কাজল-লতা

বয়েসের কালিও হয়েছে গাঢ়-
নিস্তব্ধ রাতে ঘুমন্ত পাখী ডানার মতো;
বুদ্ধির নিরিখ সমৃদ্ধিকে জানিয়েছে শূণ্য-
যেন তোমার দু’চোখের কাজলের আঁচড় !

রিক্ত করেছো হৃদয় তোমার শূন্যতায়-
অজস্র আদিম শূণ্যের মঝে,
প্রহেলিকা কুয়াশা ঘেরা-
স্মৃতির নিগূঢ় নামহীন গভীর অতলে !!
…………………………………………..

রাজা-রানীর পথ ও ওরা-তারা

রাজপথে তাহাদের মুখ! অগ্নুত্পাতে
তাদের নিঙরানো শরীরে,
লাল গলিত নিষ্পাপ লাভা !
রাজপথে স্তব্ধ ভাষাহীন দর্শক-
লাভার তাপে-তপ্ত খণ্ডিত দেহের পাশে
মুখোশ পরা চোখে-নাকে, সিক্ত রুমালের
ফাঁকেই করুণা দৃষ্টি-তর্যা গানের আসরে-
ঘোষণা- তাদেরই ‘আমরা ‘ !

‘রাজা-রানীর পথে’, খোঁড়া পায়ে, পোকা
ধরা ঘায়ে শুকনো চামড়ার দিকভ্রষ্ট-
নাগরিকের প্রমাণ শুধুই ‘ওরা’;
রাজা-রানীর ছায়া তাসের দেশে হুটারের অমোঘ শব্দ যেন জানিয়ে দেয় আশ্বাসের
ফাইল-বন্ধী বাণী; ফাটা ঘায়ে যে রক্ত-
সেই কণিকারা জানে এটাই ‘যুগ ধর্ম ‘ !

আশ্বাসে-বিশ্বাসে আবার চলে খঞ্জ ছন্দ;
থাকে ওরা রাজপথে, আগ্নেয়গিরির গলিত লাভার অথবা পুরনো জমাট কালচে
লাল লাভায়-অভ্যস্থ দুর্গন্ধ ধোঁয়ায় !

ধর্ষিত রমণী, বিবস্ত্র শ্রেণীগত মানব জীবন
পুনরায় চেয়ে থাকে নাগরিকত্বের-
প্রমাণ দাখিলে, রাজপথের এক কোণে;
একসময় লাভায় গলে যায় দেহ-মন-
তবুও ‘তাদের’ অপেক্ষায়, আগ্নেয়গিরির
শিখড়ে; শুধুই খাদ্য ও বাঁচার তাড়নায় !!
…………………………………………..

একটুকরো বন্দনা

তোমার কমলসম পাদপদ্মে আমার বাসনার শ্রদ্ধাঞ্জলি-
তোমার বৈদিক শ্লোককে উপেক্ষা করে
নির্বাক অশ্রুপাত !
তোমার শ্বেতশুভ্র বসনে আমার লেগে
থাকা অদৃশ্য রক্ত
তোমার আশীর্বাদক হস্তে আমার
মনবীণার ঝঙ্কার-
উঠুক বেজে বারবার !!
…………………………………………..

বাঘের গল্প

এসো একটা গল্প বলি-
হাউ মাউ করে এক বাঘ বলল
সৃষ্টির শুরু থেকে আমরা উলঙ্গ,জৈবিক প্রবৃত্তির স্বাদ মেটাই নির্দিষ্ট সময়ে-
ক্ষিদে পেলে আরেক নগ্ন জাতিকে খাই !

তখন, গর্জন শোনা গেল অপর প্রান্তে !
বাঘ বলল- ঐ যে আসছে মান-হুঁশ বাঘ; আদম-ইভের যুগে বা প্রসবের পরে- নগ্ন থাকলেও হয়ত সিভিলাইজেশনের পোশাক পরে আর ক্ষিদে পেলে সব পেটে যায়- ফুটপাতের ময়লা মানুষ পশু অথবা ক্ষীণ-দুর্বল জাতভাইয়ের- চুকচুক করে পান করে টকটকে নোনতা শোণিত –
হাড়ও যায় না বাদ !

আসলে পার্থক্য কি জানো ?
বুনো আর মানুষ বাঘদের মধ্যে!
বুনোটা ‘কথিত’ সভ্য হয়নি, তাই ষে উলঙ্গ মুখোশহীন, লেজ টানলে মাথাটাও আসে; আর ‘ওরা’
বাঘের চামড়াধারী সেই গল্পের গাধার দল; সময়ে সময়ে হাঁক পাড়লে ‘বাপস’ বলে !

