এক পেগ স্বপ্ন বাকিটা হা-হুতাশ

মমির পর্দা খসিয়ে
বালির গভীর থেকে
তুলে আনবো তোমার ইতিহাস।
কোথায় লুকাবে?
সাহারার মরুভূমি ঘুরে ঘুরে
সাইবেরিয়ার বরফ গলিয়ে
তোমাকেই খুঁজে ফিরবো।

ন্যাফারতিতি, ক্লিওপেট্রা,
মোনালিসা কিংবা
বেদের ঘরের জ্যোৎস্না,
কোন নামের আড়ালে
লুকাবে তুমি?

খুঁজে নেবো
কলেজ রোড, বস্তিতে
শিকাগো, ম্যানহাটন
অথবা যশোর জেলার
পাঁচনামনা মোড়ে।

খুঁজে নেবো প্রথম আলো,
আনন্দ বাজার পত্রিকার
বিনোদন পাতা ঘেটে।

খুঁজে নেবো মৃত প্রায় সিনেমা হলের
দেওয়ালে লেখা
অস্রাব্য ভাষার পংক্তিতে।

তোমাকে খুঁজে পাওয়ার নেশায়
চিরকালের মাতাল প্রেমিক-
আমার হাতে এক পেগ স্বপ্ন ধরিয়ে
কোথায় পালালে জীবন?
…………………………………………..

চুপ থাকছি
(মাথা তুমি কার?)

ঢেকুর তুললেই ভেবো না এটা তৃপ্তির-
এটি বায়ুর উর্দ্ধমুখী চাপ সামলানোর
কৌশল মাত্র-
নানা অসংগতি হজমে পরিপাকতন্ত্র
এখন দিশাহারা।

বেশি কথা বলতে যেও না,
টুটি চেপে ধরে কেউ বলে উঠবে-
চুপ চুপ চুপ থাক শালার বেটা!

জানি না চুপ থাকা কতটা স্বাস্থ্যসম্মত-
তাইতো মুখে এন্টাসিড পুরে
টেলিভিশনের সংবাদ পাঠিকার দিকে
চেয়ে আছি অপলক।

কি আয়েস আর স্বস্থিতে
মন খারাপের খবর শোনায়!
আহ্! প্রশংসার দাবি রাখে-

চুপ থাকছি,
সংবাদ পাঠিকাকে নিয়েই ভাবছি।
এখনো পাঁচ কেজি চাল মজুদ আছে,
মাঁচায় ঝিঙে বড় হচ্ছে।
চারিদিকে দাপুটে উন্নতি-
তাই চুপ থাকছি।

বেঁচে থাকা নিয়ে কারো মনে
কোন সাহসী প্রশ্ন নেই-
তাই চুপ থাকছি।
তা না হলে
অতি কৌতুহলে
মাথা থাকা না থাকা নিয়ে
গণতান্ত্রিক চর্চা বেড়ে যাবে-
প্রশ্ন উঠতেই পারে
মাথা তুমি কার?
…………………………………………..

মানুষ মাফিক ভুল

কত সহজেই আপোস করছো
মানিয়ে নিচ্ছো-
অভাব , অভিযোগ, দুর্যোগ, দুর্নীতি-
ভাগাঢ়ের দুর্গন্ধ,
কাকের ডাক,
রাতের ঘুম ভাঙানো মাতাল কুকুর।
মেনে নিলে, মানিয়ে নিলে-
অথচ আমিই কেবল অস্বাভাবিক, অসহ্য।

আমারও তো লোভ হয় কচি মুরগী,
তরতাজা ফুলের-
কিংবা চায়ের কাপে থৈথৈ তৃপ্তির
দু’ফোঁটা লেবুর রস!

আমার জন্য বরাদ্দ হোক
ডাশা ডাশা প্রেম কিছু-
জিহ্বা চুকচুকিয়েআফসোস করুক
কেউ একটু।

চিত্রগুপ্তের খাতা থেকে নাম কাটার আগে
মানিয়ে নিতে দাও
মানুষ স্বভাবে।

…………………………………………..

পলেস্তারা খসে পড়া মুখ

‘রেলগাড়ি ঝমাঝম,

পা পিছলে আলুর দম-’
এখন বুঝি পিছলে গেলে
কেমন লাগে!
বুঝি সমাজ, সভ্যতা, সংস্কার…

তাইতো পলেস্তারা খসে পড়া
দেয়ালের মতো মুখ নিয়ে
চেয়ে থাকি দক্ষ শিল্পীর ছোঁয়া পেতে।

অথচ সময়ের শিশ্ন ভাসিয়ে
দিচ্ছে সব,
জমছে কষ্ট, জমছে শ্যাওলা,
দাঁড়িয়ে মুতার অভ্যাস তার
এখনো গেলো না।
…………………………………………..

