অপেক্ষা করুন

আপনারা অপেক্ষা করুন…
এই সংবিধান আপনাদের
এই যে এত পুলিশ-মিলিটারি!
একদিন ঠিকই
গুটিগুটি পায়ে তারা এসে
আপনার পাশে দাঁড়াবেই!

আপনারা অপেক্ষা করুন…
যতদিন না পিঠের চামড়াগুলো
দেওয়ালে-দেওয়ালে ঘষা খেয়ে
একেবারে উঠে যায়।

আপনারা অপেক্ষা করুন…
এই সংবিধান আপনাদের
যার দুটো চোখ আছে
দুটো হাত আর নিজস্ব মগজ!

মনে রাখবেন
পুলিশ এবং মিলিটারি
পরিচালক ও নাট্যকার নেতাদের
নির্দেশে চলে না!
আপনারা অপেক্ষা করুন
যতদিন না দুই দেওয়ালের চাপে-তাপে
জীবন্ত ফসিল হয়ে যান।
…………………………………………..

অপেক্ষায় আছি

আমি যাকে ভালোবাসি তার হাতে নয়
যে আমাকে ভালোবাসে তার হাতে
তুলে দেব অর্ধেক জীবন!

কে নেবে কে নেবে বলো
অপেক্ষায় আছি!
…………………………………………..

কৈফিয়ত

মনে করুন, শিকড় থেকে উচ্ছেদ হওয়া
দশ লক্ষ আদিবাসীর আমি একজন!
মনে করুন, ছত্রীসগঢ়ের সেই সতেরোটা লাশ!
মনে করুন, এইমাত্র যে ফুটপাতে মরেছে!
মনে করুন, পথে পথে যে ভিক্ষে চাইছে!
এরপরও যদি
আমাকে কিছু না মনে করতে পারেন
তবে ধরে নিন, মিথ্যে অজুহাতে
এক জেল থেকে আজও আর এক জেলে
বন্দি করে রাখা হয় যেসব কবিকে
আমি সেই কবিদের একজন!
তাহলে আপনার আর আক্ষেপ থাকবে না,
আমি পক্ষে বা বিপক্ষে কেন কথা বলছি না!
…………………………………………..

একদিন

এ শহর চিনল না তোকে
কুয়াশা জড়ানো রাজপথে
একদিন পায়ে পায়ে তোর
হেঁটে যাবে ভোর
ভোর….. …..
শীতঘুমে ডুবে গেছে গ্রাম ও শহর!
…………………………………………..

যিশু

ওই দেখ কারা মানুষকে ধরে
খাঁচায় নিচ্ছে ভরে
ওই দেখ কারা মানুষ বেচছে বন্দরে বন্দরে…
আমার কাছে সে অতীত মানেই
শাসকেরা বর্বর।
“মানুষের এক পৃথিবী গড়ব…”
যিশু দিল হুঙ্কার!

হাতেও শিকল পায়েও শিকল
খাটে মানুষের দল
মানুষের শ্রম চুরি করে রোজ
শাসক বাড়ায় বল।
ওই দেখ যত শাসক ছুটছে
পৃথিবীর কোণে কোণে
দেশহীন করে মানুষ ভরতে
শোষণের যাঁতাকলে।
আমার কাছে সে অতীত মানে
আইনও ভয়ঙ্কর!
“মানুষের এক পৃথিবী গড়ব…”
যিশু দিল হুঙ্কার!
…………………………………………..

ভারতবাসীদের এক ভারতীয়র চিঠি

তোমাদেরকে আগে কখনও বলতাম, ভাই
কখনও বলতাম, বন্ধু
আজ থেকে বলব, ভারতীয়
আজ থেকে বলব, ভারতবাসী!
এই যে এক জন্ম পাশাপাশি কাটালাম
একসঙ্গে স্কুলে গেলাম, মাঠে খেললাম
তখন একবারও মনে হয়নি
এই কথাগুলো আলাদা করে বলা প্রয়োজন
কারণ তখনও বর্গীরা আসেনি দেশে!
আমাদের দেশ উজাড় করে
আমাদের দেশ কেড়ে নিয়ে
কেউ তখনও বলেনি এভাবে,
আমরা লুটেরা নই–
আমরা এসেছি তোমাদের একটা দেশ দিতে
মুসলমানগুলোকে এবার…!

আদতে ওরা কেউই এদেশের নয়
যাদের জন্য আজ আমি
পাগলের মতো পূর্বপুরুষের কাগজ খুঁজছি
আর তোমাকে শুনতে হচ্ছে, ভারতীয় নও!

আমাদের সংস্কৃতি এমন ছিল না
আমাদের দেশ আগে এমন ছিল না
শুধুমাত্র “ভাই” বা “বন্ধু” সম্ভাষণে
বেঁচেছিল আমাদের দেশ ও সংস্কৃতি।
বহিরাগতরা সেই দেশ-ই বোঝে না
বহিরাগতর সংস্কৃতি
বিভেদের আর বঞ্চনার।
ওদেরকে বোঝাতে আজ ওদের ভাষায়
একে অপরকে “ভারতীয়” ও “ভারতবাসী”
বলতে বলতে আমরা ভারতবাসীরা
এসো জোটবদ্ধ হই তারপর
কেড়ে নিই আমাদের সেই দেশ “ভারতবর্ষ”
বর্গীদের হাত থেকে
বহিরাগতদের হাত থেকে।
…………………………………………..

