আধুনিক বাংলা কবিতার পুরোধা বুদ্ধদেব বসু(১৯০৮-১৯৭৪) মৃত্যুর এতদিন পরও আমাদের কাছে নিত্য স্মরণীয়। কারণ তাঁর কবিতায় প্রেমের মর্মবাণীটি প্রতিটি হৃদয়েই আলোড়ন তোলে। রক্তমাংসের শরীরে সেই প্রেমের অন্বেষণই আজও গভীরভাবে আবেদন রাখে। যে প্রেম আত্মগত, কামনাই যার মূলধন, সেই প্রেমেরই কবি। দেহের মধ্যেই তিনি প্রেমের শঙ্খ শুনতে পান। চুল, নখ, দাঁত, রূপলাবণ্যের সমস্ত অঙ্গসৌষ্ঠব তাঁর এই প্রেমের আধার হয়ে ওঠে। জীবনের জটিল গ্রহণ নয়, সারল্যের স্পষ্ট মুকুরে তিনি দেখেন নিজের চেহারা। দ্বিতীয় কাব্য ‘বন্দীর বন্দনা’তেই তিনি নিজেকে ‘দেবশিশু’ হিসেবে দেখলেও ‘শাপভ্রষ্ট’ হয়েছেন। দেহের বাসনা সুন্দরের আরাধনাকে সৃষ্টির সতীর্থ সঙ্গমে নামিয়ে এনেছেন। সৌন্দর্যের সঙ্গে এনেছেন যৌবনের তৃষ্ণাও, কিন্তু যৌবনের অভিশাপকেও বৈপরীত্যের দহনে দগ্ধ করেছেন। সমন্বয় যদিও সার্থক শিল্পের বৈশিষ্ট্য, কিন্তু কবির মানসলোকে যে দ্বন্দ্বের বাতাবরণ সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি। একদিকে যৌবনের উচ্ছ্বসিত সরাগ লালিত পটভূমির বিপুল বৈভব, অন্যদিকে বেদনার দুঃসহ পীড়ন, রিক্ত সিক্ত অকল্যাণ দুর্যোগের ইঙ্গিত। তাই কবি স্বীকার করেন :
‘যেথা যত বিপুল বেদনা,
যেথা যত আনন্দের মহানমহিমা—
আমার হৃদয়ে তার নব-নব হয়েছে প্রকাশ।
বকুলবীথির ছায়ে গোধূলির অস্পষ্ট মায়ায় অমাবস্যা-পূর্ণিমার পরিণয়ে আমি পুরোহিত—
শাপভ্রষ্ট দেবশিশু আমি।’
(শাপভ্রষ্ট)

অভিশপ্ত যৌবনের কবিকে এই পৃথিবীর বাস্তব পরিচয়ে এগিয়ে আসতে হল। আলোকে-নিরালোকে এবং ছায়ায়-মায়ায় তাঁর অনুভূতির নৈবেদ্য সাজাতে হল। আর তখনই প্রবৃত্তি এবং আত্মাকে কবি পাশাপাশি অনুভব করতে জানলেন। প্রবৃত্তি মানববোধেরই চিরন্তন রীতি, আত্মা প্রবৃত্তির ঊর্ধ্বে এক পবিত্র প্রাণচেতনা। প্রবৃত্তি চায় ভোগ, আত্মা শুধু ঈশ্বর ও আদর্শের ভেতর গোপন থাকে। কিন্তু মানবজন্মের রসদ লাভ করার চাবিকাঠি থাকে প্রবৃত্তির হাতে। কবি মুক্তি চান, কিন্তু কঠোর কঠিন বন্ধন তাঁকে জীবনপঙ্কের মাঝে টেনে নামায়। আর তখনই কবি হন কলুষিত রক্তাক্ত অভিশপ্ত। তখন ‘মুক্তি শুধু মরীচিকা’ ‘মিথ্যার স্বপন’। যৌবনের অন্তহীন যাতনা নারীসঙ্গ রমণরঙ্গ কবিকে বারবার প্রলুব্ধ করে তোলে। যৌবনবাদী কবি যৌননিয়তির হাতে তাঁর প্রেমপত্র সঁপে দেন :
বাসনার বক্ষোমাঝে কেঁদে মরে ক্ষুধিত যৌবন,
দুর্দম বেদনা তার স্ফুটনের আগ্রহে অধীর।
রক্তের আরক্ত লাজে লক্ষবর্ষ- উপবাসী শৃঙ্গার কামনা রমণী-রমণ-রণে পরাজয় ভিক্ষা মাগে নিতি ;
তাদের মেটাতে হয় বাঞ্ছনার দুর্দম বিক্ষোভ।
আছে ক্রূর স্বার্থসৃষ্টি, আছে মূঢ় ক্লেদলিপ্ত লোভ,
হিরন্ময় প্রেমপাত্রে হীন-হিংসা সর্প গুপ্ত আছে।’
(বন্দীর বন্দনা)

