ভালোবাসার ঘর

ভালোবাসার ঘরে থাকবো চিরকাল,
তুমি না হয় ছেড়ে থেকো অনাদিকাল।
বুনো পক্ষী বাবুই বাঁধি সূচারু ঘর,
তারকাঁটা গহ্বরের সরু চাল।
অট্টালিকায় বসে দেখে যে কাকচর,
বিবশের ক্রান্তি তুলে সুর লয় তাল।
কপোত-কপোতী বাসনায় মত্ত পাল।
মহীতে ভালোবাসায় পুষ্ট যে অধর।

কী থাকে হায় নিঃশ্বাস ছাড়ি একবার?
তবুও কেন ঘর ভাঙ্গা শব্দ সরব?
ক্ষণ জীবনে বাঁচতে হিয়ায় যে সব।
তাঁরা ঝলকায় প্রেমনীড়ে বারবার।
গুড়ি বারিতে রংধনু রাঙায় রব।
ভালোবাসার কাঙ্গাল কেন যাযাবর?
…………………………………………..

নির্বাসনে ভালোবাসা

নয়নে যারে লাগিল ভালো
প্রথম নজরেই উত্তাল টেউ,
সুখ অবনি ললাটে লিখিল
সুরের মৃদুল ছোঁয়া দিলো কেউ।

নিবিড় প্রেম মূর্ছনায় হৃদে এলো
যেন খুশির মহাপ্লাবন নদে,
পূর্ণিমারুপ জলমুক্তা চিকচিক করে
ভালোবাসার সীমাহীন হ্রদে।

এত পাওয়া কিসের লাগি আসিল হঠাৎ
শপথের কন্ঠে দিলো আশ্বাস,
বাঁধিবে ঘর, সুনসান করে মাতিয়ে জগত,
যুগল হবে বন্দী প্রশান্ত বিশ্বাস।

লগন পেরিয়ে গেলো কার অভিশম্পাতে
ধুম্রজালে হলো তার প্রস্থান,
নিয়তির খেলা দুষ্টচক্রে উঁচিয়ে দিলো কারা
নেই যে শপথের স্ব অবস্থান।

অবশেষে ভালোবাসা গেলো নির্বাসনে
কেউ নেয় না তার খোঁজ,
মেহেদী রং আজো হস্তে লালভাব লয়ে
নির্জনে কথা বলে রোজ।

ভালোবাসা কেন এমন থাকেনা পাশে
প্রেমহীন জীবন মৃত্যু ডাকে,
ভরসা না থাকিলে হাহাকার জাগে
হৃদয় ভেঙ্গে নির্বাক শ্রোতা হয়ে থাকে।
…………………………………………..

ভালোবাসার যাতনা

মাঝেমাঝে খুবই কষ্ট লাগে
মনটা আনচান করে
তোমার ফোন যখন আসেনা
দুনিয়াটা তখন ঘুরপাক খায়
প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের মতন।

তোমাকে ভালোবাসি বলেই কি
আবোলতাবোল ভাবনায় ডুবে থাকি?
ক্ষণেক্ষণে ক্ষেপে উঠে উদাসী মন!
সহসা রাগ পুষি আবার উবে যায়!
কারণটা কি! অন্য রকম জ্বালাও তুমি ইদানীং।

আজকাল চ্যাট করতে বড্ড অনীহা জাগে!
স্বরণ শক্তি প্রখর বলে মোবাইল নং মুখস্ত থাকে।
চট করে ফোন দিই, শুনি নারী কন্ঠ!
কখন আবার বিয়েরতত্ত্বে মন দিয়েছো?
তোমার আমাকে ছাড়া অন্য নারীর কথা ভাবার অবকাশ আছে!

তোমার দেয়া সেলফিগুলো ঝুম করে বারবার দেখি,
সেই নাক, ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি।
তোমাকে প্রায়ই বলি চুল লাগাও! চুলের চাষ করো!
কত প্রযুক্তি বের হয়েছে, দেখা ইউ টিউবে চার্চ দিয়ে।
বুড়ো হয়ে গেলে তখন না হয় ন্যাড়া মাথায় থেকো!

        তোমার কি হয়েছে গো!
  তুমি তো আমার সাথে কথায় বলোনা!

