পঁচিশে মার্চ

একাত্তরের পঁচিশে মার্চ
নিকষ কালো রাতে
ছুঁড়লো গুলি মারলো মানুষ
কামান দাগে হাতে।

পাকবাহিনি নামল এসে
ঢাকার অলি গলি
মানুষ খেকো দানবগুলো
রক্তে খেলে হোলি।

ভয়াল সে কাল্ রাত্রিজুড়ে
নিঠুর মেশিনগানে
আনলো আঘাত শিক্ষালয়ে
আমজনতার প্রাণে।

রাজারবাগে রাতের আকাশ
শোকে হলো ভারি
আমরা আজও সেই ছবিটি
খাতায় আঁকতে পারি।

উঠলো ফুঁসে দেশের মানুষ
বনের তরুলতা
যুদ্ধ করে বীর বাঙালি
আনলো স্বাধীনতা।
……………………………………………

ছড়ার মানিক

ছড়ার মানিক ছন্দ দাদু
মুখ করোনা ভার
তুমি ছাড়া ছন্দ খেলা
কে শিখাবে আর?

কাব্যধারার নিয়ম নীতি
দাও না আমায় বলে
বনের পশু মানুষ হয়ে
বনেই যাবে চলে।

ছড়ার মানিক ছন্দ যাদু
আমায় ছন্দ শেখাও
নতুন দিনের কল্পছবি
ছন্দ ভেঙে দেখাও।

মানভাঙাতে পুতুল বউটা
দিবো যদি চাও
মুড়ির মোয়া তালের পুলি
খেতে দিবো তাও।

নতুন ধরার ছন্দ খেলা
খেলবো চলো সবে
দ্বন্দ্ব ভুলে ছন্দ তুলে
থাকবো কলরবে।
……………………………………………

দুঃখ নেই

সাধারণ এক মানুষ আমি
আমার কি আর আছে দাম?
গল্প কথার ঝুল বারান্দায়
কেউ রাখে না আমার নাম।

চাঁদের হাসি বাঁধ ভেঙেছে
কত্ত রকম খুনসুটি
গল্প কথার কল্পে ভাসো
আমায় দিয়ে আজ ছুটি।

এই না দেখে হাসছে দেখি
পাশে রাখা ফুলের টব
একলা একা এই আমিটা
ভেজা চোখে দেখছি সব।

মনটা আমার বড্ড খারাপ
বুঝল যখন ফুল পাখি
ঝিলিমিলি রঙ মাখিয়ে
রাঙালো যে এই আঁখি।

সঙ্গি আমার মেঘ বালিকা
চাঁদের পিঁঠে উঠছি যেই
সুখের ছোঁয়ায় কাঁপছে হৃদয়
দুঃখ কোথায়?দুঃখ নেই।
……………………………………………

ধূলার জীবন

বুকের ভেতর কষ্ট যত
ঘুণপোকাদের মত
খুরমুরিয়ে যাচ্ছে খেয়ে
যায় না দেখা ক্ষত।

দেহের ক্ষত সারে জানি
মনের ক্ষত নয় রে
রক্ত ঝড়া এই না ক্ষত
জীবন করে ক্ষয় রে।

ক্ষয়ে যাওয়া এই জীবনের
কি আর থাকে মূল্য
মূল্যহীন এই জীবনটা যে
ধূলার সমতুল্য।
……………………………………………

ভুল ঠিকায়

অনেক দামি জামা জুতা মর্ডান ঘড়ি হাতে
অনেক দামি মানুষ পেয়ে চলছি তারই সাথে।
তোমার ছোঁয়ায় এই যে আমি হয়ে গেছি দামি
অহংকারে পা পরে না আমিই নাকি অামি।

আমি অধম চেয়ে থাকি শুনি তোমার ভাষা
চোখের কোনে স্বপ্ন জাগে মনে জাগে আশা।
আশা ভরা মনে ভাবি দামি মানুষ হবো
দামি মানুষ হয়ে সবার মনের মাঝে রবো।

দামি মানুষ হওয়ার আশায় চলি তোমার পিছে
দামি লোকের দামি কথা সবই দেখি মিছে
দামি লোকের কাছে গেলাম দামি হওয়ার জন্য
চেয়ে দেখি দামি লোকের জ্ঞানের খাতা শূন্য।

শূন্য খাতা নিয়ে তিনি দেশ বিদেশে যান
বেশভূষণের দোহাই দিয়ে দামের ঢোল বাজান।
বাড়তি দামের মাঝে খোঁজেন রকমারি সুখ
অক্সিজেনের ছোঁয়া পেতে গর্বে ভরেন বুক।

বুক ফুলিয়ে চলেন দেখি রঙ বাহারি সাজে
দিবানিশি মত্ত থাকেন লোক ঠকানোর কাজে।
গুণ তো নাই একরতিও কর্মকৃতি ভূয়া
কেন চলেছি ভূল ঠিকানায়?জীবন খোয়া খোয়া।
……………………………………………

আজব রোগ

মানুষ হয়ে মানুষ মারে
মানুষ শয়তান জুটি
কিছু মানুষ মানবতার
ধরছে চেপে টুটি।

তারা আজ নয়’কো মানুষ
মানুষ মারার যম
রক্ত রাঙা দু’হাত তবু
প্রাণ ভরে নেয় দম!

রক্ত খেকো সেই হায়েনা
রক্তে খেলে হোলি
এমন হীন পাপের কথা
কি করে আর বলি?