পাশে আছি

রাজা চলেছেন মৃগয়ায়
সঙ্গে ইয়ার-দোস্ত
মোসাহেবের দল!
তাঁরা চলেছেন খুব ফূর্তি হবে বলে
তাঁরা চলেছেন লুটপাট হবে বলে
ফূর্তি আর আমোদের শেষে
লুট করা সম্পদের ভাগ হবে বলে…

মৃগয়া যাদের ধর্ম
তারা এসে থামলেন
আমার স্বদেশে
বললেন, এ দেশ মৃগয়াক্ষেত্র
আমাদের ধর্ম মৃগয়া
এবার তাহলে সব লুটে নেওয়া যাক।
গাছে গাছে আগুন ধরাও
চারিদিক জুড়ে তোলো যুদ্ধের রব
ওইদিকে জাল পেতে দাও
এদিকে দাঁড়িয়ে থাকো বন্দুক হাতে!

গল্পটা অনেক পুরানো
গল্পটা আজকের নয়
শাসকের আচরণে মাঝে মাঝে প্রকটিত হয়!
মনে হয় এই বুঝি ওরা ফিরে এল
ওই যে দাঁড়িয়ে আছে বন্দুক হাতে…
যতক্ষণ না লুটপাট করে
ভাগবাটোয়ারা সারা হচ্ছে
ওরা সরবে না…
ওরা বলে যাবে, আমাদের ধর্ম মৃগয়া!
ওরা বলে যাবে, আমাদের ধর্ম মৃগয়া!

আমরা যে দেশে থাকি সেই দেশটাকে
কেউ যদি তাদের মৃগয়াক্ষেত্র মনে করে
তুমি পথে নেমে এসো জামিয়া মিলিয়া
আমরা তোমার পাশে আছি!
…………………………………………..

লোকটা দাঁড়িয়ে আছে

কদমচাঁদ গরুর ব্যাপারী
বলে উঠল, “ওই দেখ আসছে চাষিবউ
কাঁখে খোকা নিয়ে
মাঝি নৌকা এখনই ছেড়ো না।”
“এই স্রোতে সকলেই একসাথে যাব”
বললেন হরেন মাস্টার,
গিয়েছিলেন স্কুল থেকে টিউটোরিয়ালে।

গঞ্জ থেকে হাট সেরে
কে দাঁড়াল আলের ওপর-
“মাঝিভাই, আমাকেও নও
নাও তুমি এখনই ছেড়ো না।”
“সামান্য মুদি থেকে
ও এখন আড়তমালিক
মল্লিকবাজারে ওর লুকানো গুদাম।”
হাসলেন অঞ্চল প্রধান।
বিরোধী নেত্রী হেসে বললেন,
“এমনই হওয়ার কথা ছিল।
চাঁদাটা আপনিই বেশি পান।”

“স্রোত অনুকূল বড়ো, স্রোত অনুকূল
সরে সরে বসো একটু সকলেই যাব”
বললেন ভক্ত গোঁসাই।
ভিখ না মিললেও তাঁর হাসিটি অটুট।

নাও উঠল দুলে
ব্যগ্র হয়ে উঠলেন মৌলবীসাহেব,
“নাও মাঝি এখনই ছেড়ো না।
ওই দেখ, লোকটা দাঁড়িয়ে!”

ঘাট ছেড়ে দিল তবু নাও
মাঝি বলল, “ও লোক যাবে না।

লোকটা দাঁড়িয়ে আছে
স্রোতের বিরুদ্ধে যাবে বলে!”
…………………………………………..

জীবনচরিত

তার কথা লিখতে গিয়ে নিজেকেই লিখে গেছি
আজন্ম
ধুলোট কাগজে তার অস্পষ্ট দাগ পড়ে আছে…
তুমি একে ‘চর্চা’ বলো; ‘গদ্য’-‘পদ্য’ কিছু
আমি বলব, এ আমার জীবনচরিত!

একটু একটু করে লিখছি
একটু একটু করে
একটু একটু করে আমি লিখছি প্রতিদিন!
…………………………………………..

কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে…

আ মেরি জান ভাইবেরাদর!
: হুজুর! আমরা তেওড়-কেওড়!

হোকনা, তবু ধর্মের ভাই!
: সেটা কেমন? বাপকে শুধাই?

বাপ জানে না বদলে গেছি!
: দেখুন হুজুর, পড়ছে হাঁচি!

নাক কেটে আয় দেশ সামলাই!
: হুজুর পেটে দানা যে নাই!

পেট কেটে আয় সদলবলে!
: হুজুর ফেলে দিছেন জলে!

জল হলেও দেশপ্রেমের!
বাদ্যি বাজে ওই যে ভোটের!
বুঝিস না তা দেশদ্রোহী?
আয় এবেলা বুঝিয়ে দি!

হুজুর আমি গেলাম মরে!
: কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে…
কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে!