১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আমবাগানে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা মুখোমুখি হয়েছিলেন লর্ড ক্লাইভের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ বাহিনীর। পঞ্চাশ হাজার সৈন্যের বিশাল বাহিনী নিয়েও মাত্র তিন হাজার ইংরেজের কাছে তিনি সেদিন পরাজিত হন। নবাবের সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণেই পরাজিত হয়েছিলেন নবাব, পরাজিত হয়েছিল বাংলা। জয় হয়েছিল ইংরেজদের, ইংল্যান্ডের। বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়েছিল সেখানেই। সূচনা হয় ভারতবর্ষে ইংরেজদের আধিপত্য বিস্তারের। ধীরে ধীরে পুরো ভারতবর্ষই আচ্ছাদিত হয়ে পড়ে পরাধীনতার কালো চাদরে। বণিকের বেশে এ দেশে আসা ইংরেজ বেনিয়াদের দীর্ঘ ১৯০ বছরের শাসনের পর ১৯৪৭ সালে মুক্ত হয় ভারত। সৃষ্টি হয় ভারত ও পাকিস্তান নামের স্বাধীন দুটি দেশ। পলাশীকে ঘিরে এই হচ্ছে সংক্ষিপ্ত ইতিহস।

কিন্তু এ ইতিহাসের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক ভিন্ন ইতিহাস। লুকানো সে ইতিহাসকে সামনে আনলে ঘটনার পট পাল্টে যায় অনেকাংশেই। শত শত বছর মুসলমানগণ শাসন করেছিল ভারত। তখনকার বাংলা তথা বঙ্গদেশ তো ভারতেরই একটি প্রদেশমাত্র। কেন্দ্র ছিল দিল্লি। দিল্লি থেকেই বাংলায় শাসক নিয়োগ হতো কখনো, কখনো বা কেউ ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়ে কিংবা দখল করে কেন্দ্র থেকে অনুমোদন নিত। বাংলা ছিল ভারতের সবচেয়ে সমৃদ্ধ অঞ্চল। আবার এ বাংলা বিজয়ের মাধ্যমেই ইংরেজদের অবস্থান পাল্টে যায় এ দেশে। এর আগে তারা ছিল করুণাপ্রার্থী। পরে তারাই হয়ে যায় করুণার ধারক। সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ই যেহেতু ইংরেজদেরকে শাসনের সুযোগ করে দিয়েছিল, আর নবাবের পরাজয়ের মূল হোতা ছিল সেনাপতি মীরজাফর, তাই স্বভাবতই মনে হয়, এ দেশ ও এ উপমহাদেশের পরাধীনতার মূল কারণ একজন মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা! মনে হতে পারে, মুসলমানরাই বিশ্বাসঘাতক; তাদের ক্ষমতার লোভেই স্বাধীন এ ভারত পরাধীন হয়। প্রচলিত ও প্রচারিত ইতিহাস এমনটিই বলে। কিন্তু এটাই কি বাস্তব? যে মুসলমানগণ শত শত বছর ধরে শাসন করল এ দেশ, তাদেরই একজনের কারণে কি স্বাধীন এ দেশ পরাধীন হল? পরাধীন হওয়ার পর থেকেই যারা আন্দোলনের পর আন্দোলন করেছেন, যারা সিপাহী বিদ্রোহ করেছেন, রেশমী রুমাল আন্দোলন করেছেন, জুলুম-অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত যাদের হাত ধরেই এ উপমহাদেশ আবার স্বাধীন হল, তারাই কি বণিক ইংরেজদের হাতে শাসনভার তুলে দিয়ে পরাধীনতার গ্লানি বরণ করেছিলেন? মুসলমানদের আগের ও পরের ইতিহাস প্রচলিত ইতিহাসটির ক্ষেত্রে সংশয় সৃষ্টি করে। তাহলে কী ঘটেছিল পলাশীতে সেদিন এবং তার পূর্বের দিনগুলোতে?

