মনন স্মৃতি

স্মৃতির পালে লেগেছে হাওয়া
ভুলেছি যত চাওয়া পাওয়া।
ভালো-মন্দের ভাবনা জুড়েই
জীবন ধারা দিয়েছি মুড়েই।

ঝিমিয়ে পড়া চেতন গহন
নিমেষে জ্বালাই সুপ্ত দহন।
জড়তা রাশি হয়েছে সচল
সরিয়ে রেখে বাঁধার আঁচল।

কদম কদম হাঁটি আশায়
চলার পথে নতুন দিশায়।
পিছন ফিরে দেখতে থাকি
এখনো জীবন অনেক বাকি।

স্বপ্ন রঙিন ভূবন মাঝে
পড়ে রয়েছি আপন কাজে।
সুদূর পানে উদার আকাশ
ঘুচিয়ে দেয় জমানো হতাশ।

চাওয়া পাওয়া হিসের ভুলে
জীবন মাঠের ফসল তুলে।
নানান স্মৃতি উঠছে জেগে
মনের ভবনে প্রবল বেগে।
……………………………………………

সাধ পূরণ

খেয়ালী মন ভেঙেছে বাঁধ
মেটাতে যত মনের সাধ।
লাগাম রশি শিথিল করে
জীবন তবু আশায় ভরে।

ইচ্ছে গুলো চারিয়ে দিয়ে
বাসা গড়ি ভাবনা নিয়ে।
অনেক কিছু চাগিয়ে উঠে
চেতনা দ্বারের কোলে পিঠে।

লক্ষ্য নেশায় চলেছি ছুটে
রসদ ডালা নিয়ত খুঁটে।
বাধা বিঘ্ন যতই আসুক
চিন্তা ধারা সহজে মিশুক।

মুক্ত আকাশ দিগন্ত পানে
যাপন কথন নিত্য টানে।
স্বপ্ন বিভোর মনন হাটে
স্মৃতির পাহাড় সদা মাঠে।

সুদূর পানে দিয়েছি পাড়ি
সুপ্ত সাহস হয়েছে গাড়ি।
তবুও আছি এই ভুবনে
দৃপ্ত আশায় সাধ পূরণে।
……………………………………………

ভারত ভূমি

রাম রহিমের ভারত ভূমি
তোমার আমার জন্মভূমি।
মিলে মিশে থাকবো এইখানে
প্রতিপদে দেশের সদা টানে।

স্বপ্ন নানান দেখতে থাকি
দেশের ছবি মননে আঁকি।
সবাই মিলে গড়েছি দেশ
ছড়িয়ে দিয়ে খুশির রেশ।

জারিত করে স্বদেশ প্রীতি
আঁকড়ে ধরি মধুর স্মৃতি।
দেশ গঠনের সঙ্গী হয়ে
মিলিয়েছে হাত কষ্ট সয়ে।

জীবন জ্যোতি রয়েছে জেগে
পথ মাড়িয়ে দেশের লেগে।
ভেদাভেদ সব দূরে ঠেলে
মানবিক মন ধরো মেলে।

সম্প্রীতি সুর তবুও বাজে
মানব ঐক্য বৈচিত্র মাঝে।
রাম রহিমের ভারত বর্ষ
সবার মনেই থাকুক হর্ষ।
……………………………………………

জীবনের কথামালা

হতাশায় ছেয়ে গেছে জীবনের চলাচল
নীরবতা চেপে রাখে যত সব কোলাহল।
প্রতিকূল পথমাঝে হারিয়েছি অভিমুখ
অবিরাম মনোবলে পার করি নানা দুখ।

সীমানার চারপাশে পড়ে আছে পরিসর
ধোঁয়াশাকে দূরে রেখে খুঁজে চলি অবসর।
নিরাশার তমাসাতে পৃথিবীটা দিশাহীন
জাগরণে অনুভুতি হয়নিতো কভু লীন।

প্রতিপদে জুড়ে আছে রকমারি বাধা সম
গতিধারা স্তব্ধতায় জীবনটা হতোদ্যম।
চেতনার সরণিতে বালুচর জেগে ওঠে
ভাবনারা বাঙময় নিরন্তর স্মৃতিপটে।

