যে জাতি মূল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তার অস্তিত্ব দুনিয়াতে বেশি দিন থাকে না। কেন জানি আমার কাছে মনে হচ্ছে আমরা শিকড়কে বাদ দিয়ে হঠাৎ শাখা-প্রশাখা নিয়ে বেশি উত্তাল হয়ে উঠেছি। অনেককে নিয়ে দেখছি বছর ব্যাপী, মাস ব্যাপী আলোচনা হচ্ছে। হচ্ছে ভালো কথা। কিন্তু শাখা-প্রশাখার পাশাপাশি মূল-কাণ্ড নিয়েও ছিটে-ফোটা আলোকপাত হতে পারে বৈকি! তা না হলে যে শাখা-প্রশাখার অস্তিত্ব শিথিল হতে বাধ্য। কারণ মূল ছাড়া তো শাখা বাঁচতে পারে না। ডালপালা যাঁদের উপর ভর দিয়ে বেড়ে উঠেছিল, যাঁদের রস পান করে পত্র-পল্লবে সুশোভিত হয়ে উঠেছিল তাঁদের বাদ দিলে অন্যের অস্তিত্ব থাকে কোথায়? সবার প্রতি বিনীত নিবেদন গাছের গোড়া কেটে ফেলবেন না। সবাই একবাক্যে মেনে নিয়েছেন ইসলামী সাহিত্য-সংস্কৃতি আন্দোলনের প্রাণপুরুষ আবদুল মান্নান তালিব। তাঁর তুলনা একমাত্র তিনি নিজেই। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি চরম সংগ্রাম-সাধনা করে সাহিত্য-সংস্কৃতিকে রাজনীতির ময়দান থেকে বের করে এনেছিলেন। সাহিত্য-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে তার অবদান আকাশ সমান। তিনি ছিলেন ঢাকা সাহিত্য-সংস্কৃতি কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তখন এটা ছিল একটা ইউনিট মাত্র। অফিস ছিল ইসকাটন রোডের হাসান ট্রেডার্স। এই ইউনিটের অধীনে যারা কাজ করতেন, তাঁরা হলেন কথাশিল্পী জামেদ আলী, ঢাকা ডাইজেস্ট সম্পাদক অধ্যাপক ফজলে আজীম, কথাশিল্পী মাহবুবুল হক, সাহিত্যিক-গবেষক অধ্যাপক মুহম্মদ মতিউর রহমান, চলচ্চিত্রকার হাসান আবদুল কাইউম সেলিম, চলচ্চিত্রকার সিদ্দিক জামাল, ছড়াকার সাজজাদ হোসাইন খান, প্রেক্ষণ সম্পাদক খন্দকার আবদুল মোমেন, মোহাম্মদ ইয়াহহিয়া খালেদ, ডা. স.ম রফিক প্রমুখ। আরও যারা যুক্ত ছিলেন তারা হলেন কবি আল মাহমুদ, সাহিত্যিক ড. আসকার ইবনে শাইখ, কবি আবদুল মান্নান সৈয়দ, সাংবাদিক মাহবুব আনাম, সানাউল্লাহ আখুঞ্জি, অভিনেতা খলিলুল্লাহ খান, অভিনেতা অমোল বোস, অভিনেতা আরিফুল হক, অভিনেতা ওবাইদুল হক সরকারসহ আরো অনেকে । এখন তো নিজেদেরকে নিয়েই আমরা ব্যস্ত, তখন কাজের ক্ষেত্র ছিল ব্যাপক। একবার এক মিটিং-এ আবদুল মান্নান তালিবকে প্রশ্ন করা হয়েছিল- আবদুল মান্নান সৈয়দকে আর কতকাল আপনি তালিকায় রাখবেন? আবদুল মান্নান তালিব উত্তর দিয়েছিলেন- আমি যত দিন জীবিত থাকি। তাহলে বোঝা যায় একজন কবি আল মাহমুদের দিক পরিবর্তনের জন্য কি অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়েছিল আবদুল মান্নান তালিবদের! কবি আল মাহমুদ নিজেই লিখেছেন, ‘প্রতিদিন নির্দিষ্ট একটা স্থানে তালিব ভাই এক প্যাকেট সিগারেট হাতে আমার জন্যে অপেক্ষা করতেন। তারপর পার্কে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা চলতো আলোচনা।’ তাই বলছিলাম মূলকে ভুলে যাবেন না, মূল ছাড়া তো পত্র-পল্লব বিকশিত হয় না।
যাহোক, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, গবেষক, সংগঠক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মাওলানা আবদুল মান্নান তালিব ২২ সেপ্টেম্বর ২০১১ ছিয়াত্তর বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছেন। আজ থেকে আট বছর আগে।