প্রবৃত্তির কারাগার কত বাস্তব, অমোঘ হয়ে উঠেছিল এবং তা থেকে বেরিয়ে আসাও একজন কবির পক্ষে কত জরুরি ছিল তা এই কবিতাটিতে কবি বারবার বুঝিয়ে দিয়েছেন। প্রেম তো অমৃত, সেই অমৃতের জন্য তো পিপাসা থাকবেই। কবিও এই পিপাসাকে এড়াতে পারেননি। কিন্তু প্রেম বা সৌন্দর্যের অবস্থান যে নারী দেহ নয় সেকথাও কবি স্বীকার করেছেন। যাদের শুধু দূর থেকেই দেখতে ভালো লাগে, কাছে গেলেই সব হারিয়ে যায়। প্রেমের আদর্শ মরদেহ মানবীর হৃদয়ে জাগে না। স্থুল মাংস সর্বস্ব চর্মের লাবণ্য কবির কাছে অসার। তাই প্রশ্ন তুলেছেন :
‘নির্বোধ নারীর পাল, স্থুল মাংসস্তূপ,
শরীর সর্বস্ব মূঢ়!চর্ম-সাথে চর্মের ঘর্ষণ
একমাত্র সুখ যাহাদের, সন্তানের স্তন্যদান
উচ্চতম স্বর্গলাভ—তাহারা কী বুঝিবে প্রেমের?’
(কোনো বন্ধুর প্রতি)

সুতরাং নারীর কাছে প্রেম নেই এবং নারীও শুধুই প্রেমের আধার নয়। তবু যখন দেহের সৌন্দর্যেই পুরুষের আকর্ষণ তখন তাকে দূর থেকেই ভালোবাসা যায়। বিধাতাই যে নারীকে অশ্লীল করে সৃষ্টি করেছে, সেখানে পুরুষকেও দিয়েছে জৈব কামনা। আদম ও ইভের সৃষ্টি চৈতন্যের সেই আধারকেই কবি ইঙ্গিত করেছেন। এখানেই আমরা খুঁজে পাই কবির প্রেমভাবনার সার্থকতা। ‘মানুষ’ নামের কবিতায় মানুষকে কবি সৌন্দর্যে ও প্রেমভাবনার সর্বশ্রেষ্ঠ রূপকার হিসেবে দেখতে পেয়েছেন। কেননা, সেখানে মানুষ পশুদের মতো জীব সৃষ্টি করে না ; তার বুদ্ধিবৃত্তি তাকে সৌন্দর্যপ্রিয়
অমরস্রষ্টার মর্যাদা দিয়েছে। যা নারীর মাংসের চেয়ে সুখকর :
‘গ্রন্থের অক্ষয় গ্রন্থি—পরিপূর্ণ, প্রবল প্রণয়,
এই প্রেমে সমাসীন স্বপ্নলব্ধ পরম সুন্দর।
হেরিতেছে একসঙ্গে শত শিল্প, সংগীত, কবিতা,
কারুকার্য, চারুকলা, মাধুর্যের নাহি পরিসীমা।’