দিই কানে আঙুল ! মুশকিলটা হচ্ছে-
লেজ নেই বলে কান-মাথা আসে না !
রাজত্ব চালায় বীর বিক্রমে-
কানে দিতে ভয় হয়, যদি তাও খুলে আসে তাই, জ্ঞান দিলেও আমরা তালা কিনি-
আর জমিয়ে চোখ বুজে কানে গুঁজি !!
…………………………………………..

একান্ত-নিরালায়

একান্ত নিরালায় নগ্ন মাতৃমুর্তি-
‘তোমার ‘ অধিবাস, নবপত্রিকার মাঝে, ন’টি গলিত বোধনের শব !

একান্ত নিরালায়, স্ব-বাহিনী মাতৃমুর্তি-সন্ধিপূজার লগ্নে, সুগন্ধির ছোঁয়ায়
ঢাকের বাদ্যির ছন্দে আর্ত ভিখারীর আবেদন !

নির্জনে ‘পাঁচটি চোখের’ কথায়-
ক্ষুধাতুর শিশুর দেবী গান !
তোমার সিন্দুর চর্চিত কপালে, চূর্ণ চিকুরে, বিসর্জন- আর…
আমাদের সকলের নূতন বিজ্ঞাপন চর্চা;

মা আসবে, বিজ্ঞাপন বিকোবে-
নির্জন-নিরালায় একান্ত সংগোপনে
পাঁচটি চোখের নির্জলা ভাষায় শুরু হবে
নতুন দিনের নব অধিবাস !

হয়তো সেদিন সব ‘শব’ শেষ হয়ে যাবে,
থাকবে, তোমাদের-আমাদের ইথারে ভেসে আসা প্রেমের মন্ত্রধ্বনির মধ্য দিয়ে
নবপত্রিকা আর ক্ষুধাহীনদের “মাতৃবন্দনা”!
…………………………………………..

সন্ধান

হাজার মুখোশ পরা চেনা মানুষের ভিড়ে
খুঁজে চলেছি –
ধরা দিলেও, ছেড়েছি বারে বারে
তাই, শরতে ভোরের ফুলে আঘ্রাণে শুধুই খুঁজি তোমায়;
সবই ভুল, ক্লান্ত আমরাই আমি;
একফোঁটা শান্তি একফোঁটা মৃত্য –
অশ্রু অবিশ্রান্ত !

ভাল থেকো তুমি, শিউলি স্নিগ্ধ মাঝে-
হিমেল হাওয়া পাহাড়ী নদীর পেলব স্পর্শ শীতল হোক তোমার উষ্ণ বক্ষ-
অ-মুখোশের কাছে II
…………………………………………..

বাঁশ পাঁচালী

বংশদণ্ড বংশদণ্ড-
সুযোগে করে লন্ডভন্ড

সরু থেকে মোটা
ফাঁক খোঁজে ব্যাটা;

বেড়া থেকে অফিস
শুধু করে নিশপিশ
কচি থেকে বুড়ো
ফন্দিতে ভরপুর মুড়ো;

কর যদি তৈলমর্দন
কাজে দেবে হরদম;

খেলে বাঁশ
হয় সর্বনাশ;
ঢোকাই যদি তা
বনবন ঘুরবে মাথা
মানুষের এটাই ধর্ম
বাঁশের নামে সাড়ে কর্ম !!
…………………………………………..

তুমি চলে যাওয়ার পরে

তুমি চলে যাওয়ার পরেও আকাশ দেখি !
ধূলো ওড়া মুরুর বক্ষে শুনি তোমার স্পন্দন; তাল-খেজুরের মাদকতায় প্রথম
মিলনের আবেদন! মায়াময় রাতে বলি-
আছো কি আজও? নিরুক্ত রাত ডোবে,
আমার হাফ গ্লাসের প্রতি জোড়ালো চুম্বনে-ঘোলাটে চোখে দেখি তোমায় !

ঘর ছেড়ে পাতা ঝরা গাছের তলায় স্পষ্ট তোমার নৈসর্গিক অণুকাব্য-
একি সত্যি ! সত্যি তোমারই উপস্থিতি !

অবৈধ ভাষার পাতার রবে প্রেম গণনা করি- না বোঝার মাঝেও দেখি
একবার এসো- পৃথিবী কত পাল্টাচ্ছে-
পাল্টিয়েছে অবয়বেও ! দরজা খোলা ,
পারলে এসো- একমুঠো বালির মত পুনরায় দেব ভালোবাসার সংকলন !!
…………………………………………..

