রিলেটিভিটির গল্প

বুধবার। মফিজুর রহমান স্যার পুরাে একঘণ্টা ধরে আইনস্টাইনের থিওরি অব রিলেটিভিটি’ বােঝালেন ক্লাসে। যদিও ফিজিক্স সাজিদের সাবজেক্ট নয়, তবে মাঝেমাঝেই স্যার এসব নিয়ে কথা বলেন। আজ যেমন বলেছেন থিওরি অব রিলেটিভিটি নিয়ে। এই থিওরি কী, কখন আবিষ্কৃত হয়, কীভাবে কাজ করে এসব একেবারে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে বােঝানাের পরে তিনি পুরাে দুই গ্লাস পানি পান করলেন। পানি পান শেষে বললেন, এখন আমি পরীক্ষা করব কে কী রকম বুঝেছ। এখানে। একজন একজন এসে বুঝিয়ে যাও। বুধবারে মফিজ স্যারের ক্লাসের এই এক জ্বালা । টানা একঘণ্টা ক্লাস নেওয়ার পরে আরও টানা একঘণ্টা নেবেন সেটার প্রেজেন্টেশান। অনুপস্থিত থাকারও সুযােগ নেই। ডিপার্টমেন্টে এই একজনই আছেন যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের এখনাে বেঞ্চের উপরে তুলে দাঁড় করিয়ে রেখে ক্লাস মিস করার শাস্তি দেন। কি বিদঘুটে ব্যাপার! মফিজ স্যারের টানা একঘণ্টার লেকচার থেকে যে যতটুকু গলাধঃকরণ করতে পেরেছে, সেটা একে একে সবাই আবার উগরে দিয়ে আসতে লাগল। কেউ ৫ মিনিট, কেউ ৭ মিনিট, কেউবা ৮ মিনিট করে লেকচারটার পুনরাবৃত্তি করতে লাগল। সবাই ‘থিওরি অব রিলেটিভিটি’র বিভিন্ন দিক নিয়ে বলতে লাগল । সবার শেষে এল সাজিদের পালা। অনিচ্ছা সত্ত্বেও সাজিদকে চার-পাঁচ মিনিটের একটি লেকচার ঝেড়ে আসতে হবে এখন। সাজিদ উঠে এল। মফিজ স্যার উনার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে মুচকি হেসে বললেন, সমাপ্তি পর্বে এবার মহামতি আইনস্টাইনের কাছ থেকে আমরা সবচেয়ে চমকপ্রদ কিছু শুনব। You may start Sir Mr. Einstein… মফিজ স্যারের বিদ্রুপাত্মক বাক্য ব্যয় অন্যদের জন্য সবসময় হাসির খােরাক। ক্লাসের সবাই হাে হাে হাে করে হেসে উঠল। ব্যাপারটা নতুন কিছু নয়, তাই সাজিদ এখন আর এসব গায়ে মাখে না। সাজিদ হাসি হাসি মুখে শুরু করলবিজ্ঞানী আইনস্টাইনের থিওরি অফ রিলেটিভিটি একদম পানির মতাে সােজা । এটা এতই সােজা যে, ক্লাস এইটের একটা বাচ্চাও এটাকে খুব সহজে বুঝে নিতে পারে।