আবদুল মান্নান তালিব ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগণা জেলার মগরাহাট থানার অর্জুনপুর গ্রামে ১৫ মার্চ ১৯৩৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম তালেব আলী মোল্লা, মাতা- মরহুমা মেহেরুন নেছা। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫০ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। জামেয়া আশরাফিয়া, লাহোর থেকে দাওরা-ই-হাদিস বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন এবং হাদিস শাস্ত্রের ওপর গভীর জ্ঞান অন্বেষণ করেন। তিনি বাংলা, ইংরেজি, আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি এই ছয়টি ভাষায় বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন। এ সকল ভাষা থেকে অনেক গ্রন্থ তিনি অনুবাদ করছেন।

অনন্য একটি দেশের নাম বাংলাদেশ। এমন সুন্দর দেশ দুনিয়াতে খুব কমই আছে। নিরস্ত্র অবস্থায় স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু করেও মাত্র নয় মাসের এক সম্মুখ যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে এ জাতি। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে এ দেশের মানুষ প্রমাণ করে ছেড়েছে, এ জাতি আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে মাথা নত করে না। বন্যা, খরা, জলোচ্ছ্বাস ও ঘ‚র্ণিঝড়ের মতো সারা বছরের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে এ দেশের মানুষ হাজার হাজার বছর ধরে টিকে আছে। এ জাতি সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে যেকোনো অসাধ্য সাধন করতে পারে। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয়, স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে সেই সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবই যেন আমাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। কুসংস্কার, দুর্নীতি, অশিক্ষা, কুশিক্ষা এখনো আমাদের পিছনের দিকে টানছে। তার ফলে স্বাধীনতার চল্লিশ বছর পরেও আমরা এখনো পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছি না। অথচ এ অবস্থা থেকে উত্তরণের একটা পথ আমাদের জন্য সবসময় খোলা ছিল। তা হলো পরিপূর্ণ মুসলিম হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলা। তাহলে সৎ, যোগ্য ও ন্যায়পরায়ণ একটা জাতি হিসেবে আমরা বিশ্বের দরবারে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারতাম।
কিন্তু সে পথে আমরা পা রাখিনি। সেই পথ ধরে চলার দ‚রদর্শিতা আমরা দেখাতে পারিনি। ফলে আমাদের জাতীয় অগ্রগতি কাক্সিক্ষত মানে হয়নি। বিষয়টি যেকোনো সচেতন দেশপ্রেমিক নাগরিকের জন্য পীড়াদায়ক। তবে একজন মানুষ ছিলেন যিনি আমৃত্যু দেশ নিয়ে ভেবেছেন, দেশের মানুষ নিয়ে ভেবেছেন আর ভেবেছেন মুসলমানদের নিয়ে এবং কাজ করেছেন কিভাবে আল্লাহর দুনিয়ায় আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে মানুষের জন্য দুনিয়ার শান্তি ও আখেরাতের কল্যাণ নিশ্চিত করা যায়। আর সেই মানুষটি ছিলেন লেখক, গবেষক, সম্পাদক, অনুবাদক ও সর্বোপরি এ দেশের সাহিত্য-সংস্কৃতি জগতের প্রাণপুরুষ আল্লামা আবদুল মান্নান তালিব। তার সম্যক উপলব্ধি ছিল আর সব দেশ থেকে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশকে দ্রুত সামনে এগিয়ে নিতে হলে মোক্ষম হাতিয়ার হচ্ছে সংস্কৃতি। তিনি জানতেন যে জাতি যত বেশি সংস্কৃতিবান সে জাতি তত উন্নত।
