অনিশ্চিত জীবন

মানবিক জীবনের শেষ মূল্যায়ন—
ভাঙ্গা কেদারার মতোই অনিশ্চিয়তা
জেনে যাওয়া বহুরূপী মানব সত্ত্বা
মুখেই শান্তনা, তলে তলে সর্বনাশ !

অবিশ্বাসে মোড়ানো জীবনে
কোথাও নেই এতটুকু আস্থা ,
কুঠার আঘাতেই দুমড়ে পড়ে সজীবতা
হয় না অঙ্কুরিত নতুন চারা ৷

সৃজনশীলতা ম্লান প্রায়
মুখোশের আড়ালেই—
বিকট দাঁতে হাসে অসুর ৷
ছায়াময় হয়ে যায় নিজ সত্ত্বা…
…………………………………………..

তোমার মতো কেউ নেই

চাঁদ চাঁদের মতোই—
তোমার মুখের মতো হতে
দেখিনি কোনদিনও!

মেঘ মেঘের মতোই—
তোমার চুলের মতো নয়৷

সমুদ্র সমুদ্রের মতোই—
তোমার চোখ হবে না কোনদিন৷
তাই পাহাড় পর্বতে নয়—
সমুদ্রের জল ধরে হেঁটে যাই
নোঙর সে—তোমার চোখের তীরে৷

সত্য এই—
তোমার মতো কেউই নেই৷
…………………………………………..

আড়াল

তোমার সান্নিধ্য
এড়ানোর সাধ্য কার ?
তোমার পরশ হতে, এ জীবন—
করা যায় না আড়াল৷

এ পৃথিবীতে কে আছে
উপেক্ষা করে তোমায়!

যত ক্ষিপ্রতা থাকুক
ছন্দে হারবে তোমার৷
তোমায় মাথা নুয়েই—
টানে যবনিকা

তুমিই চির সুন্দর
প্রমানিত ধ্রুব সত্য৷

অথচ তুমি সর্বদা—
নিজেরে রাখো আড়াল!
…………………………………………..

মায়াজাল

নীল আকাশের মেঘের পাতায়
হারিয়ে যেতে যেতেই
মায়াজালে ডুবে নিরুদ্দেশ৷

তুমি যে সময়ে…

সেদিনই হয়েছিল শুরু—
ভালোবাসার বর্ণিল দিনলিপি
ভালোবেসেই করেছিলাম বিষপান৷

ক্ষয়ে যাওয়া কৃষ্ণপক্ষ চাঁদের পরে
মরা জোছনার রাতে—
স্পর্শ করতে চাই তোমার হাত৷

উত্তর তো নেই…
রাতের জারুলে শিষ দেয়—
রাত জাগা পাখি ;
মুছে যায় স্বপ্নটুকু ৷

তবুও এঁকেই যাই—
ভালোবাসাময় রামধনু!
…………………………………………..

ঘুরে গেলো এবার চালটা দাবার

মৃত্যুর কাছে থেকেও করোনি চেষ্টাটা এতটুকু ভাবার
সকল অনাচারে নিয়েছো কেড়ে অন্যেরই মুখের খাবার
নিজ স্বার্থে ধ্বংসে মেতে উড়ালে কত জয়রথ
কুঠার আঘাতে বানালে সকলেরই মৃত্যু পথ
প্রকৃতির প্রতিশোধেই ঘুরে গেলো এবার চালটা দাবার!
…………………………………………..

উঁকি দিয়ে যায় নীল জানালায়

সময়ের বির্বতনে, অমৃতকে ফেলে
আদিম ডাকে সাড়া দিয়েই
প্রাণের সত্ত্বায়
আলোকের বিচ্ছুরণে
ফেলে নিঃসীম অন্ধকার আর
সুবিপুল জলরাশি;

একটা স্থায়ী সূত্রের প্রত্যাশায়
অচেনা অজানা পথে
এই চরাচরে,অদৃশ্য মননে—
মিছে অমরত্বের আশায় বেড়ে চলা৷

মায়াময় তৃষিত জীবনে
কত বিভেদের বেড়াজালে
স্বপ্নযাত্রায় আরোহী হয়ে—
অবদমিত প্রকৃতির বিধান৷

অথচ রয় সঙ্গেই আর—
উঁকি দিয়ে যায় নীল জানালায়
সীমাহীন একাকী মরণ!
…………………………………………..

কালের পরীক্ষা

কালের অদ্ভূত আর্বতনে
সব হয় পরাজিত
কালেই বিলীন হয় সব৷

কালই সর্ববৃহৎ শক্তি
তা যদি না হতো—
যাদব শ্রেষ্ঠ মহাজ্ঞানী ও মহারাজ
বাসুদেব ভাগিনেয়
আর মহাবীর পার্থপুত্র—
অভিমন্যুকেও
মিথ্যা মায়া চক্রব্যূহে—
পরাজিত হতে হতো না অন্যায় যুদ্ধে৷

সেই বিজয়ী হবে, যে—
কালের ব্যূহ ভেদ করবে
উত্তীর্ণ হবে কালের পরীক্ষায়৷

অদৃশ্য শক্তির বলে
সর্বদাই জিতে যায় কাল!
…………………………………………..

নিয়তির রাশিফল

তুমি এক পূর্ণিমার চাঁদ
হঠাৎ আসো হঠাৎ যাও—
প্রতীক্ষায় থাকে মন৷

তোমার ছন্দেই—
স্বপ্নজাল বোনে মন৷

গ্রহণে ঢেকে যায় পূর্ণিমা চাঁদ
আমি থাকি তবু প্রতীক্ষায়—

জন্ম জন্মান্তরে সখা তুমি
তোমার জন্যই—
ক্ষয়িষ্ণু হ্নদয়ে ফুটলো ক্ষরণের পঙ্কজ৷

খুঁজে বেড়াই কৃষ্ণচূড়ার লালে
আর নিয়তির রাশিফলে৷
…………………………………………..

শেষ আশ্রয়

ভুলে নিজের শেকড় টান—
হঠাৎ পাওয়া সাফল্যে ও চাকচিক্যে
পিপীলিকার পাখায় উড়ে চলা
মাটি-মানুষের গন্ধে, নাক সিটকানো৷

মৃত্যু দূত হয়ে, আগুন কুন্ডলী নিয়ে
ওৎ পেতে রয় বাজ পাখি
প্রখর নখের আঁচড়ে, থামা হ্নৎপিন্ডের
শেষ আশ্রয় এ মাটিতেই৷
…………………………………………..

অসীম শূন্যতায়

কত শত বিজ্ঞাপন—
পেপারিং, ব্যানার—ফেস্টুন
প্রচারণায় কত অভিনব কৌশল৷

পরিচিতির নিরন্তর লড়াই
চিন্তাটা অমরত্বের!

একটা সময় পর—
এক বিলাসিত ও রঙীন
জীবনের শেষে
জুটে একটা শোক ব্যানার
স্মরণ সভায় স্মৃতি হাতড়ানো৷

একদিন, দুইদিন,কিছুদিন…
আর আলোচনা নেই মহল্লার—
চায়ের দোকানে, ক্লাবে, ফাংশনে
শোকের ব্যানারে জমে ধুলাস্তূপ
প্রখর রৌদ্রতাপে বিবর্ণ হয় ছবি৷

ব্যাকুল হয় না কেউ—
ভাবেও না কেউ—
প্রতীক্ষায় কেউ ভেজায় না চোখ৷

সময়ের দিনলিপিতেই
মিথ্যে আয়োজন সব—
মিলিয়ে যায় চিরন্তন অসীম শূন্যতায়…