এগিয়ে চলো

এগিয়ে চলো দুর্গম সাহস নিয়ে,
নিজের ঠিকানায়,
যেখানে স্বপ্ন আকা আছে,
সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব তোমার,
সমস্ত প্রতিকুলতা ভেদ করে এগিয়ে চলো,
নিজের মনের কথা শোনো,
বিবেক দিয়ে বিচার করো,
তা তোমার পক্ষে কতটা সুফল আনবে!
যদি দেখতে পারো তোমার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে
সাফল্য থাকবে একরাশ,
তাহলে আর কারও কথায় কান দিয়ো না।
নিজের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে এগিয়ে চলো।
তোমার স্বপ্ন পূরণ যত হবে,
তত তুমি বাঁচার অনুপ্রেরণা পাবে,
নিজের অন্তর থেকে।
তাই থেমে থেকোনা,
ক্লান্ত হয়ে পড়লে বিশ্রাম নাও,
তারপর আবার এগিয়ে চলো,
তোমার গন্তব্যে পৌছানোর জন্য।
এগিয়ে যাওয়ার পথে ঝড়, বৃষ্টি, তুফান অনেক কিছুই পাবে,
তবুও সবকিছুকে অতিক্রম করে এগিয়ে চলো।
…………………………………………..

অনুভুতি

তুমি শ্রাবণো মেঘের ধারা,
তুমি ভোরের শিশির কণা,
তুমি স্নিগ্ধ অনুভুতি,
তুমি প্রাণ খুলে বাঁচার আভাস,
তুমি মনের মুগ্ধতা,
তুমি জীবনে চলার অঙ্গীকার,
তুমি ভালোবাসার পাথেয়,
তুমি স্বপ্নের সেই,
যাকে দেখেই মন হয়েছিল উতলা,
প্রেমের বন্যা শুরু হয়েছিল অন্তরে।
বুকে জ্বলে উঠেছিল রোমান্চের আগুন।
দেখা মাত্রই মায়া হয়েছিল নিজের চিত্তমনে।
তোমার প্রাণখোলা হাসিতে আমার জীবন হাসে,
তুমি কাদলে আমার পৃথিবী কাদে।
ভালোবাসার অনুভুতি মনে হয় এমনই হয়।
তোমার চোখের ভাষাখানি পড়তে পারে
আমার আঁখি।
তোমার মনকে পড়তে পারে,
আমার মন।
…………………………………………..

পড়াশোনা

পড়াশোনা মন দিয়ে করবে যে,
সাফল্যে একদিন পৌছাবে সে।
যদি ভালোবসো পড়াশোনাকে,
তোমাকে ভালোফল দেবে নিঃশর্তে।
এই পৃথিবীতে পড়াশোনার চেয়ে দামি কিছু নাই,
তাই যতটা পারো পড়াশোনা করে যাও।
স্বার্থহীন বন্ধু যদি থাকে কেউ,
বই-খাতা-কলমের বিকল্প নাহি কেউ।
তুমি যখনই সময় চাইবে,
বই-খাতা-কলম তখনই সময় দেবে।
এই পড়াশোনা করেই কেউ আজ শিক্ষক, ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার, পাইলট, বৈজ্ঞানিক।
আবার কেউ সময় থাকতে পড়াশোনা না করায়,
জীবনভর করছে আপসোস।
আবার অনেকেই পড়াশোনার প্রতি ভালোবাসার টানে আবার নতুন করে বিদ্যালয়ে যায়।
আসলে শিক্ষার কোনো বয়স হয়না,
তাই যে কোনো সময়েই পড়াশোনা শুরু করা যায়।
পড়াশোনা করলে বিদ্যা, বুদ্ধি, জ্ঞান বাড়ে,
তাই পড়াশোনা দিয়েই যেন সারাটা জীবন যায়।
…………………………………………..

