রঙ্গরসের রাজা

খোকনসোনা বাঘ ধরেছে
ভাত খেয়েছে পাতের,
কাল খেয়েছে মাছের মাথা,
দুধ খেয়েছে রাতের।

খোকনসোনা কান্না করে
ডাকছিলো তার মাকে,
বাঘের কথা শুনে মায়ের
সর্দি বাড়ে নাকে!

দৌড়ে আসে পল্টুমনাই
দৌড়ে আসে বাপে,
খোকার কাছে আসার পরে
বুকটা কারও কাঁপে!

দু-চোখ মেলে দেখলো সবাই
ছোট্ট একটি ছানা,
তাও আবার বিড়ালমশাই;
চোখ দুটি তার কানা!

রূপকথারই গল্প শুনে
রোজই দাদার মুখে,
বাঘ ধরা তাই স্বপ্ন বুনে
রাখছিলো তার বুকে।

দেখতে বিড়াল বাঘের মতো
সেটাই খোকা জানে,
ফিসফিসিয়ে বললো তা আজ
তার মায়েরই কানে।

খোকার মায়ে হেসে বলে
দেবোনা আজ সাজা,
বড় হলে তুই যে হবি
রঙ্গরসের রাজা।
……………………………………………

শীতের বুড়ি

থরথরিয়ে কেঁপে বুড়ি
কনকনিয়ে আসে,
ঘাসের পাতায় শিশির দিয়ে
ঝলমলিয়ে হাসে।

কুয়াশার ঐ আঁধার কেটে
সূর্য্যিমামা ওঠে,
মিষ্টি আলো রঙ ছড়ালো
সূর্য্যিমামার ঠোঁটে।

শীতের বুড়ি আসছে এখন
থাকবে ভীষণ কাজে,
শষ্যতে মাঠ যাবে ভরে
সকাল-দুপুর সাজে

শীতের বুড়ি শীতকালেতে
আনন্দ দেয় মনে,
খোকনসোনার ইচ্ছেটা খুব
থাকতে বুড়ির সনে।
……………………………………………

হেমন্তের রূপ

পাকা ধানের হলুদ পাতায়
শিশিরবিন্দু জল,
ক্ষেতে উপর রাঙাফড়িং
বেঁধে বেড়ায় দল।

সোনারঙের ফসল দেখে
মন করে আনচান!
কচাৎ কচাৎ- কাটে চাষী
মাঠের পাকা ধান।

গাড়িয়ালভাই ভাওয়াইয়া গায়
শুনে জুড়ায় প্রাণ,
সবুজ গাঁয়ের কিষানবধু
সুখে পাতে কান।

হাটবাজারে সব্জি আসে
খেতে ভারি স্বাদ,
নতুন তাজা ফসল দেখে
মিটে মনের সাধ।

ফিরে এলো হেমন্ত যেই
শরৎ হলো চুপ,
বাংলা মায়ের হেমন্তকাল
দেখতে অপরূপ।
……………………………………………

খুকির পুতুল

খুকির পুতুল হাঁটতে পারে
খুকির পুতুল খায়,
খুকির পুতুল পড়ার তরে
ইশকুলেতে যায়।

খুকির পুতুল নাচতে পারে
গাইতে পারে গান,
খুকির পুতুল রেগে গেলে
করতে পারে মান।

খুকির পুতুল আঁকতে পারে
পান সুপারির গাছ,
খুকির পুতুল আয়না বানায়
ভেঙে টুকরো কাঁচ।

খুকির পুতুল কান্না করে
জলে ভাসায় ঘর,
তার জন্যেতে আনলো যখন
মোটাতাজা বর।
……………………………………………

পল্টুমনাই

পল্টুমনাই ফেসবুকেতে
ছড়া লেখে ‘হইচই’,
এই ছড়াটি লিখতে গিয়ে
খুলেনি সে বইটই।

সবাই লেখে সাদা খাতায়
পল্টু লেখে মেইলে,
ছড়া পড়ে লাইক দিয়েছে
ক্রিকেটার গেইলে!

কমেন্টেতে নাইস দিয়েছে
ইনবক্সে গাড়ি,
পড়াশুনা ঘুরে বেড়ায়
রাঙামামার বাড়ি।

পল্টুমনাই খুশি হয়ে
গড়ে ক্রিকেট টিম,
বছর ঘুরে সব বিষয়ে
পায় যে ঘোড়ার ডিম।