বাঙালির কানকো

দুধে ভাতে বেঁচে থাক,
মাছে ভাতে বেঁচে থাক,
বেঁচে থাক দানের ছিন্নিতে।
বেঁচে থাক পোলাও বিরিয়ানিতে,
বেঁচে থাক শান্তি ও যুদ্ধে,
যার যেমন ইচ্ছে থাকুক, বাঁচুক।

পকেটের বিছানায় খুচরোর হাহাকার,
বাজেট শেয়ার বাজার
দুর্যোগ মহামারি ঠেলে
বাঙালির মাথা তুলবেই,
জল না পায় কানকোতে ভর দিয়ে
লক্ষে পৌঁছাবেই।

বাঙালি বাঁচুক সরল সোজা উদ্ভট চিন্তায়,
বেঁচে থাক ডাল ভাতে,
বেঁচে থাক সিনেমা গানে,
বেঁচে থাক বই ও কবিতায়,
বেঁচে থাক প্রেম ভালোবাসায়।
…………………………………………..

কিছু গাছ হলুদ নিয়ে জন্মায়

শাড়ীর সেফটিপিনের মতো দরকারী আমি-
তবে প্রয়োজন সাবধানতা।
আমি তাদেরই লোক যারা
হাজার বছর ধরে ডায়াল করেও
খুঁজে পায় না বেলাবোসকে।

আমি চিরকার খুচরোতেই ঠিক
কড়কড়া নোট হলেই শেষ।

মলাট দেখে কিছুটা আচ করতে পারো
তবে সব অধ্যায় শেষে দেখবে আমি
উপসংহার হয়ে আছি অন্য কোন বইয়ের।

দু’একটা কবিতা পড়েই ভেবো না
বুঝে গেছো আমায়-
আমার কবিতা ভূড়িসর্বস্ব শরীরের মতো
দৈর্ঘ-প্রস্থে বাড়ে,
আসল কথা থেকে যায়
শব্দচর্বির আড়ালে।

হলুদ রঙ দেখে চিন্তায় পড়ে যেও না
আমার সব শেষ-
শোন, জন্ম থেকেই হলুদ আমি,
কিছু গাছ হলুদ নিয়েই জন্মায়।
…………………………………………..

বিরাম চিহ্নের হাহাকার

নিজের ঝুরির কাছে একদিন
পরাধীন হয়ে ওঠে বটগাছ-
তেমনি স্বপ্ন কিংবা সম্পর্কের মায়াজালে
হৃদয় করছে হাসফাস!

জীবন ভেঙে চুরে নিজেকে খুঁজে
পাই না আর-
যেন অপরিণত কবিতার খাতায়
ছড়ানো ছিটানো এ-কার ও-কার,
মাত্রাহীন জীবেনর উপলব্ধিতে
বিরাম চিহ্নের হাহাকার।
…………………………………………..

পকেট ভরা খুচরো দুঃখের তোলপাড়

কি লাভ বলো পকেট ভারি করে!
তুমি আমার পকেট তোলপাড় করা
খুচরো দুঃখ ছাড়া আর কিছু নও!
যাদের জন্য প্রিয় সকাল সন্ধ্যা ভাঙিয়ে
এ পথ ও পথ ঘুরিয়ে,
দিয়েছিলাম ভরপুর ভাবনা-
কাগুজে স্বপ্ন।
তারা কড়াকড়া নোটের মতো এসে
ঘুচিয়ে গেছে প্রেমের স্বাদ।
আজ তুমি ও তোমাদের মারাত্মক
আন্তরিকতা স্বর্ত্বেও-
বৃষ্টির দিনে বাড়তি ভাড়ার কথা ভেবে,
আমার টিএসসি যাওয়া হয় না।
…………………………………………..

জীবন যখন সেলফির যোগফল

জীবন যখন অনেকগুলো সেলফির যোগফল-
তখন ভুলগুলো সেলফি কিংবা
সেলফিগুলো ভুলের ফলাফল।
আড়ালে থাকে না কিছুই,
ব্যক্তিগত শোকের গোড়ায়
জল ঢালতে খালি কলসি কাঁখে
দাঁড়িয়ে যায় রমণীরা-

অসর্তক ক্লিকে ক্লথ ক্লিপে আটকা থাকা
রহস্য উন্মোচিত হয় সেলফির কল্যাণে-
ব্যক্তিগত শোক কত সহজেই না
হয়ে ওঠে বাজারী!

তাইতো বলি, এসো মেকি সফলতা
বিকশিত করিয়া দন্ত-
এসো জীবন, একটা সেলফি হয়ে যাক!
…………………………………………..

হাপুস হুপুস গ্রাসে ফুরিয়ে যাচ্ছে জীবন

ডাল ভাতের মতো হাপুস হুপুস গ্রাসে
ফুরিয়ে যাচ্ছে জীবন-
অথচ মনে রাখার মতো একটি
চুম্বন পেলাম না এখনো!
এখনোমনে রাখার মতো
যুতসই প্রেম হলো না।
সবই সরল- খুবই সাধারণ-

এবার তাই ব্যাংক লোনে
একটি তাজমহল বানানোর ঘোষণা দিতে পারি।

আগামী বাজেটে প্রেমের জন্য
কিছু ভতুর্কী রাখার সুপারিশ করে
লিখতে পারি খোলা চিঠি!

তোমার লজ্জা ভাঙা রহস্যের দিনগুলোতে
এমনি করে হাত বাড়াবো যগে যুগে,
উল্লেখযোগ্য কারণ ছাড়াই আমার
সাইকেল নষ্ট হবে-
তোমার বাড়ি ফেরাররাস্তায়।

জেট পাউডারে ধোয়া তোমার
স্কুল ড্রেসের মতো ধবধবে সকালে
আমি আবার জন্ম নেবো।