ইমো, মেসেন্জার ঘুরে আসি বারবার তোমার কলের অপেক্ষায়!
কোন মেসেজ করেছো কিনা চেক করি সকাল সন্ধ্যায়।
আমিতো একটুতেই অভিমানে ফেটে তছনছ হয়ে যাই!
তুমিতো তেমন নও! তবে আজ এমন করছো কেন?
ভালোবাসার বিরাগ নাকি অবহেলার চাহনী কোনটা?

আজকাল কেমন জানি মনে হয় এখুনি মরে যাবো!
হার্টবিট কমে যায়, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়!
প্রায়ই অসুস্থ থাকি! তবুও ছেলেমেয়ের দিকে তাকিয়ে
স্থির থাকা তো মুশকিল! কি পবিত্র মুখ!
দুইজনের বড্ড মায়ায় পড়ে যাই! ওপারে যেতে মন চাইনা।
তবুও সেই মহেন্দ্র ক্ষণ আসবেই!
শরীরটা আজকাল ভালো যাচ্ছেনা!
সাথে তোমার অসহ্য রকম অবহেলায় মরতে বসেছি।
আচ্ছা এমন ভালোবাসার অত্যাচার না দিলে কি নয়?
সারাক্ষণ ওদাস্তের মতো কথা বলো!
তুমি তো আমার বন্ধু, পরম প্রিয়!
তাইতো একসাথে থাকার শপথ নিয়েছি আজীবন!
কিন্তু সেই আগের তুমি নেই! ভালোবাসোনা আর আগের মতন।
বুড়ো হয়ে গেছি বলে এমন করছো!
তোমার কি এখনো যৌবন তড়তড়িয়ে উপছে পড়ছে!

ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, ইমু, মেসেন্জারে হামেশা দেখি তোমায়!
যেই মেয়েরা তোমাকে ভুলাতে চায় নেটের দুনিয়ায়,
জেনো তারা অর্থলোভী!
দামী গিফট বা বিকাশের টাকা হৃদতা দিয়ে হাতিয়ে নেবে।
দেহে আর অন্তরে সুখ নেয়ার বৃথা চেষ্টা করছো।
আসতে হবে সেই আমারই কাছে, দেখো!

ভালোবাসতে এখন ভয় লাগে, আঁৎকে উঠি হালচালে!
এভাবে মরার আগে বারবার যাতনা দিয়ে মেরোনা জীবন্ত।
দোহাই তোমার, পিছনের সুখের স্মৃতিগুলো ভাবো!
কষ্টের মাঝেও অজানা সুখ ছিল,
বেঁচে থাকাতাম সুখে দুঃখে।তবে এখন কেন এমন হয়?
কার প্ররোচনায় ভালোবাসার মানুষদের কষ্ট দাও?
অশ্রু তো ধরে রাখা যায় না, বেহুলার মতো অপেক্ষা!
আরো দাও ভালোবাসার যাতনা
তবুও যদি তুমি সীমাহীন সুখ পাও।
অন্তরে অন্তর মিশে যাও চিরদিন।
শান্তির পায়রা হয়ে উড়ে যাও
দূর আকাশের ধবল মেঘরাশির আড়ালে।
এক টুকরো সুখ নিতে,
ভালোবাসার যাতনাটুকু না হয় পুরোটাই আমাকে দিয়ে গেলে!
…………………………………………..

ভালোবাসার খোঁজে

হন্যে হয়ে খুঁজি সবে
প্রেমের সরোবর,
ভ্রান্ত বিলাস জাগিয়ে হৃদে
আপন করি পর।

প্রেমের জ্বরে ভুগছি সদা
পথ্য পাবো কই,
মনের ভিতর লুকিয়ে রেখে
সাধু সন্ন্যাসী হই।

ভালোবাসা অপরাধ নয়
যদি থাকো সৎ,
দেহের টানে করোনা প্রেম
খোদা ভীরুতা মহৎ।

নিসর্গ ভালেবাসা উজাড় করো
অপার সৃষ্টিকে দেখে,
মনের পেয়ালায় প্রেম ভরো
আরশ সামনে রেখে।

পাপ নয় প্রেম, পবিত্র অতি
যদি সুযোগ না নাও,
ক্ষতি করে পার পাবেনা
যতই উর্ধ্বে যাও।

ভালোবাসো মনের দজ্জা খুলে
মলয় আসুক ঘরে,
প্রশান্ত হোক হৃদয়ের জোয়ার
ঊর্মি উঠুক ভরে।
…………………………………………..

