আমার মা আমার ভাষা

জন্ম আমার এই বাংলায়
বাংলা আমার আশা,
এই বাংলায় বলি কথা
বাংলা আমার ভাষা।

আমার দেশের মধুর মাটি
সবার আছে জানা,
এই ভাষাকে করতে নস্যাৎ
দস্যু দিলো হানা।

রফিক, জব্বার, বরকত, সালাম
বাংলা ভাষার জন্য
নেমেছিলো ঐ রাজপথে
আমরা তাঁদের জন্য।

মায়ের মুখের মধুর ভাষা
বাংলা সেরা সবার,
এই বাংলার মান রাখতে
যোদ্ধা হবো আবার।
…………………………………………..

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর

বলে শেষ করা যাবে না
বীর তোমার গুণগান,
বঙ্গবন্ধু তুমি মহান
সইবো না অপমান।

মহান ছিলো তোমার কীর্তি
জন্মেছো এই বাংলায়,
মোদের মুক্তি দেয়ার জন্য
সয়েছো তো অন্যায়।

স্বাধীনতার বীজ বপনে
করেছো কারাবরণ,
বাংলা মাকে করতে স্বাধীন
গড়েছিলে আন্দোলন।

অন্ধকারের পূব আকাশে
উঠাতে দিনমণি,
কত সংগ্রাম করে গেলে
মানলে কত অশনি।

তোমার নীতি ও আদর্শ
থাকবে মাথার পরে,
তোমায় মোরা ভুলবো না
রাখবো মনে ধরে।
…………………………………………..

ঋতুর রাজা

পৌষ গেলো মাঘ গেলো
গেলো শীতকাল,
ফেঁড়ে দিয়ে শক্ত ডাল
পাথর দিয়ে ঠেলে
কচি কচি সবুজ পাতা
উল্লাসে উঠছে মেতে।

কলকাকলিতে মুখরিত চারদিক
কোকিলের ধ্বনি কুহুতান
বাতাবি লেবুর ফুল ফুঁটছে
ফুঁটছে আমের মুকুল
শিমুল ফুঁটছে পলাশ ফুঁটছে
ফুঁটছে কৃষ্ণচূড়া মধুমালতি
এ যেন এক অপূর্বের মাতামাতি।

প্রকৃতিররঞ্জনে এসেছে সুমাধব ছোঁয়া
এসেছে যে সকল ঋতুর রাজা
আজ তব সবে নব পুষ্পসাজে
বসন্তেরে লব বরিয়া
…………………………………………..

সেই ক্ষণ

আমার মন পলাতক
ছোট্ট শিশুর হামাগুড়িতে
আমার মন পলাতক
কাল বৈশাখী ঝড়ের আম্রকাননে
আমার মন পলাতক
ভোরের শিশিরে
ফুলের কলিতে
আমার মন পলাতক সেই সকালে
যখন মোরগ ডাকে কুকুরে কুর
পাখি ডাকে কিচির মিচির
সবুজ মাঠের নরম ঘাসেতে
রাখাল যেথায় যায় গরু চরাতে
ঘুঘুর ডালে গ্রামের ফাঁকা ক্ষেতে
হাওড়ে বাওড়ে মাছ ধরার ছিপে
আমার মন পলাতক
সূর্যাস্ত দেখতে নদীর পাড়ে
সূর্যের রশ্মি পড়া নদীর বুকে
আমার মন পলাতক
সরষের ভরা ক্ষেতে
ভ্রমরের গুঞ্জণে
আমার কিংবদন্তীদের টানে
…………………………………………..

কল্পনার রাজকন্যা

সবুজ মাঠের কাঁচা ঘাসে
যখন থাকব একা বসে
হঠাৎ তুমি পাশে এসে
চমকে দিবে মোরে
নির্জন এক দ্বীপে কলস নিয়ে
আসবে তুমি জল ভরতে
আলতা পায়ে নূপুর পায়ে
আসছো তুমি ছমছমিয়ে
কানের দুল নাকের ফুল
খোঁপায় গাথা রজনী ফুল
আমার কল্পনা রাজ্যে
এক ডানাকাটা পরী
গাছের ডালে শালিক সেজে
শীষ দিয়ে তোমায় ডেকে
আমি করবো অআলিঙ্গন
আজ শুধু মন চাইছে আমার
নিশিতে নিভৃতে বসে
ভাবতে শুধু তোমায়।
…………………………………………..

