শিশির বিন্দু

ঘাসের উপর সকালের শিশির বিন্দু
কি মনোরম দৃশ্য!
ভালোলাগাটা মনকে ছুঁয়ে দেয়।
ভাবনায় ভালোলাগা যেন এক সিন্ধু

প্রতিটি শিশির বিন্দু জলের
ক্লান্তিময় দিনের বিষন্নতা।
রোদে পুড়ে, হাওয়ায় ভেসে স্বরূপে
এল কি কষ্টে আমরা জানিনা তা।

মোরা আনন্দ পেতেই ভালোবাসি
এটুকু পেলেই হয়।
আমার আমি ভালো থাক
এটুকুইতো চাওয়া,খুবতো বেশি নয়!

শিশির বিন্দু স্যালুট তোমায়।
কষ্ট বুকে নিয়ে আনন্দ দিয়ে বেড়াও
সেতো তোমাকেই মানায়।
……………………………………………

সমুদ্র

রাতে বিশাল সমুদ্রের বুকে
ঢেউয়ের ছলাৎ ছলাৎ যে শব্দটা
শুনেছিলাম,
সেটা এখন মনে বাজছে…

ভাবছি ঐ শব্দটা সমুদ্রের
আর্তনাদের শব্দ ছিল নাতো?
এইমুহূর্তে খুব মায়া হচ্ছে সমুদ্রটার জন্য…

সবাই কেবল তার ঢেউয়ের বয়ে চলার
সৌন্দর্য দেখতেই তার কাছাকাছি আসে।

সবাইকে আনন্দ দেওয়ার জন্য তার এক একটি
ঢেউ কতটা নুড়ি পাথর দিয়ে তার বুকে আঘাত করে তা কেউ ভাবেনা।

ভাববেই বা কেন?
সেতো জড় পদার্থ, তার আবার আঘাত কি!!
জড় পদার্থতো অনুভূতিহীন!

আমরা সবাই আনন্দ পেতে চাই।
আনন্দ উপভোগের সময় শেষে
সবাই নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাব,
ফিরে যাবে এটাই যুগ যুগান্তরের নিয়ম।

কি হবে ঐ সমুদ্রের বুকে ঐ ঢেউয়ের
আঘাতের খবর জেনে?
নাইবা জানলাম…!

আমি আনন্দ পেয়েছি, পাব।
সুন্দর সময় কেটেছে, আরও কাটবে
এটাইতো চাওয়া!!

পৃথিবীর কিছু সৃষ্টি সুখী হতে আর
কিছু সৃষ্টি সুখ দিতে..।
যে যার কর্তব্য পালন করুক..।
নইলে যে বড্ড অনিয়ম হয়ে যাবে!!
……………………………………………

অনুভবে তুমি

ভালোবাসা কি আমি জানি না
তবে
ক্লান্তিময় দিন শেষে
তোমার সাথে কিছু সময় কাটালে
সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।

ভালোবাসার সঠিক বিশ্লেষন জানি না
তবে
অনেক ব্যস্ততার মাঝেও
যখন তোমার সাথে একটু কথা হয়
কাজের একঘেয়েমিটা আর থাকেনা।

এটাকেই ভালোবাসা বলে কিনা জানি না
তবে
তুমি বিহীন প্রতিটি মুহূর্ত
এক একটা বছরের মতো মনে হয়।

হয়তো এ অনুভূতি গুলোর নাম
ভালোবাসা নয়, অন্যকিছু…
তবে
এ অনুভূতিকে আমি সযত্নে
লালন করতে চাই।

যতদিন বেঁচে থাকবো
আমার অনুভূতিও বেঁচে থাকবে।
হয়তোবা বাস্তবে নয়
বেঁচে থাকবে আমার স্বপ্নে।।

আমার অনুভবে শুধুই তুমি।।
……………………………………………

ছন্দপতন

গতানুগতিক পথচলায় হঠাৎ ছন্দপতন,
হঠাৎ কুঁকড়ে ওঠে বুকটা
ঠিক আছেতো সবটা?

জানতে মন চায়!
জানার কি উপায়?
অনধিকারবোধ গ্রাস করে নেয় মনটা।।

সৃষ্টির মাঝে কিছু অনাসৃষ্টি-
এই ছন্দপতন অনুভূতি,
কালো মেঘের গর্জনে
বারি ঝড়ার আকুতি…

শূন্যতায় ভেসে চলে
আকুতিরা নুইয়ে রয়
ধরার ধূলোই মিশবেনা বলে..!!
……………………………………………

শূন্যতা

দিন আসে দিন যায়
গভীর এক শূন্যতায়,
ডুবে যাচ্ছে যেন মনটা
কোন এক অপূর্ণতায়।

কখনো ভেসে যায় মন
দূর অজানায়।
কখনো বা লোকালয়েই
সে নিজেকে হারায়।

দিগ্বিদিক প্রশ্নরা ঘুরে
না মেলে উত্তর।
কখন কোথায় হবে গন্তব্য
জানা আছেই বা কার!

