সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং মোবাইল এপ্লিকেশনের কল্যাণে ইন্টারনেটে বাংলা লেখা অনেক সহজ হয়ে গেছে এ কথা অস্বীকার করার জো নেই। বরং বলা যায় বাংলাকে সর্বজনগ্রাহ্য করতে এই প্রক্রিয়াটি অনেক কার্যকর বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
সে যাই হোক, মূল কথায় আসা যাক।
ভাষা শৃঙ্খলার দিক থেকে বাংলা ভাষা বোধ করি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষাসমূহের একটি। এ ক্ষেত্রে আমার কোন গবেষণাকর্ম নেই, গবেষণা করার ইচ্ছে, সুযোগ এবং সময় আদৌ নেই। তাই এ বিষয়টি গবেষকদের ওপরই ছেড়ে দিলাম। আমি একজন বাঙ্গালী হিসেবে নিজের ভাষাকেই পৃথিবীর তাবৎ ভাষা থেকে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করি। ভাষার লালিত্য, মাধুর্য, বাক্য গঠন প্রক্রিয়া, শব্দ গঠন প্রক্রিয়া ইত্যাদি বিবেচনা করলে বোধকরি কোন ভাষাবিজ্ঞানীই বাংলা ভাষাকে সর্বোচ্চ স্থান না দিয়ে পারবেন না।
আমাদের অত্যন্ত গর্বের এই মাতৃভাষা কিন্তু আজ এই ইন্টারনেটের কল্যাণেই নানা ভাবে দূষিত হচ্ছে। বিশেষ করে বানান বিভ্রাট আজ আমাদেরকে গ্রাস করতে শুরু করেছে। উচ্চ শিক্ষিত থেকে সাধারণ্যে এই গ্রাসপ্রবণতা চলমান। কেউই প্রমিত বাংলা মেনে লিখতে চান না। নিজের যেমন মনে হলো তেমনই বানান লিখে যান। প্রমিত মানে একেবারে ছকে বেঁধে দেয়া নয়। বরং সাধারণ গ্রহণযোগ্যতা। বাংলা একাডেমি এই সাধারণ গ্রহণযোগ্যতার কাজটি করতে গিয়ে যেসব নিয়ম কানুন বেঁধে দেন, সেই নিয়ম-কানুনকেই বলা হচ্ছে প্রমিত বাংলা বানান রীতি। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষা সংস্কার। এটির প্রয়োজনও ছিল। * দীর্ঘ ঈ এবং দীর্ঘ ঊ ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ, * রেফ এর পরে ব্যঞ্জনবর্ণে দ্বিত্ব না করা, * ণ এর ব্যবহার সীমিত করে দেয়া, * ষ, শ, স এর ব্যবহারে স্বচ্ছ নিয়ম প্রণয়ন ইত্যাদি বাংলা ভাষাকে গতিশীল এবং প্রাণময় করেছে নিঃসন্দেহে।
কিন্তু তারপরও দেখা যায়- বাংলা একাডেমি এই বানান রীতি নিয়েও ঠ্যাটামি করেছে। যেখানে নিয়মসিদ্ধ না হলেও অতিপ্রচলিত বানানকেই সঠিক বলে মেনে নেওয়া হয়, সেখানেও বাংলা একাডেমির এই ঠ্যাটামি বাংলা ভাষাভাষী বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সাথে তামাশা বৈ কিছু নয়। যেমন- ঈদ বানানটি। এই বানানটি ‘ঈদ” হিসেবেই বহুল প্রচলিত। লেখক, কবি-সাহিত্যিক, সর্ব সাধারণ এই ঈদের মধ্যেই প্রকৃত ঈদ উদযাপন করেন; সেখানে বাংলা একাডেমি ‘ঈদ’ বানানকে ‘ইদ’ বানিয়ে এবং তা ব্যবহারে জোর প্রদান করে বাঙালী মুসলিম সমাজের সাথেই এক প্রকার তামাশা করেছেন। এই কর্মটি মোটেও সমর্থনযোগ্য নয়।যার ফলে দেখা যায়, সরকারি বেতনভুক শিক্ষক, আমলারা ঈদ লিখছেন না লিখছেন ইদ। এটা দৃষ্টিকটু এবং অপ্রীতিকর। বাংলা একাডেমির এই ঠ্যাটামি পরিত্যাগ করে বানান শৃঙ্খলা আরোপ করা উচিত বলেই আমি মনে করি।
ইদানিং বানান বিভ্রাটকে অনেকে কিছু্ই মনে করেন না। বিশেষ করে বাংলা একাডেমির বানান সহজিকরণ বিষয়টি সঠিকভাবে না বোঝার কারণে জনসাধারণের মাঝে এক ধরণের বানান উন্নাসিকতা কাজ করছে। ফলে তারা এক রকম লিখলেই হলো বলে প্রচুর ভুল বানান প্রয়োগ করছেন। এতে প্রমিত বাংলা ভাষার প্রবাহমানতা অনেকটাই ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে আমি মনে করি। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা কবি-কথা সাহিত্যিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছেন কিংবা কথিত খ্যাতি লাভের বাণী প্রচার করছেন তারা বানান বিভ্রাট করছেন প্রচণ্ড বেগে। কখনো বুঝে, কখনো না বুঝে করা এই বানান বিভ্রাট অনেককেই বিভ্রান্ত করবে এবং করছে। ইতিমধ্যেই যারা কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক হিসেবে ব্যাপকভাবে স্বীকৃতি তাদের অনেকের রচনাতেও আমরা বেশ বানান বিভ্রাট লক্ষ করি, যা রীতিমত অনুচিত কর্ম। এর থেকে পরিত্রাণের জন্য আমাদেরকে নিজ নিজ রচনা কয়েকবার পুনঃ পুনঃ পাঠ করে বানান নিশ্চিত হয়ে তবেই তা পোস্ট করা উচিত বলে আমি মনে করি।
জানি না, আমার এই পোস্টে কতগুলো ভুল রয়েছে। আমার ব্যাপারেও উপরের কথাগুলো প্রযোজ্য। আমার ভুল কেউ ধরিয়ে দিয়ে কৃতার্থ হবো। সংশোধ করে নেব সাথে সাথেই ইন শা আল্লাহ। ধন্যবাদ সবাইকে।