়ে একটু মানবতার ধঞ্চে বুনে দাও
তাকে মারাই করে উর্বর করে দাও
যদি একটু মানবতা জন্মায়
মানুষ মানুষকে জড়িয়ে ধরে বলতে পারে
ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি।।
…………………………………………..

প্রসূণ

ফাগুনের দুপুরে পাতা ঝরা দিন
দুঃখগুলো ঝরে যাক- আসুক সুদিন
কালো কোকিল ডেকে যায়
মন করে হায় হায়
এমনি কি বাঁচা যায় প্রেম ছাড়া মনে
কাম হীন প্রেম দাও হৃদয়টা ভরে
আনন্দে বেঁচে যাই আহলাদিত হয়ে!।
…………………………………………..

ধূসর অনুভব

আকাশ এখন মেঘলা থাকে
রাতগুলো খুব দীর্ঘ
বুকের মাঝে তছনছ সব
সুখে দুঃখের স্বর্গ

বন্ধু-
তুমি জানতে চাইলে
কেমন আমি আছি
কেমন করে বুঝাই তোমায়–
কেমন করে বাঁচি।।
…………………………………………..

বন্ধু তোমাকে খুব প্রয়োজন

আমরা প্রতিনিয়ত
হৃদয়ের জমিতে সাহসের চাষ করছি
জীবন কে যাপন করতে করতে
জীবনের ধার আরো তীক্ষ্ম হচ্ছে
নিজে এবং অপর দুজনের সাথে
লড়াই করার জন্য প্রস্তুত করছি সেনাবাহিনী
বন্ধু শুধু তুমি পাশে থাকো
তোমার হাতটি আমার মাথায় রেখো
বলো- তুমি পারবে
পারতে তোমাকে হবেই
এটা জীবনের অস্থিত্বের লড়াই
শুধু আমার জন্য নয়
জীবনের ঘানি টানতে টানতে যারা ক্লান্ত
তাদের প্রত্যেকের জন্য

ঠিক আমি এখন পারবো
পারতে তো আমাকে হবেই
শুধু তোমার মতো একজন বন্ধু হলেই
জীবনকে জয় করে নিয়ে আসবো।।
…………………………………………..

জীবনের পদ্য

বিচারের বাণী হায় কেঁদে কেঁদে মরে
দেশদ্রোহী হই পাছে সেই ভয় করে
সব্বার কথা শুনি নেই নাতো কানে
সব দলে আমি আমি সব্বাই জানে।
জাড়ি জুড়ি ফাঁকা বুলি বীর সাজি রোজ
চুপ করে বসে থাকি করি ফাও ভোজ
কুট কাট ভুট ভাট হজম না হয়
পিন পিন ঝিন ঝিন সারা’গাময়
ভালো টালো সাজ গোজ পোষাকের গুণে
প্যাঁচ ট্যাচ যতো কিছু গুজে রাখি মনে
দেশ টেশ শেষ মেষ কোনো কথা নয়
স্বার্থের গামলাটা নিজ যেনো হয়।
প্রেম টেম রাধে শ্যাম সব মিছে বুলি
চলো যাই যৌবনের ফায়দাটা তুলি
গুনগুন গান গায় প্রেম জনে জনে
মধু টদু নিয়ে শেষে হুল দিবে মনে।
সৎ টত থাকি টাকি হয়ে বেচারা
উচিতের সাথে নাই খাই যদি ধরা
হুট হাট লুট পাট হয় হররোজ
সরকারী লোক তারা: তুই চোখ বোজ।
দিন দিন প্রতিদিন সব হবে চুরি
পুলিশরা ভয়ে নাকি পরে থাকে চুড়ি
হরি হরি বলো মুখে বুকে বলো শালা
মনে মনে গালি দিবি মিটে যাবে জ্বালা
গুণগান যতো করো নেতাদের নিয়ে
সবকিছু লুটে নেবো মুল ঝুলিয়ে
জোরে সোরে গান গাই গলাবাজি করে
হুশ টুশ আসে যদি ঠেলাগাড়ি করে।।
…………………………………………..

আফিস আতংক

সকালে উঠিয়া রোজ ভাগ্যের বলে
কোর্ট, স্যুট পড়ে যাই আফিসে চলে
জুত করে কেদারায় পড়ি যখন বসে
বড় বস মুখ জুরে কাজ দেয় কসে
কাগজ আর কাজে ভরা আফিসের ডেক্স
দিনভর কাজ করে চলে যায় সেক্স
কারো আবার রুম নাই রাস্তার ধারে
মার্কেটিংয়ের যত লোক রিপোটিং করে
বস নাকি চালায় যতো গরু ভেড়ার দল
বসবার নাই ঠাঁই- খায় নাকো জল
বকাঝকা ছাড়া তার কোন কাম নাই
দিন শেষে মন জুড়ে শুধু ভয় খাই
আফিসেতে থাকে বস ছোট আর বড়
কাম তার যে যার নিচে, কষে ভুল ধরো
যততো সব গুণহীন আলসের দল
চোখ রাঙ্গিযে ঝুড়িঝুড়ি ক্ষমতার বল
ভয়ে ভয়ে থাকে মন কাজে হর রোজ
চাকরির রাজ্যের রাজা হলো বস
বাকি সব হুকুমের চাকরের দল
লেখাপড়া শিখে এই হলো ফল
শোন বাবা পড়া লেখা ঠিব মতো করো
চাকরের থেকে তোমায় হতে হবে বড়
না হয় বস রাজা খাটাবে যে জোর
কালো রাত জীবনেতে হবে নাতো ভোর।।
…………………………………………..

পাপী জ্ঞানী

জ্ঞান আছে যার বিজ্ঞ তিনি বলে যায় সব লোকে
জ্ঞানী গুণি লোক শয়তান হলে জাতি মরে তার শোকে
জ্ঞানের প্যাঁচে মার খেয়ে যায়- সহজ সরল লোকে
অন্তরে তার বিষ পুষে রেখে ভালো কথা কয় মুখে
শত শত বই পড়ে শয়তান হয়, হয় না তো সে জ্ঞানী
নিজেকে সে জ্ঞনী বলে মুখে- ভাবে সে সম্মানী
পোশাকে আশাকে চাল চলনে মনে হয় বড় মাপের
আসলে সে বড় মনের নয়, জ্ঞানী কিট নিচ ধাপের

দুনিয়াতে যতো অন্যায় কাজ, জ্ঞানী শয়তান ঘটায়
খল নায়কের রোল চিরকালই সত্যবাদীরাই হটায়
খোদা বলে কেউ আছে দুনিয়ায় শুনে রাখ্ এই পাপী
মূর্খ হলেও মানুষ হবো, হবো না তো জ্ঞানপাপী।।