শোকের প্রলেপন

ঘন কুয়াশায় অশ্রুত নয়ন হেরি
কে দিলো হৃদয় তোমায়,
আপন ভূবনে করে যায় ফেরি।

ফুলের লহর ইন্দ্রকে দেবতুল্য ভেবে
কিযে এক ঘোলাটে শিখায়
নরম কাঁদায় পরিপূর্ণ করে নেবে।

কত যে আর প্রণয় ক্ষণকালের সিক্ত
এলে না আজো চারদিক শূন্য,
বিরহ জাগায় নিশিদিন রিক্ত।

হৃদ ক্ষরণ বয়ে যায় সংগোপনে
রক্তাক্ত জখম আঁধারে,
হিয়া নিকুঞ্জ বদলে শুধু রঙশোধনে।

এতো যাতনায় বিহ্ববল সুপ্ততাপ
নির্জনে একাকী বিষন্নতা,
শোকের প্রলেপন জ্বলে পুড়ে লুপ্তউত্তাপ।
…………………………………………..

শীতের ফুল গালিচা

শীত মোদের আদরের প্রিয় ফুল,
সে ঝরে গেলেই মন হয় ব্যাকুল।
খেঁজুর রসে পিঠা চুবিয়ে খাওয়া
আহা! মনে লাগে ঐশ্বরিক হাওয়া।

আগেকার মতো যদিও নেই শীতআমেজ,
মনে করো ছোট্ট বেলায় নাড়া পুড়ানো তেজ।
গোল হয়ে বসে আগুনের ছোঁয়া নিতে,
খড়ের ভিতর দহনে ধান টসটস ফুটাতে।

শীতের ফুল বাগিচায় সবাই আরাম পায়,
সংযম হয়ে নিজেকে আব্রু ঢাকতে শেখায়।
লাগাম ধরতে বলে শীতের কাঁপন ঠোঁট,
অবিস্তীর্ণ তটে কোটি জনতা বসন অটুট।

শীত শেখায় সাম্য, ভাতৃত্ব, এক হওয়ার জোট,
এক ঘরে জড়োসড়ো করা হাজারো মুকুট।
ঘন কুয়াশায় দেখব না অসাড় কোন কিছু,
ভালটায় দেখব শুধু আলো আসলে পিছু।
…………………………………………..

সেরা

জগৎটা এক রঙ্গশালা
চলে নানা খেলা,
যে যার মতো চালছে গুটি
মিছে কথার মেলা।

হরহামেশা চলছে গাড়ী
বাঁকা পথ ধরি,
কে আগে যায় বাজি ধরে
অহম হৃদে ভরি।

সবাই মোরা হতে চাই
জগৎ মাঝে সেরা,
কি নিয়ে বড়াই করি
নিজে এক ভেড়া।

সেরা সেরা খেলা দেখি
সবার মনের ঘরে,
যোগ্য হতে চায়না কেহ
পুরষ্কারের ভরে।

আমি বাপু সেরা হবোনা
মানবিক হবো,
হৃদয়টাকে উদার করে
ভালোবাসা দেবো।

সেরা হওয়ার আগে ভাবো
যোগ্য হলে কি?
জ্ঞান কতো বাড়ালে আজি
বই পড়ে কি?

বই নাই খাতা নাই
নাই পড়াশোনা,
জ্ঞান সমুদ্রে ঝাঁপ দিলে
শুদ্ধ আনাগোনা।

শুদ্ধাচার করো আগে
নিজের স্বীয় মনটা,
মানুষের কল্যাণ করে
বাঁচাও তাদের জানটা।

কাজের মাঝে বেঁচে থাকো
আত্মতুষ্টি নিয়ে,
পরের তরে বিলাস ছাড়ো
রহম দোয়া দিয়ে।

মানুষের মাঝে ভেদাভেদে
না দিলে বেড়া,
মানুষ জাতি রবে মহীতে
আজীবন সেরা।

সময় থাকতে সৎ জ্ঞানে
জ্বালাও মনোঃ দীপ,
সেরা হবার বাহন ধরো
হস্তে ধরো নিপ।

ক্লাসের শেষে বসতো যে
আজ হলো বস,
তুমি ভালো নম্বরদারী
জীবন করলে লস।

মনপ্রাণে ভালো হও
লোক দেখানো নয়,
তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলবে তব
নির্যাস মধুর লয়।
…………………………………………..