ন্যায়নীতি আর মানবতা
মরলো বিবেক বোধ
জাতির রক্তে ঘুণ ধরেছে
কেমনে দেবে শোধ।
……………………………………………

ভুল ঠিকায়

অনেক দামি জামা জুতা মর্ডান ঘড়ি হাতে
অনেক দামি মানুষ পেয়ে চলছি তারই সাথে।
তোমার ছোঁয়ায় এই যে আমি হয়ে গেছি দামি
অহংকারে পা পরে না আমিই নাকি আমি।

আমি অধম চেয়ে থাকি শুনি তোমার ভাষা
চোখের কোনে স্বপ্ন জাগে মনে জাগে আশা।
আশা ভরা মনে ভাবি দামি মানুষ হবো
দামি মানুষ হয়ে সবার মনের মাঝে রবো।

দামি মানুষ হওয়ার আশায় চলি তোমার পিছে
দামি লোকের দামি কথা সবই দেখি মিছে
দামি লোকের কাছে গেলাম দামি হওয়ার জন্য
চেয়ে দেখি দামি লোকের জ্ঞানের খাতা শূন্য।

শূন্য খাতা নিয়ে তিনি দেশ বিদেশে যান
বেশভূষণের দোহাই দিয়ে দামের ঢোল বাজান।
বাড়তি দামের মাঝে খোঁজেন রকমারি সুখ
অক্সিজেনের ছোঁয়া পেতে গর্বে ভরেন বুক।

বুক ফুলিয়ে চলেন দেখি রঙ বাহারি সাজে
দিবানিশি মত্ত থাকেন লোক ঠকানোর কাজে।
গুণ তো নাই একরতিও কর্মকৃতি ভূয়া
কেন চলেছি ভুল ঠিকানায়?জীবন খোয়া খোয়া।
……………………………………………

বাঁচাও মানুষ

লাল সবুজের দেশটা জুড়ে
হচ্ছে এসব কি?
মানুষ কাটে মানুষ মারে
ছিঃ পাপিষ্ঠা ছিঃ।

মানবতা খোলস বন্দী
পাচ্ছে বিবেক লোপ
দিন দুপুরে পাপের ঘোরে
মারছে মানুষ কোপ।

কোপাকুপির মাঝে পরে
তাজা মানুষ লাশ
যাচ্ছে সমাজ রসাতলে
কর্ম সর্বনাশ।

সন্ত্রাসীদের করালগ্রাসে
মুখ খুলে না কেউ
হায়রে মানুষ হায়রে সমাজ
রক্ত নদীর ঢেউ।

হোও সোচ্চার হোও সোচ্চার
দেশের জনগন
বাঁচাও মানুষ বাঁচাও সমাজ
বাঁচাও এ ভুবন।
……………………………………………

ঘুম পরী

ঝিলমিলিয়ে ঘুম পরীরা
যেই না এলো গাঁয়ে
গল্প আসর স্বপ্ন বাসর
চলছে ডানে বায়ে।

ঘুমপরীদের পরশ পেয়ে
হাসে গাছের পাতা
অজপাড়ায় জোৎস্না অালো
হয় যে ঘুমের ছাতা ।

জোনাক জ্বলা গ্রামটি জুড়ে
পরীর দিল চুম
এক পলকে ছোট্ট গ্রামও
যায় হয়ে নিঝঝুম?

ঘুমের ঘোরে পাড়ার মানুষ
বনের পশুপাখি
আমার চোখে ঘুম আসেনা
দুচোখ খুলে রাখি।

রাতের গায়ে চাঁদ হাসে আর
হাসে শীতল বায়ু
ঘুমের ছলে ঘুম পরী আজ
বাড়ায় নাকি আয়ু?
……………………………………………

শীতের বুড়ি

শীতের বুড়ি আসছে নেমে
করতে জ্বলাতন
এই অবেলায় কে বুড়িকে
করছে নিমন্ত্রণ?

কে লেখেছে মিষ্টি চিঠি
শীতের বুড়ির নামে
শিশির কণা শিউলি ফুলে
ঝরা পাতার খামে।

সাদা কাঁথা মুড়ো দিয়ে
আসলে শীতের বুড়ি
কদিন থেকে ফিবরে ঠিকই
রোদের গুড়িগুড়ি।

ভুল করে কি আসলো তবে
আমার কুঁড়ে ঘরে
শীতের ভয়ে এবার আমি
যাবই বুঝি মরে।

শীতের বুড়ি বেজায় রাগী
নেইতো হাসি মুখে
ঝগড়া করে আসছে যে তাই
কাঁপন ধরায় বুকে।
……………………………………………

প্রাণের বাংলাদেশ

খোকা খুকু জলদি চলো
আঁকবো এক ছবি
যে ছবির আকাশ জুরে
হাসছে রাঙ্গা রবি।

ফোটছে ফুল উড়ছে পাখি
সবুজ যতো গাছ
পুকুর জলে করছে খেলা
তাজা তাজা মাছ।

জল রঙে আঁকবো চলো
ছোট্ট এক বাড়ি
ধূলি রাঙ্গা পথের বাঁকে
চলে গরুর গাড়ি।

মাঝি ভাইয়ের ডিঙ্গি নৌকায়
ঘোমটা পড়া বউ
এই ছবিটি কোথাও খুঁজে
পাবেনা তো কেউ।

এই ছবিতে নেইতো ভাই
রঙের কোন শেষ
তোমার আমার প্রিয় সে যে
প্রানের বাংলাদেশ।