ইংরেজ লেখক ও ভারতীয় হিন্দু লেখকদের লেখা বই থেকে জানা যায়, এ ঘটনার মূলে ছিল কয়েকজন হিন্দুর বিশ্বাসঘাতকতা। তাদের টাকা-পয়সার উপর ভর করেই ইংরেজরা স্বপ্ন দেখার সাহস করেছিল নবাব সিরাজকে সরিয়ে দেওয়ার। তারাই নবাব সিরাজের সেনাপতি মীরজাফরকে ক্ষমতার মোহনীয় প্রলোভনে মাতাল করে এ দেশের পরাধীনতাকে ডেকে আনে। নবাব আলীবর্দী খার মৃত্যুর পর যখন সিরাজউদ্দৌলা নবাব হলেন, তখনই ইংরেজরা তাকে অযোগ্য মনে করে তাদের দখলদারিত্ব বাড়াতে থাকে। কিন্তু নবাব শক্ত হাতে তা প্রতিহত করেন। কলকাতা আক্রমণ করে ইংরেজদের দুর্গ দখল করেন। পরবর্তীতে ইংরেজরা আবার সে দুর্গ পুনরুদ্ধার করে। আশেপাশে বিশ্বাসঘাতকদের উপস্থিতি আঁচ করতে পারেন নবাব। ফলে দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়েই নবাবকে ইংরেজদের সাথে সন্ধির পথে পা বাড়াতে হয়। সে সন্ধি ইতিহাসে ‘আলীনগড়ের সন্ধি’ নামে পরিচিত। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই ইংরেজরা সে সন্ধি ভঙ্গ করে। ধীরে ধীরে ইংরেজদের সাথে দূরত্ব বাড়তে থাকে বাংলার নবাবের। ফলে তারা চক্রান্তের পরিকল্পনা করে নবাবকে নিয়ে।

