অন্তরাল

তোমার জন্য মখমল কার্পেট
তোমার জন্য হৃদয়ে পেতেছি পিঁড়ি
আসছ আসছ কানাঘুষো ফিসফিস
ধিকধিক বুকে কাঁপে ছত্রিশ সিঁড়ি ।

নিশুতি দুপুরে বুকের আঁচল সরে
অবাক দু চোখ নির্বাক ছলছল
বুকের জমিতে শান্তির মাথা রাখি
লাভা স্রোত গলে অভিমান টলটল ।

এরপর ফোঁটে পলাশ কৃষ্ণচুড়া
ঘন নিঃশ্বাসে আবীরে রাঙানো স্নান
উথালপাথাল জ্যোৎস্না সিঁদুর টিপে
দুর্বার বেগে আসে বাঁধভাঙা বান ।

রঙিন চুমুর কত দাগ দিলি আজ
তুমি কি গুনেছ হে আমার ভালবাসা
হিমালয় বুকে মহাসমুদ্র ঢেউ এ
পেলে কি ঝিনুকে শান্তির ভালবাসা ?
…………………………………………..

লিখি কান্নার চিঠি

আমার আকাশে বিষন্নবতী মেঘ
তোমার আকাশে সোনা থই থই আলো
আমার ধরেছে মন খারাপের সুখ
তুমি নিশ্চয়ই আছো খুব খুব ভালো?

তুমি চলে গেছো দুরে না ফেরার দেশে
আমি পড়ে আছি ছোঁয়াছে ঘরের কোণে
স্মৃতিগুলো আজো তরতাজা বুক ঘেঁষে
বিষন্নতার ছবি এঁকে দেয় মনে।

এদিকে জানো তো শরৎ এসেছে ঝেঁপে
কাশ শিউলির বিপুল বসেছে মেলা
তোমার দেশে কি শরতের মেঘ আছে
নিমেষে দেখায় মেঘ-বৃষ্টির খেলা?

এখন এখানে আগমনী তোড়জোড়
মণ্ডপগুলো সোহাগী আলোতে ভাসে
দেবী দুর্গার আনন্দ আগমনে
নানাদিক থেকে খুশির গন্ধ আসে।

আমার তো কোনো খুশি নেই তুমি জানো
তুমি নিয়ে গেছ যা কিছু খুশির সব
নিরালায় বসে লিখি কান্নার চিঠি
খোলা জানলায় ম্রিয়মান উৎসব ।

ঢাকের শব্দে আনন্দ ধারা বাজে
বিসর্জনের সুরে বিরহের গান
সিঁথির সিঁদুর মুছে দিয়ে গেছ বলে
আমার বরণ নিরাকার নিষ্প্রাণ ।।
…………………………………………..

ঠিকানা

মাঠে মাঠে নামে বৃষ্টির ঠিকানারা
সবুজ ফরাসে নোটিস করেছে জারি
রাতজাগা যত ভিজে পাতা নদী নিয়ে
কবিতার পাঠ চাইলেই দিতে পারি।

আগের শ্রাবণ স্মৃতির সরণি জুড়ে
বাদল উড়ছে জীবনের মেঘে ক্ষত
তুমি চলে গেছ কতদুর কেবা জানে
এ শ্রাবণ আসে ছন্নছাড়ার মত ।

বৃষ্টি নামছে মেঘের ফাটল থেকে
ফোঁপানো ব্যথার ঝমঝম টানা সুর
আকাশের বুকে যেখানে আলোর শুরু
হেঁটে যেতে হবে বলো আরো কতদুর।।
…………………………………………..

একলা পৃথিবী

সব কেমন যেন
ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে
সারাদিন মুসমুসিয়ে বৃষ্টি!