এতটুকু শুনে সবাই সাজিদের দিকে বড় বড় চোখে হাঁ করে তাকাল। মফিজ স্যার চেয়ারে হেলান দেওয়া অবস্থাতে ছিলেন। সাজিদের কথা শুনে উনি একটু নড়েচড়ে বসলেন। উনার মােটা কালাে ফ্রেমের চশমাটিকে ঠিকঠাক করে নিয়ে বললেন, ‘Come to the point…’। সাজিদ বলল-“স্যার, আমি তাে পয়েন্টেই আছি। আমি কি বলব নাকি বসে। পড়ব? ‘No no, carry on’, মফিজ স্যারের প্রতিউত্তর। সাজিদ আবার শুরু করল‘এই সােজা থিওরিটিকেই একবিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানের সবচে বড় আবিষ্কার এবং এর আবিষ্কারক মহামতি আইনস্টাইনকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ পদার্থবিজ্ঞানী মনে করা হয়। ‘এতক্ষণ আমাদের সবার প্রিয়, শ্রদ্ধেয় মফিজুর রহমান স্যার আমাদের খুব সুন্দর করে বােঝালেন জিনিসটা। এরপর আমার বন্ধুরাও এই থিওরির নানান দিক খুব সুন্দর করে বর্ণনা করে গেল। যেহেতু আমাকেও কিছু বলতে হবে, তাই আমি এই থিওরির সবচে মজার দিক, ‘Time Dilation’ নিয়েই বলব। এই থিওরিটি সময় নিয়ে আমাদের যেভাবে ভাবাতে পেরেছে, বিজ্ঞানের অন্য কোনাে আবিষ্কার তা পারেনি। সময় নিয়ে আগেকার মানুষদের ধারণা ছিল অন্যরকম। তারা ভাবত, সময় সবখানে সমান। অর্থাৎ, আমার কাছে যেটা একঘন্টা , সেটা অন্য কোনাে গ্রহের, অন্য কোনাে প্রাণীর কাছেও একঘণ্টা। আমার কাছে যেটা একদিন, সেটা অন্য সবার কাছেও একদিন। অর্থাৎ, মাত্রাভেদে সময়ের কোনােই পরিবর্তন হয় না। ‘১৯০০ সাল পর্যন্ত সময় নিয়ে পৃথিবীর মানুষের ধারণা ছিল এরকম। উনিশ শ সালের কিছু আগে বিখ্যাত বিজ্ঞান লেখক এইচ.জি. ওয়েলস সময় নিয়ে কিছু ব্যতিক্রম লেখাজোখা করেন। তিনি তাঁর কিছু সাইন্স ফিকশানে দেখান যে, তাঁর সষ্ট কিছু চরিত্র বর্তমান’কে পাশ কাটিয়ে ভবিষ্যতের সময়ে চলে যাচ্ছে। অতীতে চলে যাচ্ছে। এইচ.জি. ওয়েলস তাঁর এই কথাগুলােকে সাইন্স ফিকশনে ঠাঁই দিলেও, তখনাে মানুষের মনে প্রশ্ন ছিল-“সত্যিই কি মানুষ কোনােদিন ভবিষ্যতে যেতে পারবে? অতীতে যেতে পারবে? ‘আইনস্টাইনের আগ পর্যন্ত এটা সাইন্স ফিকশনে থাকলেও, আইনস্টাইন এসে প্রমাণ করে দেখালেন যে, হ্যাঁ, মানুষ চাইলেই ভবিষ্যৎ ভ্রমণ করতে পারে।
‘কিন্তু কীভাবে? মজাটা এখানেই। আগেকার দিনে মানুষ ভাবত, সময় সর্বস্থানে, সর্বাবস্থায়, সর্বমাত্রায় একই রকম। ঐ যে একটু আগে বললাম, আমার কাছে যেটা একদিন, পৃথিবীর অন্য কোথাও বা অন্য কোনাে গ্রহে অন্য কারও কাছেও সেটা একদিন। ‘কিন্তু আইনস্টাইন এসে বললেন, ‘না, সময় ঠিক এরকম নয়। মাত্রাভেদে সময় পাল্টে যায়। ‘কিন্তু কীভাবে? আইনস্টাইন বলেছেন, কম গতিশীল কোনাে বস্তুতে সময় অধিক পরিমাণ দ্রুত চলে। আর যে-বস্তু অধিক গতিতে চলে, তার সময়ও তুলনামূলক কম গতিসম্পন্ন বস্তুর চেয়ে কম দ্রুত চলে। আর এটাকেই বলা হয় ‘Time Dilation.’ ‘অর্থাৎ, যে-বস্তুর গতি কম, তার সময় চলবে দ্রুত। আর, যে বস্তুর গতি বেশি, তার সময় চলবে আস্তে। ব্যাপারটি কেমন জগাখিচুড়ি জগাখিচুড়ি মনে হচ্ছে, তাই না? ‘কিন্তু আইনস্টাইন এটাকে ম্যাথম্যাটিক্যালি প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। ‘ব্যাপারটিকে বােঝানাের জন্য ১৯৮০ সালে বৈজ্ঞানিক লেখক কার্ল সেগান তাঁর বিখ্যাত কসমস’ সিরিজে পুরাে একটি পর্ব করেছেন। কার্ল সেগান তার সেই সিরিজে এই পর্বের নাম রেখেছেন ‘টুইন প্যারাডক্স’ বা যমজ বিভ্রান্তি।’ শুধু কার্ল সেগান নয়, Time Dilation-এর উপর ভিত্তি করে হলিউডে ব্লকবাস্টার মুভিও তৈরি হয়েছে ২০১৪ সালেঃ Interstellar. ‘ধরা যাক, আমি আর আমার এক জমজ ভাই। আমাদের দুজনের বয়স এখন ১৮ করে। হঠাৎ করে আমার মাথায় ভূত চাপল যে, আমি স্পেসশিপে করে মহাবিশ্ব ভ্রমণে বের হব। পৃথিবী থেকে পাঁচহাজার আলােকবর্ষের মধ্যে যা কিছু আছে, তা আমি দেখে আসব। কিন্তু সেটা মাত্র তিন বছরের মধ্যে। অর্থাৎ, স্পেসশিপ নিয়ে আমি মহাবিশ্ব ভ্রমণে বের হলে তিন বছরের মধ্যে পাঁচ হাজার আলােকবর্ষ ভ্রমণ করে আসব। ‘এখন, কথা হচ্ছে, তিন বছরের মধ্যে আমি যদি তিনশত আলােকবর্ষ ভ্রমণ করে পৃথিবীতে ফিরতে চাই, আমার স্পেসশিপটাকে তাে আলাের গতির (সেকেন্ডে একলক্ষ ছিয়াশি হাজার মাইল) কাছাকাছি গতিতে ছুটতে হবে। তা না হলে এটা কোনােদিনও সম্ভব নয়। কিন্তু আইনস্টাইন এটিও বলেছেন, কোনাে বস্তু কোনােদিনও আলাের গতির কাছাকাছি গতিতে ছুটতে পারবে না। এটা অসম্ভব। ধরে নিলাম, আইনস্টাইনকে বুড়াে আঙুল দেখিয়ে আমি আর আমার ভাই। সেরকম একটি স্পেসশিপ তৈরি করে ফেললাম যা ছুটবে প্রতি সেকেন্ডে ১ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার মাইল। আমি আমার ভাইয়ের কাছ থেকে অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় নিলাম। ২০১৬ সালের ২৫শে নভেম্বর আমি তাঁর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে স্পেসশিপে করে রওনা হলাম মহাশূন্যের পথে। যখন বিদায় নিচ্ছি, তখন দুজনেরই বয়স ঠিক কাটায় কাটায় ১৮ করে। এতটুকু বলার পরে সাজিদ একটু থামল। কারও মুখে কোনাে কথা নেই। সবাই মনােযােগ দিয়ে শুনছে। মফিজ স্যারও। তাদের কাছে ব্যাপারটা জানা থাকলেও এভাবে হয়তাে ইন্টারেস্টিং লাগছে। সাজিদ আবার বলতে শুরু করল‘এখানেই থিওরির মজা। আইনস্টাইন