অতএব বিম্বাধর, কৃশকটি, করভোরু, প্রশস্ত জঘন কবির উদ্ধৃত শব্দগুলিতে হয়তো আমাদেরও মনে পড়ে তুলসীরাম দাসের সেই কবিতাটি :
‘দিনকা মোহিনী রাতকা বাঘিনি পলক পলক লহু চোষে।
দুনিয়া সব বাউরা হোকে ঘর ঘর বাঘিনি পোষে।’

কিন্তু এরাও যে আমাদের বন্ধু নয় তা কবি জানিয়ে দেন। ভালোলাগার সময়টিতে নারীপ্রেম, নারী সেবা, নারী সৌন্দর্য ছাড়া আর কী থাকে ? এই কবিকে তাই ‘প্রেমিক’ হয়ে ‘কঙ্কাবতী’র খোঁজ করতে হয়। যে কঙ্কাবতীর রূপ আছে, সৌন্দর্য আছে, শরীর আছে, চুল আছে, মান আছে, অভিমান আছে, স্বপ্ন আছে,সঙ্গীত আছে এবং হৃদয় আছে। কিন্তু বাস্তবে তাকে শুধু নারীর আদর্শ হিসেবেই অনুভব করা যায়। যার সঙ্গে রতিক্রিয়া করা যায়। তাকে হাতের মুঠোতে ধরা যায় না। যার বুকে বুক, মুখে মুখ, ওষ্ঠে ওষ্ঠ ছোঁয়াতে গেলেই তা বিস্তৃত হয়ে যায় প্রকৃতির অফুরন্ত সম্ভারে। বাতাসে-আকাশে-সমুদ্রে-চাঁদে-সূর্য কিরণে-রাত্রিতে-মেঘে। তখনই মনে হয় প্রেমও নারী থেকে মুক্ত হয়ে অনন্তে নিজেকে ছড়িয়ে দিয়েছে। বাস্তবের নারী ক্ষুদ্র, সংকীর্ণ, কিন্তু ‘কঙ্কাবতী’ বৃহৎ, চিরন্তন। তার সঙ্গে কবির মান-অভিমান, ভালোবাসা ও স্বপ্নচারিতার সম্পর্ক। বাস্তবের কদর্য কলুষ থেকে কঙ্কাবতীকে কবি রক্ষা করেছেন। তাই সে মানসসুন্দরী। তার দেহ নেই। ‘রূপকথা’ কবিতায় এই কঙ্কাবতী সম্পর্কে লিখেছেন :
‘কঙ্কা, তোমার স্বপ্ন দেখি,
কঙ্কা, তোমার স্বপ্ন দেখি ;
রাত্রির মতো তোমার চুল
হৃদয়ে তাহার স্বপ্ন দেখি।’

অথবা

‘তরঙ্গসম তোমার চুল,
সঙ্গীতসম শরীর তব,
বুকের রেখায় চাঁদের কণা;
পূর্ণিমা চাঁদ বুকের ‘পরে।’

