মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আশাকরা যায় আপনি সুস্থ আছেন। নিরাপদও আছেন। স্বস্থিতে আছেন কীনা সেটা পরে জানা যাবে। ভালো থাকুন আপন বলয়ে।

আজ বেদিশার ইচ্ছের কাছে জাতি বড় অসহায়। সব বেদিশারা ইতিহাসের কাছে মাঝে মাঝে খলনায়কের ভূমিকায় উপনীত হয়ে জাতির সাথে ট্রাম খেলে। যে খেলার পাওয়া হচ্ছে লাশ আর লাশের মিছিল।

মাননীয়া, আপনি ভেবে অবাক হবেন যে, ঋতৃমাতৃক এই দেশের ঋতুর রিনেইমগুলো আমাদের কর্তাবাবুরা ক্ষমতায় অন্ধ হয়ে সব ভুলতে বসেছে। তাদের হাতে দেশের ভবিষ্যতের চাবি তুলে দিয়ে আপনি যে রুলকল করছিলেন তাও কিভাবে পরিপালন করতে হবে তা যেনো তারা ছোটো শিশুর মতোই করে গেলো।

মাননীয়া, আপনাকে যারা পরামর্শ দেয় তারা একেকটা আধাজল খাওয়া দাদাদের দেশের কৃত্রিম গাধা। হরব ঘটিয়ার সময় এ রকম অসংখ্য গাধা আমরা তখন কিনতাম। বাসায় এনে হাঁটতো না দেখে মজা পেতাম। এখন আমাদের তাই মনে হচ্ছে। অনেকে কষ্ট পাবে নিশ্চিত। তবে আপনার চৌকষতার কাছে মাঝে মাঝে হেরে গেলেও এখন আবার ভাবতে বসেছি। আপনাকে যারা মসজিদে, জানাজায় উপস্থিতি লিমিট করতে পরামর্শ দিয়েছে তাদের পেট ভাইয়েরা আবার গার্মেন্টস খুলতে সুচতুরভাবে আপনাকে পরামর্শ দিয়ে সফল হয়েছে। কিন্ত আপনার মসজিদের ইমাম ও মসল্লিরা ঠিকই নিয়ম মেনে সম্মানের সহিত অতিবাহিত করেছে। ধন্যবাদ দিতে পারতেন। তাও করেন নি। করবেনই বা কেনো? ইমামদেরকে তো কোনো কালে গণনায় রাখেননি। রাখলে কোনো কোনো ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা দুবার করে আইডি নম্বর নিয়েও ইমামদের সম্মানে কিছুই পাঠাইনি। আরো মজার বিষয় আপনার কিছু প্রতিনিধি কাওমি মাদ্রাসায় বিপুল পরিমাণে ত্রাণ দিয়েছে। যদি আপনার মন্ত্রণালয় থেকে এসে থাকে তা হলে আলিয়া মাদ্রাসার (নন এএমপিও) হুজুরদের সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ করাই হলো! যা খুব ভাবিয়েছে। করোনাকালীনও যদি পক্ষপাতিত্ব জন্ম দেন তা হলে মনে রাখবেন একজন আরশে বসে বসে তামাশার শেষ দেখাবে নিশ্চিত!

মাননীয়া, আপনার ইসলামী ফাউন্ডেশন ও ধর্মমন্ত্রণালয় আসলে কী জন্য আছে বুঝে আসে না। আপনি ৭২৭৫০কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন। জাতি আশান্বিত হয়েছিল। কিন্তু আপনার বঙ্গপাল রা যে কান্ড ঘটালো তা সকল ইতিহাসকে হার মানিয়েছে। যদিও আপনি জাতির পিতার মতো বলেছেন- ‘আমি যদি কাপনের কাপড় দিতাম তাহলে নেতাকর্মীরা তা দিয়ে পাঞ্জাবি বানাতো’। আপনার এমন বোধোদয় একদিনে হয় নি। অথচ আপনি তিনবাহিনী কে কাজে লাগিয়ে এ প্রণোদনা যদি বন্টন করতেন তাহলে লকডাউন অন্তত টানা ছয়মাস চালাতে পারতেন। হাজার হাজার আক্রান্তের ঢেউ টা স্লথ হতো। অথচ আজ আবার আপনি সেই ভুল পথে পা দিয়ে সব শিথিল করে দিয়ে আমাদের কে মৃত্যুরমুখে ঠেলে দিচ্ছেন। তা যেন লাশ বু্ঝে নেয়ার জন্য দিলেন!

