আমাদের জাতীয় ইতিহাসে পলাশীর যুদ্ধ একটি সুদূরপ্রসারী ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন সংঘটিত এই যুদ্ধে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌল্লাহর পরাজয় বরণের মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতা সূর্য অস্ত যায় এবং উপমহাদেশে সাত সমুদ্র তের নদীর ওপার থেকে আসা ইংরেজ শাসনের সূচনা হয়। উপমহাদেশকে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত করতে এদেশের মানুষদের প্রায় ২০০ বছর সশস্ত্র ও নিয়মতান্ত্রিক সংগ্রাম চালাতে হয়। ১৯৪৭ সালে ইংরেজ শাসনের অবসানে উপমহাদেশে ভারত ও পাকিস্তান নামের দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র জন্ম লাভ করে। এরপর ২৪ বছর ধরে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন ও সর্বশেষ ১৯৭১ সালের সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশ নামে আমাদের আজকের স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।আমরা বর্তমানে বাংলাদেশ নামের স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের গর্বিত নাগরিক হলেও যে দিনটিতে আমাদের স্বাধীনতা সূর্য অস্ত গিয়েছিল সেই তেইশে জুন আজও আমরা পলাশী দিবস হিসেবে মহাগুরুত্ব সহকারে স্মরণ করি। কারণ যে পটভূমিতে যেভাবে আমরা স্বাধীনতা হারিয়েছিলাম, তা সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে না পারলে পুনরায় স্বাধীনতা হারানোর আশঙ্কা থেকেই যাবে। এজন্যই পলাশী বিপর্যয়ের ঐতিহাসিক পটভূমি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয় আমাদের সঠিকভাবে জানা ও স্মরণ করা স্বাধীনতাকে নিরাপদ করার স্বার্থেই অপরিহার্য।স্বাধীনতা সম্পর্কে একটা কথা বহুল প্রচলিত রয়েছে যে, স্বাধীনতা অর্জন করা যত কঠিন, তার চাইতে অনেক কঠিন তা রক্ষা করা। কারণ দুনিয়াতে স্বাধীনতা হরণ করার মত অপশক্তির কোনো কালে অভাব ঘটে না। এমন যদি হতো যে, যেসব অপশক্তির কারণে পলাশীতে আমাদের স্বাধীনতা সূর্য অস্ত যায়, বর্তমান বিশ্বে সে সবের কোনো অস্তিত্ব নেই, তা হলেও একটা কথা ছিল। কিন্তু নির্মম বাস্তবতা এই যে, যে পশ্চিমা সাম্রারাজ্যবাদী শক্তির কাছে পলাশীতে আমাদের স্বাধীনতা হারিয়েছিলাম, সে শক্তি এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে। মধ্যে কিছুদিন সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে পৃথিবীতে সাম্রারাজ্যবাদবিরোধী একটি শিবির গঠিত হলেও এক শতাব্দীরও কম সময়ের মধ্যে সোভিয়েত কম্যুনিজমের পতন ও সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙনের পর বিশ্বে পশ্চিমা সাম্রারাজ্যবাদী শিবির একচ্ছত্র পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পুনরায় স্বাধীনতাকামী বিশ্বের জন্য মহাআতঙ্ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।বাংলাদেশের মতো একটি মুসলিম-অধ্যুষিত দেশের জন্য জাতীয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা আরো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে এ কারণে যে, সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বাধীন সাম্রারাজ্যবাদবিরোধী শিবিরের পতনের পর পশ্চিমা তাত্ত্বিক হান্টিংটন ঘোষণা দিয়েছেন, সোভিয়েত শিবিরের পতনের পর পশ্চিমা বিশ্বের প্রধান প্রতিপক্ষ এখন মুসলিম উম্মাহ। হান্টিংটনের এ ঘোষণা হঠাৎ করে অনেকের কাছে বিস্ময়কর মনে হতে পারে। কিন্তু ইতিহাসের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলে আমরা দেখতে পাব এতে বিস্ময়ের কিছু নেই। হান্টিংটনের এ তত্ত্ব শুধু আজকের বিশ্বের জন্যই সত্য নয়, সত্য ছিল পলাশী বিপর্যয়ের আমলেও। কেমন করে এবার সে কথায় আসা যাক।