কঙ্কাবতী পর্বে বয়ঃসন্ধির চকিত চপল বাসনাকে কবি রূপ দিয়েছেন।সেখানে Romantic-pain-টি বড় হয়ে উঠেছে। কখনো কখনো মনে হতে পারে কবির গীতল ধারাটি Lyric-cry. প্রেমের মাঝেও শূন্যতা, হাহাকার আর না পাওয়ার ব্যথাটি বিরাজমান। তবে এসবের মাঝেই কবির আকুলতার সঙ্গে হৃদয়ের ভাষাও মুক্তি পেয়েছে। আবেগ পেতে চেয়েছে স্থায়িত্ব। ‘বন্দীর বন্দনা’ থেকে ‘দ্রৌপদীর শাড়ি’ এবং ‘শীতের প্রার্থনা : বসন্তের উত্তর’ কাব্যগুলিতে এই রোমান্টিকতার পর্যায়ক্রমিক প্রতিফলন ঘটেছে। পরিবেশ-পরিস্থিতি কবির কল্পনায় এনেছে বাধা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মর্মান্তিক পরিণতি কবি ভুলতে পারেননি। তাই কবিতার মধ্যে বাস্তব ও রোমান্টিকতার সীমাহীন দোলাচল। কবির সৌন্দর্য খান্ খান্ হয়ে ভেঙে পড়েছে যুদ্ধজাহাজের অকম্প সাইরেনে :
‘আকাশে অসীম চাঁদ কলকাতায় শুধু বাদ সাধে
কুখ্যাত পাখির ঘুমে, কর্কশ চিৎকার দিয়ে ডাক
ফুটপাতের গাছের বিছানা ছেড়ে উড়ে যায় নীড়’
(পৌষ পূর্ণিমা)

একদিকে উদ্বাস্তু জীবনের ভিড়, গৃহহারা অন্নহারা মানুষ, অপরদিকে মৃত্যুর মিছিল। চারিদিকে হাহাকার। দুঃখজয়ী জীবনের ইশতেহার রচনায় সেদিন কবি বেছে নিয়েছিলেন বিরোধাভাস— বাস্তব ও রোমান্টিকতাকে। তাই ‘চাঁদের বন্দনা করে শুধু কাক’ বলে ব্যঙ্গ করেছিলেন। হতাশার ডমরু বেজেছিল হৃৎপিণ্ডে। রক্তে মৃত্যুর মৃদঙ্গ। আর সেভাবেই বাঁচতে চাওয়া ক্ষণটিকে তুলে দিয়েছিলেন প্রত্যহের ভার।

‘শীতের প্রার্থনা:বসন্তের উত্তর’-এ কবি আবার খুঁজেছিলেন মৌলিক জীবনবেদের স্বপ্নতীর্থকে। যেখানে দাঁড়ালে জীবনের নরম স্বাদ ফিরে পাওয়া যায়। সেখানে আবেগদীপ্ত জীবনের উজ্জ্বল উপস্থিতি থাকলেও কবির ভাষা ও ব্যঞ্জনায় এসেছিল নতুন মাত্রা। নিজের মুখোমুখি হয়ে অনুভব করেছিলেন অনন্ত একাকিত্বকে। রবীন্দ্র দর্শনে ডুবে গিয়ে রূপান্তরী সাধনায় আত্ম-অন্বেষণ করেছিলেন। মৃত্যুচেতনায় যে কুয়াশার জগৎ সৃষ্টি করেছিলেন সেখানে চরম হতাশা আর বেদনার মুহূর্তটি বারবার উঁকি দিয়েছিল। একদিকে বিনয়, অন্যদিকে উত্থান—জন্ম ও পুনর্জন্মের আশায় অন্ধকারের উপমা খুঁজেছিলেন :
‘মৃত্যুর নাম অন্ধকার; কিন্তু মাতৃগর্ভ— তাও অন্ধকার ভুলো না,
তাই কাল অবগুণ্ঠিত, যা হয়ে উঠেছে তা-ই প্রচ্ছন্ন;’
(শীত রাত্রির প্রার্থনা)