আকাশের ছায়াপথে দেখে থাকি চোখ মেলে
মননের আশালতা তবু বেঁচে প্রাণ ঢেলে।
আগামীর দিন গুনে শপথের অভিযান
একসাথে শুরু হোক সহজিয়া অভিধান।

মিলেমিশে হাতে-হাত সম্প্রীতির ইমারত
ভিড় করা পিছুটান পায়ে মাড়ি অবিরত।
সচলতা বরাভয়ে মননেতে বাঁধে বাসা
জীবনের কথামালা প্রতিক্ষণে নিত্য ঠাসা।
……………………………………………

আমার মত

আমাকে থাকতে দাও
আমার মত
নিজস্ব ভাবনা চিন্তার পরিমণ্ডলে
মুক্ত আকাশের সামিয়ানায়
একটু বেড়ে উঠতে দাও।

আমাকে চলতে দাও
আমার মত
সহজাত চেতনার বুদ্ধিতে জারিত হয়ে
স্বকীয় মনোবলের সাহসী অবলম্বনে
একটু সম্মুখে হাঁটতে দাও।

আমাকে একটু মিশতে দাও
আমার মত
দৃঢ়তা মনে পরখ করতে করতে
চলিষ্ণু সমাজব্যবস্থার বাস্তবিক গতিধারায়
একটু অভিযোজিত হতে দাও।

আমাকে বাঁচতে দাও
আমার নিজের মত
অনুভূতির ডালপালার প্রসারণে
মেলেছি সৃজনের বহুমাত্রিকতা
আত্ম উন্মোচনের কাঙ্খিত বাসনায়।
……………………………………………

নিঠুর সমাজ

খোলা চোখে দেখেছি
অগণিত বেওয়ারিশ লাশ
বিস্তীর্ণ সমাজের আনাচে-কানাচে,
একরাশ হতাশা আর অবজ্ঞায়
প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছে পরকালের
যেখানে নিশ্চিন্তে একটু ঘুমাবে,
নশ্বর দেহের ভার লাঘবে-
কালের আদালতে তারা অপরাধী!
অজ্ঞানতার সরলতায় জুটেছিল
লাঞ্ছনা, অপমান, নিপীড়ণ আরো কিছু
লোলুপ সমাজ দাগিয়ে দিয়েছিল
অমানুষ পরিচয়ের গোত্রে-
নিদারুন দগ্ধতায় অনুভূতি অতল গহবরে
কুরে কুরে খাই বাঁচার নির্লজ্জ আকুতি,
কেউ শুনলোনা বিচারের বাণী
অহর্নিশ নীরবে-নিভৃতেই কাঁদতে থাকলো
সমাজ তবু ফেললোনা এক ফোঁটা চোখের জল!
আড় দৃষ্টিতে ঝরে পড়লো
চেপে রাখা অবজ্ঞার বিবিধতা
একদিন আইনের যাঁতাকলে-
ক্রমশ পিষ্ট হতে হতে নিভে গেল
আমাদের জীবনের বাতিঘর।
তৎক্ষণাৎ জুটে গেল কৃতকর্মের পরিনাম
পড়ে রইলো বেওয়ারিশ লাশ হয়ে
নিঠুর সমাজ খোলা চোখে লেপে দেয়
অমানবিক বিশেষণের পাহাড়।
……………………………………………

তুমির আড়ালে

তুমি স্বপ্ন ফেরি করা
এক স্বপ্নের ফেরিওয়ালা
প্রতিনিয়ত দেখিয়ে চলেছো তোমার স্বপ্ন
তোমার স্বপ্নে বিভোর অনুরাগী।

তুমি বাগ্মিতায় তুখোড়
সারাক্ষণ গালভরা কথাতে ব্যস্ত
পরিস্থিতির সমূহ আঁচে বুনে দাও
জনগণমনে এক অদৃশ্য মনোহারী মায়াজাল।

তুমি বড়ো এক অভিনেতা
বাস্তবের রঙ্গমঞ্চে চরম সাবলীল
যেকোনো মুহূর্তে চরিত্রের খাপে মিশে গিয়ে
ভরিয়ে দাও অভিনয়ের বহুমাত্রিকতায়।

তুমি এক বহুরূপী সত্তা
ছদ্মবেশের আড়ালে মানব সেবক
সাম্যের শপথ নিয়ে সদা করতে আছো
অসাম্য, ভেদাভেদের নিষ্ঠুর বেশ বদল।