বলেছেন, যেহেতু আমার ভাই পৃথিবীতে আছে আর আমি আলাের কাছাকাছি গতির একটি স্পেসশিপে, সেহেতু আমার গতি (মানে স্পেসশিপের গতি) আমার ভাইয়ের তুলনায় অনেক অনেক বেশি। ‘এখন থিওরি মতে, গতিশীল বস্তুতে সময় কম দ্রুত চলে। তাহলে আমার সময় চলবে আস্তে। থিওরি আবার বলেছে, কম গতিশীল বস্তুতে সময় অত্যন্ত দ্রুত চলে। তাহলে, আমার ভাইয়ের সময়গুলাে চলবে দ্রুত। ‘এখন আরও ধরি, স্পেসশিপে যাবার সময় আমার হাতে যে-ঘড়ি ছিল, সেই ঘড়ির সময় অনুযায়ী আমি ঠিক কাঁটায় কাঁটায় তিন বছর পরে তিনশত আলােকবর্ষ ভ্রমণ করে পৃথিবীতে এলাম। ‘তাহলে তখন আমার বয়স কত? ১৮+৩ = ২১। ‘পথিবীতে এসে যখন আমি আমার ভাইয়ের সামনে যাব, তখন তার বয়স কত হবে? তাঁর বয়সও কি ২১ হবে? ‘হা হা হা হা হা। একদম না। আলাের কাছাকাছি গতির স্পেসশিপ নিয়ে আমি যে-তিন বছর মহাশূন্যে কাটিয়ে এসেছি, সে-তিন বছরে পৃথিবীতে পার হয়ে যাবে প্রায় ৫০ বছর। কেন এমনটা হলাে? কীভাবে? মাত্রায় আর গতিতে আমার আর আমার ভাইয়ের সময়ের মধ্যে একটা তারতম্য ঘটে গেছে। আমি দ্রুত গতির স্পেসশিপে থাকার কারণে আমার সময় যেখানে (সেটা আমার গতি বিবেচনায় পারফেক্ট) চলেছে, আমার ভাইয়ের সময় সেখানে চলেছে দ্রুত (তার গতির তুলনায় সেটা তাঁর জন্য পারফেক্ট)। ‘আমার যমজ ভাই, যাওয়ার সময় যার বয়স ছিল আমার মতােই ১৮, আমি এসে দেখব, সে তখন ৬৮ বছরের একটা বৃদ্ধ। তাঁর হাতে একটা লাঠি। কোমড় নুয়ে গেছে। স্ত্রীর ভেঙে পড়েছে। ‘এটাকে রূপকথার গল্পের মতাে মনে হলেও এটাই সত্যি। এইজন্য কার্ল সেগান এটাকে টুইন প্যারাডক্স বা যমজ বিভ্রান্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ‘এভাবে ২০১৬ সালে এরকম দ্রুত গতির যান নিয়ে মহাবিশ্ব ভ্রমণে বের হয়ে তিন বছর পর এসে আমি চাইলেই ২০৬৬ সালের পৃথিবীকে দেখে ফেলতে পারি মাত্র তিন বছর বয়স বাড়িয়ে। এটাই ভবিষ্যৎ ভ্রমণ। আমার সমবয়সীরা যখন কেউ কবরে, কেউ মৃত্যুশয্যায়, তখনাে আমি থাকতে পারি ২১ বছরের টগবগে তরুণ। ব্যাপারটা এরকম। এটাই ‘Time Dilation স্পেশাল থিওরি অফ রিলেটিভিটির সবচেয়ে মজার অংশ। সাজিদের প্রেজেন্টেশন শেষ। সবাই জোরে জোরে হাততালি দিতে লাগল। মফিজুর রহমান দাঁড়ালেন। তারপর ব্যঙ্গাত্মকভাবে সাজিদের দিকে তাকিয়ে বললেন-“তােমাদের কোরআনে এই থিওরির ব্যাপারে কি কিছু আছে? সাজিদ বুঝতে পারল যে, স্যার তাকে নিয়ে বিদ্রুপ করতে চাচ্ছেন। সে মাথা নিচু করে