সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের নীরা আত্মঅন্বেষার এক নিগূঢ় জাগরণ। যতই তাকে রক্ত মাংসের মধ্যে খোঁজা হোক না কেন, যতই তাকে নারীরূপে দেখানো হোক না কেন, সুনীলের আর এক সত্তা ‘মনের মানুষ’কে আরশিনগরেই উপলব্ধি করা যায়। কেউ বলে ‘রানি’, কেউ বলে ‘নারী’, কেউ বলে ‘প্রেমিকা’— আসলে কেউই ঠিক বলতে পারে না। কবির বাউল সত্তায় সহজিয়া এক বোধের তীব্র আকুলতা এই নীরার জন্ম দিয়েছে। বাস্তবের স্পর্শে তাকে স্পর্শ করার তাগিদ জেগে উঠলেও তাই নীরা কখনো বাস্তব হয়ে ওঠেনি। এক দুর্মর রহস্যের অন্তরালেই সে বিরাজ করেছে। রবীন্দ্রনাথের ‘রাজা’ নাটকে রানি রাজাকে কখনো দেখতে পায়নি। কখনো হাত দিয়ে ধরতে পারেনি, অথচ রানি জানে রাজা আছে। রাজার কঠিন কোমল রূপও আছে। একটা ধারণার ব্যাপ্তি অনন্তের মহাসমারোহে বিরাজ করেছে। নীরাও এই অনন্ত প্রেমের আধার, অনন্ত নারীর আধার। সমূহ ধারণার অভিব্যক্তিতে তার উপস্থিতি এবং রহস্যময় গতিবিধির দোলাচল। নীরা বিষয়ক কবিতাগুলি সেই অভিমুখেই প্রক্ষিপ্ত এবং ব্যাপ্ত। জীবনানন্দ দাশের হাজার বছরের পথ হাঁটা এবং অন্ধকারের মুখোমুখি হওয়া যেমন বনলতা সেনের কার্যকারণে প্রতিফলিত অনন্ত জন্মের ঘোর, এই নীরাও তেমনি সমস্ত পুরুষ হৃদয়েরই নিবেদিত আশ্চর্য এক প্রেমের দীপ্তি যাকে ধরা যায় না অথচ মনে হয় হাতের নাগালেই অবস্থিত। যাকে উপলব্ধি করা যায়, মনের চোখ দিয়ে দেখা যায়, কিন্তু বাস্তবের রক্ত-মাংস-মজ্জায় প্রকৃতিস্থ করা যায় না। আসলে মনের মানুষ তো মনেই থাকে, মনের বাহিরে তাকে টেনে এনে দাঁড় করানোই কবির সাধনা।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় প্রেমের কবি, মিস্টিক চেতনার কবি। তাঁর কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে মরমিয়া ভাবালুতা। দেহকে উপলক্ষ করে দেহের বাহিরে অর্থাৎ দেহাতীত হওয়া। কামকে পবিত্র প্রেমের আলোয় পরিণত করা। ষাঁড়ের মাথায় লাল কাপড় বাঁধলেও তিনি পূজার জন্য ১০৮ টা নীলপদ্ম তুলতে ভোলেন না। ঘুমন্ত কুমারীর ঊরুতে রাখেন কামহীন হাত। ভালোবাসা বলতে শুধু সুখ নয়, তিনি নির্বাসনকেই বোঝেন। সেই কবি যখন নীরার কাছে হাঁটুমুড়ে বসেন তখন সঙ্গম প্রার্থনা করতে নয়, পূজা করতে, আত্মনিবেদন জানাতে। ভোগের শরীরী মাধুর্যে তাকে লাভ করা কবির উদ্দেশ্য নয়। ‘আমি কীরকমভাবে বেঁচে আছি’ কাব্যের বেশ কয়েকটি কবিতায় নীরার ব্যাপ্তি এবং মিস্টিক বোধের পর্যায়টি প্রথম থেকেই জানিয়ে দেন। ‘হঠাৎ নীরার জন্য’ কবিতার প্রথম পঙক্তিটিই মহাকালের দরজা খোলে :
“বাসস্টপে দেখা হল তিন মিনিট অথচ তোমায় কাল স্বপ্নে বহুক্ষণ”
‘তিন মিনিট’ কয়েকটি মুহূর্ত মাত্র, কিন্তু মুহূর্তই তো মহাকালের অংশ। এই মুহূর্তই স্বপ্নের বহুক্ষণ ধারণ করল। ‘বহুক্ষণ’ যে অনন্তকাল অর্থাৎ মহাকালের সমারোহে অভিগত সে সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই। কেননা পরবর্তী অংশে কবি ব্যাখ্যা করলেন :
“দেখেছি ছুরির মতো বিঁধে থাকতে সিন্ধুপারে
দিকচিহ্নহীন-
বাহান্ন তীর্থের মতো এক শরীর,হাওয়ার ভিতরে
তোমাকে দেখেছি কাল স্বপ্নে, নীরা, ওষধি স্বপ্নের