ছুটি কেন মিছে সবাই
গাড়ি বাড়ি আর কড়ির পিছে?
এক নিমেষেই জীবন হতে পারে অতীত
এটাই সত্যি, আর সবই যে মিছে।।
……………………………………………

শ্রাবনধারা

শ্রাবনধারা বইছে কেবল
একটু জিরোয় আবার প্রবল।
ক্লান্ত করেও হয়না ক্ষান্ত
বারি ঝরায় অবিরত…

নিকষ কালো মেঘে ছেয়েছ আসমান
কার তরে তোমার এত অভিমান!
বুঝবেনাতো কেউ ঐ কালো মেঘের ব্যাথা
অপেক্ষা সবার বৃষ্টির তরে
অঙ্গ ভিজিয়ে করবে রোমান্টিকতা…
……………………………………………

যে কথা হয়নি বলা

কত সকাল কত সন্ধ্যা
কত দিবস-রজনী
সঙ্গী হয়ছিলে তবু-
বলাতো হয়নি-
কালো মেঘের ঘনঘটায়
ক’ফোটা বৃষ্টি
দলছুট হয়েছিল;

কি নিদারুন আকুতি জানিয়েছিল
এটুকু শুধু এইটুকুন আশ্রয়
পারনা কি দিতে!!
বলতে চেয়েও হয়নি বলা-

ঐ বিশাল গগনের সবটা কি
হয়েছিল বেদখল?
হয়তো,হয়তো বা না;
জানার আকুতি উদয় হয়েও মনে
জানতে চাওয়া যে হলোনা।

আজও তাকিয়ে রই শূন্য গগনপানে
হয়তো তা শূন্য নয়,
পরিপূর্ন বিশুদ্ধ সমীরণে।

অপেক্ষমান আমি বাতায়ন খুলি
ঝির ঝিরি পরশে যদি
কভূ ছুঁয়ে যাও চলি..।
যে কথা হয়নি বলা
তা আজও না হয় না-ই বলি.।

আমারই জমানো ব্যাথা
আমারই থাক
অন্তরালের মায়া কুঠরিতে
না থাকুক কোন ফাঁক।।
……………………………………………

মনে পড়ে

মনে পড়ে সেই ভোরের অবসরটুকু
রাস্তায় হাঁটার সময়টুকু
মনে পড়ে ক্লাসের ফাঁকের সময়টা।

মনে পড়ে
বিকেল বেলায় ঘরে ফেরাটা
সন্ধ্যাবেলার বিশ্রামটা
মনে পড়ে নির্ঘুম রাত্রিগুলোর কথা।

সময়ে, অসময়ে
কারনে, অকারনে
শাসনে, আদরে
মনে পড়ে
সবখানে তুমি শুধু আমার ছিলে।

মনে পড়ে বৃষ্টির সময়টা,
গোধূলী লগ্নটা, রাতের ঐ জ্যোৎসাটা
বেলকনিতে বসে
ঝিঁ ঝিঁ পোকার আওয়াজ শোনার ঐ ক্ষনটা।

মনে পড়ে গাড়ির সিটে বসে
তোমার কথায় লজ্জা পাওয়া সেই সময়টা।

এ সবটা সময় তুমি ছিলে পাশে
মনের খুবটা কাছে,
সবটা আমার পরম পাওয়া।

স্মৃতির খাতায় হিসেব মিলাতে
চাইনি কভূ,চাইনা আজও।
ছিলে আছ, থাকবে তুমি
সাত জনমের স্মৃতিপটে।
……………………………………………

নিশি পথিক

পথ চলছে নিশিতের পথিক
হারিয়ে জ্ঞান দিক্বিদিক
কত শত অচেনা জন,
অজানা পথ
ধেয়ে আসে সম্মুখপানে।

শত জিজ্ঞাসেরে না দিয়ে জবাব
মুখ ফেরায় লয় ভীষন অদ্ভূদতায়;
দিন মাস বছর আরও কত শত যুগ
এমনই হয়তো যাবে যাক।

লোকালয়ে শত কোলাহলের ভীরে
একটি প্রানের আকুলতায়
খুবতো হয়না অলাভ।

সকল ছায়া আবছায়াদের
সঙ্গের সঙ্গী হয়ে পথিক
ভাবখানাএই;
তবুওতো মিলল এটুক
ঐ নিশিতেই ঠাঁই।।
……………………………………………

পোশাক

আমি এমন একটা পোশাক
যা সব ঋতুতে সব ধরনের মানুষেই
ব্যবহার করতে পারে যার যেভাবে খুশি।
কখনো সেচ্ছায়,কখনো অনিচ্ছায়
আমি নিজেকে ব্যবহৃত হতে দিই।
কখনো অন্যের উপকারে লাগছি বলে
খুশিতে হই গদোগদো।
কখনো বা দেখি
পোশাকের আড়ালে তাদের কুৎসিত মন
ইচ্ছে করে ছিন্ন ভিন্ন করি নিজেকে তখন।।
আমি মেনে নিই তাদের প্রয়োজনটা
আমি মানতে পারিনা অপ্রয়োজনে
আমাকে তাদের ব্যবহার করাটা।
আমি রিক্ত, আমি সিক্ত
আমি তাদের লজ্জা নিবারন করতে পেরেছি বলে।
আমি অনুতপ্ত,আমি বিরক্ত
আমি তাদের লালসার সঙ্গ দিয়েছি বলে।।
আমি আপ্লুত হই আমার জন্যই তাদের মুখে হাসি
আমি ব্যতীত হই আমাকেই ভাবছে অন্যকিছু..
আমি কখনো ভাবি ক্ষান্ত দিই এবার
আর কারো নিবারন হবোনা
হয়ে ওঠেনা;
তাদের লজ্জা আমায় লজ্জিত করে
আবারও ঝাপিয়ে পড়ি লজ্জা নিবারনে।
আবারও থামতে চাই
আবারও একই রকম…
জানিনা এর শেষটা কোথায়?