সন্ধ্যার পর থেকেই
বিরহী কোকিল
অলক্ষ্যে এঁকে চলেছে
মনখারাপ আর মিলনসুরের খণ্ডচিত্র।
শ্রাবণ সন্ধ্যায় একি বসন্তের বেহায়া বার্তা?
ভাবতে গিয়ে আমিও
কেমন ঢিলে হয়ে যাচ্ছি
মন উচাটন, ভীষণরকম
আলগা হচ্ছে রাশ!
ভয় ভয় নিঃসঙ্গ বাতাসে
হারিয়ে যাবার চরম সংকেত !
আলগা হাতের মুঠিও আজ
বিভ্রান্ত হয়ে জড়িয়ে ধরতে চায় শক্ত অবলম্বন
তারপর আবার হেঁটে চলা
একলা পৃথিবী
রাতের কোলাহলে আজ কোনো তারা নেই
শুধুই নিঃসঙ্গতা ফিসফিস
বাদল ঝড়ছে অবিরত।।
…………………………………………..

স্বপ্ন-প্রহর

এসো না এইবার প্রাণ খুলে দিই
একটু একটু করে এগিয়ে আসা নৌকো
বিকেলের ঝলমলে রোদ ছুঁয়ে দ্যাখো কেমন
দিগন্ত স্পর্শ করার
কৌশলে মেতেছে
এসো একটু মুখোমুখি বসি।
একটু অবসর,দুটি মিঠেপাতা পান, চা কফি কিম্বা মদের পেয়ালায় চুম্বনের
সাহারায় মেতে উঠি
প্রজাপতির মতো
আর সংসারের অভিমান
গলে জল হতে হতে
কাটিয়ে দিই দুর্দান্ত আগামীর স্বপ্ন-প্রহর!!
…………………………………………..

পরাগবন্ধন

“ভালবাসা ফুরিয়ে গেছে” বলে তুমি যে অহেতুক গণ্ডগোল বাঁধাও আজকাল!
তাতে আমি দিন দিন আরো চঞ্চলা হয়ে পড়ছি তা কি তুমি জানো?
আমার শক্ত হাতে হালের বৈঠা পিছলে যাচ্ছে
ঢেউএর দোলায়
আমার পবিত্রধাম জুড়ে কেমন যেন মড়কের নোটিস টাঙিয়ে রেখেছ !
ভালবাসার অভাবে
মরুভূমির মতো জলশূন্য এই বুক !
আমিও যে হাহাকার করি হে প্রিয় …দাও না একঝারি জল!
এখনো তোমার হাতময় ফুলের রেণুর দাগ!
রোদ্দুরের গুঁড়োয় এখনো বসন্তের আহ্বান!
তবুও তুমি পালিয়ে বেড়াও তুচ্ছ করো জাগতিক বন্ধন
একবার দ্যাখোই না শেষমেষ…
হয়তো ফুটবে অগোচরে হাসনুহানা অথবা কামিনীর পরাগবন্ধন !!
…………………………………………..

প্রেমের কবিতা


ঝড়ের আঘাতে ভেঙে দিয়ে গেলে বুক
তবু ভালো আছি,
এ বুক জুড়ে যে সব হারানোর সুখ।।

আমি কাঙালিনী ছিল বুকভরা দাবি
দুহাত পেতেছি
আকুল হৃদয়, পায়নি সুখের চাবি ।।

যা কিছু জমানো তিলতিল গড়া অর্ঘ্য
একদিন দেখি
ধুলোরঙে ঢাকা জীবন পুরীর স্বর্গ ।।

খেলাঘরে দেখি না পাওয়ার কলরব
আনাচে কানাচে
স্মৃতির তালিকা রাতজাগা উৎসব ।।

তারাদের ভীড়ে জোনাকির রূপরেখা
নিশির কুটিরে
ফেসবুক জুড়ে প্রেমের কবিতা লেখা।।
…………………………………………..