সিদ্ধান্ত

সিদ্ধান্ত জীবনের সবচেয়ে বড়ো মাপকাঠি,
তাই সিদ্ধান্তই বদলে দেয় জীবনের অনেকখানি,
তোমার জীবনের ভুল ঠিক সবকিছুই তোমার নেওয়া সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল।
তাই বুঝেসুনে সিদ্ধান্ত নাও,
আর সেভাবেই চলতে থাকো,
তোমাকে পরিচালনা করে কিন্তু তোমার সিদ্ধান্ত,
এই বিষয়টি ভালো করে মনে রেখো,
সু আর কু এর পার্থক্য আগে বোঝো,
তারপর সুদিকে তোমার সিদ্ধান্ত খানি নিও,
সুসিদ্ধান্তই তোমাকে সুপথে এগিয়ে দেবে,
তাই নিজেও সুসিদ্ধান্ত নাও,
আর সবাইকে সুসিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য
অনুপ্রাণিত করো।
জীবনও প্রকৃতির মতো,
কখনও সুখ আবার কখনও দুঃখ থাকে।
তাই জীবনকে অনুকুল পরিস্হিতিতে রাখতে পারে একমাত্র তোমার সুসিদ্ধান্তই।
…………………………………………..

জয়

জয় শব্দটি জীবনের খুশির সাথে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত,
তাই চেষ্টা কোরো সবসময় জয়ী হওয়ার,
কখনও যদি ব্যর্থ হও,
চেষ্টা করবে সেই ব্যর্থতাকে সাফল্যে পরিণত করার।
আসলে জীবনে ব্যর্থতা যেমন কিছু সময়ের জন্য ব্যর্থ করে দিতে আসে,
তেমনি সেই ব্যর্থতাই কিন্তু আমাদের জয়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখায়।
তাই মনের মধ্যে জেদ রাখতে হবে বিজেতা হওয়ার।
তোমার বিজেতা হওয়ার ক্ষিদে ও জেদই তোমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছে দেবে।
জয়ীতো তোমাকে সব ক্ষেত্রেই হতে হবে।
যেমন-পরিবার, সমাজ, দেশ, পড়াশোনা, শিক্ষা, রোজগার।
তার সাথে ভালো মানুষ হিসেবে জয়ী হতে হবে মানবতার কাজে।
…………………………………………..

নেশা

পৃথিবীতে নেশায় মত্ত সবাই,
তবে একেকজনের নেশার ধরণ একেকরকমের,
কেউ জ্ঞান দেওয়ার নেশায় ব্যস্ত,
কেউ সামাজিক কাজকর্মে মত্ত,
কেউ সমাজে তোলাবাজিতে পাকা,
কেউ ধর্ম প্রচারে ব্যস্ত,
কেউ ন্যায় নীতি শেখানোর নেশায় বলিয়ান।
গুণীজনের নেশা নিজেকে গুণী প্রমাণ করা।
কেউ ঘুষ খাওয়ার নেশায় ব্যস্ত,
কেউ নিজেকে মানবতাবাদী প্রমাণ করাতে ব্যস্ত।
কেউ লেখালেখিতে,
আবার কেউ অন্যের ভুল ধরায়,
কেউ মাদক, ড্রাগ, আফিনের নেশায় প্রতিদিন পার করছে।
কেউ নিজেকে সৎ রাখার নেশায় নিজেকে ঠিক রাখছে।
…………………………………………..

শতরুপা

ওহে মহিয়ষী, প্রেয়সী,
তুমি যে আমার শতরুপা,
শত জন্মের স্বপ্নের সেই তুমি আমার প্রিয়া,
পরাণে জ্বলে বিভিন্নকিছু,
আমার হিয়ায় তোমারে নিয়া,
তোমারে নিয়াই মাতিয়া থাকি,
ও পরাণ পাখিরে,
যেতে যদি যাস কোথাও যেতে দেব উড়িয়ে,
তোর রুপে যে আমি শত সৌন্দর্য্য অনুভব করি।
তাইতো তুই আমার শতরুপা।
ভালোবাসার পরশমণি জ্বলছে,
তোর ছোয়াতে।
তোর কথা ভাবলে শান্তি বাহিত হয়,
ঝরনার ঝিরঝিরানি পরিগণিত হয়।
জ্যোৎস্নার আলোয় তোর চেহেরা খানি যেন চাঁদের আলোর থেকেও মিষ্টি।
তোর শতগুণে মুগ্ধ আমি,
তাইতো তুই আমার শতরুপা।
…………………………………………..

