অবুঝ মন

এতদিন পর গ্রহণ করেছি ছদ্মনাম
সম্পর্ক আইনসিদ্ধ নয় তাই-
কিছু পথ সংঘর্ষে মিশে যাবে মিশে যাবে সব

যে নৌকাডুবি বোঝে না, সংঘর্ষও না
তাকে কে বোঝাবে যে সম্পর্কেরও
প্রয়োজন আছে|

যদি শব্দ ঢলে যায় দুপুরে কোথাও
ভয় আসে, ঘুমিয়ে পড়োনা
আবারও সূর্যাস্ত দেখো
কোথাও কি পরে আছে রোদের চিহ্ন?
উজ্জ্বল তারাদের পাশে এ কোন আলো
যেন গড়িয়ে পড়া মেঘ
এত অবজ্ঞা সত্ত্বেও এত দাগ
বিকল্প খুঁজে চলেছি সারাদিন

চরম নাটকীয়তার পরতে পরতে কখন যেন…
শরীরে শরীর…
হে প্রিয়মুখ, প্রিয় বলতে তুমি!

হে ঈশ্বর-এই বিনিময়ে কেউ কি কিছু চায়
…………………………………………..

নাগরিককুল

এমন ভিক্ষার দিনে রক্তকরবী জাগে মনে
পৃথুলা পৃথিবীর চারপাশ জুড়ে গেয়ে ওঠে মনোৎসব
সব মেকি, সব সাজানো বুঝেও
অর্ঘ্য সাজিয়ে-আত্ম কামনার নাগরিককুল|

এক একটা যন্ত্রনা এক এক রকম অসুখ নিয়ে ফোটে

আকাশ মেখে নেয় নানারঙের স্বরগম
যে মানুষগুলি দীর্ঘ শীতঘুম নিয়ে
বেঁচে ছিল এতকাল তারাই হঠাৎ
এগিয়ে গেল পূর্বের ছায়ামূর্তিগুলোকে অনুসরণ করে|
…………………………………………..

হীনমন্য

আমার বিদ্যাকে তুমি নিচু চোখে দেখো তাই আমি হীনমন্য
শত্রূপক্ষ রচনা করেছে শুধু দলগত উদ্দীপনা জিইয়ে রাখতে
তোমার বিবর্ণ সত্যে আমার দক্ষতা বাড়েনা একতিল ও
তুমি যেন রাত্রির আরকে ডোবা পাখিদের ঘুম
তোমাকে ছাড়াই দেখি শিল্পী বাবুই আর কাক
গ্রহ নক্ষত্রের বিপ্রতীপ ট্যাটু ধরে আছে
অনেক বিশ্ব, সংস্কারমুখী
এত ঋণ তবু উত্তীর্ণতা, তবু এত সংশয়
এই কি তবে আনান্দনিকেতন?
…………………………………………..

রূপকথা অরূপকথা

না শেষ হওয়া পথ- চলেছি একা-
নিস্তব্ধ বিগ্বিদিক, বেদনা থেকে ঝরে
শূন্যতা, যার কোনো শেষ নেই, সমাপ্তি নেই-
প্রতিনিয়ত দগ্ধে যায় কামনার অনল
সাঁতরে ওঠে শীতের প্রহর, ছল কিশোরীর
এলোচুলে শব্দহীন কান্না, অবিরত দীর্ঘশ্বাসের মল
ঘাসে ঘাসে……
…………………………………………..

