স্বপ্ন

শরৎ আকাশে দুধসাদা মেঘের আল্পনায়
গুচ্ছ গুচ্ছ কাশফুলের নরম ছোঁয়ায়
হাতে রেখে হাত বলেছিলে সেদিন
যাবে না ছেড়ে আমায় কোনদিন।

ভালোবাসার বিশ্বাসে আবদ্ধ হয়ে
রঙিন স্বপ্ন বুনেছিলাম তোমায় নিয়ে
স্বপ্নগুলো এখনো সতেজ আছে
শুধু তুমি নেই আমার পাশে।
…………………………………………..

শ্রাবণ বরিষায়

কালো মেঘের চাদরে
ঢাকা পড়েছে রোদেঝলমল আকাশ।

বর্ষার কদমফুলের সুঘ্রাণে
হঠাৎ আলতো করে কে যেন ছুয়েঁ
দিল আমার বদ্ধ ভুবন।

মুর্হূতে খুলে গেল
রঙিন স্বপ্নের বাতায়ন।

আখিঁ মেলে দেখি
শ্রাবন আকাশে তখনো
জমাট মেঘের বসতি।

হঠাৎ দেখি বৃষ্টি রাণী !
চোখে রেখে চোখ, বলছে আমায়
…চল সিক্ত হই আজ
এই ঘনঘোর শ্রাবণ বরিষায়।
…………………………………………..

একটি সোনালী দিনের জন্য

একটি সোনালী দিনের জন্য
কতশত রঙিন স্বপ্ন বুনেছি

কাল্পনিক সব স্বপ্নে-
অপরুপ বাগান বানিয়েছি

আকাশে বাড়ে মেঘের আনাঘোনা
রোদে ঝলমল প্রত্যাশিত দিন-
আর আসে না।

বড় বট গাছটার নিচে দাঁড়িয়ে
শুনেছি শনশন বাতাসের কানাকানি
আমিও ডাকছি-
সোনালী দিনের হাতছানি।

দেখতে দেখতে-
কতগুলো বসন্ত পার হল
একটি সোনালী দিনের জন্য..
…………………………………………..

অবহেলা

তোমার অবহেলায়
আকাশ কেদেঁছে আমার তরে
পাাহাড় গলেছে চোখের জলে।

তোমার অবহেলায়
শুকিয়ে গেছে সবুঝ বন
থেমে গেছে ফাগুনে বায়ুর শনশন।

তোমার অবহেলায়
রঙিন স্বপ্নগুলো মরে গেছে
সাগর শুকিয়ে মরুভুমি হয়েছে।

তোমার অবহেলায়
হারিয়ে গেছে বিশ্বাসের ছোঁয়া
মন হয়েছে নীল কষ্টের বোমা।

তোমার অবহেলায়
হৃদয় হয়েছে আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত
লোনাজলে দু’চোখ হয়েছে সিক্ত।
…………………………………………..

বর্ষার জলছবি

কাক ডাকা ভোরে
বিমর্ষ আকাশের নীচে
এক জলজ বার্তায়
ধরণী সিক্ত হওয়ার অপেক্ষায়।

শ্রাবণের অবিরত বর্ষণে বর্ষণে
গ্রামীন মেঠোপথ পরিনত হয়
চলাচল অনুপোযোগী কাদায়।

অপরিকল্পিত ব্যস্তময় নগরী
ভাসে দূষিত পানির স্রোত-ধারায়।

জীবিকার তাড়নায় বাধ্য হয়ে
কেউ বা ছুটে চলে সকল বাধা ডিঙিয়ে।

জলন্ত ক্ষুধা নিয়ে দিন-মজুর কিংবা
জলবন্ধী মানুষেরা অপেক্ষার প্রহর গুনে
বৃষ্টি কমে যাওয়ার প্রত্যাশায়।
…………………………………………..

নগ্নতা

স্নানের সময় জলের ধারায়
চক্ষু লজ্জায় খোলেনি কখনো
পিঠ থেকে সুতোর কাপড়।

অপরাধ বোধে থেকেছে সংযত
আড়ালে-আবডালে কোমল
দেহ হয়নি কখনো অনাবৃত।

নীল খ্যাতির অমোঘ টানে
উপরে উঠার চরম আহবানে
আকাশ সংস্কৃতির রঙিন ছোঁয়ায়
পরিবর্তন হয়েছে মানসিকতায়।

উবে গেছে আজ লাজ-লজ্জ্বার ভাঁজ
মেয়েটির এখন আধুনিকতার সাজঁ।

খোলামেলা পোশাকে,আলু-তালু চুলে
মিশে আছে অচেনা পুরুষের বাহুডোরে।

কর্পোরেট দুনিয়ার বদৌলতে
দেখছে তা, আজ তামাম লোকে!
…………………………………………..

কবি

প্রথম যেদিন খুব কাছে পেয়ে
আনন্দেরঅতিশয্যে বুকের মধ্যে
ঝাঁপিযে পড়েছিলে।

মেঘের পাল তখন খুশিতে মেতেছিল
নীল আকাশের বুকে।

ভোরের আলো ঝলমল করে উঠেছিল
মিলনের নির্মল সুখে।

আজ বিষাদময় একাকীত্ব রাতে
দেহের শিরা-উপশিরা নিস্তব্ধ নিরব থাকে।

অন্ধকার স্নানঘর থেকে উঠে আসে
বারে বারে রিক্ত প্রতিচ্ছবি
যার উষ্ণতায়হয়েছিলাম আমি কবি।
…………………………………………..

বাস্তবতা

সময় ছিল যখন
কাছে আসতে পারনি তখন

ভ্রুনের আকার-আকৃতি পেয়ে
বন্ধনের দেয়াল গেছে দাঁড়িয়ে।

ফিরে আসতে চাইছো তুমি
বেলা যে গড়িয়েছে অনেকখানি।

হ্যাঁ বলতে পারি না তাই
বাস্তবতার কাছে হার মেনে যাই।
…………………………………………..

মোহ

একাকী অলস সময়ে
ডুবে যায় ভার্চুয়াল প্রেমে

ও পাশের ছোট ছোট কথায়
ইনবক্সের মধুর মমতায়
ভালোলাগা ভালোবাসা
দিন দিন বেড়ে যায়।

অজানা এক মোহের টানে
সাময়িক আনন্দের আহবানে
হলুদ বোধে খুব গোপনে
মেলে ধরি সামাাজিক মাধ্যমে।
…………………………………………..

বেদনাহত স্বাধীনতা

বাাঁধভাঙা বিশ্বাসের ছোঁয়ায়
আত্মপরিচয়ে বেচেঁ থাকার প্রেরণায়-

লাখো লাখো বীর জনতা
বুকের তাজা রক্ত দিয়ে
এনেছিল আজকের এই স্বাধীনতা।

এখনো হয়নি তাদের প্রত্যাশিত স্বপ্ন পূরণ
স্বাধীন দেশে থেকেও পরাধীন বাংলার জনগণ।

এখন ও বন্ধ হয়নি খুন,গুম, ধর্ষন
স্বাধীন দেশে নিয়মিত চলছে
মারামারি-নাশকতা, শোষন-নির্যাতন।

স্বাধীনতার চেতনায় মুক্তিকামী দামাল দল
চায়নি তো রক্তে অর্জিত স্বাধীনতার
বেদনাহত এমন অপ্রত্যাশিত ফল !!