তুমি হাসলে

তুমি হাসলে হেসে ওঠে নীলার আকাশ
হাওয়ায় লাগে দমকাবতী মাতন
উত্তরের সব বরফ গলে যায়
প্রবাহ গঙ্গার মতো
ঢেউ জাগে হৃদয় থেকে হৃদয়ের ঘ্রাণে
শব্দরা জেগে ওঠে নিষ্কলুষ
হাওয়ায় তোমার তর্জনী খেলিয়ে খেলিয়ে
তুমি মেপে চলো ভারতবর্ষের ম্যাপ
আরো কতদূর এগিয়ে গেলে
তুমি ছুঁয়ে যাবে নীলার আঁচল
যে আঁচলে লেখা আছে
নাতিশীতোষ্ণ নদীর গোপন গভীরতা
আদি ও অনন্ত কবিতার খুনসুটি
তুমি অবলীলায় স্বরবর্ণ বলে যাও
ব্যাঞ্জনবর্ণের কথা ভাবতেই
তুমি টের পাও তুমি প্রেমে পড়েছ !

দেশ নয় দেশের মত
নারী নয় নদীর মত !!
…………………………………………..

গদ্য কবিতার ইতিহাস

গাছেদের পাড়া ঘুরে ঘুরে যায় রাতপাখিদের শিষ
সেখানেই নীলা ফেসবুকে লেখে কবিতার বন্দিশ।

চুল মেলে দেয় নিশির কুটিরে, গোপন অঙ্গবাস
প্রাচীন গাছের গুড়িতে লিখছে, নীলা তার ইতিহাস।

চাঁদের আগুনে নীলা খুঁজে পায় একমুঠো সাদা খই
তারার কান্না শিশিরে ভিজলে খড়কুটো ভাসে কই ?

মৌনীরাত্রি, নীলা খুঁজে কাকে, হৃদয়ের ভেজা ঘামে
কবেকার প্রেম আজো পড়ে আছে নীল রংচটা খামে ।

নীলার শব্দে গুমড়ায় মেঘ নেই যার চালচুলো
জেগে জেগে ওঠে বেপরোয়া যত গদ্য কবিতাগুলো ।

নীলার গদ্যে বৃষ্টির তানে টোল পড়ে স্মিতগালে
দুঃখরা হাঁটে মৃত্যু মিছিলে সেগুনের মগডালে।।
…………………………………………..

অভিযান

অনিবার্য কারণে নীলা তার
বৈধব্যের যন্ত্রণা গোপনে ঢেকে
অমাবস্যার অন্ধকার সরিয়ে
তৎপর হয়ে উঠছে জীবনের আখড়ায়।
জ্যোৎস্নার বাতাস মেখে সে এখন
দোল খাচ্ছে দোলনচাঁপা ছন্দে।
বিমর্ষ নীল শব্দগুলো বড় উদাসীন
আর ধীরে ধীরে অসহায়…
কয়েকমাস আগেও নীলা সর্বদা
তার নিরাময় চেয়ে এসেছে প্রাণপণ।
পাশের ঘরে থাকা সত্ত্বেও
কোনো মন্দ বাতাস মনকেমনের
আগাম সংকট বার্তা নিয়ে আসেনি
তবুও নীল যন্ত্রণায় নীলা হারিয়ে ফেলেছে
জীবনের সবচেয়ে বড় অবলম্বন!
বুঝেছে জীবনে বাউলই একমাত্র দর্শন
আর বাউণ্ডুলে গানগুলো সবই
জীবনের আখড়ায় হরিধ্বনি তোলে!
জীবন আর মৃত্যুর মধ্যখানের সময়টুকু
বড় অর্থবহ অভিযান!
…………………………………………..

আমি প্রজাপতি হব

আমি প্রজাপতি হব
ডানায় পাখায় মেখে রঙ
তোমরা বলবে দেখে – ঢঙ
আমি প্রজাপতি হব
তোমাদের গায়ে গায়ে উড়ে
তোমরা বলবে যাঃ – দূরে
উড়ে যাব দুরে যাব
জঙ্গল চিলাপোতা নাম
তোমাদের দিয়ে যাব খাম
চিঠি দিও নির্জনে
প্রযত্নে ঝরাপাতা খালি
শুরু হবে পত্রমিতালি
চোখে চোখে দেখা আর হবেনা বোধহয়
আমি প্রজাপতি উড়ি সারা বনময়।।