নীল দুঃসময়ে।”
‘দিকচিহ্নহীন’ শব্দটিতে ব্যাপ্তির অনন্ত প্রসারকে তুলে দিলেন, তেমনি ‘বাহান্নতীর্থের মতো এক শরীর’ লিখে দেবী মহামায়ার স্বরূপকে উন্মোচিত করলেন। এই নীরা তো সেই নীরাই যাকে কাল সীমানাহীন অনন্তের আধারে উপলব্ধি করা যায়। এই কবিতাতেই ‘তুমি’ সর্বনামটি ব্যবহার করে নীরাকে মানবীর এক সম্বোধনের বলয় কবি তৈরি করতে চেয়েছেন। আসলে অনন্তের প্রজ্ঞাকে ধরতে চেয়েছেন। নিজস্ব করে তুলতে চেয়েছেন। রামকৃষ্ণদেবের মতো মান-অভিমানের ভেতর একাত্ম করে গড়তে চেয়েছেন। এসবই সাধনায় উৎসারিত উপলব্ধির ভাষা। সম্পর্কের ক্ষেত্র তৈরি করা মাত্র। কবি যখন বলেন :
“তুমি আজই কি ফিরেছো ?”
তখন তো মানবীর জিজ্ঞাসাই হয়ে ওঠে, কিন্তু অনন্ত রহস্যকে আপন করে তুলতে তো এই ভাষাই ব্যবহার করতে হয়। রামকৃষ্ণদেব তো ‘শ্যামা মা’কে এই ভাষাতেই কথা বলতেন। কবি সচকিত হয়ে দেখেন : ‘তোমার দিগন্ত, দুই ঊরু ডুবে গেছে নীল জলে’— তখন তো ‘তোমার’ সর্বনামটিও কোনো নারীর হতে পারে না, কারণ দিগন্ত এবং দিগন্তের নীল নারী নয়, অনন্তময়ী শক্তির আধার। এই শক্তিকেই সুনীল পূজা করেছেন। শিল্পী Hans Hofmann এই মিস্টিক চেতনা সম্পর্কে বলেছেন : “The whole world, as we experience it visually, comes to us through the Mystic realm of color”
অর্থাৎ পুরো বিশ্ব, যেমনটি আমরা এটি দৃশ্যত অনুভব করি, রঙের রহস্যময় অঞ্চলের মাধ্যমে আমাদের কাছে তা আসে। সমগ্র বিশ্বেই ছড়িয়ে আছে যে রং তা তো মিস্টিক চেতনারই রং। কবিও যা দেখেন, শিল্পীও তাই দেখেন। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সেই রংকেই কবিতায় ‘নীলজল’ হিসেবে পেয়েছেন। জার্মান ও আমেরিকান শিল্পীর এই মিস্টিক বোধের অভিজ্ঞতাই ‘নীরা’ বিষয়ক কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে। মিস্টিক চেতনার রাজত্বে সব নারীর মুখেই নীরার প্রতিফলন ঘটেছে। সব কথাতেই নীরার কথা হয়ে উঠেছে। একীভূত এই পর্যায়টিকেই কবিতায় বারবার তুলে ধরেছেন। ‘অপমান এবং নীরাকে উত্তর’ কবিতাতেও দেখা যায় এই পরিচয় :
“সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে কেন হেসে উঠলে সাক্ষী রইল বন্ধু তিনজন”
সেই মানবীর ক্রিয়ারই সমীক্ষণ। স্পর্শ করা থেকে ঘ্রাণ নেওয়া সবেতেই কবি তার আবহাওয়াটি রচনা করেছেন। ‘নীরার জন্য কবিতার ভূমিকা’তেই বোঝা যায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় নীরাসত্তার ভেতর কীভাবে নিজেকে ছড়িয়ে রেখেছেন। যাবতীয় সৃষ্টিতেই নীরার অভিক্ষেপ যেমন, তেমনি দৃশ্য এবং অদৃশ্য প্রজ্ঞার মধ্যেও নীরার জাগরণ ও অবস্থিতি নিগূঢ়ভাবে কার্যকরী ভূমিকা নিয়েছে। নীরা যে পবিত্র এক আত্মার ধারণা, ভোগের কামমুহূর্ত নয়, কবি তা খোলসা করেছেন :
“আমার সম্পূর্ণ আবেগ
শুধু মোমবাতির আলোর মতো ভদ্র হিম,
শব্দ ও অক্ষরে কবিতায়
তোমার শিয়রের কাছে যাবে— এরা তোমাকে
চুম্বন করলেও
তুমি টের পাবে না, এরা তোমার সঙ্গে সারারাত
শুয়ে থাকবে
এক বিছানায়— তুমি জেগে উঠবে না, সকালবেলা
তোমার

পায়ের কাছে মরা প্রজাপতির মতো এরা লুটোবে।