ফেলল। মফিজ স্যার বললেন, না, তােমরাই তাে বলাে তােমাদের কোরআন আধুনিক বিজ্ঞান নিয়ে নাকি কত কথাই বলেছে সেই ১৪০০ বছর আগে। তাই জানতে চাচ্ছিলাম আর কি এরকম কিছুও বলেছে কি না। হা হা হা হা। স্যারের সাথে তাল মিলিয়ে ক্লাসের আরও কয়েকজন হেসে উঠল। এরা তারা, যারা সাজিদকে একদম সহ্য করতে পারে না। সাজিদ বলল-“স্যার, With due respect, আল-কোরআন বিজ্ঞানের কোনাে থিওরিটিক্যাল বই নয় যে এখানে বিজ্ঞানের সবকিছু, সব সাইড নিয়ে বলা থাকবে। এটা মানুষকে বিজ্ঞান শিক্ষা দিতে আসেনি। এটার মেইন পারপাস: মানুষ যেন জাগতিক জীবনে সৎ, ন্যায় এবং সুন্দর জীবনযাপন করে, তাকওয়াবান হয়ে পরকালে জান্নাত লাভ করতে পারে। যে-রিক্সাওয়ালা থিওরি অফ রিলেটিভিটি বােঝে না বা কখনাে বুঝবে না, সে যদি সৎ হয়, ঈমানদার হয়, তাকওয়াবান হয় তাহলে পরকালে সেও জান্নাতে যাবে। মফিজ স্যার বললেন, ‘ও, তার মানে কোরআনে এরকম কিছুই বলা নেই? আফসােস! আমি ভাবলাম হয়তাে থাকবে। সাজিদ মাথা তুলে বলল-“জ্বি না স্যার; কোরআনে এরকম কিছু আছে। ‘সাজিদের কথা শুনে পুরাে ক্লাস থ হয়ে রইল। সাজিদ বলল-“স্যার, আমি এতক্ষণ স্পেশাল থিওরি অফ রিলেটিভিটির যে অংশটি নিয়ে বললাম, সেটার সারমর্ম হলাে: সময় দুটি মাত্রায়, দুটি অবস্থায় দুই রকম আচারণ করে। কেন করে সেটাও বললাম। সময়ের ব্যাপারে এত চমকপ্রদ তথ্য আমাদের জানিয়েছেন মহামতি আইনস্টাইন। ১৯০৫ সালে। এর আগে তা আমরা জানতাম না। আমরা জানতাম, সময় সবখানে, সব অবস্থায় সমান। ‘শুধু আমরাই নই, সুপ্রাচীনকাল থেকে তাবৎ পৃথিবীর মানুষের ধারণাই ছিল এটা। আল-কোরআন যখন নাজিল হচ্ছে, তখনাে আরবের মানুষদের এটাই ধারণা ছিল। তারা কল্পনাও করতে পারত না যে, দুইটা অবস্থানে সময় দুই রকম হতে পারে। ‘আমার কাছে যেটা ৩ বছর, আমার ভাইয়ের কাছে সেটা যে ৫০ বছর হতে পারে, তারা সেটা ভাবতেও পারে নি । কিন্তু আল-কোরআন এসে তাদের অন্যরকম কিছু জানাল। আল-কোরআন জানাচ্ছে: হ্যাঁ, এটা সম্ভব। ‘আল কোরআন বলছে‘ফেরেশতা এবং রূহ আল্লাহর দিকে আরােহণ করে এমন এক দিনে, যার পরিমাণ (তােমাদের হিসাব মতে) পঞ্চাশ হাজার বছর।