চাষী

বাংলার সোনার জমিতে
জন্মাতে কত ফসলে
টানে চাষা লাঙল হাতে
সঙ্গে নিয়ে কোদাল কাস্তে।

কত রোদ্রের অগ্নিতাপে
চাষা কি তবু পিছনে হটে
পোড়ায় পিঠ ঝড়ায়ে ঘাম
চাষী তবু ফলায় জমিতে ধান।

সর্ব পেটের মিটাতে পীড়া
ফলাতে ফসল কত যে দানা
নিজ অন্নকে করে পরের পণ্যে
তবু কাটছে চাষা দূর্ভিক্ষে।

চাষে পাট বানাতে বস্ত্র
পায় কি ভাত শীতে বস্ত্র
তবু এ কঠোর মহীতে
চাষা কি শুধুই সহীবে
…………………………………………..

বর্ষা

খাল-বিল, নদী-নালা
জলাশয় ভরপুর
জলে ভরে চারদিক
টলমল টলমল।

ঘুমুর ঘুমুর মেঘ ডাকে
আকাশের মুখ ডেকে
ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর ব্যাঙ ডাকে
সারারাত সারাদিন।

গরমের যত তাপ
ধুয়ে নিয়ে প্লাবনে
ডাল-পালা বেঙে নিয়ে
বরষার ধারাপাত।

রুক্ষ প্রকৃতিকে করে
জলে পরিপূর্ণ
প্রকৃতিতে নতুন সাজ
ঘটে নতুন প্রাণ সঞ্চার।
…………………………………………..

নদী

পৃথিবীর বুকে
আঁকাবাঁকা হয়ে
যাচ্ছে বয়ে নদী
এক অকৃত্রিম স্রোতে।

কখনো জোয়ার উঠে
স্রোতের বুকে
কখনো বা নিস্তব্দ ভাটায়
বয়ে যায় তার গান।

পদ্মা মেঘনা যমুনা মহানন্দা
করছে কত খেলা
একূল ভেঙে ওকূল গড়ে
ছুটছে সারাবেলা।

কখনো আনুকূল্য করে
ফসল উৎপাদনে
কখনো বা যাচ্ছে তার গর্বে
গৃহস্থালির ঘর বিলীন করে।
…………………………………………..

ফুল

তুমি সুন্দরেরও সুন্দর
তুমি অপূর্ব
তুমি কেড়েছ সকল দৃষ্টি
তুমি পৃথিবীর অনন্য এক সৃষ্টি।

তুমি এক শ্রদ্ধার নিবেদন
তোমায় করি দেবতার চরণে অর্পণ
তোমায় অর্পণ করি
শহীদের শ্রদ্ধা নিবেদনে।

লাল নীল হলুদ সাদা
রঙ বেরঙের রূপ
সাথে মিষ্টি মধুর সৌরভ
বৃক্ষ বনে গৌরব।

যেমন মাতৃকোলে হাসে শিশু
তেমন বৃক্ষ কূলে ফুল
যে মাকে বাসতে যানে ভালো
সে ফুলকে বাসে ভালো।
…………………………………………..

ভ্রমর

গুণ গুণ গুঞ্জণ করে
যাচ্ছো তোমরা কোথায় উড়ে
একটু দাঁড়াও ভাই।

ফুলের ঘ্রাণে মধুর টানে
যাচ্ছি মোরা ফুল বাগানে
কি বলবে বলো তাই।

তোমরা হলে অনেক সাথী
অনেক ফুলে বসো
সেই ফুলেতে পড়লে ঝাটকা
হুল ফুঁটিয়ে বসো।

ফুল বাগানের মালি মোরা
ফুল কুড়াতে যাই
ফুলে ফুলে মালা গেঁথে
খরিদকে সাজাই মোরা
খরিদকে সাজাই।

ফুল ভোমরা ফুলে বসে
ফুলের মধু নিও
আর সৌরভটুকু রেখো।