তুমি সর্বত্র বিরাজমান
সবেতেই তোমার অকারণ উপস্থিতি
সংকটের পরিত্রাতায় জুড়ে দিয়েছো
তোমার ভেকধারী ব্যক্তিত্বের দ্বিচারিতা।
……………………………………………

কবিতায় ব্যক্তিসত্তা

কবিতার শাব্দিক শোণিত ধারা
নিরন্তর বহমান আমার শিরা উপশিরায়,
দেহ-মন-প্রাণ আকীর্ণ
বাহারি সব শব্দমেলার কাব্যময়তায়!
অনুভূতির অবচেতনে হাঁটতে হাঁটতে
অস্পষ্টতার দুর্ভেদ্যতায় খুঁজছি
পরিপূর্ণ তৃপ্তির পান্থশালা
পার্থিব জড়তার শৃংখল ছিঁড়ে
এক অদ্ভুত জীবনের দুর্বার নেশায়-
আমার বেঁচে থাকা
যেখানে শ্রান্ত পথিকের মতো
একটু জিরানোর জন্য
সেই শান্তির পান্থশালায়,
আবারো কবিতার শব্দ বাহুল্যে
অহর্নিশ সুরেলা তীব্রতা
অস্থিরতায় চলমানতায় জাগরণ
আমার ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যের স্পন্দন।
মননের প্রসারিত ডালপালায়
প্রস্ফুটিত কবিতার বর্ণময়তা-
চেতনার গলি পথ পেরিয়ে
মিলে দিয়েছি ভাবনার সামিয়ানা
যেখানে সদা কাব্যময়তার আবহ
কবিতা ও যেন ব্যক্তিসত্তার দোসরে পরিণত।
……………………………………………

শর্তাধীন জীবন

সাধের জীবন শর্তাধীন
যতই নচো তা ধিন ধিন।
চলার পথে বাঁধন যত
সৃষ্টি করে কালের ক্ষত।

দূর সীমানার নিভৃত বাঁকে
কুয়াশা চাদর জমতে থাকে।
শূন্যতা আজ জাঁকিয়ে বসে
জীবন খাতায় অংক কষে।

থমকে যাওয়া ভূবন মাঝে
অশনি সংকেত অকাল সাঁঝে।
পলক হীনে ঝাপসা ছবি
বিষাদ ভারে যুগের কবি।

দহন ব্যথা চেতন কোণে
জাগতে আছে নিস্তব্ধ ক্ষণে।
সময় বুঝে চলেছি মেপে
গন্ধ মাদন মননে লেপে।

শর্ত জুড়েই জীবন বাঁচে
মুষড়ে পড়া প্রহর আঁচে।
সহন গাঁথা আঁকড়ে ধরে
ক্ষয়িষ্ণু মন আশায় ভরে।
……………………………………………

ভালোবাসার মালা

কুড়িয়ে রেখেছি ফুলের মতো
তোমার নিবেদিত ভালোবাসা,
বিশ্বাসে ভর করেই
একদিন নিশ্চিত প্রত্যাশা পূরণ
কুড়ানো ফুলের মালাতেই
গাঁথবো ভালোবাসার বাহারি মালা।
ধৈর্যের সংযমী বাঁধে
আটকেছি মননের সুপ্ত অনুভূতি
সুচারু আবেগের অনাবিল বহিঃপ্রকাশে-
জুড়েছি অবিরাম মননের একাত্মতা
উৎসারিত ফল্গুধারায়,
ভেসে যাচ্ছে ভালোবাসার শাশ্বত বাণী
কুড়ানো ফুলের গাঁথা মালাতেই
খুঁজে পেয়েছি তোমার অনুভূতি!
সযত্নে চেপে রেখেছি
অঘটনের প্রাত্যহিক যাপন কথা,
সব কিছুর অপার মেলবন্ধনে
আবারো বিশ্বাসের কাঁধে চেপে
আকাঙ্ক্ষিত তোমার প্রাপ্ত ভালোবাসায়
সহসা জেগে উঠে-
সব ফুল ঝরে পড়েনা,
কিছু ফুলের সুগন্ধে লুকিয়ে থাকে
ভালোবাসার চিরন্তন মর্মগাঁথা
বেঁচে থাকে মনো মিলনের মুহূর্তকথা।