এদের আত্মা মিশে
থাকবে তোমার শরীরের প্রতিটি রন্ধ্রে, চিরজীবনের মতো

বহুদিন পর তোমার সঙ্গে দেখা হলে ঝর্ণার জলের মতো
হেসে উঠবে কিছুই না জেনে। নীরা, আমি তোমার অমন

সুন্দর মুখে বাঁকা টিপের দিকে চেয়ে থাকবো।
আমি অন্য কথা
বলার সময় তোমার প্রস্ফুটিত মুখখানি আদর
করব মনে মনে
ঘরভর্তি লোকের মধ্যেও আমি তোমার দিকে
নিজস্ব চোখে তাকাবো।
তুমি জানতে পারবে না— তোমার সম্পূর্ণ শরীরে
মিশে আছে
আমার একটি ব্যক্তিগত কবিতার প্রতিটি
শব্দের আত্মা।”

একই দেহে দুই সত্তার বসতি। এক সত্তা যেন আর এক সত্তাকে দ্যাখে। এই সত্তা আর এক সত্তাকে কবিতায় নিরীক্ষণ করে। সেই সত্তাই তো শক্তির উৎস। নিজেকে নিজেই আদর করা, চুম্বন করা, একই বিছানায় শুয়ে থাকা, পায়ের কাছে মরা প্রজাপতি হয়ে লুটানো। চিরজীবনের মতো আত্মায় মিশে থাকা আর কে হতে পারে? সেই সত্তাকেই খুঁজে পেতে চেয়েছেন নিজের মধ্যে। জলের মতো কখনো হেসে উঠে, কখনো সুন্দর মুখে বাঁকানো টিপের দিকে চেয়ে থেকে, আত্মপ্রেমের গভীর পর্যায়টি নার্সিসিজমে পৌঁছাতে চেয়েছে। বিখ্যাত দার্শনিক Erich Fromm তাঁর The Art of Loving-এ বলেছেন : “I must try to see the difference between my picture of a person and his behavior, as it is narcissistically distorted, and the person’s reality as it exists regardless of my interests, needs and fears.” অর্থাৎ আমার অবশ্যই একজন ব্যক্তির আমার ছবি এবং তার আচরণের মধ্যে পার্থক্য দেখার চেষ্টা করতে হবে, কারণ এটি ন্যারিসিস্টিস্টিকভাবে বিকৃত, এবং ব্যক্তির বাস্তবতা যেমন রয়েছে তা আমার আগ্রহ, চাহিদা এবং ভয় নির্বিশেষে বিদ্যমান। শিল্পীর স্বীকারোক্তির মধ্যদিয়েই কবিরও সত্তার এই রূপের ভিন্নতা রয়েছে। নিজেকে নিজের মতো করেই সেই সত্তার নির্মাণে উপস্থিত করেছেন। তার পবিত্রতা ধরে রাখতে চেয়েছেন। নীরা যে প্রেরণা দিতে পারে, নির্বিকল্প মানুষ করে তুলতে পারে সে কথাও জানান কবি। ‘এসেছি দৈব পিকনিকে’ কাব্যের ‘নীরার কাছে’ কবিতায় তাই বলেছেন : ‘যেই দরজা খুললে আমি জন্তু থেকে মানুষ হলাম।’ এই বিবেকের জাগরণ তো একটা নতুন রূপান্তর কবিসত্তার। কবিকে নির্মোহ করে গড়ে তুলেছে। ‘সোনার মুকুট থেকে’ কাব্যের ‘নীরা তুমি’ কবিতায় কবি দার্শনিক হয়ে গেছেন। যে নদীর সহবাসে কবির দিন কাটে সে গৌতম বুদ্ধকেও দেখেছিল। কবি যে সেই দীক্ষিত তপস্বী হয়ে উঠেছেন তা বলাই বাহুল্য। ‘আকাশ পোশাক হতে বাকি নেই’ বলেই কবি মহাশূন্যের বিস্তারে ছড়িয়ে দিয়েছেন।
‘বাতাসে কিসের ডাক শোনো’ কাব্যে ‘নীরা তুমি কালের মন্দিরে’ কবিতায় নিজের আত্মবিষাদের ভেতর নীরার বিষাদকে স্পর্শ করেছেন। নীরা প্রকৃতির বিস্ময় নিয়ে জেগে থেকেছে। অর্থাৎ কবি নিজেকে প্রকৃতির ভেতর ছড়িয়ে দিয়েছেন। তাই ব্যক্তিবোধ এখানে নেই। প্রকৃতি চেতনায় নীরা আরও দূরগামী, রহস্যময়ী :
“অরণ্যের এক প্রান্তে হাত রেখে নীরা কাকে বিদায় জানালো
আঁচলে বৃষ্টির শব্দ, ভুরুর বিভঙ্গে লতাপাতা
ও যে বহুদূর,
পীত অন্ধকারে ডোবে হরিৎ প্রান্তর
ওখানে কী করে যাবো, কী করে নীরাকে
খুঁজে পাব?”