মুসলমানদের হাত থেকে ফিলিস্তিন দখল করার লক্ষ্যে ১০৯৫ সাল থেকে ১২৭১ সাল পর্যন্ত ইউরোপীয় খ্রিস্টান শক্তি মোট আটবার যে অভিযান চালায়, ইতিহাসে তাই ক্রুসেড হিসেবে পরিচিত হয়ে আছে। সারা বিশ্ব থেকে মুসলমানদের স্বাধীনতা হরণ করাই এরপর হয়ে পড়ে ক্রুসেডীয় চেতনার মূল মর্মবাণী। উপমহাদেশে মুসলমানদের রাজশক্তি ধ্বংস করার লক্ষ্যেই যে সাম্রারাজ্যবাদী ব্রিটেন বণিকের ছদ্মবেশে সেকালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে এদেশে পাঠিয়েছিল সে সম্বন্ধে এখন আর কোনো ইতিহাসবিদের মনে কোনো সন্দেহ নেই। নইলে বিদেশী বণিকদের বাণিজ্যের নিরাপত্তার নামে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নির্মাণের কোনো যুক্তি ছিল না। অবশ্য বিদেশী বণিকদের এই সাম্রারাজ্যবাদী চক্রান্ত সফল হতে পারত না, যদি এদেশীয় কিছু দেশপ্রেমহীন কুচক্রী ঐ চক্রান্ত সফল করে তোলার ব্যাপারে তাদের সাথে সহযোগিতা না করতো। অনেকে প্রশ্ন তোলেন, ইংরেজদের মতো মুসলমানরাও তো ছিল এদেশে বহিরাগত। সে নিরিখে বহিরাগতদের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, উপমহাদেশে ইসলাম যেমন একটি বহিরাগত ধর্ম, তেমনি বর্তমানে উপমহাদেশের বহুল প্রচলিত হিন্দু ধর্মও বহিরাগত। পন্ডিতদের মতে, যিশু খ্রিস্টের জন্মের কয়েক হাজার বছর পূর্বে আর্যরা মধ্য এশিয়ার ককেশাস পর্বত অঞ্চলে বসবাস করত। সেখান থেকে পরবর্তীকালে তারা উপমহাদেশে আসে এবং স্থানীয় অধিবাসীদের পরাজিত করে এদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এই আর্যরাই এদেশে হিন্দু ধর্ম নিয়ে আসে বলে হিন্দু ধর্মও এদেশে বহিরাগত। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এদেশে হিন্দু ধর্ম বা ইসলাম উভয়ই বহিরাগত ধর্ম। উপমহাদেশ যে দুটি ধর্মের জন্মভূমি তার একটি হলো বৌদ্ধ, আরেকটি জৈন। বিখ্যাত বৌদ্ধ পন্ডিত বিশ্বেশ্বর চৌধুরী তাঁর “টেকনাফ থেকে খাইবার” শীর্ষক গ্রন্থে বলেছেন, উপমহাদেশের সর্বত্র মাটি খুঁড়লেই যে যত্রতত্র বৌদ্ধ মূর্তি পাওয়া যায়, এতে প্রমাণিত হয়, সমগ্র উপমহাদেশে একদা বৌদ্ধ ধর্মের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছিল। পরবর্তীতে রাজা শশাঙ্কের রাজত্বকালে উপমহাদেশে যে বৌদ্ধবিরোধী নৃশংস গণহত্যা চালানো হয় তার কবল থেকে মুক্তি পেতে অনেক বৌদ্ধ উত্তরে তিব্বত ও চীন, পূর্বে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড প্রভৃতি অঞ্চলে এবং দক্ষিণে শ্রীলঙ্কা প্রভৃতি ভূখণ্ডে পালিয়ে যায়। যারা পালাতে পারেনি তাদের অনেকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও হিন্দু ধর্মের নিম্নতম বর্ণে নাম লিখিয়ে কোনো মতে আত্মরক্ষার প্রয়াস পায়। এই পটভূমিতে সপ্তম শতাব্দীতে এদেশের সাথে পরিচয় ঘটে সাম্য-ভ্রাতৃত্বের আদর্শ ইসলামের। অনেক গবেষকের মতে এই নির্যাতিত সাবেক বৌদ্ধরাই দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করে বলে উপমহাদেশের পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশের মতো একটি মুসলিম অধ্যুষিত জনপদ গঠিত হতে পেরেছে। এখানে একটি বিষয় বিশেষ উল্লেখের দাবি রাখে তা এই যে, হিন্দু ও ইসলাম উভয় ধর্ম উপমহাদেশে বহিরাগত হলেও উপমহাদেশে হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ই এদেশকে তাদের স্বদেশ বলে গ্রহণ করে নিয়েছে। পক্ষান্তরে ১৭৫৭ সালের পলাশী যুদ্ধের মাধ্যমে এদেশে যে ইংরেজদের রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় তারা কখনও এদেশকে তাদের স্বদেশ বলে বিবেচনা করতে পারেনি। ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্তও তাদের ‘হোম’ থেকে যায়। এ নিরিখেই বহিরাগত ইংরেজদের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়াই হয়ে পড়ে এদেশের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম। দুঃখের বিষয়, একশ্রেণীর হিন্দু বহুদিন পর্যন্ত ইংরেজবিরোধী এ স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকেন এই খুশিতে যে, ইংরেজরা এদেশে মুসলিম রাজশক্তির পতন ঘটিয়েছে। আর নব্য শাসকদেরও বহুদিন পর্যন্ত একটি নীতি হয়ে দাঁড়ায় প্রশাসন, প্রতিরক্ষা, জমিদারী, আয়মাদারী, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা-সংস্কৃতি প্রভৃতি সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনের সকল গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র থেকে বেছে বেছে মুসলমানদের উৎখাত করে সেখানে ইংরেজ-অনুগত হিন্দুদের বসানো। পলাশী বিপর্যয়ের অল্প দিন পরেই নব্য শাসকরা পূর্বতন ভূমিব্যবস্থা বদল করে ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামে যে ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করে, তাতে পরিকল্পিতভাবে ইংরেজ-অনুগত এক নব্য জমিদারগোষ্ঠী গড়ে তোলা হয় যাদের সিংহ-ভাগই ছিল হিন্দু। আর এসব কারণে মাত্র ১০০ বছরের মধ্যে এককালের স্বচ্ছল সমৃদ্ধ মুসলিম জনগোষ্ঠী এক দরিদ্র অসহায় জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়। ইংরেজ শাসনে মুসলমানদের এ করুণ পরিণতির কথা বিখ্যাত ইংরেজ ঐতিহাসিক ‘ইন্ডিয়ান মুসলমান্স’ গ্রন্থের প্রণেতা ডব্লিউ ডব্লিউ হান্টারও অস্বীকার করতে পারেননি। এই অনাকাক্সিক্ষত বাস্তবতার মর্মান্তিক পটভূমি বুঝতে হলে আমাদের পলাশী বিপর্যয়ের মূল কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফিলিস্তিন থেকে মুসলমানদের হটিয়ে সেখানে খ্রিস্টানদের দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১০৯৫ থেকে ১২৭১ পর্যন্ত ইউরোপীয় খ্রিস্টান শক্তি যে মোট আটবার যুদ্ধাভিযান পরিচালনা করে, ইতিহাসে সেটাই ক্রুসেড হিসেবে পরিচিত হয়ে রয়েছে। সে ক্রুসেডের এককালে বাহ্যত সমাপ্তি ঘটলেও পশ্চিমা সাম্রারাজ্যবাদী শক্তির মধ্যে সে ক্রুসেডীয় চেতনার এখনও অবসান ঘটেনি। সে চেতনা হলো ছলে-বলে বা কৌশলে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের স্বাধীন রাষ্ট্রশক্তির অবসান ঘটানো। হান্টিংটনের তত্ত্ব তার সর্বশেষ দৃষ্টান্ত। ১৭৫৭ সালের পলাশী ট্রাজেডী ছিল পশ্চিমা সাম্রারাজ্যবাদী অপশক্তির ক্রুসেডীয় চেতনার আরেকটি জঘন্য দৃষ্টান্ত।পলাশীতে সাম্রারাজ্যবাদের ক্রুর মতলব হাসিলের লক্ষ্যে এ উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষেরও বীজ বপন করা হয়েছিল। উপমহাদেশে শত শত বছর ধরে মুসলমানদের শাসন চললেও কখনও সাম্প্রদায়িক ভেদ-নীতি প্রশ্রয় পায়নি। পাঠান-মোঘল উভয় শাসনামলেই বহু হিন্দু রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে সমাসীন ছিলেন। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার দরবারেও জগৎশেঠ, রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ, উমিচাঁদসহ বহু হিন্দু অমাত্য গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। সাম্রারাজ্যবাদী ইংরেজ উপমহাদেশে মুসলিম রাজশক্তির পতন ঘটানোর লক্ষ্যে শুধু মারাঠা নেতা শিবাজীর সঙ্গেই গোপন সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালায়নি নবাব দরবারের উপরোল্লিখিত হিন্দু অমাত্যদের সঙ্গেও গোপন সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করে।বাংলার স্বাধীনতা হরণের লক্ষ্যে এভাবেই সাম্রারাজ্যবাদী ইংরেজরা এদেশে সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করে সভ্যতাগর্বী ইংরেজদের ইতিহাসে এক নোংরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। নবাব দরবারের উল্লেখিত হিন্দু অমাত্যদের হাত করবার পর ক্লাইভের পক্ষে তার সাম্রারাজ্যবাদী লক্ষ্য হাসিল করা সহজ হয়ে পড়ে। কাজ যেটুকু বাকি ছিল তা হলো কোনো ক্ষমতালোভী মুসলমান অমাত্যকে সিংহাসনে বসানোর লোভ দেখিয়ে সিরাজুদ্দৌলাবিরোধী চক্রান্তে শামিল করা। জগৎশেঠগং এ ব্যাপারে প্রস্তাব দেন দুর্বলচেতা ক্ষমতালোভী ইয়ার লুৎফে খানের নাম। সিরাজকে সরিয়ে কোনো হিন্দুকে নবাব করলে দেশে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে বলে সিরাজের বদলে কোনো মুসলমানকে নবাব বানানোর ব্যাপারে ইংরেজ ও হিন্দু অমাত্যদের মধ্যে সম্পূর্ণ ঐকমত্য ছিল। চতুর ক্লাইভ হিন্দু অমাত্যদের বুঝাতে সক্ষম হলেন যে, সিরাজের বদলে শুধু কোনো মুসলমান অমাত্যকে নবাব করলেই চলবে না, সিরাজের কোনো নিকটাত্মীয়কে নতুন নবাব করলে জনগণ এটাকে পারিবারিক ব্যাপার বলে মেনে নেবে। সেই নিরিখেই মীরজাফরের নাম আসে এবং ক্ষমতালোভী মীর জাফর মহাখুশি হয়ে এ চক্রান্তে শামিল হন। পরে তিনি অবশ্য সমস্ত চক্রান্ত বুঝতে পারলেও তখন তাঁর আর করার কিছু ছিল না।১৭৫৭ সালের পলাশী ট্র্যাজেডির মধ্য দিয়ে নতুন করে এ সত্য প্রমাণিত হয়েছে যে পশ্চিমা সাম্রারাজ্যবাদী অপশক্তি কখনও তাদের ক্রুসেডীয় মুসলিমবিরোধী চেতনা বিসর্জন দেয়নি। উপমহাদেশে সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠাকালে ১৭৫৭ সালে যে সত্য একবার প্রমাণিত হয়েছিল ক্লাইভ-জগৎশেঠ আঁতাতের মাধ্যমে, সে সত্য পুনর্বার ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশে ইংরেজ শাসন অবসানের সময়ও দ্বিতীয়বার প্রমাণিত হয় নেহরু- মাউন্ট ব্যাটেন আঁতাতের মাধ্যমে আজকের বাংলাদেশ তথা সেদিনের পূর্ব পাকিস্তানকে বহু মুসলিম-অধ্যুষিত অঞ্চল থেকে বঞ্চিত করার মাধ্যমে।এই নিরিখেই প্রমাণিত হয় ১৭৫৭ সালের ২৩ জুনের পলাশী বিপর্যয় ছিল সাম্রারাজ্যবাদী অপশক্তির সঙ্গে মুসলিমবিদ্বেষী সাম্প্রদায়িক অপশক্তির আঁতাতের ফসল। এই সূত্রেই আরও প্রমাণিত হয়- ১৭৫৭ সালে আমাদের স্বাধীনতা সূর্য অস্ত যাবার পর বহুদিন হিন্দুরা কেন স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে অংশগ্রহণ করার প্রয়োজন অনুভব করেনি। শুধু তাই নয় ১৭৫৭ সালের ১০০ বছর পর ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লবে প্রধানত মুসলমানরা অংশগ্রহণ করে পরাজিত হওয়ার পর কী কারণে সাহিত্য সম্রারাট বঙ্কিম চন্দ্র সংবাদভাস্বরে লিখতে পেরেছিলেন- ‘পাঠক সকল জয় জয় বলিয়া নৃত্য কর, হিন্দু প্রজাসকল দেবালয়ে পূজা দেও, আমাদের রাজ্যেশ্বর শত্রুজয়ী হইলেন।’ আর কবি ঈশ্বরগুপ্ত লিখতে পেরেছিলেন :
“চিরকাল হয় যেন ব্রিটিশের জয়।
ব্রিটিশের রাজলক্ষ্মী স্থির যেন রয়।
এমন সুখের রাজ্য আর নাহি হয়
শাস্ত্রমতে এই রাজ্য রামরাজ্য কয়।”