অনুসন্ধান

সৃষ্টির উৎসের মূলে এখনো অপরিজ্ঞাত রহস্যের বীজ
ঢেউ ভেঙে অতল আঁধার ছিঁড়ে নক্ষত্রে মানসযাত্রার দ্রুততায়
কম্পমান মহাবিশ্বে নক্ষত্রেরা ফেরে না কখনো
ঘুরন্ত চাকার মধ্যে ধুলো জমে ক্রমাগত-
সে ধুলো তারাদের পকেটস্থ, গতির গ্রন্থনা
মানুষ সম্পর্ক গড়ে যেমন নক্ষত্র পরিবার
দূরত্বের নদী শুষে ভেদাভেদ ভেঙেছে মানুষ
জোড়া দিতে দিতে শুধু কাল লগ্ন মরে যায়
আর, জাতিবর্গ পরস্পরের চর্বি মেখে ফুলে ফেঁপে ওঠে
সমগ্রতা নষ্ট হয়-ক্রমাগত নষ্ট হয়
নক্ষত্রেরা গান ধরে বুকভাঙা মানুষের গান …
…………………………………………..

প্রস্থান

হৃদপিন্ডে লাল নীল সবুজের ভিড়
বৃষ্টির গুঁড়ো মেখে প্রাণবন্ত-
পলাশপাতার মতো তোর শরীরিভাষা
এক অদ্ভুত ভীরু সংলাপ প্রেমিক
তোর অনুভব মানচিত্রে সবচেয়ে
দুর্লভ দ্বীপ আমি, খুঁড়লে হীরের
খনি পেতে পারিস,
স্নান সারতে চাইলে একশো আটবার
আমার নাম জপিস, জীবনমুক্তি
কখনো পাবি একমুঠো মহুয়া বাতাস…
…………………………………………..

নামহীন

লিঙ্গসর্বস্ব বসে আছে চা-এর ঠেকে বিশেষ টোনে
পশছে কানে দূরত্ব রাখা হাতছানি
মুখ ফিরিয়ে আমার হাঁটা থাকছে পড়ে-
একান্তে তখন বসবাস করছে সহস্র জন্মানি
ইচ্ছে তবু যায় না সরে বাড়িয়ে দেবে হাত
বাঁধন হার ছারখারেতেই একান্ত সহবাস|
…………………………………………..

পার্বণ

রাত্রির বারান্দায় এখন শুধু অন্ধকারের কোরাস

অতর্কিতে বিদ্যুৎ ঝলকানিতে, কেঁদে ওঠে শিশুরা
অথচ মেঘের ফাঁক দিয়ে শুক্লপক্ষের চাঁদ
ভাদ্রমাসে হাতছানি দিচ্ছে মহাপূজার-
মেঘেদের রাত্রিবেলায় বিছানার কাছে যাওয়া মানা
মেঘেদের শরীর খারাপ হলে পার্বণ বন্ধ থাকে
তবু যেন ইচ্ছে হয় মেঘ গায়ে বসে থাকি

শরতের প্রতীক্ষায়, রাত্রির বারান্দায়
…………………………………………..

অপেক্ষা

জানলাটা নেমে আসছে দ্রুত
ওখানে এখন নির্জনতা-
-অতীব উতলা ও সর্বজনীন
সিগারেট পুরে পুরে ছাই বিষন্ন দুপুর
বারান্দায় আটকে আছে যাওয়া আসাগুলো
তুমি কি নেমে আসবে না ধারালো ব্লেডের মতো
হতভাগ্য প্রেমের উপর?
…………………………………………..

দিনলিপি

আজ কৃষ্ণ গহবর থেকে তুলে আনি তবে
সৃজনের পথরেখা, পাখিদের কুহু
জলদবংশীয় আস্য| তবে হু হু
পাথর ঠুকে কেন জ্বালতে পারিনা ক্ষুধা-ক্ষুরধার!

মগজে ভাসমান সুড়ঙ্গ পথ
হিংসার অনল তাকে কাছে আনে
এই নদী, যাকে প্রবাহ বলো, হলুদ স্নানে
কৃষ্ণ গহবর ডেকে আনে, জন্ম নেই যার

মৃত্যুশোকে বিহবলের গান, দেখো, আজ
ডেকে আনে তাকে
জ্যোতি চিহ্নহীন এক ওপর অসীম নির্জনে||