সত্তার এই বিস্তার মৃত্যুচেতনা অথবা আবহমান পঞ্চভূতে বিলীন হওয়ারই নামান্তর। তখন তো ব্যক্তি থাকে না ।নীরা নামে কোনো একক বিশেষ্য কবির নিজস্ব আরাধ্য হতে পারে না। স্বাভাবিকভাবেই সংশয় জেগে উঠেছে। প্রাণের আকুলতাও দেখা দিয়েছে। ‘জাদুকরী জাদুকরী’ শব্দটির দ্বিরুক্তিতে তা স্পষ্ট। ‘সেই মুহূর্তে নীরা’ কাব্যের নাম কবিতায় লিখলেন :
“অমনভাবে দাঁড়িয়ে থাকো একটুক্ষণ, নীরা
যেন অলীক না মনে হয়
মিলিয়ে যেও না”
প্রাণের ঐশ্বর্যে, ভাবনার সংরাগে এবং কল্পনার মহিমায় যাকে আত্মস্থিত ব্যঞ্জনায় সংগঠিত করা যায়, তাকে তো দুচোখ ভরে কবি দেখতেই ভালোবাসেন। হারিয়ে না যাওয়ার আকুলতা এই কারণেই। কিন্তু সময়ের প্রবল স্রোতে তা ভেসে যায়। অনন্ত কি স্থির হতে পারে ?
আত্মরতির ছায়া যত দীর্ঘই হোক তা শূন্যতায় গিয়ে একসময় বিলীন হয়ে যায়। যা সত্য তাই পড়ে থাকে তা হল প্রাণের আকুলতা। ‘সত্যবদ্ধ অভিযানে’ কবি লিখেছেন :
“এই হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ
আমি কি এ হাতে কোনো পাপ করতে পারি?”
এই বিবেক জাগ্রত করার পক্ষে নীরারই প্রয়োজন ছিল। শরীরকে পেয়েও ত্যাগ করা এবং পার্থিব আসক্তি থেকে মুক্তির সোপানে উপনীত হওয়া সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কাব্যের মূল বিষয়। তাঁর জীবন সাধনায় নীরার টংকার সেই প্রেরণা হিসেবেই প্রাপ্ত হয়েছে। কবি স্বীকার করেছেন :
“নীরা, তোমার কাছে আমি নীরার জন্যে রয়ে গেলাম চিরৠণী—”
নীরার কাছে নীরার জন্য ৠণী হওয়া বলাতেই বোঝা যায়, এই নীরা বাইরের কেহ নয়। রবীন্দ্রনাথের মতো ‘অন্তর মাঝে অন্তরতম’ এই নীরা। Hans Hofmann তাঁর আর্টিস্ট জীবন নিয়ে বলতে গিয়ে যেন একথাই বলেছেন :
“My aim in painting as in art in general is to create pulsating, luminous and open surfaces that emanate a mystic light, determined exclusively through painterly development, and in accordance with my deepest insight into the experience of light and nature.”
অর্থাৎ “সাধারণভাবে শিল্পের মতো পেইন্টিংয়ের আমার লক্ষ্যটি হ’ল স্নিগ্ধ আলো, উদ্দীপনা এবং উন্মুক্ত পৃষ্ঠগুলি তৈরি করা যা একটি মরমী আলো উদ্ভাসিত করে, প্রকৃতির অভিজ্ঞতার আমার গভীর অন্তর্দৃষ্টি অনুসারে।
প্রকৃতি এবং জীবনই কবি ও শিল্পীকে চিরদিন ভেতর থেকে প্রেরণা দিতে পারে। স্পন্দিত ভাস্বর করে তুলতে পারে। চোখে স্বর্গ স্মৃতি' এবংওষ্ঠে অমরতা’র চিহ্ন কবি দেখতে পেয়েছিলেন যা Pulsating এবং Luminous এর ধারক হয়ে উঠেছিল। তাই নীরা হৃদয়জাত এক অতিশরীরী বোধের চিরন্তন ও অমোঘ শক্তি— যার রূপ দেখার ক্ষমতা একজন প্রকৃত শিল্পীরই থাকে।