আবদুল মান্নান তালিব একজন কিংবদন্তী তুল্য মানুষ। তিনি ইসলামী সাহিত্য সংস্কৃতি অঙ্গনের একজন মহীরুহ। আবদুল মান্নান তালিবের তুলনা শুধু তিনি নিজেই। ইসলামী সাহিত্য সংস্কৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসার টানে তিনি দেশ ত্যাগ করেছেন। এই উদাহরণ পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। একমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই তাঁর এই অবিরাম পথ চলা। টাকা-পয়সা, খ্যাতি কোনো কিছুর মোহ তাকে কখনো টলাতে পারেনি। উপমহাদেশের শিল্প-সংস্কৃতর পৌত্তলিক ধারা থেকে বেরিয়ে এসে যারা একটি নবতর খালেছ ইসলামী সংস্কৃতির ধারা প্রতিষ্ঠিত দেখতে চেয়েছেন তিনি তাদের অন্যতম। তাই তিনি প্রতিটি শব্দই লিখেছেন মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে দুনিয়ার কল্যাণ ও আখেরাতের মুক্তির জন্য।
আর এক্ষেত্রে আবদুল মান্নান তালিবের উপলব্ধি ছিল অত্যন্ত স্বচ্ছ। সে উপলব্ধিতে তাড়িত হয়েই তিনি মাত্র তের বছর বয়সে নিজের জন্মভ‚মি ছেড়েছিলেন। ভেবেছিলেন মুসলমানদের যে স্বতন্ত্র আবাসভ‚মি হচ্ছে সেখানে গেলে অবশ্যই একটি কল্যাণ রাষ্ট্রের জন্য কাজ করা সহজ হবে। কিন্তু তাঁর সে স্বপ্ন প‚রণ হয়নি। তিনি তাঁর স্বপ্ন এগিয়ে নেয়ার জন্য কাজ শুরু করেন প্রথমে পাকিস্তানের পশ্চিম অংশে, পরে অবশ্য চলে আসেন পূর্ব অংশে। এখানে এসে তিনি পরিপূর্ণভাবে কাজ শুরু করেন। তিনি প্রথমেই চিন্তা করেন, দুশো বছরের ইংরেজ শাসনের ফলে মুসলমানরা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাদেরকে সামনে এগিয়ে যেতে হলে নিজস্ব সংস্কৃতির পথ ধরে এগিয়ে যেতে হবে আর সেই লক্ষেই কাজ শুরু করেন আবদুল মান্নান তালিব। প্রথমেই তিনি কাজ শুরু করেন, ‘জাহানে নও’ পত্রিকায়। ‘জাহানে নও’ নামটাও তাঁরই দেয়া। ‘জাহানে নও’-তে তিনি শেষ অবধি সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। এটা প্রকাশের মধ্য দিয়ে তিনি এ দেশে সাহিত্য-সংস্কৃতিবিষয়ক কাজের শুধু সূচনাই করেননি, সেই সাথে স‚চনা করেন একটি আন্দোলনের। সে আন্দোলন এ দেশের সাহিত্য-সংস্কৃতিকে সামনে এগিয়ে নেয়ার আন্দোলন। এ দেশের ইসলামী সাহিত্য-সংস্কৃতি সংশ্লিষ্ট সবাই জানেন এবং অকপটে স্বীকার করেন, মরহুম আবদুল মান্নান তালিব এ আন্দোলনে অসমান্তরাল অবদান রেখে গেছেন। এই অবদান সূত্রেই তিনি বাংলাদেশে এখন অভিহিত হচ্ছেন ‘বাংলাদেশের ইসলামী সাহিত্য-সংস্কৃতি আন্দোলনের পথিকৃৎ’ অভিধায়।
এরপর তাঁকে ‘মাসিক পৃথিবী’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়। তখন থেকে সাহিত্য-সংস্কৃতি আন্দোলনকে এগিয়ে নেয়ার স্বার্থে তাঁকে প্রচলিত সাংবাদিকতার অর্গল ভাঙতে হয়েছে। প্রতি মাসে একটি করে পত্রিকা প্রকাশের পাশাপাশি তিনি সময়ের চাহিদা মেটানোর প্রয়োজনে যখন যা দরকার, সাধ্যমতো তাই করেছেন।
আয়োজন করেছেন সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ের ওপর সেমিনার-সিম্পোজিয়াম ও সাহিত্য সভার। এর বাইরে সাহিত্য-সংস্কৃতিবিষয়ক বই প্রকাশ করে তা তুলে দিয়েছেন একঝাঁক তরুণ বিশ্বাসী পাঠকের হাতে। তার পর তিনি শুরু করেন, সাহিত্য পত্রিকা ‘কলম’ প্রকাশের কাজ। আসলে সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি তার ভালোবাসা ছিল স্বভাবজাত। তাই আমরা তাকে ছাত্রজীবনেও ‘জিয়াউল ইসলাম’ নামে বার্ষিকী সম্পাদনা করতে দেখেছি। তবে ‘পৃথিবী’ তার এক্ষেত্রে সফল উদ্যোগ। কয়েক দশকেরও বেশি সময় ধরে এ পত্রিকাটি এ দেশের নিয়মিত, সর্বাধিক প্রচারিত ও সবচেয়ে প্রভাবশালী পাঠকপ্রিয় ইসলামী গবেষণাম‚লক মাসিক হওয়ার গৌরব নিয়ে আজও প্রকাশিত হয়ে আসছে। আর তাই এই চল্লিশ বছরের ইসলামী সংস্কৃতি অঙ্গনের মিছিলে অবধারিতভাবে উঠে আসে আল্লামা আবদুল মান্নান তালিবের নাম। তাই তো সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনের একদল কর্মীকে উপলব্ধি করতে অসুবিধা হয় না- আল্লামা আবদুল মান্নান তালিব কী করে গেছেন আর কী করতে প্রয়াসী ছিলেন।
অনেকেই দ্বিধাহীনভাবে স্বীকার করেন, আবদুল মান্নান তালিব তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে নিজেকে অনেক ওপরে তুলে রেখে গেছেন। তিনি একজন ব্যক্তি মাত্র নন, একটি প্রতিষ্ঠান। একটি ইনস্টিটিউশন। এ ইনস্টিটিউশন কাজ করে গেছেন একটি মাত্র লক্ষ্য নিয়ে : এ জাতিকে সবার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের মধ্য দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। আর এক্ষেত্রে তিনি প্রধানতম হাতিয়ার করতে চেয়েছিলেন সাহিত্য-সংস্কৃতিকে। সেখানেই তিনি ছিলেন অনন্য এক প্রেরণাপুরুষ। ভাবলে অবাক হবেন, তিনি বিপরীত মেরুর কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিল্পী, রাজনৈতিক সর্বোপরি আম জনতার কাছে ইসলাম তথা ইসলামী সংস্কৃতির দাওয়াত পৌঁছে দিতে অভাবনীয় শ্রম, মেধা ও শক্তি ব্যয় করে গেছেন। যার ফলশ্রুতিতে আমরা দেখতে পাই কবি আল মাহমুদ থেকে শুরু করে কবি আবদুল মান্নান সৈয়দ পর্যন্ত তাঁর গুণমুগ্ধতা। সাংবাদিক নূরুল আমীন থেকে রুহুল আমীন গাজী সকলেই তাঁর অনুগামী। দিনের পর দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাদেরকে তিনি ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আনতে চেয়েছিলেন তাদের তালিকা এতটাই দীর্ঘ যে, তা আজ আমাদের পক্ষে অনুমান করাও সত্যিই কষ্টসাধ্য। শুধুই মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য অবিরাম ছুটেছেন কারকুন বাড়ি লেন থেকে মেরাদিয়া, যাত্রাবাড়ী থেকে পল্লবী। নিজ উদ্যোগে নীরবে-নিভৃতে ঢাকা থেকে একাই চলে গেছেন কুষ্টিয়ার অধ্যাপক আবু জাফরের বাড়িতে।
যা হোক, তিনি জাতিকে যা দেবার দিয়ে গেছেন হৃদয় নিংড়ে। আজ জাতির কাছে সবকিছু চাওয়া-পাওয়ার ঊর্ধ্বে তিনি। তবে জাতি হিসেবে আমাদের উপর তাগিদ বর্তেছে তাঁর প্রতি যথাযথ সম্মান আর শ্রদ্ধা জানানোর। সেই সাথে তাগিদ আসে তাঁর অবদানের জাতীয় স্বীকৃতির।