ইংরেজদের সে পরিকল্পনায় যোগ দেয় কিছু হিন্দু, যারা ছিল নবাবের খুব কাছের লোক। জগৎশেঠের বাড়িতে এক গোপন সভা বসে। প্রসঙ্গত জগৎশেঠের পরিচয়টাও বলে নেওয়া প্রয়োজন। বাংলার প্রথম নবাব মুর্শিদকুলি খানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল মানিকচাদের। মানিকচাদ ছিল হীরানন্দের বংশধর- যে অত্যন্ত গরীব এক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিল; এক বৃদ্ধার মৃত্যুকালীন সময়ে সেবাযত্ম করে সে বৃদ্ধার অর্থসম্পদ লাভ করেছিল। পরে আস্তে আস্তে তার আর্থিক অবস্থা উন্নত হতে থাকে। এবং এক সময় প্রচুর অর্থকড়ির মালিক হয়। তার উত্তরসূরি মানিকচাদের সাথে মুর্শিদকুলি খার সম্পর্ক এতই বেশি ছিল যে তিনি বাদশাহকে বলে তাকে ‘শেঠ’ উপাধি প্রদান করেন। সে থেকেই শেঠ বংশের শুরু। সে বংশেরই ফতেহ চাদকে দেওয়া হয় জগৎশেঠ উপাধি।
জগৎশেঠের বাড়িতে গোপন সভা হয়—যেখানে নবাব সিরাজকে সরিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত পাকাপাকি হয়। ইংরেজদের দূত মি. ওয়াটস্কে নারীর বেশে পালকিতে করে নিয়ে যাওয়া হয় সে সভায়। ইংরেজ সাহেবদের সাথে সে সভায় উপস্থিত ছিলেন জগৎশেঠ, রাজা মাহেন্দ্র রায় (রায়দুর্লভ), রাজা রামনারায়ণ, রাজা রাজভল্লব, কৃষ্ণদাস, উর্মিচাদ প্রমুখ। সাথে ছিল নবাবের সেনাপতি মীরজাফর। সিরাজকে সরিয়ে কাকে নবাব করা হবে সে প্রসঙ্গে আলোচনায় রাজা কৃষ্ণদাস বললেন, ‘মীরজাফরকেই নবাব করে আমরা সিরাজকে সরাতে চাই’। উদ্দেশ্য, তাতে মুসলমানগণ ক্ষেপে উঠবে না; মুসলমান নবাবের পরিবর্তে মুসলমান নবাবমাত্র। শেষপর্যন্ত তার কথাই যুক্তিযুক্ত মনে হলো। কিন্তু মীরজাফরকে বোঝাতে তাদেরকে একটু বেগ পেতে হলো। প্রথমে তার কথা ছিল, ‘আমি নবাব আলীবর্দী খানের আত্মীয়। সে হিসেবে সিরাজউদ্দৌলাও আমার আত্মীয়। তাই এটা কী করে সম্ভব?’ তখন উর্মিচাদ তাকে বললো, ‘আমরা তো আর সিরাজকে মেরে ফেলছি না অথবা আমরা নিজেরাও নবাব হচ্ছি না, শুধু তাকে সিংহাসনচ্যুত করে আপনাকে বসাতে চাইছি। কারণ আপনাকে শুধুমাত্র আমি নই, ইংরেজরা এবং মুসলমানদের অনেকেই- আরেক কথায় অমুসলমানদের প্রায় প্রত্যেকেই গভীর শ্রদ্ধার চোখে দেখে।’ এ কথায় মীরজাফর কাত হয়ে পড়ে। মি. ওয়াটস্ সিদ্ধান্ত নিলেন, মীরজাফরই হচ্ছেন সিরাজ-পরবর্তী বাংলার নবাব। কিন্তু মি. ওয়াটস্ জানালেন, সিরাজের সাথে লড়তে যে প্রস্তুতি ও বিপুল অর্থের প্রয়োজন তা বর্তমানে তাদের নেই। তখন জগৎশেঠ ‘শেঠজী’র কর্তব্য পালন করতে সদম্ভে আশ্বাস দিয়েছিলেন, ‘টাকা যা দিয়েছি আরো যত দরকার আমি আপনাদের দিয়ে যাব, কোনো চিন্তা নেই।’ এরপরের ইতিহাস তো সবারই জানা। পলাশীর যুদ্ধে রায়দুর্লভ মীরজাফরদের বিশ্বাসঘাতকতা সত্ত্বেও নবাবের অনুগত মোহনলাল মীরমর্দান আর ফরাসী যোদ্ধা সিনফ্রে ইংরেজদেরকে প্রায় হারিয়েই দিচ্ছিলেন। এমন সময় বিশ্বাসঘাতকদের প্ররোচনায় যুদ্ধ বন্ধ করা হলো। নীরব সৈন্যদের উপর আক্রমণ করে ক্লাইভ বাহিনী তাদেরকে বিধ্বস্ত করে ফেলল। যুদ্ধের নামে যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলাটি শেষ হলো। নবাব বন্দী হলেন। বাংলা পরাজিত হলো। শুরু হলো ভারতের পরাজয়।

তাই বলা যায়, ভারতে ইংরেজ সাম্রাজ্য কেবল তাদের অস্ত্রশস্ত্র ও মীরজাফরদের বিশ্বাসঘাতকাতেই প্রতিষ্ঠিত হয়নি, বরং জগৎশেঠদেরও এক্ষেত্রে বিশেষ ভ‚মিকা ছিল। ইংরেজদের জন্যে শেঠজীদের পৃষ্ঠপোষকতা ও গোলামি মীরজাফরদের তুলনায় কোনো অংশেই কম ছিল না। বরং তাদের অর্থসাহায্য ছাড়া তো ইংরেজদের জন্যে এ অভিযান সম্ভবই ছিল না। ইংরেজ ঐতিহাসিকগণও এ সত্যকে একেবারে অস্বীকার করতে পারেননি।’The rupees of the Hindu banker, equally with the sword of the English colonel contributed to the over trough of the Mahamedan power in Bengal.” (বাংলায় মুসলমানদের শক্তিকে ধ্বংস করতে ইংরেজ সেনাপতির তরবারির সাথে হিন্দু ধনীদের অর্থভাণ্ডার সমান অবদান রেখেছিল।)