, সূরা আল মাআরিজ: ০৪ ‘The angels and the Spirit will ascend to Him during a Day the extent of which is fifty thousand years’ ‘দেখুন, আল্লাহ্ বলছেন যে, ফেরেশতারা এমন একটি দিনে আল্লাহর কাছে যায় । যেটা আমাদের হিসাব মতে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। ‘তাদের ১ দিন = আমাদের ৫০,০০০ বছর। ‘তারা মানে কারা? ফেরেশতারা। ফেরেশতারা কীসের তৈরি? নূর, অর্থাৎ আলাের। আলাের গতি কী রকম? সেকেন্ডে এক লক্ষ ছিয়াশি হাজার মাইল। ‘এই আলাের তৈরি ফেরেশতারা এমন একদিনে আল্লাহর কাছে পৌঁছায়, যেটা আমাদের গণনায় ৫০,০০০ বছরের সমান। ‘এটার সাথে স্পেশাল থিওরি অব রিলেটিভিটির ‘টুইন প্যারাডক্সের ব্যাপারটা মেলান তাে। ‘আমি এমন তিন বছরে তিনশত আলােকবর্ষ ভ্রমণ করে এলাম যা আমার যমজ ভাইয়ের হিসাব মতে ৫০ বছরের সমান। ‘আমার তিনবছর = আমার যমজ ভাইয়ের ৫০ বছর। ‘ফেরেশতাদের একদিন = আমাদের ৫০,০০০ হাজার বছর। ‘এটাই হলাে আইনস্টাইনের থিওরির বিশেষ অংশ। এটার নাম Time Dilation.’ ‘১৫০০ বছর আগে কি করে কেউ ভাবতে পারে যে, সময়ের এরকম পার্থক্য হতে পারে? ইম্পসিবল। ‘এটা সেই স্রষ্টা থেকে আসা, যিনি সবকিছুর মতাে সময়েরও সৃষ্টিকর্তা। সৃষ্টিকর্তাই তাে তার সৃষ্ট সময়ের ব্যাপারে জানবেন, তাই না? সময়ের যে-পার্থক্যের ব্যাপারে আমাদের আইনস্টাইন জানালেন ১৯০৫ সালে, সেটা ১৫০০ বছর আগে নিরক্ষর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কীভাবে জানবেন, যদি না সময়ের সৃষ্টিকর্তাই উনাকে না জানান? ‘আপনি বলতে পারেন, আল-কোরআন কি তাহলে এখানে থিওরি অফ রিলেটিভিটি শেখাচ্ছে? একদম না। আমি আগেও বলেছি, কোরআন বিজ্ঞানের কোনাে থিওরিটিক্যাল বই নয়। এটা Science এর বই নয়, এটা Sign এর বই। এটা একটা চিরন্তন সত্য; স্রষ্টার কাছ থেকে আসা । তাই এটাতে বিভিন্ন উপমায়, উদাহরণে, ভঙ্গিতে এমন কিছু থাকবে, যা সময়ের সাথে সাথে বিজ্ঞানের সাথেও মিলে যাবে। এতে অবিশ্বাসীদের কাছে এটার গ্রহণযােগ্যতা, এটার বিশ্বাসযােগ্যতা, এটার অথেনটিসিটি বেড়ে যাবে। এই বই তাঁর এসব Sign দিয়ে অবিশ্বাসীদের মনে দাগ কাটবে। যেমন দাগ কেটেছে ড. গ্যারি মিলারের মনে, বিজ্ঞানী ড. মরিস বুকাইলির মনে, বিজ্ঞানী কিথ মুরদের মনে। যেমন দাগ কাটছে পশ্চিমের হাজার হাজার খ্রিষ্টানদের মনে। এইসব Sign দেখে প্রতিদিন পৃথিবীর আনাচে কানাচে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছে শত শত মানুষ। ক্লাস পিরিয়ড শেষের দিকে। মফিজুর রহমান স্যার উনার চোখের মােটা কালাে ফ্রেমের চশমাটা খুলে চশমার কাঁচ পরিষ্কার করতে করতে হাঁটা ধরলেন। দরজার কাছে গিয়ে তিনি মুখ ফিরিয়ে সাজিদের দিকে তাকালেন। সাজিদ বলল-“আস্সালামু আলাইকুম স্যার।