দরজা

দুরে গেলে অনাশ্রিত আমার কাছে
বাড়ির দরজা খোলার ছবি প্রিয়তম মনে হয়।
কথা কিছু অনবরত ঘোরে-
পাড়ার টোটোচালক দাদা বলে ডেকেছে এইমাত্র।
তার কথায় হারিয়ে যাওয়া দিনের দুপুর
ডাংগুলি খেলে।

দুরে গেলেও কোনো বাড়ির কাছে ঠিক এসে যাই।
পরস্পর গালিগালাজ, খুনসুটি, জরা, দুঃখ ও
বেশ খানিকটা আনন্দে মেতে থাকে
বাড়ির দরজা অবধি।
…………………………………………..

দরজা

দুরে গেলে অনাশ্রিত আমার কাছে
বাড়ির দরজা খোলার ছবি প্রিয়তম মনে হয়।
কথা কিছু অনবরত ঘোরে-
পাড়ার টোটোচালক দাদা বলে ডেকেছে এইমাত্র।
তার কথায় হারিয়ে যাওয়া দিনের দুপুর
ডাংগুলি খেলে।

দুরে গেলেও কোনো বাড়ির কাছে ঠিক এসে যাই।
পরস্পর গালিগালাজ, খুনসুটি, জরা, দুঃখ ও
বেশ খানিকটা আনন্দে মেতে থাকে
বাড়ির দরজা অবধি।
…………………………………………..

ঘুলঘুলি

তেত্রিশটি হাঙ্গরের খিদে নিয়ে বেঁচে আছি।
একশো তেত্রিশটি উটের তৃষ্ণায় আমার গলা ফেটে রক্ত পড়ছে।
আমি অবগাহন করব এখন-
সমুদ্র কোথায়?
আস্ত একটি হানাবাড়ির আতিশয্যে
কয়েকযুগ
দু-চোখের পাতা
জোড়া দিতে পারিনি।
আমাকে কে শেখাবে?
এতগুলো দুর্দিন গিলে ফেলতে পারে
একটিমাত্র সুদিনের পূর্বাভাস!
আমার এক-একটি মাথা ঘুরিয়ে দিচ্ছে
ছাদ থেকে কুড়িয়ে পাওয়া ঘোলাটে জোৎস্না।
আর, ক্ষয়াটে ন্যাংটো আধকাঁচা আপ্যায়ন;
প্যাঁচানো ডি.এন.এ. সিঁড়ি দিয়ে নামছে কোথায়?

ঘুলঘুলির ফুটো দিয়ে ঢুকে পড়ছে
রোগা একফালি কুয়াশার আয়ু…
…………………………………………..

ছাতা ও ছায়া

প্রকাণ্ড ছাতিমের নিচে বসে আছি।
বিস্তৃত এই ছায়া, শীত শীত –
শীতার্ত হরিণীর মতো।
ছায়া নিয়ে ভাবতে গেলে
আমার ছাতার কথা মনে আসে।
নির্ভরতার আশ্রয় ছেড়ে কখনো কখনো
আড়াল দিয়েছে ছাতা।
আড়াল মানেই কী যত ঢালুপথ, ঝোপঝাড়
কিংবা অজানা শ্বাপদ!

আজকাল ছাতার নিচে বসলেও
বুড়ো ছাতিমের কথা মনে আসে।
শীতার্ত ছায়ার কথা মনে আসে।

একটি ছাতা ও গহন ছায়ার গুপ্ত কথা শুনে
হর্ষ ও বিষাদে কাটে আমার সারাটি দিন।
…………………………………………..

যাত্রা

দুই পাড়ের কোলেপিঠে মানুষ হলো স্নেহভাজন নদী।
বহমান এই তার ধারা;
আপন বলতে নদীর দুই কাঁধে গড়ে ওঠা জনপদ
দুই পাড়, দুই কাঁধ, ঐতিহ্যের বিভাজিত পাঠ।

বেজন্মা শিশু থেকে কেটে কুচি করা বস্তাবন্দি লাশ;
আত্মহত্যার ঝাঁপ থেকে আধপোড়া চিতাকাঠ;
বর্জ্য ও ধোঁয়ার মিশেলে কত মানুষের হাহাকার, তিতিক্ষা।
কত জল চোখ থেকে মিশে নদীকে করেছে লোনা-

এই যাত্রা তবে অনিঃশেষ !
অকুল দরিয়ায় বর্তুল বাতাসের সাথে যুযুধান তুমি।
রাতের অন্তিম প্রহরে ফিরে আসো ভাটায়
নাব্যতার ভাঙাচোরা দালানে গেয়ে ওঠো নির্জন কোরাস।
ঢেউ নয়… ঢেউ নয …
পিতৃহীন একলা নদীর যৎসামান্য প্রয়াস…
…………………………………………..

তাকে ভেঙেছি ঋণে

দিন জুড়েই ছুটি নীল দেশ নদী ঘাট
ছুটি পেলেই খুশি ঝড়দিন পাখশাট ।
খুশি হলেই চিনি সাদা পাতা লেখাজোখা
চিনি বলেই কিনি আয়ুষ্মান পাকা দেখা।

দেখা ছিলই তাকে উঁচু মেঘ জমকালো
তাকে ভেঙেছি ঋণে অসময় কালিধুলো।
ঋণে থাকবো জানি ওই চোখ ইসকুল
জানি তুমিই ছুটি বিলকুল বিলকুল।