শ্রম শিশু, পেন্সিলে আঁকা জীবন ও পাড়ার দুগ্গোৎসব
পঞ্চানন মল্লিক

জলের হেসেলে জমা হয় বাপ-দাদার বাস্তু ঘর,
আশ্রয়ণের টিনসেড রুমে মাথা গোজে রাম-রহিম-জন-রা।
দড়ির হ্যাঙ্গারে ময়লা টি শার্ট
অথবা বোতাম বিহিন শার্টেরাও এলোমেলো ওড়ে।
কদিন আগে নাম ছিল শ্রম শিশু তালিকায়,
এখন পেন্সিলে আঁকা জীবনও মাতে শারদ বন্দনায়।
আশ্বিনের বাতাসে পূজো পাড়ার ঘ্রাণ আসে
মন চলে যায় প্যান্ডেলের খেলায়।
ঢাক কুড় কুড় তালে পাখির ওড়াও আয়ত্বে নেয়
ক্লান্তিহীন স্রোতে ঘোরে রাম-রহিম-জন-রা
“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।”
……………………………………………

পূজোর শাড়ি
সোমা মুৎসুদ্দী

এই পূজোতেই কিনে দিবি
নীল রঙ্গেরই শাড়ি
না-হয় যাবো বাবার বাড়ি
দিয়ে তোকে আড়ি
সাথে দিবি নীল চুড়ি আর
নীল রঙ্গেরই দুল
গলার মালা নীল টিপ আর
খোঁপায় গোলাপ ফুল
মিছে কথায় ভুলছি না আর
ওরে পোড়া মিন্সে
হাতে দিবি মিষ্টি খেতে
টাকা আমায় তিনশে
নাই যদি দিস তোর সঙ্গে
করবো না আর ঘর
ডিভোর্স দিয়ে চলে যাবো
শোনরে কিপটে বর।
……………………………………………

শরৎ শোভা
কমল কুজুর

নীল আকাশ আমায় ডাক দিয়ে যায়
পেঁজা তুলার মতো সাদা মেঘ
চাঁদের দেশে ভেসে যেতে যেতে
গান শুনিয়ে যায়, আর
বকপাখি তার অবাক দুটি পাখা
দুলিয়ে রুপকথার গল্প শোনায়
-মুগ্ধ ভালোবাসায়।
নদীর জলে মৃদু ঢেউ খেলে
আর বাতাসের ছোঁয়ায় কাশবনে
দোলা দিয়ে যায়,
নীল আকাশের ছায়া জলের মাঝে
ছবি এঁকে যায়;
-অলীক মোহমোয়তায়।
শিউলি রাঙানো সকাল বেলা
শুভ্র শিশিরের শুদ্ধতা প্রকৃতিকে
সাজায়, সুবাস জড়ানো স্নিগ্ধতায়
মন্ত্রমুগ্ধ হৃদয় চোখ মেলে চায়।
গোধুলির মিস্টি আলো কানে কানে
বলে যায় তোমায় আমায়,
দূর্গা মা এসেছে দ্বারে
শোক ব্যথা সব যাও ভুলে,
হৃদয়ের নোঙ্গর তুলে দিয়ে
দাও সাড়া, দাও সাড়া
-একেবারে!
……………………………………………

পুজোর স্বপ্ন
অর্ণব আশিক

পুজোর বাদ্য পাড়ায় পাড়ায়
ঢ্যাম কুড়াকুড় ঢ্যাম কুড়কুড়
বন্ধুরা সব গেলে কোথায়
বাজছে দেখো পুজোর সুর।

বাড়ির ভিতর মাটির উঠুন
পুজার বাদ্যি গানে
রাঙা ঠোঁটের সেই মেয়েটি
আমায় কেবল টানে।

ঢোলের বাদ্য সানাই সুর
আকাশে ওই মেঘের দল
জানিয়ে দেয় আসছে পুজো।
ঢাকের তালে নাচি চল।
……………………………………………

পুজো এলে
শেখ একেএম জাকারিয়া

পুজো এলে শঙ্খ বাজে
বাজে কাঁসর-ঢোল,
পুজো এলে সবার মুখে
ফোটে মধুর বোল।

পুজো এলে চতুর্দিকে
খুশির হাওয়া বয়,
পুজো এলে সবার মনে
ভক্তির উদয় হয়।

পুজো এলে নাচে সবাই
আনন্দে গান গায়,
পুজোর দিনে মন উতলা
প্রাণ জুড়িয়ে যায়।

পুজো এলে সবাই খুশি
সবার মনে সাজ,
পুজো হলো এ জগতে
প্রেমের কারুকাজ।
……………………………………………

প্রার্থনার বীজ
ফারুক মোহাম্মদ ওমর

একসাথে চলার কথা থাকলেও
আজকাল সাথে কেউ চলছে না
তবু একটি স্বদেশী ফড়িং শরতের শুভ্রতায়
উড়ে যায় তোমার বাড়ীর প্রিয় আঙিনায়
যেখানে সাদা সাদা কাঁশফুল খেলা করে
মায়ের আগমনী বার্তায়।

চোখ তুলে যতটুকু দৃষ্টি যায় পুরান ঢাকার রাস্তায়
শিউলী ফুলগুলো কত সুন্দর মেতে আছে শারদীয় উৎসবে
আমি হেঁটে যাই দক্ষিণের হিন্দু বাড়ীর জানালায়
ওইতো কল্যাণব্রতী মানুষগুলো একলাইনে দাঁড়িয়ে আছে
অমৃত সত্যের পথে ।

আমি চেয়ে আছি সুনীল আকাশ আর সাদা মেঘের আলস্যে
কিভাবে বিদায় নিচ্ছে ঘন মেঘের দল,
আচমকা আমার কাছে ভেসে আসলো
র্স্বণ চাপার আভায় মোড়ানো একটি আমন্ত্রণ চিঠি,
শোভনে তাঁর শরৎ ঋতুর মুখ
মাকে বললাম মা, কোথাও কেউ নেই তুমি ছাড়া
মা কমল ফুলের হাসিতে
আমাকে ধরিয়ে দিলেন প্রার্থনার বীজ।

আমি কবিতার নিগুঢ় অনুরাগে ফিরে পলোম
বোধনে আত্ম শক্তির মন্ত্র, চারদিকে ঘন দুর্যোগ
তবু ক্ষণিকের উজ্জ্বলতা আমাকে শুনায় চিরসত্যের গান।