কৃষি কথা

কোন এক গ্রীষ্মের দিনে-
যখন ধরিত্রী সম্পূর্ণ নিস্তব্ধ একাকিনী
যখন, বিদ্ধস্তা-বিবস্ত্রআ
ভালোবাসার শেষ জলটুকু শুষ্ক
তখন তোমায়,সংকোচে সংগোপনে
রোপণ করেছিলাম আলতো দুটি
আঙুল দিয়ে, আমার মনের মাটিতে ;

তারপর! তারপর যখন তোমার কচি কলাপাতার মতো ছোট্ট দুটি হাত আমার নির্জীবতাকে সজীব করলো, তখন-
বিস্ময়ে বললাম- “এত প্রাণশক্তি কোথা হতে তুমি পেলে ?” উত্তর পেলাম না !
অনুভব করলাম সেদিনকার নরম দুটি হাত অজস্র শাখায় বিভক্ত হয়ে- গভীর শিকড় দিয়ে মাটির কোনো এক অতল থেকে শুষে নিচ্ছে বিন্দু বিন্দু ভালবাসা !

এসব কবেকার কথা; জীবনের একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে, হয়তো শেষ বসন্তের শেষ হাওয়াকে নিচ্ছি প্রাণভরে !
একটা একটা করে কত সূর্য ডুবলো;
অঙ্কুর হল মহীরূহ; হলদে পাতায় কত কথা ;আমরা দুজনে কথা বলি,চিন্তা করি,
সবাই যেমন শেষ দিনে শেষ কথা বলে…

সেইবার শরতে,তাকে দেখেছিলাম ভোরে সদ্য স্নাত হয়ে- কপালে চন্দনের ছোট্ট ছোট্ট ফোঁটা পরে মাথা নত করে দাঁড়িয়েছিল; আহা!কি ন্যাকাটাই না লাগছিল ! নরম দুটি গালে হাত রেখে বলেছিলাম-” কি গো, অমন করে দাঁড়িয়ে কি দেখছো?” সেদিন তোমার কি হাসি;

খসে পড়ছিল চন্দনের ক্ষুদ্র টুকরো-
আমার মনের মাটিতে ! আর যখন চোখ খুললাম; ওগুলো কখন অগোচরেই হলদে পাতায় হয়েছে পরিণত !

হয়তো, কোনো একদিন প্রবল ঝড়ে ঝরে পড়ব আমরা- এই মাটি থেকে অন্য কোনো এক মাটিতে ! হয়তো সেদিনের রোপিত স্মৃতি হয়ে যাবে টুকরো টুকরো-
স্মৃতিগুলো সব বিস্মৃতি হয়ে যাবেই !
তবুও থাকবো আমরা এরই মাঝে-
ধরার হৃদয় পিঞ্জরে,
আমাদের ঝরে পরা স্মৃতির
নতুন বীজের মাঝে নব সূর্যের অপেক্ষায়!
…………………………………………..

হাত

তুমি যে বললে হাতের উপর
নিঃশ্বাস নেবে তোমার হাত !
কি হলো, প্রশ্ন করবো না
আসলে, ওয়ারড্রবে রাখা মুখোশ যে
নানা কথার সাক্ষী, তা আজ নতুন নয় !

রাতের গভীরতায়, ছোট্ট বিছানায় আমাদের শরীর ছাড়ে সাপের মতো যে
খোলস- সেটাই, আমি-তুমি !

“একা” শব্দটা বহমান বর্ষার নদী;
হঠাত কোন অজানা খাতে-ফুটপাতের
ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া ক্ষুধার্ত শ্রেণীর মত;
সম্পর্কের ইতিহাসে, প্রাগৈতিহাসিক একা”
আরেক একার সাথে বহুবার মিলিত হয়েও, হাজার একারা বারংবার নেয় জন্ম!

হাতের উপর হাত রাখাটাও বড্ড কঠিন
অজস্র চোরাগলির ভিড়ে হারায়-
কত নাম না জানা ক্ষয়িষ্ণু পদচিহ্ন !
তবুও এসো এবার, ছদ্মবেশী মুখ
তোমার-আমার হাজার বছরের
না শেষ হওয়া কথা বলবে পুনরায় !!
…………………………………………..

অন্তর্লীন

কান্নার শব্দ শুনতে কি পাও ?
গলা অবধি কান্নার ভাষা কি বোঝো ?
যদি বুঝতে,তাহলে বারবার চুম্বন করতে !
লাল-নীল স্বপ্ন ভেঙে মাঝরাতে-
দেখি ধর্ষণ করেছে সময় !!

গলাকাটা মানুষের ভিড়ে হয়তো মরচে
হৃদয় হাতে বিক্রি করছি প্রতিনিয়ত-
আমাকে নেবে কি তোমার অধর-ওষ্ঠের
সংগমস্থল ! যেখানে তির তির করে,
স্পন্দিত হয় পাহাড়ী নামহীন ঝর্ণার ছন্দ !

জানি,ছুঁড়ে ফেলে দেবে- নির্যাসের পর;
তারপর ! নেই কোন উত্তর-
বেশ্যা ঘরের গত রাতের বাবুর মতো
কালচে বেলকুঁড়ির মালার পরে থাকবো!!
…………………………………………..

বিদায় কালে

অবশেষে ঘুমের দেশে পাড়ি দেওয়ার আগে, যে তারাটি মুচকি হেসে ধোঁয়াটে
আকাশের বুকে মাথা রেখেছিল-
তার আবেদন, মহেঞ্জদাঢ়োর হৃদয়ে-
গোধূলীর বিকালে অখ্যাত অভিসারে
লিপ্ত-প্রাচীন মৃত ইতিকথার মতো !

এমন উন্মাদনা পাতায় পাতায়-
থরে বিথরে অনুকম্পিত হয়েছে বহুবার !
বট-অশথের বৃদ্ধ শিকড় মাটির জঠর থেকে আয়ু বৃদ্ধির মৌতাতে-
লালচে ক্ষয়িষ্ণু মোরগ ফুলের মতো
সেজে ওঠা ক্লান্ত সূর্যের ছায়াহীন আলোয় শোনায়, কত অনামী সাঁঝের গল্পমালা !

বিদায়ের আগে শেষবার বলে যাই-
না আসি যদি ফিরে কবরে দিও অন্তত
অশ্রুহীন একটি শুকনো বিবর্ণ গোলাপ!!
…………………………………………..

ফসিলের পরেও

যেমনভাবে পারো দাও তোমার হৃদয়
তবে আমি আলিঙ্গন করবো যদি থাকে-
গুহা মানবের ঘাম ঝরানো প্রথম অগ্নি
স্ফুলিঙ্গের গন্ধ ! সেই লক্ষ বছর আগে-
গুহা মানবীর হাসির মধ্যে জেগেছিল,
লিপিহীন উল্লাস আলেখ্য ! ওই হৃদয় চাই !

তবে , আমার হৃদয় কী পাবে তোমার
সান্নিধ্য ? প্রশ্ন আছে, সন্দেহ ছুঁড়ে দিয়েছি
ফেলে ! আমার স্পন্দন যে কেঁপে ওঠে বারংবার, ছিটকে আসা সূর্যের গর্ভ থেকে
গলিত বসুন্ধরার মত ! প্রাণের অস্তিত্ব না
থাকলেও, সেদিন গোপন প্রেমের বীজ
বপন ছিল লালায়িত লাভার প্রকোষ্ঠে !
ধৈর্য্য রাখতে পারবে তো ? জানি পারবে !

আশাবাদী মন আজও থাকে চেয়ে-
একটু নিবিড় হও, বুকের সাথে তোমার
বক্ষ মিলিত কর কোমল ভাবে , দেখবে
কোটি বছর আগেকার ফসিল স্পন্দন
এখনও স্তব্ধ হয়নি এই আদমের বুকে !
শুধু, বিশ্বাসে মাথা রেখো; নিষিদ্ধ
আপেলের সৌরভ না হয় থাক না একটু
আড়ালে ! একটু চেয়ে দেখি তোমায় !!
…………………………………………..

এ মন

এতো গভীর ঘুম বহুকাল পর ছুঁয়ে
গেলো এই দেহ ! পল্লীর উষ্ণ সিদ্ধ
চালের উদাসী গন্ধ বাতাসে তখন
ভাসিয়েছে গা ! ক্লান্ত এ অবয়ব
আড়ষ্টতা কাটিয়ে চোখে প্রতিবিম্ব
করে, বর্ষায় সদ্য যৌবনবতী
পুষ্করিণীর গায়ে- পলকা বায়ুতে
রোমাঞ্চ জাগে প্রতি লোমে ! আমায়
নিয়ে চলে , আগাম কোন এক কল্প পথে !

এ বাঁক সে বাঁক পেরিয়ে কুয়াশা ঘেরা
নদী বক্ষ, যেন করেছিল আমারই স্তব্ধ
অপেক্ষা ! ধীরে ধীরে অবগাহনের পর
বিশুদ্ধ হয় এ খয়েরী হৃদয় ! তখনও
জাগেনি ভোরের সেই কাব্যের ফিঙে
দোয়েল পরিবার ! কেবল, একাকী
ফকির-সাধুর মত চলেছি সব মেঠো
পথ আপাত বন্ধন ছিঁড়ে, নিখিল বন্ধনে !
অহিংস হয়েছে মন, যেন ঠিক প্রাচীন
বটবৃক্ষ দিয়েছে মন্ত্র এ দেহে-চিত্তে
আমি চলেছি আর চলেছি উত্স মুখে !!
…………………………………………..

কুরবানি

একটু বাকী উঠতে চাঁদ, উঠবে বেজে
তোমার-আমার হৃদয়ের একগুচ্ছ তন্ত্রী !
তারপর সব ভুলে, তিন-দুই – অবশেষে
এক হবে আল্লার সন্তানেরা উত্সবে !
কিন্তু বন্ধু , আমার কলমের পেশী অবাধ্য
প্রশ্ন তোলে এ নচ্ছার-পোড়া মনে-
আমার-তোমার রক্তে কী সত্যিই দৌড়ে
বেড়ায় লোহিত কণিকার সংসার ?
ফুসফুসে ক্রমে ক্রমে হয়নি তো সন্ধি
মাকড়সা আর উইপোকাদের লালার ?

গোপন-কপট চোরা শিকারীর দল ভাঙছে
বক্ষ-কপাট ! এক থেকে তিন অথবা চার
থামের প্রাসাদ-মনে অলক্ষ্যে বসিয়েছে
তীক্ষ থাবা ! আঘাতে ছিন্ন হয়েছে আল্লা-
ঈশ্বরের বুকের পাঁজর ! ওই দেখো পড়ছে
নীরব অশ্রু মসজিদ-মন্দিরের রহিম আর
রামের চোখে ! একটু তাকাও-চাও !

বন্ধু, কুরবানী করছি বটে, ত্যাগ পরম ধর্ম !
তা কী সত্যই রেখেছি মনে ? দেবদূতেরা
যে মন্ত্র দিয়েছিলো অনাদি কাল হতে
তা কী শুধুই আঁচড় কাটবে কোরান-
গীতার পৃষ্ঠায়- শুধুই কী তারা প্রতীকী ?
অথবা, ভর্তি পেট এক মহা ভোজ ?
এসো না আজ, কুরবান করি- হৃদয়ের
বর্ণচোরা আঁশটে রক্ত ! আল্লার সন্তান
মোছাও চোখের জল, কর ঈদ উত্সব !!
…………………………………………..

সার্কোফেগাস এক অরণ্য গাঁথা

অরণ্য কেমন আছো নাগরিক কফিনে ?
একে একে করছে গ্রাস পিরামিড-
কংক্রিট সুখী মানব বলয় ! আর শেষে
এঁটে দিচ্ছে তোমায় সার্কোফেগাসে !
অরণ্য-বনানী-শ্যামল প্রান্তর তোমার
প্রাচীন বুকে অকাল আঠালো রক্তে যে
ধারা ছুটে চলেছে, সেই প্লাবিত শোণিত
মনে করায়, স্বর্ণ আভূষিত হিটোফেরাসের
বন্ধ্যা-গোপন কান্না ! অরণ্য তুমি কেমন
থাকবে, এ অন্ধ মরু মানব বক্ষে ?

কাল রাতে তারাদের ফাঁকে, উঠেছিল
হেঁয়ালি হিরোগ্লিফিক্স; হরিণ-বৃক্ষ-
বনস্পতি কত কী সবুজ-লাল আঁকা
সেই মিশরীয় ভাষায় ! সভ্যতার লিপি
আজ এতই বর্ণময়-বোধগম্য , তার
পরিসংখ্যান এঁকে লিখে চলে শপিং
মলের জ্যামিতিক অবয়ব !

তাও, সব বুঝেও প্রশ্ন করি- অরণ্য
তুমি থাকবে তো মায়ের বুকে প্রবল ভাবে ?
যেমন, আজও মরেও জীবাশ্ম হয় নি
মোনালিসা বা ক্লিয়োপেট্র্রার স্নিগ্ধতা !
থেকো ভালো অরণ্য ! আগামীরা তোমায়
কাহিনী না করে বাস্তব করে রাখবে !!