মাননীয়া, আপনার ইসলামপ্রীতি মুখে দেখে এসেছি সব সময়। মাঝে মাঝে চাটুকার নেতাদের মুখে আপনার তাহাজ্জুদগুজারের সংবাদও আমরা পাই।তখন হাসি পাই। কারণ একজন নারীর এ নিউজ বাহিরে আসা মানে অতিভনিতাও বটে! যাকগে, করলে ভালো, না করলে আরো ভালো! কিন্তু পরিতাপের সাথে যে কথাটি বলা প্রয়োজন মনে করছি তা হলো, সারাদেশব্যাপি খতমে তারাবীর একটা প্রচলন আমাদের দেশে আবহমানকাল থেকে হয়ে আসছে। তাও আপনার দরবারি হুজুরদের পরামর্শে ফতোয়া দিয়ে মোটামুটি সীমিত করতে বলায় সারা দেশে খতমে তারাবীহটা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দূর্যোগময় সময়ে একটা রহমত থেকে জাতি যেমন বঞ্চিত হয়েছে তেমনি দেশও রহমতের হাতছানি থেকে ছিটকে পড়েছে। এর পর যে কথাটি বলা দরকার তা হলে সারাদেশের হাজার হাজার হাফেজানরা আজ একটা মৌসুম থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অনেক হাফেজানরা শুধু তারাবীর মৌসুমের জন্য অপেক্ষা করতো। অনেক স্টুডেন্ট এ মৌসুমের রোজগার দিয়ে সারা বছরের পড়ালেখার ব্যয় নির্বাহ করতো। অথচ আজ পর্যন্ত আপনার ধর্মমন্ত্রণালয় ও ইসলামী ফাউন্ডেশন এ বিষয়ে যেনো মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। মনে রাখবেন, এ হাফেজানরা নিঃশ্বাস ছাড়ে। তারাও মানুষ। তাদেরও আহার আছে। তাদের নিঃশ্বাস জমিনে পড়লে মনে রাখবেন এ আগুন থেকে কেউ রেহায় পাবে না নিশ্চিত। তাই এখনো আপনি সময় কাজে লাগাতে পারবেন। তাদের জন্য একটা প্রণোদনা ঘোষণা করতে পারেন। গতবছরের মসজিদ গণনায় এনে তা করলেও করতে পারবেন। এরাও এ জনপদের বাসিন্দা। এ হাফেজনরা এ দেশ, মা মাটি ও মানুষের জন্য কাজ করে, দোয়া করে এবং দেশের নৈতিকতা মেরামতে কাজ করে অতিনিরবে। তাই দ্রুত হাফেজানদের নিয়ে কিছু একটা করুন।

মাননীয়া, দূর্যোগকালীন যে সমস্যাগুলো আমাদের চোখে পড়েছে তা বহু আগ থেকে বাতাসে ভাসছিল। একটা বালিশের দাম তারই প্রমাণ। কিন্ত আপনার চৌকস চিপাহসালাহগণ আপনাকে মাকড়শার মতো খেয়ে চলেছে। হয়ত আপনি না দেখেও দেখার ভান করছেন, আর না হয় আপনিও মৃত্যুকে ভয় পান বলে এদের তাড়াতে চেষ্টা করেন নি! তবে আমার বিশ্বাস অনেক বিষয়ে আপনাকে আড়াল রেখে করছে বলে এতো বিতলামি হচ্ছে এবং তা ধরা পড়ছে। কিন্তু আপনি যাদের কথা চিন্তা করে লকডাউন দিয়েছিলেন তখন না দিলেই ভাল হতো। কারণ জাতি প্রথম থেকে করোনার সাথে ভেজাল খাদ্যের মতো সহনীয় হয়ে যুদ্ধ জয় করেই ছাড়তো। অথচ আপনি মাঝ দরিয়ায় আমাদের ছেড়ে দিয়ে লাশ বুঝে নিতে বসে আছেন মনে হল। যদি তাই না হয়, তা হলে এতোদিনের সব পরিসংখ্যান আমাদের সন্দেহ জন্ম দিবে! জানি না কোন্ দৈব ইশারায় এই কঠিন চ্যালেঞ্জ হাতে নিলেন! কারণ যখন আক্রান্তের পরিমান বিশ্বকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে আনুপাতিক হারে, তখন এসে আপনি শর্তসাপেক্ষে শিথিল করতে গেলেন, যা নিয়ে ভাবনার অন্ত নেই!

মাননীয়া, ‘শেষ ভাল যার সব ভালো তার’ এসব প্রবাদ বাক্যে আমার বিশ্বাস নেই। কিন্তু একজনের উপর অগাধ বিশ্বাস আছে। আর এ জনপদের মানুষ মোনাফেক হলেও বিপদে স্রষ্টাকে ডাকতে জানে। ডাকতে জানার জন্য সব আছে। যেমন খুঁজতে জানার জন্য সব থাকে। তদ্রুপ এ জনপদের মানুষ তাহাজ্জুদ গুজার করে স্রষ্টাকে রাজি করিয়ে ছাড়তে পারবে, এ বিশ্বাস আমার আছে। আমিও আশাবাদি যে, আল্লাহ এ জনপদকে হেফাজত করুক। তার গজবের ফয়সালা যেনো দীর্ঘ না হয় সে তামান্না থাকল। তবে এও ঠিক, এ জনপদের হাতের কামাই যদি বাড়তে থাকে তাহলে নিশ্চিত থাকেন, কেউ আপনাকে এবং আপনার পর্ষদকে ক্ষমা করবে বলে আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। ভালো থাকেন কাওমী জননী, ভালো থাকুক দরবারি হুজুরেরা। ভালো থাকুক সাধারণ জনগণ। আমীন।