পয়লা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ হলো ভারত ও বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য দিন যেটি বাংলাদেশে ১৪ই এপ্রিল ও ভারতে ১৫ই এপ্রিল বাংলা বর্ষের প্রথম দিন হিসাবে পালন করা হয় বা বলা যেতে পারে বৈশাখ মাসের প্রথম দিন।

মুঘল সম্রাট আকবর জমির কর আদায়ের সুবাদে প্রথম এই বাংলা নববর্ষের সূচনা করেন। কিন্তু ঘটনাটি নিয়ে অবশ্যই মতভেদ আছে। কেউ বলেন সম্রাট আকবরের ও আগে, রাজা শশাঙ্কের সময়ে এটি সৃষ্ট যার প্রতিফলন পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কোনো শিব মন্দিরের টেরাকোটায় পাওয়া যায়।

এই দিনটি হালখাতা নামেও পরিচিত। ব্যবসায়িক পুরানো বছরের সমস্ত লেনদেন মিটিয়ে নতুন বছরে নতুন খাতা খোলা হয় এই দিনে। ছোট ব্যবসা হোক বা বড়ো, দোকান হোক বা রেস্তোরা, সবাইকে ফুল দিয়ে, আল্পনা বা নক্সা দিয়ে সাজানো হয়। নতুন পোশাক পরে দৈব শক্তিকে স্মরণ করে নতুন কাজের সূচনা হয়।

বাংলাদেশে এই দিনে অর্থাৎ ১৪ই এপ্রিল মঙ্গল শোভাযাত্রা করা হয়। জাকজমক, আলো, বাতি, আল্পনা সবগুলো এখানকার ও ঐতিহ্য।

দুই দেশেই একটি খুব প্রচলিত রীতি আছে বৈশাখী অল্পনার। আলোচনার বিষয়বস্তুটি আসলে এটি। আসলে এটি বিভিন্ন ধরণের রঙিন মোটিফ বা আকার যাকে রং দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়। পুরানো সময়ে চালের গুঁড়ো দিয়ে, মুলতানি মাটি, ময়দা প্রভৃতি জলের সঙ্গে মিশিয়ে আল্পনা করা হতো। বর্তমানে এটি আবীর বা গুলাল ও বিভিন্ন পেশাদার রঙের মাধ্যমে করা হয়। সাধারণত সূর্য ডোবার আগে ঘরের মহিলারা রোজ এটি নিজের ঘরে করতেন কিন্তু বর্তমান সময়ে ব্যস্ততার কারণে এটি বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানে করা হয়। ফোক আর্ট বলতে আমরা যা বুঝি তার মধ্যে এটিও উপস্থিত। উক্ত নক্সার আকারের অনেক তারতম্য আছে। সূর্য, স্বস্তিক চিন্হ, মাছ, পদ্ম, মা লক্ষ্মীর পা, পেঁচা প্রভৃতি দিয়ে কখনও গোলাকার, কখনও ত্রিভুজ আবার কখনও চতুর্ভূজের আকারে আঁকা হয়। আঞ্চলিকভাবে এটি রঙ্গলি, কোলাম, চৌকপুরানা, বৈশাখী আল্পনা, ম্যান্ডেলা আর্ট এরকম বিভিন্ন নামে পরিচিত।

সব মিলিয়ে আল্পনা একটি সুন্দর অনুভতি দিয়ে সাজানো রঙের গুচ্ছ যার আবির্ভাব হয়েছিল সংস্কৃত ‘আলিমপানা’ থেকে। প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থা হয়তো হারিয়ে ফেলবে এই ঐতিহ্যকে কিন্তু গুহাচিত্রের মতো এই অল্পনার ইতিহাসও বেঁচে থাকবে কোথাও না কোথাও।