পাশের বাড়ির ছেলেটি

পাশের বাড়ির ছেলেটি
চেয়ে থাকে বোকার মতো,
সকাল বল, দুপুর বল
সারাক্ষণই অবিরত।

সারাক্ষণই মুখের মাঝে
ফুটিয়ে রাখে লাজুক হাসি,
সেই হাসিতে কেমন করে
আমার গলায় পড়ল ফাঁসি!

বুঝতে আমি পারিনি হায়
কখন যেন হই উদাসি,
তবুও কেন বলে না সে
ভালবাসি, ভালবাসি।

বাড়ির পাশের সেই ছেলেটি
এখন আমার হৃদয় জুড়ে,
অব্যক্ত এই ভালবাসায়
কী ভয়ানক হৃদয় পোড়ে।
…………………………………………..

হারিয়ে যাওয়ার ঠিকানা

হতে পারি কেবলই তোমার
তবে একবার- শুধু একবার
পরখ করে দেখতে চাই
তোমার দেয়া এই ভালোবাসার রঙিন গোলাপ
কতটা নিষ্পাপ!

কতটা নিষ্পাপ তোমার মনের ব্যাকূলতা
কতটুকু পোড়ালে মন খাঁটিসোনা হয়
জানি না।

তবে
তোমাকে এতটুকু পুড়িয়ে গড়ে নেব হৃদয় রঙে।

তারপর
আমার সকল আমিকে
রেখে দেব তোমার পায়ে
তুমি ফরহাদ হবে, আমি হব শিরি…

অতপর
দু’জনে একসাথে গড়ে নেব
দু’জনের হারিয়ে যাওয়ার ঠিকানা।
…………………………………………..

তোমায় খুঁজি

কে যেন বাজায় বাঁশি
অনতিদূরে
মোহন সুরে।

সেই সুর ছুঁয়ে গেলে
অবলা কিশোরী হৃদয়
তাতে কার দায়!

ছুটে গেলে খুঁজে নিলে এমন মোহন বাঁশি
তাতে কি হয়ে যাবে ফাঁসি?

ভাবাতুরা মন
ছোটে সারাক্ষণ
কী ব্যাকুল খুঁজে ফিরে সুরেলা জীবন।
…………………………………………..

শরৎ এলো আজ

শরৎ এলো নানা ফুলের সমরোহে
শরৎ এলো বিলের ধারে
উদাস দুপুর খেলা।
মাছরাঙা ও ঠোটেঁ হাসে।

শরৎ এলো বলে
ফুল ফলদের মেলা।
চতুদিকে ছড়িয়ে পড়ে
মুক্তা রাশি রাশি।

শরৎর মৃদু হাওয়া
সারা পল্লি জুড়ে
মাতাল হাওয়া স্বপ্নের জ্বাল বুনে
শরৎর গন্ধে

সুবাস ছড়িয়ে পড়ে বুকে
খুশির ঢেউ সুখে।
শরৎ এলো আজ সবাই
মিটি-মিটি হাসছে।
…………………………………………..

তোমাকে চাই

ভোরের স্নিগ্ধ আভায় আমি
তোমাকে চাই
সকালের সোনালী আলোয় আমি
তোমাকে চাই।
দুপুরের দীপ্ত প্রভায় আমি
তোমাকে চাই
বিকেলের নরম রোদে আমি
তোমাকে চাই,
সন্ধ্যার বিষণ্ন ব্যথায় আমি
তোমাকে চাই
রাতের নিঘূঢ় সুখে আমি
তোমাকে চাই,
সারাটি জীবন শুধু তোমাকে চাই
তোমাকে
তোমাকে
তোমাকে
শুধু তোমাকে চাই।
…………………………………………..

তুমি আর আমি

আমার হৃদয়ে তুমি
তোমার হৃদয়ে আমি
ধীরে
ধীরে
চুপি
চুপি
দুজনে নামি,
সব দ্বিধা ধুয়ে ফেলে
স্বপ্ন দিয়েছি মেলে
হলে হোক, হয়ে যাক ঘোরতর
বদনামি,
ভালো যে বেসেছি দু’জন
দু’জনে
জানেন অন্তর্যামী।
…………………………………………..