নিরপেক্ষ বিখ্যাত লেখক শ্রী নিখিলনাথ রায় লিখেছেন, ‘অষ্টাদশ শতাব্দীর সে ভয়াবহ বিপ্লবে প্লাবিত হইয়া হতভাগ্য সিরাজ সামান্য তৃণের ন্যায় ভাসিয়া গিয়াছিল এবং মীরজাফর ও মীরকাশিম ঊর্ধ্বক্ষিপ্ত ও অধঃক্ষিপ্ত কেহ বা অনন্ত নিদ্রায় কেহ কেহ বা ফকিরী অবলম্বনে নিষ্কৃতি লাভ করেন। জগৎশেঠের ক্রোধঝটিকা সেই তুফানের সৃজনের মূল। দুঃখের বিষয়, সেই ভীষণ তুফানে অবশেষে তাহাদিগকেও অনন্তগর্ভে আশ্রয় লইতে হইয়াছিল। যে বৃটিশ রাজ রাজেশ্বরীর শান্তিধারায় আসমুদ্র হিমাচল স্নিগ্ধ হইতেছে জগৎশেঠগণের সাহায্যই তাহার প্রতিষ্ঠাতা।’

কিন্তু জগৎশেঠরাই বা কেন নিজ দেশের এতবড় সর্বনাশ করলেন? এর উত্তরে বিচক্ষণ একদল পণ্ডিতের মন্তব্য—সাম্প্রদায়িকতাই এর প্রধান কারণ। নবাবদের রাজধানী মুর্শিদাবাদের নামকরণ হয়েছিল প্রথম নবাব মুর্শিদকুলি খার নামানুসারে। আর মুর্শিদকুলি খা প্রথম জীবনে ছিলেন ব্রাহ্মণ। পরে তিনি ইসলামের সুশীতল ছায়ায় প্রবেশ করেন। এ জন্যে হয়তো তাদের মনে মুসলমান নবাবদের বিরুদ্ধে একটা ক্ষোভ ছিল। আর এ সাম্প্রদায়িক ক্ষোভই ভারতের পরাধীনতার পথ মুক্ত করে দেয়!

ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে নবাব সিরাজ রাজত্ব হারালেন। তাঁর রক্তে রঞ্জিত হলো বাংলার মাটি। কিন্তু প্রাণ দিয়েও তিনি রেহাই পাননি ষড়যন্ত্রের কবল থেকে। মৃত্যুর পরও তাঁকে নিয়ে চলছে চক্রান্ত। এখানেও সাম্প্রদায়িকতার ছোবল! সাহিত্য ও ইতিহাসের বই পুস্তকে গ্রামোফোন-থিয়েটারে নাটকে উপন্যাসে সিরাজকে চিত্রিত করা হয়েছে একজন নিষ্ঠুর চরিত্রহীন মদ্যপ শাসক হিসেবে। ইংরেজ ঐতিহাসিকদেরও অবশ্য এ ক্ষেত্রে অবদান (?) কম নয়। অন্ধকূপের কাহিনী দিয়ে তারা প্রমাণ করতে সচেষ্ট হয়েছেন- সিরাজ নিষ্ঠুর ছিল। প্রায় দু’শ জন ইংরেজকে একটি কুঠুরীর মতো ঘরে আটকে রেখে খাদ্য-পানি-বাতাসের অভাব ঘটিয়ে তাদেরকে হত্যা করেছেন- এই হচ্ছে অন্ধকূপের কাহিনী। একজন লিখেছেন, সিরাজউদ্দৌলা নাকি নদীর মাঝে যাত্রীবোঝাই নৌকা উল্টে দিয়ে নারী-শিশুদের মরণদৃশ্য উপভোগ করতেন তীরে থেকে! আরেকজন আরেকটু অগ্রসর হয়েছেন- গর্ভবতী নারীদের পেট চিরে তিনি সন্তান দেখতেন! নবাব আলীবর্দী খার জীবদ্দশায় একবার তিনি মদপানের কলঙ্কে কলঙ্কিত হয়েছিলেন। আলীবর্দী খান তখন সিরাজকে ডেকে পবিত্র কুরআন ছুঁয়ে আর কখনো মদ পান না করার শপথ করান। ইতিহাস প্রমাণ করে, সিরাজ সে শপথ সারা জীবন পালন করেছিলেন। অথচ তাঁকে পরিচিত করা হচ্ছে একজন মদ্যপ হিসেবে! কিন্তু সত্য যতই গোপন করা হোক, একসময় তো তা প্রকাশিত হয়েই যায়। এ সত্যও প্রকাশিত হয়েছে হিন্দু ও ইংরেজ ঐতিহাসিকদের কলমেই। তারাই প্রমাণ করেছেন- অন্ধকূপ নামে যে কাহিনী প্রচারিত হচ্ছে তা মিথ্যা বানোয়াট। সখ্যরাম গণেশ দেউস্কর ‘দেশের কথা’ নামক বইয়ে লিখেছেন- ‘ইংরেজ ইতিহাস-লেখকেরা হিন্দু ছাত্রদের হৃদয়ে মুসলমান বিদ্বেষ প্রজ্বলিত রাখিবার জন্যে বিশেষ চেষ্টা করিয়াছেন। পরিতাপের বিষয়, কোনো কোনো অদূরদর্শী হিন্দু লেখক কাব্য নাটকাদিতে অনর্থক মুসলমান ভ্রাতাদিগের নিন্দাবাদ করিয়া ইংরাজের উদ্দেশ্যসিদ্ধি বিষয়ে সহায়তা করিতেছেন।’ সিরাজউদ্দৌলাকে নিন্দা করে যারা লিখেছেন তাদের মধ্যে উচ্চ ইংরেজি শিক্ষিত বাঙ্গালি কবি বাবু নবীন চন্দ্র সেন অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। আর সিরাজকে নিয়ে যখন কেবল নিন্দাই চলছে তখন উল্টোধারায় একটি নাটক লিখলেন গিরিশচন্দ্র ঘোষ। সাধারণ মানুষের মস্তিষ্ক এতে একটু নড়ে উঠল। নবীন বাবুই এ বইটি পড়ে গিরিশ ঘোষকে লিখলেন- ‘ভাই গিরিশ! বিশ বৎসর বয়সে আমি ‘পলাশীর যুদ্ধ’ লিখিয়াছিলাম। আর তুমি ষাট বৎসর বয়সে ‘সিরাজুদ্দৌলা’ লিখিয়াছ। আমি বিদেশী ইতিহাসে যেভাবে পাইয়াছি, সেভাবে চিত্রিত করিয়াছি। কিন্তু তুমি সিরাজের নিখুঁত চিত্রটি অঙ্কিত করিয়াছ। অতএব তুমি আমার অপেক্ষা অধিক ভাগ্যবান।’ কবি আল-মাহমুদের ভাষায়-

আর তো পলাশী নয়। সে মিছিল এখন ঢাকায়
এখনও হাতির পিঠে নিয়ে ফেরে শোকের কেতন;
বলে, ভুলিনি আমরা। অর্ঘ্য দিতে মুক্তির চাকায়
ভুলের মাশুল শুনে শোধ করি পাপের বেতন।
হাতির পায়ের শব্দে দ্যাখো চেয়ে কারা হেঁটে যায়
এ তো মুর্শিদাবাদ নয়। এই গজ এখন ঢাকায়।

তথ্যসূত্র:
চেপে রাখা ইতিহাস, গোলাম আহমদ মোর্তজা, মদীনা পাবলিকেশন্স, ঢাকা; ইতিহাসের ইতিহাস, গোলাম আহমদ মোর্তজা,
মু. মো. মে. রিসার্চ একাডেমী, ঢাকা; রক্তক্তত পলাশী, সৈয়দ আবদুল্লাহ, উৎস প্রকাশন, ঢাকা