এই শীতরাত্রি সমস্ত পরিবেশকেই ম্লান করে দিয়েছে মৃত্যুর ছবি এঁকে। ডাইনির মতো কনকনে হাওয়ার চাবুক মেরেছে। গালের মাংস ছিঁড়ে চাঁদটাকে কাগজের মতো কুচি কুচি করে ছড়িয়ে দিয়েছে কুয়াশায়। আর সেই কারণেই অন্ধকারকে কবি নাম দিয়েছেন মৃত্যু। ‘যে আঁধার আলোর অধিক’ কাব্যে কবি নিজেকে আরও গুটিয়ে এনেছেন। অবচেতনের অন্ধকারে এক গভীর আত্মনিরীক্ষণ। তখন ইন্দ্রিয় দুর্বল হয়ে পড়েছে। তখন মনের কাছেই কবি তাঁর জবাবদিহি খুঁজেছেন। আর বাহিরের বস্তুজগতে নয়, অন্তরের মর্মজগতেই এনেছেন ধ্যান-তন্ময়তা। ‘আটচল্লিশের শীতের জন্য’ কবিতায় সে কথা বলতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন :
‘প্রাঙ্গণে কিছুই নেই পারিস তো বধির হয়ে যা।’

এখানেই হৃদয়ের মধ্যে কবির ঘর, শব্দহীন ভাষা, নিজের মুখোমুখি নিজেই। কোনে নারী নেই, প্রেম নেই, উচ্ছ্বাস নেই, শুধু আত্মখনন আর আত্মযাপন; কেননা, কোনো কিছুই সহজ নয়। নিজেকে তিনি কবিও বলতে চান না। পার্থিব মোহের দুর্লভ প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা কবির আর নেই। এখানেই তিনি গুরু বোদলেয়ারকে পেয়েছেন। ভাবে দর্শনে চেতনাকে সমৃদ্ধ করেছেন। বৈরাগ্য-বিচ্ছেদে এসেও হানা দিয়েছে কবির কাছে। উপলব্ধির স্তব্ধ স্তব আরও বিশুদ্ধ প্রগাঢ় হয়ে উঠেছে। পরিশীলিত সংবেদনায় স্বল্পবাক্ ব্যঞ্জনাময় দীপ্তিতে কবি কবিতাকে করেছেন তীক্ষ্ণ, রূঢ়,অমোঘ। ‘মরচে পড়া পেরেকের গান’ কাব্যে এসব কথাই জানা যায় :
‘প্রকৃতিও মৃত;—জন্তুর গুহার দ্বারে উৎকোচ অচল,
লাল বাঘ পতঙ্গে প্রণত ;
বৃক্কতাপে দেয় না ভিজিয়ে কোনো নির্বোধ সন্তান’
(ভিনদেশী)

অথবা

‘যা-কিছু লুকিয়ে এরা ভেসে আছে,
যা-কিছু হারিয়ে এরা ডুবে যায়—
সব ধীরে ফিরে আসে, যুক্ত হয়, জেগে ওঠে :
যুগপৎ লালফুল, গুপ্ত কীট,
যুগপৎ সব অসম্ভব।’
(সৃষ্টির মুহূর্ত)

এক চরম নির্বেদে কবি ডুবে যেতে চান। বিচ্ছিন্নতার দুর্মর গ্রাস কবিকেও নির্বাসিত করে, কিন্তু জীবন ফুরিয়ে যায় না। যে জীবন যৌবন নিয়ে কবি একদিন সাহিত্যের আকাশে উদিত হয়েছিলেন, তাঁর সেই কাতর-কাঁপনকে আমরা ভুলতে পারি না। হয়তো বয়স ও সময়ের চাপে কবি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। বোদলেয়ার, গ্যেটে, রবীন্দ্রনাথ, এজরা পাউন্ড, হোল্ডারলিন,রাইন মারিয়া রিলকে এবং টি.এস. এলিয়ট নানাভাবে কবির মধ্যে ঢুকে গিয়েছিলেন; কিন্তু বুদ্ধদেব তাঁর নিজস্বতা হারাননি। এই বাঙালি জীবনের নিরবচ্ছিন্ন আশা-আকাঙ্ক্ষা আর স্বপ্ন-বেদনাকেই তিনি লালন করেছেন। আজও সমানভাবে বাংলা কবিতায় প্রেম ভাবনার বিষয়টিতে কবি বুদ্ধদেবকে সবার আগেই স্মরণ করা হয়।