সুখের ব্যথা

বৃষ্টি ঝরে বুকের ভিতর
বৃষ্টি ঝরে চোখে
বৃষ্টি ঝরে মনের কোনে
কোন সে ব্যথার দুঃখে।

ঝড় বয়ে যায় সঙ্গোপনে
কাঁপছে হৃদয় পাড়া
এই যে কেমন সুখের ব্যথা
মন দিয়ে যায় নাড়া।

মনের ঘরে মন থাকে না
কোন সে দূরে পালায়
নাওয়া খাওয়া ঘুম পালালো
অদ্ভুত এক জ্বালায়।
…………………………………………..

হেমন্তেরি পরশ

গাঁয়ের মাঠে সোনালী ধান
সোনা রঙে হাসে
খুশির ঝিলিক চাষীর মুখে
আবীর হয়ে ভাসে।

কত্ত রকম স্বপ্ন যে তার বুকে
লালন করে
কাটবে ফসল ভরবে গোলা
আর কটা দিন পরে।

মনের মাঝে সুখের পরশ
গু্নগুনাগুন গান
ফুলে ফুলে অলির নাচন
পাখির কলতান

মৌ মৌ মৌ চারিদিকে পাক্কা
ধানের গন্ধ
ক্যাচুর-কুচুর ঢেকির পাড়ে
লাগে যে আনন্দ

শিশির জমে ঘাসের বুকে দেয়
ভিজিয়ে পা
দেখতে যদি চাও হে বন্ধু,
এসো আমার গাঁ ।
…………………………………………..

ফেইসবুক

চৌদিকে প্রেম জমেছে ফেইসবুকে
চৌপাশের ভাবনা যায় সরে,
ফেইসবুক ইন্টারনেট
ছিটিয়ে দেয় শিহরণ

ফেসবুক দিচ্ছে নিরাপত্তা আর কী লাগে পাত্তা
নিরীহ রাত্রী উদাস দুপুর লুকিয়েছে ফেসবুকে
ঘুমহারা চোখে নির্বিবাদে কথা শেষ হয়না।
এক ফোঁটা রঙিন স্বপ্ন মনে জাগে ভোরের বাসনা।

হয়তো ভালবেসে সুখী হবে এমনই বিশ্বাস
আবেগ স্নিগ্ধ স্মৃতি অবিশ্বাসী জালবুনে,
ঢেউরা এই যে লুটিয়ে পড়ে সাগরের তীরে
আনমনে হারিয়ে যায় কোনো যুক্তি পায়না

জীবনের ইচ্ছাগুলো ঘুমিয়ে পড়েছে শেষরাতে
যেদিন প্লাবন হবে সব ভুবে যাবে অন্ধকারে
তখন সবুজ সোনালি দিন ছাইতেপরিণত হয়।
…………………………………………..

ব্যালন্স ও বিচ্ছেদ

উষ্ণতায় মুখ লুকাতে তুমি কাঁদছিলে
কথা ফুরাবার আগে হৃদয়টি
পুঁড়ে ভালবাসার কুটিরে,
অন্বুরিত স্বপ্ন লালন বুকের জমিনে।

তোমার পান্জাবীর ঘ্রাণ ফারফিউমের গন্ধ
আজো ঝাঝরা বুকের ভিতর।
দক্ষিনের হাওয়া তাড়াদেয় তুমি এসেছো বলে।
কখনো স্রোতে ভাসো জীবন নৌকায়।

প্রেমের বীজ বুনেছি ছোট্ট কুটির ঘরে,

কাউন্টারে গিয়ে দেখি তোমার ফেলে-যাওয়া
কফির অর্ডার, টিসু, নীরবে কাঁদছে উৎকীর্ণ
ফেসবুকে পাইনা তোমার দামী ম্যাসেজ!

তুমুল প্রহরে দেশন্তরে অসময়ে চেয়ে আমি
এখন আর ব্যালন্স শেষ হাওয়ার ভয় নেই।