টাকার জন্যে

সুন্দর অট্টালিকার মালিক
অনেক টাকা খরচ করে,
স্বপ্নের মেহেফিল গড়ে।
কেউ আবার অর্থ উপার্জনের জন্য,
অতি জোড়ে শব্দটিকেও সে অনায়াসে সহে।
নোংরা, ঝুল পরিষ্কার করে গ্লাব্সহীন হাতে।
অর্থ উপার্জনের জন্যই মাথায় ভারী বস্তা টানে,
অর্থের কারণেই কেউ নতুন বর্ষ দুবাইয়ে উপভোগ করে।
ভাগ্যের পরিহাসে একেকজন কাটায় একেকরকম জীবন।
তাইতো এই করোনাকালেও অনেকে খেয়েছে জমপেশ খাওয়া,
আর কেউ একটি রুটির জন্য করেছে কুকুরের সাথে যুদ্ধ খেলা।
বড়লোকের ছানাপোনারা দাম বেশি পায়।
গরীবের সন্তান দামের পিছে পড়ে রয়।
টাকার জন্যেই কেউ দেখা স্বপ্ন পূরণ করতে পারে না,
আবার টাকা দিয়েই অনেক সময় অনেক কিছু হয়ে যায়।
টাকার জন্য কেউ ইজ্জত বিক্রি করে,
আবার কেউ ইজ্জত বাঁচাতে টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করে।
টাকার জন্যেই অনেকে অনেককে নিয়ে ভালোবাসার স্বপ্ন দেখে,
আবার অর্থের কারণেই ভালোবাসার মানুষটিকে ছেড়ে অর্থবান মানুষকে জীবনসাথি করে।
খাওয়া-পড়া, জামা-কাপড় দিয়ে যে সন্তান রাখবে অতি সুখে,
অনেকসময় সে সন্তানটিই পিতামাতার কাছে দামি হয়ে ওঠে।
অর্থ যতক্ষণ আছে তোমার,
ততক্ষণ তুমি দামি,
অনর্থে তুমি যে কমদামি।
দুর্গাপুজায় কোনো মন্ডপে যে সর্বোচ্চ টাকা দেয়,
তার নামটি যে তার লোকালয়ে ছড়ায়।
…………………………………………..

সবুজের মাঝে

সবুজের মাঝে পাল তুলেছে
হাল্কা মৃদু হাওয়া,
তাতেই জুড়াচ্ছে শরীর মন,
প্রকৃতির এক অনুরুপ ছোয়া,
শীতল হয় দেহখানি,
তার সাথে মন,
এরুপ আনন্দ পাওয়ার জন্য
প্রকৃতির কাছে থাকে আবেদন।
যদি মন চাও করতে সবুজ,
তাহলে সবুজ প্রকৃতিতে দাও ডুব!
মনের কালো তাতেই চলে যায়,
অন্তর পায় নতুন রঙের রুপ।
নতুন রুপের অন্তরখানি
করতে থাকে ঝলমল,
মনে হয় এমনই যেন সারাজীবন করে টলমল।
সবুজের মাঝে থাকতে চাও যদি,
তাহলে গাছ লাগাতে হবে নিয়ম মাফি।
বৃক্ষ রোপন খুব জরুরী,
বোঝাতে হবে যে সব জায়গাতে।
…………………………………………..

অনিচ্ছা

ইচ্ছেগুলি অনিচ্ছায় বদলে গেল।
একটা সময় সব ইচ্ছেই তোমার জন্য তোলা থাকত,
আর থাকে না,
আজ আমার জন্য তোমার ইচ্ছা তোলা রইলেও,
তার কোনো মূল্য নেই আমার কাছে,
সময় যখন ছিল তখন আমার জন্য তোমার ইচ্ছেগুলো এলোমেলো ছিল।
আজ তোমার ইচ্ছেগুলো গোছানো যেখানে,
আমার অনিচ্ছাগুলো সেখানে।
তোমার হিজিবিজি ব্যবহার ও আচরণ,
আমায় তোমার থেকে অনেক দুরে ঠেলে দিয়েছে।
একদিন ছিল বারবার ভাবতাম আমায় কতটা মনে করছ তুমি সারাদিনে!
আজ আর সেসব চিন্তা নেই,
আজ বলতে ইচ্ছে করে তোমায়,
আমায় আর মনে কোরোনা।
তোমার আমাকে মনে করাকে
আজ বড্ড বিরক্ত লাগে।
আজ তোমার ফোন আসলে অসস্তি বোধ করি।
তোমার আবেগ ছাড়া থাকতে শিখে গেছি আমি।
আজ আমি আর তোমার প্রতি আবেগান্বিত নই।
আমার আত্মসম্মানের প্রতি যে আমি প্রথম আবেগান্বিত তাই।
আজ তোমার চেহারা দেখতেও ইচ্ছে হারিয়ে গেছে।
আজ অনিচ্ছা বাসা বেধেছে ভালোবাসার প্রতিটি লোম কণায়।