জীবনের জয়গান

গহীন গাত্রগাহে গেয়ে উঠি
নব জীবনের গান,
বৃক্ষবক্ষে সোনালতা প্রাণে
শোনায় সুরের তান।

পথের কন্টক মায়া ভুলি,
উচ্চ করে শিরঃ,
প্রবল বৈশাখীর বজ্র দেখেও
দাঁড়ালে হে বীর!

মোহনার মিশেল খরস্রোতা নদী
বিদিশা লক্ষ্যহীন,
আগলে রাখা অমূল্য রতন
আজ সঙ্গীহীন।

ঘটন অঘটন দৃশ্যলোকে
গাহি সাম্যের গান,
প্রতাপে আসে দিঘল রজনী শেষে
রবির আলোর বান।

হেরে যায় যতো হারায়না সাহস
বুকে বল বাঁধি,
দুঃখ জোয়ার সামলে নিয়ে
পরের তরে কাঁদি।

হেনকাল বিচিত্র জীবন যত
একেলা বহে ঝড়,
অবিমৃশ্যতায় ছড়িয়ে বেড়ায়
অচিন পবন ঘর।

সর্বাঙ্গে দংশিত ক্ষত মিশে
বাঁচার আশায় থাকি,
ক্ষয়িষ্ণু জীবন জয়গান করে
কাটুক সময় বাকী।

জীবন বুঝে জীবনের দাম
শুধুই বাঁচার লড়াই,
নিঃশ্বাসের তিরোধান সমীরে
করেছি কতো বড়াই।

আজি ফের সাজবে ভূলোক
দ্যূলোক চায়বে হেসে,
অজস্র রঙে হবে রঙিন,
নব জীবনের বেশে।

কান পেতে শুনি মুহুরীর ডাক
সার্থক চলার আহবান,
জীবন যার এখনো আছে
সেইতো আজি ধনবান।

প্রকৃতি মানুষ অভিযোজনে
সখ্য গড়িলে সর্বোত্তম ,
অহর্নিশ ক্লেদাক্ত নবারুণ জয়ে
জীবন হবে অজর উত্তম।
…………………………………………..

নারী

মা আমেনার কোলে এলো
শিশু নবিজী সা. ধরা তে,
দুনিয়া হলো আলোকিত
পথ দেখালো সূরা তে।

খ্যাতিমান জন্ম দিলো মায়ে
নাড়ীয় তুচ্ছ অতি তাঁরা,
নারীর সাথে বৈরীদমনে যারা
জ্যোৎস্না মেলে জ্বলে না তারা।

বাঁধাসমর জিতে নারী জাতি
হয় যদি যতোই সফল,
আপন মানুষ কুড়াল মারে
করে দিতে চায় বিকল।

নারী তুমি মানুষ ভাবো নিজেরে
ছেড়ো না কভু হাল,
সমৃদ্ধির বিশ্বভরা প্রাণ তুমি
নসাৎ করো অসূরের জাল।

নারী হলো শক্তির আধার
দেবী দূর্গার আরাধনা,
বেহেস্তের সর্দার রাণী
বিবি ফাতেমা(রাঃ) সাধনা।

নারী তুমি দেখাও মেধার ঝড়
প্রাচীর ভেঙে করো জয়,
সত্যের দাপটে আগোয়ান হয়ে
বিদঘুটে কালো করো জয়।
…………………………………………..

গন্তব্যহীন পথ

জীবনঘেরায় অচেনা পথ,
ভালো নেই বন্ধু সমানে বিপদ।
ছেলেপুলের নজরদারী,
শান্তি নাই রে লক্ষীচারী।

কেউ চায় না কিসে সুখ
মম চিত্ত কাঁদে উন্মুখ,
ঘেরাবেড়াহীন অবুঝ মন,
কে বুঝে দুঃখ, হে সুজন।

তবুও আশায় বুক বাঁধি
আসবে সুদিন গগণে সাধি।
মনের কষ্ট গোচরে রেখে,
বিষ হয়ে ইচ্ছেরা যায় বেঁকে।

এজীবনে সুখ সুজন পাবোনা,
সময় আনন্দে উপভোগে যাবোনা।
এই তো সাজা দিবারাতি,
ভালো থেকো ভালোবাসার সাথী।